গুলেরমো দেল তোরো নির্মিত রক্ত ও হাড়ের ভয় ক্রিমসন পিক

।।প্র দো ষ অ না র্য্য।।

‘ভুত আছে, এটুকুই আমি জানি’। ছবিটা শুরু হয় এ সংলাপ দিয়ে এবং শেষতক এর নিখাদ ভৌতিক উপাদান, দুর্দান্ত গথিক পরিবেশ আমাদের নিয়ে যায় বাস্তব আতঙ্কের দিকে। এ আতঙ্কের জন্ম কি অন্য কোন জগতে? গুলিয়েলমো দেল তোরো’র চলচ্চিত্র ‘ক্রিমসন পিক’ নিয়ে আলাপ করা যাক।

ছবির একেবারে প্রথম দৃশ্যে- তুষারাবৃত ধোঁয়াটে পর্দায় দেখা যায় এক তরুণি হাঁপাচ্ছে। যার মুখের ডানপাশে ছুরিকাঘাতের রক্তাক্ত টাটকা ক্ষত। তাকে আমরা আবিষ্কার করি সিনেমার ন্যারেটর হিসেবে। সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে আর আমরা চলে যাই ফ্ল্যাশ ব্যাকে- ‘ভুত আছে, এটুকুই আমি জানি। প্রথম তাদের একজনের সাথে দেখা হয় যখন আমার বয়স দশ। কালাজ্বরে যেদিন আমার মা মারা যান, আমরা তাকে সেমেট্রিতে কবর দিয়ে আসি। মা’কে বিদায় বলা হয়না, শেষ কোন কথাও হয়না। মা স্রেফ চলে যান এবং তিনি ফিরে আসেন সে রাতেই। তার ভুত এসে আমাকে বলে যায়- ক্রিমসন পিক থেকে সাবধান!’


একটা এলাকার মাটি এমনি লাল, যেন রক্তাক্ত হয়ে আছে সমস্ত কিছু। বিশাল ফাঁকা শার্পদের যে প্রাসাদ, যাতে কতগুলো রুম আছে কেউ জানেনা, সেখানে মাত্র তিনজন মানুষ আর একটি কুকুরের আনাগোনা আপনাকে বারবার আতংকিত করবে। সুউচ্চ যে প্রাসাদটির ছাদ ভেঙে বরফ পড়ে বিশাল ড্রয়িং রুমে, হাওয়া এসে বাড়ি খায়। ইডেথ এক রাতে ভয় পেয়ে টমাসকে আঁকড়ে ধরলে সে জানায়- বাড়িটা নিঃশ্বাস ছাড়ে।


ঠিক এর চৌদ্দ বছর পর সময়টা ১৮৮৭, নিউইয়র্কের বাফেলো। ইডেথ কুশিং যখন লেখিকা হতে চাইছে, ভৌতিক উপন্যাস লিখছে, ঘটনাক্রমে তার বিয়ে হয়ে যায় ইংরেজ বেরোনেট স্যার টমাস শার্পের সাথে। নিউ ইয়র্ক থেকে সে পাড়ি জমায় সুদুর ইংল্যান্ডের এক প্রাচীন গথিক প্রাসাদে। যেখানে আছে টমাস শার্পের রহস্যময় বোন লুসিল শার্প আর এক চাকরমাত্র। এবং একটি ছোট্ট কুকুর। ইডেথের জীবন বদলে যেতে শুরু করে এ বাড়িতে পা দেবার পর থেকে। কি সেই বদল? একটা লালচে ছায়া কেন তাকে দেখা দিতে থাকে নানাভাবে? আর সে কিই বা বলতে চায়? গাড়ো লালাভ মাটির উপরে দাঁড়ানো প্রাসাদটিকে স্থানিয় লোকজন বলে ক্রিমসন পিক, এটা জানার পর ইডেথের মনে পড়ে মায়ের ভৌতিক উচ্চারণ- ক্রিমসন পিক থেকে সাবধান। ইডেথ বুঝতে পারে, সে ভয়ানক এক বিপদের মাঝে এসে পড়েছে? সেই বিপদটা কী?

ছবির জনরায় যদিও বলা হয়েছে গথিক রোমান্স ফিল্ম, দেখতে দেখতে আসলে আবিষ্কার করতে হয় ক্রিমসন পিক হরর এবং থ্রিলারের এক জবরদস্ত মিশেল। সচরাচর হলিউডের ভৌতিক সিনেমাগুলোতে আমরা দেখি, গল্প আর চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট তেমন ভালনা- এদিক দিয়ে ক্রিমসন পিক আপনাকে আনন্দ দেবে। বেশ টাইট একটা গল্প আছে ছবিতে এবং সমমাত্রার থ্রিল। শেষে কী হবে আপনি অনুমান যেন করতে পারেন, এজন্য পাওয়া যাবে হিন্টসও। আর জোর করে ভয় পাওয়ানোর প্রচেষ্টাহীণতা আলাদাভাবে আপনার নজর কাড়বে। পরিচালক এখানে যে কাজটি করেছেন, সেট ডিজাইন, সেটাই আসলে ভয় জাগানিয়া। একটা এলাকার মাটি এমনি লাল, যেন রক্তাক্ত হয়ে আছে সমস্ত কিছু। বিশাল ফাঁকা শার্পদের যে প্রাসাদ, যাতে কতগুলো রুম আছে কেউ জানেনা, সেখানে মাত্র তিনজন মানুষ আর একটি কুকুরের আনাগোনা আপনাকে বারবার আতংকিত করবে। সুউচ্চ যে প্রাসাদটির ছাদ ভেঙে বরফ পড়ে বিশাল ড্রয়িং রুমে, হাওয়া এসে বাড়ি খায়। ইডেথ এক রাতে ভয় পেয়ে টমাসকে আঁকড়ে ধরলে সে জানায়- বাড়িটা নিঃশ্বাস ছাড়ে।

টমাস শার্পের চরিত্রটা সিডাকটিভ করতে টম হিডেলস্টোনকে আলাদা কোন চেষ্টা করতে হয়নি। বৃটিশ এ অভিনেতা নেগেটিভ রোলে বরাবর চমৎকার, মার্ভেলের দা এভেঞ্জারস কিংবা থর-এ নায়ক-নায়িকার চেয়েও সে আকর্ষণীয় অভিনয় করেছিল। ক্রিমসন পিকে তার চরিত্রটা অন্যরকম, এখানেও লোকটা খুব ভাল অভিনয় করেছেন। ইডেথ কুশিং চরিত্রে মিয়া ওয়াসিকস্কা মানানসই ছিল। তবে সবচে দূর্দান্ত ছিল টমাস শার্পের বোন লুসিল রূপি জেসিকা চ্যাস্টেইন-কে। তার কোল্ড ব্লাডেড সব এক্সপ্রেশন, রহস্যময়তা ও ম্যাডনেসের অভিব্যক্তিতে আতংকিত না হয়ে পারা যায়না। কিন্তু একটা ছবির সবচেয়ে বড় বিষয় পরিচালনা, সেক্ষেত্রে গুলেরমো দেল তোরোকে ওয়েলডান বলা যায়। বহুদিন বাদে একটা হরর সিনেমা দেখা গেল কোন রকম অভিযোগ পরিত্যগ করেই।

আপনি যদি ক্লিশে হরর সিনেমা দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে থাকেন, ক্রিমসন পিক হতে যাচ্ছে আপনার প্রিয় একটি চলচ্চিত্র।

কৃতজ্ঞতাঃ মহাপথ

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত