| 14 এপ্রিল 2024
Categories
গল্প ধারাবাহিক সাহিত্য

চোরাকাঁটা (পর্ব-২১)

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

সেই নৈঃশব্দ্যে ভরা মন খারাপের মাঝরাতে চোখমুখ ঢেকে অঝোরে কেঁদে চললো সুমনা। মাঝে মাঝে দুর্বোধ্য ভাবনারা এসে আরো বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে চললো। একবার মনে হলো, এত কেন ভাবছে সে? অনিককে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিলে কি সে আর রুমানা সামাজিক আশ্রয়টুকু পাবে না? কোনো এনজিও বা এই জাতীয় সামাজিক সংগঠন কি এগিয়ে আসবে না ওদের বাঁচাতে? নানাজানের কথা যে মনে আসছিল না তা নয়। কিন্তু সেটা যেন বিস্মৃত কোনো পথ। মনের মধ্যে চাপা একটা আক্রোশ কাজ করছিল। অক্ষম অর্থহীন আক্রোশ। এই নানাজানের উচ্চাভিলাষ আর স্বেচ্ছাচারিতার জন্যই হয়ত আজ এই দিন দেখতে হলো তাকে। সুমনার বাবা তো তার এই সন্মন্ধের কথা শুনেই মুখ কালো করে ফেলেছিল। নানাজানের কথার ওপরে তার কথা খাটাতে পারেনি ঠিকই, তবু একবার মুখ ফস্কে বলে ফেলেছিল,

‘এত বড় ঘর! তারা কোথায় আর আমরা কোথায়! পরে যদি কোনো সমস্যা হয়!’

নানাজান অবজ্ঞার গলাতে বলেছিলেন,

‘এ্যাঃ সমস্যা! সমস্যা আর কী? তাগো কাছে নিজের চাকরি-বাকরি নিয়া বেশি আলাপ দিও না তাইলেই হইবো।’

শুনে আর কিছু বলেনি সুমনার বাবা।

তবু এই ভয়ানক দুর্দিনে সুমনা বুঝতে পারে, শেষমেষ আবার বুঝি নানাজানের কাছে গিয়েই আশ্রয় নিতে হবে তাদেরকে।

কিন্তু সবকিছুর আগে নিজের অস্ত্রটাকে মজবুত করে নেওয়া চাই। অনিকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য মোক্ষম অস্ত্র চাই সুমনার। কারণ সে ভালো করেই জানে, অনিকের প্রবল প্রতাপশালী বাবা কিছুতেই নিজের ছেলের বিরুদ্ধে এমন ভয়ংকরতম অভিযোগ স্বীকার করতে চাইবে না। আইনের সুক্ষ্ণ ফাঁক ফোকড় দিয়ে ঠিকই বের করে আনতে চাইবে নিজের ছেলেকে। কাজেই অভিযোগের ভিত্তি হতে হবে শক্ত আর জোরালো। প্রয়োজনে লাগবে কিছু সাক্ষীসাবুদ, যারা এই মেয়েগুলোর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার খোঁজ জানে। শুধুমাত্র কিছু ছবি দিয়েই হয়ত পরাস্ত করা যাবে না অনিকের মতো এই ধুরন্ধর পাপীকে।

অনিকের অনুপস্থিতিতে সুমনার হাতে তখন অফুরন্ত সময় আর সুযোগ। সুমনা যে তাকে সন্দেহ করছে এটা তো আর জানা নেই অনিকের। কাজেই ল্যাপটপটাকে এবার অরক্ষিত অবস্থায় বাসাতেই ফেলে গেছে অনিক। একথা মনে হতেই তড়াক করে উঠে পড়ে সুমনা। ব্যস্ত হাতে ল্যাপটপটাকে অন করে দ্রুতগতিতে খুলতে থাকে একের পর এক ফোল্ডার। তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে শিকারীর রেখে দেওয়া শিকারের চিহ্ন।

যেসব মেয়ের ছবি সুমনা খুঁজে পেয়েছিল, তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু আর ল্যাপটপ ঘেঁটে জানা গেল না। কিন্তু আরেকটি ভিন্ন ব্যাপার আবিষ্কার করলো সুমনা। ল্যাপটপের ডেস্কটপে কিছু মুভি ডাউনলোড করা ছিল। মুভিগুলোর অপরিচিত নাম দেখে সুমনা একে একে সেগুলো চালিয়ে দেখতে থাকেকিছুদূর দেখার পরেই বুঝতে পারে, 

এগুলো সব পর্ণ মুভি। হার্ডকোর পর্ণ। শরীরটা এবারে গুলাতে থাকে সুমনার। কেমন একটা বিবমিষা অনুভব করে সে। নিজের চোখের ওপরে সমস্ত বিশ্বাস আজ সে হারিয়ে ফেলেছে। অনিক কি তবে পর্ণে আসক্ত ছিল? সেজন্যই রাতের পর রাত কানে ইয়ারফোন গুঁজে জেগে থাকতো অনিক! ঘুমভাঙ্গা চোখে অবাক হয়ে সুমনা অনেকদিন এভাবে বসে থাকতে দেখেছে অনিককে। শুয়ে পড়তে বললে প্রতিবার সে বলেছে,

‘একটা কাজ করছি। এই তো এখনই শোব!’

কী দেখছে অনিক, সেটা দেখার চেষ্টা কখনোই করেনি সুমনা। ওর রুচিতে বেঁধেছে। আর দশটি বাঙালী মেয়ের মতো কানের কাছে খ্যাঁচ খ্যাঁচ করতে বা স্বামীর প্রতিটি কার্যকলাপের দিকে চোখ লাগিয়ে রাখতে সুমনার বাঁধতো।

অনিকের সাথে সুমনার দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিকই ছিল। তবে শরীরী প্রেমের যে তীব্রতা বিয়ের প্রথমদিকে কাজ করতো, সেটা অল্প কয়েকমাস পরেই কমে এসেছিল অনিকের। এটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি সুমনার। আবার কখনো কখনো এমন উদ্ভট কিছু সময়ে সে সুমনার সঙ্গ চাইতো, যখন কিছুতেই দরজা বন্ধ করে সেই সঙ্গ দেওয়া সম্ভব হতো না তার পক্ষে। বাসায় রুমানা ছিল। একটা রক্তমাংশের মানুষ তো! অসুস্থ হলেও তার দেহে তো প্রাণ আছে! যে কী না যখন তখন সুমনার ঘরে হুটহাট চলে আসতোতাকে ফাঁকি দিয়ে যখন তখন এসবে মেতে উঠতে মন চাইতো না সুমনার।

অনিক মুখ কালো করতো। কখনো কখনো রাগ করে বাসা থেকে চলেও যেত। সারাদিন এদিক সেদিক করে অনেক রাতে বাসায় ফিরতোসুমনা ঘন হয়ে কাছে সরে এসে আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করতো,

‘বাব্বাহ্‌ এত রাগ জনাবের! এবারে কি কমেছে কিছুটা…রাগ?’

অভিমান গলে পানি হতো উদ্দাম শরীরী ঝড়ে। আজ মনে হলে দুইয়ে দুইয়ে নানাভাবে চার মিলিয়েই চলে সুমনা।

অনিক কি তবে সেক্স এডিক্ট ছিল? মাঝে মাঝে এই জিনিসের তুমুল আকর্ষণ সে কোনোভাবেই এড়াতে পারতো না? তখন তার যেকোনভাবেই সেক্সের প্রয়োজন হতো। বৈধ উপায়ে হলে তো হলোই, নইলে নানারকম অসুস্থ উপায়ের ওপরে নির্ভর করতে হতো।

মাথা ঠান্ডা করে সন্দেহযোগ্য সব জিনিস একটা পেনড্রাইভে ভরে ফেলতে থাকে সুমনা। পেনড্রাইভটা অনিকেরই। অনেকটা স্পেস খালি ছিল পেনড্রাইভে। সবগুলো ফাইল ল্যাপটপ থেকে কপি করে পেনড্রাইভে পেস্ট করে ফেলে সুমনা। আগামীকাল সকালে যে করেই হোক, এটা আনিসুল হকের কাছে পৌঁছাতে হবে। অনিক বাসায় এসে পড়ার আগেই এই পেনড্রাইভ গোপন কোনো জায়গায় লুকিয়ে ফেলতে হবে। অনেক চিন্তা ভাবনা করে নিজের নতুন কেনা একটি পার্সের একেবারে গোপন একটা পকেটে পেনড্রাইভটাকে লুকিয়ে ফেলে সে। ব্যাস! আপাতত আর কোনো চিন্তা নেই। এখন শুধু ভোর হওয়ার অপেক্ষা।

কিন্তু ভোর হওয়ার আগেই অন্যকোনো অমোঘ নিয়তি যেন ওত পেতে অপেক্ষা করছিল সুমনার ঘরের দুয়ারে।

তখনো ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি। সারাদিনের উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, আতঙ্ক আর বিভীষিকাময় সত্যের উদ্ঘাটন পর্ব শেষে সবে চোখের পাতা লেগে এসেছিল সুমনার। তখনই অনাহুত আগন্তুকের পায়ের শব্দের মতো বেজে উঠলো মোবাইলটা। ফোন এসেছে অনিকের নাম্বার থেকে। 

এত রাতে ফোন পেয়েও উৎকণ্ঠা জন্মালো না মনে। হয়ত নিজের মায়ের খবর দিতেই ফোন করেছে অনিক। যোগাযোগ না থাকুক, তবু তো শাশুড়ি! সম্পর্কের মমতায় আবদ্ধ না থাকুক, তবু তো মানবতার বন্ধনটা মিথ্যে নয়। একজন মানুষের খারাপ কিছু শুনলেও তো খারাপ লাগে! অথচ নিজের মধ্যে আজ যেন সেই মানবতার ছিটেফোঁটারও দেখা মিলছে না সুমনার। তার অবলা বোনটার সর্বনাশ করার আগে অনিকের মানবতা কোথায় ঘুমিয়ে ছিল? সব মানবতার দায় বুঝি সুমনার একার?

আজ রাতটুকু পেরুলেই তো সম্পর্ক নামের মিথ্যে সুতোর টানটুকুও খসে যাবে। কাজেই এখন আর অত ভাবনা কীসের?

ফোনটা ধরে খটখটে গলায় সুমনা বললো,

‘হ্যালো।’

ওপাশ থেকে কিন্তু অনিকের গলার স্বর ভেসে এলো না। সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পুরুষকন্ঠে শোনা গেল,

‘হ্যালো, আপনি কি সুমনা বলছেন?’

বিস্মিত হয়ে সুমনা উত্তর দিলো,

‘জ্বি, সুমনা বলছি। আপনি কে বলছেন? এই ফোন আপনি কোথায় পেয়েছেন?’

‘বলছি ম্যাডাম। বিশ্বরোড হাইওয়েতে আজ বিকেলে একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। সাদা টয়োটা নিশান, নাম্বার ঢাকা গ…। রাস্তা থেকে গড়িয়ে নিচে একটা খাদে গিয়ে পড়েছিল। খুব সম্ভব পেছন থেকে কোনো গাড়ি এসে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। বেশ অনেকক্ষণ যাবত গাড়িটা নীচে পড়ে আছে। ভোরের আলোতে একজন পথচারী প্রথম দেখতে পায় গাড়িটাকে। গাড়িতে একজন আরোহী রয়েছে। মৃত, সম্ভবত স্পট ডেড। আমরা তার পকেটে একটা আইডেনটিটি কার্ড পেয়েছি। এতে দেখা যাচ্ছে আরোহীর নাম অনিক আহমেদ। উনার মোবাইলে আপনার এই নাম্বারের পাশে ‘সুমনা, ওয়াইফ’ এই নামটা লেখা আছে। সেজন্যই আপনাকে ফোন দিয়েছি। উনার বাবাকেও ফোন দেওয়া হয়েছে। উনি রওয়ানা দিয়েছেন। হ্যালো ম্যাডাম, আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন…?’

সুমনা শুনতে পাচ্ছিলো। কিন্তু নিজের শরীরের মধ্যে কোনো সাড় অনুভব করতে পারছিল না। একেবারে যেন অবশ হয়ে পড়েছে পুরো শরীর। হাত পা নাড়াতে পারছে না। ঠোঁটদুটোতে কেউ বুঝি স্কচটেপ মেরে দিয়েছে। শুধু কানদুটো খুব সজাগ। স্পন্দনহীন বুক নিয়ে বড় বড় অসার দুচোখ সামনে মেলে ধরে সব কথা শুনে যাচ্ছিলো সুমনা। একটা শব্দও তার কানের পাশ দিয়ে বাইরে ছুট দিতে পারছিল না। প্রচণ্ড বেরসিকের মতো তারা গরম সীসার মতো গলে গলে ঢুকে যাচ্ছিলো সুমনার কানের মধ্যে।

কী বলছে লোকটা?

অনিক মারা গেছে? এত সহজে মারা গেল অনিক! কিন্তু কেন? সুমনার তো তাকে শাস্তি দেওয়া হলো না! অনিকের সামনে একবার অন্তত দাঁড়াতে চেয়েছিল সুমনা। মুখোমুখি। চোখের দিকে তাকিয়ে জ্বলন্ত চোখে ভস্মীভূত করতে করতে একবার শুধু জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো,

‘এত বড় ছলনা কীভাবে করতে পারলে? নিজের ভেতরের পশুত্বটাকে কীভাবে লুকিয়ে রেখেছিলে এতগুলো দিন?

কোনো শাস্তিই যথেষ্ট মনে হচ্ছিলো না অনিকের অপরাধের কাছে। কিন্তু বিধাতাও যে এত তাড়াতাড়িই অনিককে শাস্তি দেওয়ার চক্রান্ত এঁটেছিলেন, এটা জানা ছিল না সুমনার।

এরপরের ফোনটা এসেছিল আনিসুল হকের কাছ থেকে। 

‘হ্যালো সুমনা শুনেছো কিছু? অনিকের এক্সিডেন্ট হয়েছে! ও নাকি আর… তুমি কোথায় এখন?’

