বিশ্বের সম্পদশালী দশ নারী

পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে সবারই আগ্রহ তুঙ্গে। ফোর্বস ম্যাগাজিন সম্প্রতি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করেছেন। ধনসম্পদ অর্জনে নারীরাও যে এগিয়ে, গবেষণা প্রতিবেদনটি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২ হাজার ১৫৩ জন বিলিয়নিয়রদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ২৪৩ জন। শুধু তাই নয়, বিশ্বের সেরা ৫০ ধনী ব্যক্তির মধ্যেও রয়েছেন ৫ নারী। এই পাঁচজনের দু’জনই মার্কিন নাগরিক। ফোর্বসের গবেষণা হতে প্রাপ্ত সেরা ১০ সম্পদশালী নারীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকছে আজ-  

১। ফ্র্যাঙ্কইস বেতেনকোর্ট মেয়েরস , ৪৯.৩ বিলিয়ন ডলার (বিশ্বে ১৫ তম) 

ফ্র্যাঙ্কইস পৃথিবীর সবচেয়ে বিত্তশালী নারী। ফোর্বসের সেরা ৫০ ধনীর তালিকায় তিনি আছেন ১৫তম অবস্থানে। বিখ্যাত প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘লরিয়েলস’ এর প্রতিষ্ঠাতার নাতনি হলেন মেয়েরস। ১৯৯৭ সাল থেকে এই কোম্পানির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং যার প্রায় ৩৩ ভাগ মালিকানার সত্ত্বাধিকারী ফ্র্যাঙ্কইস বেতেনকোরট।

২। এলিস ওয়ালটন, ৪৪.৪ বিলিয়ন ডলার (১৭ তম) 

ওয়ালটন এই তালিকায় দ্বিতীয় আমেরিকান নারী। সেরা ১০ সম্পদশালী নারীর তালিকায় তিনি আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে । এলিস ওয়ালটন হলেন স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র কন্যা যিনি বিখ্যাত ওয়ালমারটের প্রতিষ্ঠাতা।

৩। জ্যাকুলিন মার্স, ২৩.৯ বিলিয়ন ডলার (৩৩ তম) 

মার্স পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর ক্যান্ডিমেকার মার্স ইঙ্কের একমাত্র স্বত্বাধিকারী। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই কোম্পানিটি তত্ত্বাবধান করছেন। এ বছরের ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী সেরা ৫০ বিত্তশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে থাকা দু’জন মার্কিন নারীর মাঝে তিনি একজন।

৪। ইয়াং হুইয়্যেন, ২১.১ বিলিয়ন ডলার (৪২ তম)

ইয়াং চাইনিজ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কোম্পানি কান্ট্রি গারডেনের প্রায় ৫৭ শতাংশ মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন। যেটি মূলত তার বিশাল সম্পত্তির প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও একটি চাইনিজ এডুকেশন কোম্পানি ব্রাইট স্কলার এডুকেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

৫। সুশ্যানে ক্লাতেন, ২১ বিলিয়ন ডলার (৪৬ তম) 

ক্লাতেনের মা ছিলেন হারবার্ট কানডথের তৃতীয় স্ত্রী। যিনি বিএমডাব্লিউয়ের মত বিশ্ববিখ্যাত জাঁকজমকপূর্ণ গাড়ির পথ নির্দেশক ছিলেন। তিনি ক্লাতেনকে তার এই বিমিএমডাব্লিউ মালিকানার ২০ ভাগ দিয়ে যান। এছাড়াও ক্লাতেন আলটানার একক মালিক এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান। সেইসঙ্গে জার্মানির নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ধরণের ব্যবসা এবং বাণিজ্য। বিশ্বে সম্পদশালী নারীর তালিকায় ক্লাতেন পঞ্চম।

৬। ল্যরেন পাউয়েল জবস, ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার (বিশ্বে ৫৪ তম )  

পাউয়েল জবসের এই সম্পদের প্রধান উৎস স্বামী স্টিভ জবসের থেকে প্রাপ্ত অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওর উত্তরাধিকার সত্ত্ব। ২০১৯ সেরা ১০ নারীর তালিকায় পাউয়েল জবস ৬ষ্ঠ অবস্থানে এবং ফোর্বস সেরা ১০০ ব্যক্তিত্ত্বের তালিকায় ৫৪ তম।

৭। অ্যাবিগেইল জনসন, ১৫.৬ বিলিয় ডলার (বিশ্বে ৭১ তম) 

অ্যাবিগেইল জনসন সেরা ১০ সম্পদশালী নারীর তালিকায় সপ্তম স্থানে অবস্থান করছেন। ২০১৪ সাল থেকে এই সম্পদশালী নারী তার বাবা থেকে প্রাপ্ত কোম্পানি মিউচিউয়াল ফান্ড জায়ান্ট ফাইডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

৮। আইরিশ ফন্টবনা, ১৫.৪ বিলিয়ন ডলার (বিশ্বে ৭৪ তম) 

ফন্টবনা ছিলেন এন্ড্রোনিকো লাক্সির বিধবা স্ত্রী। ফোর্বসের গবেষণা অনুযায়ী, চিলির এই নাগরিকের এই বিশাল সম্পত্তির উৎস হলো খনিজ সম্পদ এবং পানীয় উৎপাদন।

৯। গিনা রিনেহার্ট, ১৫.২ বিলিয়ন ডলার (বিশ্বে ৭৫ তম) 

মূলত লোহার আকরিকের ব্যবসা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান এই নারী তার বিশাল সম্পত্তি গড়ে তোলেন। সেরা ১০ সম্পদশালী নারীর তালিকায় গিনা রিনেহার্ট আছেন নবম স্থানে। বাবার মৃত্যুর পর তিনি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি দেখা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের মেধায় সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে থাকেন।

১০। নগ সিউ-হিং , ১৫.১ বিলিয়ন ডলার (বিশ্বে ৭৮ তম) 

সেরা ১০ সম্পদশালী নারীর তালিকায় সিউ-হিং আছেন দশম অবস্থানে। ফোর্বসের রিপোর্ট অনুযায়ী নগ সিউ-হিংয়ের সম্পদের প্রধান উৎস সাধারণত রিয়েল এস্টেট বা ভূসম্পত্তি। বিখ্যাত চীনা প্রোপার্টি সান হাঙের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা কিয়ক তাক-সেংয়ের স্ত্রী তিনি। ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩ বছর সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে হিউ-সিং দায়িত্বরত ছিলেন ।

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত