ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

Reading Time: 4 minutes।।মাহবুব রহমান সৌমিক।।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের নাম অনুসারে তার নাম! কিন্তু জন্মের আগে দারিদ্রতার কারনে তার মা চেয়েছিলেন তাকে এবোর্শন করাতে । মাতাল বাবার কারনে মা মারিয়ার উপার্জনের টাকা দিয়েই চলত সংসার। বাবা যা উপার্জন করতেন, তার পুরোটাই গলায় ঢেলে দিতেন ।অথচ ভাগ্যের কি খেলা, এখন সে দুনিয়ার অন্যতম ধনী প্লেয়ার। সর্বকালের অন্যতম সেরা প্লেয়ার। হ্যাঁ বলছিলাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কথা।

আমরা সবাই মেসির হরমোন রোগের কথা জানি । কিন্তু কজন জানি যে রোনালদোর টাইকার্ডিয়া অপারেশন হয়েছিলো যেটা তার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারতো ১৬ বছর বয়সেই ।পুরো নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস এভেইরো, জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৫ সালে পর্তুগালের মাদেইরাতে। ৬ ফুট ১ইঞ্চির এই ফরোয়ার্ডেড় সাফল্যের পেছনে তার কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য মনোভাব বেশ বড় ভূমিকা রাখে ।৩ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এ প্লেয়ারের ফুটবলের হাতেখড়ি হয় ১৯৯২ সালে এনডোরিনহা তে । তার বাবা ছিলেন সেই ক্লাবের ইকুইপমেন্ট ম্যানেজার । দুই বছর পর ন্যাশিওনাল নামের একটা ক্লাবে জয়েন করেন ।

Cristiano

১৯৯৭ সালে ৩ দিনের জন্য স্পোর্টীং লিসবনে ট্রায়াল দিতে যান । সেখানেই তারা রন কে ১৫০০ ইউরোর বিনিময়ে সাইন করায়। সেখান থেকেই প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শূরু। ২০০২ সালে লিসবনের হয়ে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক হয় ।২০০৩ সালে স্পোর্টিং লিসবন বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর মধ্যকার এক প্রীতি ম্যাচ হচ্ছে। লিসবনের ১৮বছর বয়সী এক ছেলে ইউনাইটেড এর হাই রেটেড ডিফেন্স কে নাচিয়ে বেড়াচ্ছে। হাফ টাইমে টানেলের মধ্যে পল স্কোলস স্যার এলেক্স ফার্গুসনকে বলেছিলেন, “বস আমরা কি ওই ছেলেটাকে পাচ্ছি ?” জবাবে ফার্গি বলেছিলেন, “তুমি বলার আগেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।” তার খেলায় মুগ্ধ হয়ে ফার্গি তাকে আখ্যা দিয়েছিলেন, “one of the most exciting young players” !

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে তাকে দলে ভেড়াতে আর্সেন ওয়েংগার, হুয়ান লাপোর্তেরাও গিয়েছিলেন । কিন্তু ফার্গুসন ছিলেন পাকা জহুরী। ১২.২৪ মিলিয়নের বিনিমিয়ে তাকে সাইন করান ফার্গি। যদিও ২৮নাম্বার জার্সি চেয়েছিলেন কিন্তু পেয়েছেন জর্জ বেস্ট, এরিক কিং ক্যান্টোনা, বেকহামের সেই ঐতিহ্যবাহী ৭ নাম্বার জার্সি । একটা সময় ফার্গি নাম দিলেন Cr7 !ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের অভিষেক ম্যাচে বোল্টনের বিপক্ষে ৪-০ গোলের ব্যাবধানে জয় পান। পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ফ্রিকিকে গোল করে গোলের খাতা খুলেন ইপিএল এ।

 
এই ট্রান্সফারের সময় স্যার ফার্গুসন বলেন, “I have nothing but praise for the boy. He is easily the best player in the world. His contribution as a goal threat is unbelievable. His stats are incredible. Strikes at goal, attempts on goal, raids into the penalty box, headers. It is all there.”মাদ্রিদে এসে পান ৯ নাম্বার জার্সি, কারন তখন মাদ্রিদের ৭ নাম্বার জার্সি পড়তেন রাউল গঞ্জালেস । রাউল চলে যাবার পর ৭ নাম্বার জার্সিটি পান রোনালদো ।দেপোর্তিভোর বিরুদ্ধে ৩-২ গোলের জয় দিয়ে মাদ্রিদ ক্যারিয়ার শুরু করেন। এসে প্রথম সিজনেই বাজিমাত। ৪২ গোল, হ্যাটট্রিক সব মিলিয়ে বেশ বাজিমাত করেন। এক্ষেত্রে একটি কথা বলতেই হবে। লিও মেসির সাথে তার প্রতিযোগিতা তাকে আরো ভাল করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলাফল টানা ৬ বার ৫০+ গোল করার রেকর্ড করেন। তার সম্পর্কে স্যার ববি চার্লটন বলেন, “Cristiano Ronaldo is changing the game in Spain. With all that pace and power and athleticism, he is driving Real Madrid back into dominance both there and in Europe. “৩৪৮ ম্যাচে ৩৬৪টি গোল করে এ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের অল টাইম টপ স্কোরার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটাও তার দখলে ।এ পর্যন্ত মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন ১টি লা লীগা, ২টি কোপা দেল রে, ১টি স্পেনিশ সুপারকাপ, ২ বার ইউসিএল, ১বার উয়েফা সুপারকাপ, ১বার ক্লাব বিশ্বকাপ।জাতীয় দলের হয়ে ০.৪৭ গোল রেশিও নিয়ে ১৩০ ম্যাচে ৬০ গোল করেন। ২০০৪ সালের ইউরোর ফাইনালে গ্রীসের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স আপ হন। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন তাকে পর্তুগালের সব সময়ের সেরা প্লেয়ারের খ্যাতি প্রদান করে।তার ব্যক্তিগত অর্জনের ট্যালিও বেশ প্রশংশনীয় । Ballon d’Or: 2008 FIFA Ballon d’Or: 2013, 2014 FIFA World Player of the Year: 2008, FIFPro World Player of the Year: 2008 UEFA Best Player in Europe Award: 2014 World Soccer Player of the Year: 2008, 2013, 2014 European Golden Shoe: 2007–08, 2010–11, 2013–14, 2014–15 FIFA Puskás Award: 2009 FIFA FIFPro World XI: 2007, 2008, 2009, 2010, 2011, 2012, 2013, 2014, 2015 UEFA Team of the Year: 2004, 2007, 2008, 2009, 2010, 2011, 2012, 2013, 2014, 2015, UEFA Ultimate Team of the Year FIFA Club World Cup Silver Ball: 2008,2014 UEFA Club Footballer of the Year: 2007–08 UEFA Club Forward of the Year: 2007–08 UEFA Champions League Team of the Season: 2013–14, 2014–15, 2015–16 UEFA Champions League top scorer: 2007–08, 2012–13, 2013–14, 2014–15, 2015–16 UEFA Euro Team of the Tournament: 2004, 2012 UEFA Euro All Time XI UEFA Euro Co-Top scorer: 2012 Sir Matt Busby Player of the Year: 2003–04, 2006–07, 2007–08 Manchester United Players’ Player of the Year: 2006–07, 2007–08 PFA Young Player of the Year: 2006–07 PFA Players’ Player of the Year: 2006–07, 2007–08 Barclays Player of the Year 2006–07, 2007–08 PFA Premier League Team of the Year: 2005–06, 2006–07, 2007–08, 2008–09 Premier League Golden Boot: 2007–08 Premier League 20 Seasons Awards Fantasy Team – Public Premier League 20 Seasons Awards Fantasy Team – Experts La Liga Most Valuable Player: 2012–13 La Liga Best Player: 2013–14 La Liga Best Forward: 2013–14 La Liga Best Goal: 2013–14 La Liga Fans 5 Star Player: 2014–15 La Liga top scorer: 2010–11, 2013–14, 2014–15 Copa del Rey top goalscorer: 2010–11

ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো না এলে ফুটবলের উত্তেজনা হয়তবা আমরা এ জেনারেশন উপোভোগ করতে পারতাম না। কারন, ১ রাজার শাসন অনেকটা একগুয়ে। আরেকজন প্রতিদ্বন্দী থাকলে তখন উপভোগ করা যায়। তার সম্পর্কে বার্সা লিজেন্ড ইয়োহান ক্রুয়েফ ২০০৮ সালে একটি উক্তি দেন, “Ronaldo is better than George Best and Denis Law, who were two brilliant and great players in the history of United.”ধন্যবাদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ধন্যবাদ ফুটবলকে এত কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। অবসরে যাবার আগেই তোমার নাম লিজেন্ডদের কাতারে লেখা থাকবে ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>