অনিকের বাবাও একবার খবর নিয়েছিলেন। ইস্পাত কঠিন স্বরটা এতটুকুও নরম লাগেনি সুমনার কাছে। সেই একই বজ্র কঠিন গলায় তিনি বলেছিলেন,

‘যে যাওয়ার সে তো চলে গেল। তুমি কী করবে ঠিক করেছো কিছু?’

এরপর সবকিছু ঘটেছিল বেশ দ্রুতলয়ে। চলতি মাসের বাড়ি ভাড়াটা দেওয়া ছিল। বাড়িওয়ালা জানতে চেয়েছিলেন, সুমনা এখানে থাকতে চায় নাকি অন্য কোথাও চলে যাবে? তার বাসায় টু লেট ঝুলাতে হবে। কাজ পড়ে আছে অনেক। 

সুমনার থাকার জো নেই। ব্যাংকে অনিকের জমানো অল্পকিছু টাকা আছে। নতুন সংসার। বেশিকিছু জমানো হয়ে ওঠেনি। তার ওপরে গাড়ি কেনাতেই অনেক টাকা বেরিয়ে গিয়েছিল। অনিক সুমনাকে তার ব্যাংক একাউন্টের ডিটেইলস দিয়েছিল। নিজের কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড সুমনার কাছে লুকিয়ে রাখলেও ব্যাংকের হিসাবনিকাশ কিছুই গোপন করে রাখেনি। এই দ্বৈত আচরণের অর্থ কে জানে!

সুমনা সেই একাউন্টের ডিটেইলস পুলিশকে জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশ অনিকের বাবাকে জানিয়ে দিক। অনিকের সংসারের একটা ফুটোকড়িও ছুঁয়ে দেখবে না সুমনা। তাতে ভবিষ্যতে তার কপালে ভাত জুটলে জুটবে, নইলে না। আফসোস শুধু একটাই। নিজের সাথে সাথে অবলা বোনটাকেও পানিতে ফেলে দিতে যাচ্ছে সে। নিজের জীবন নিয়ে ইচ্ছেমত ছিনিমিনি খেলার অধিকার হয়ত তার আছে, কিন্তু বোনের জীবনটাকে কেন এভাবে ভাসিয়ে দেবে?

খবর পেয়ে অনিকের বন্ধুরা এলো। কান্না আর শোকের দমকা হাওয়া বয়ে চললো কিছুক্ষণ। সুমনাকে সান্ত্বনা দিলো সবাই। ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাসও দিলো মন থেকেই। 

শান্ত বিমূঢ় মুখে একপাশে বসে ছিল। মাঝে মাঝে নির্বাক চোখে তাকিয়েছিল সুমনার দিকে। সেই দৃষ্টির ভাষা বোঝার খুব বেশি চেষ্টা করেনি সুমনা। কখনো কখনো অবুঝ হওয়াটা খারাপ নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ভবিতব্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

অনিকের কীর্তিকলাপ কিছুই কারো কাছে প্রকাশ করে না সুমনা। আনিসুল হকের নাম্বারটাকে ইচ্ছে করেই রেখে দেয় ব্লক লিস্টে। মনে মনে সিদ্ধান্তে পৌঁছে, যে চলে গেছে তাকে তো আর এই দুনিয়াতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে না। অন্য কোনো জগতে হিসাবনিকাশের পালা এলে তখন না হয় দেখে নেওয়া যাবে একহাত। এভাবে তাকে আর সবার সামনে ছোট করার দরকারটা কী?

বোনের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না, বুঝতে পেরেই নানাজানের কাছে আবার ফিরে আসতে হয়।

একসময় যে নাতনিকে নিয়ে তার নানাজানের চোখে অনেক স্বপ্ন ছিল, যে নাতনি ছিল তার নানাজানের চোখের মধ্যমণি…আজ সে ফিরে এসেছে বিধবার বেশে। একা আসেনি, সাথে করে আরেক আপদ নিয়ে এসেছে। 

লতিফুর রহমানের চোখেমুখে তাই আষাঢ়ের মেঘ ঘনায়। রুমানাকে নিজের নাতনি বলেই স্বীকৃতি দিতে চান না তিনি। দিনে দিনে অশান্তি গাঢ় হয়। 

কী করবে কোথায় যাবে কিছুই যখন বুঝতে পারে না…তখনই জীবনে আরেক মাইলফলকের সন্ধান পায় সুমনা।

ক্রমশ

 

 

আগের পর্ব ও লেখকের অন্যসব লেখা পড়তে ক্লিক করুন।

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত