ঢাকার মঞ্চে প্রথমবারের মতো স্তালিন, ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে দর্শকদের প্রতিবাদ

যোসেফ স্টালিন একজন রুশ সাম্যবাদী রাজনীতিবিদ। ১৯২২ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসে সেই সময়ে স্তালিনের নেতৃত্বে প্রচলিত রাজনৈতিক মতবাদ “স্তালিনবাদ” নামে পরিচিত। শুরুতে কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সচিব হিসাবে স্তালিনের ক্ষমতা সীমিত ছিল। ধীরে ধীরে স্তালিন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে নেন এবং দলের নেতা হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করেন।

স্তালিন সোভিয়েত ইউনিয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত অর্থনীতি ব্যবস্থার প্রচলন করেন। তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় সবটুকুই অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর ছিল। স্তালিনের দ্রুত শিল্পায়ন ও কৃষিকার্যের যৌথীকরণের মাধ্যমে পুরো দেশটি অল্প সময়ের মধ্যে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হয়। কিন্তু একই সময়ে অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের দরুন বহু মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা যায়।

১৯৩০-এর দশকে স্তালিন নিজের ক্ষমতা শক্ত করবার জন্য নিপীড়ন শুরু করেন, যার ফলে কমিউনিস্ট পার্টির শত্রু সন্দেহে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়,  সাইবেরিয়া এবং মধ্য এশিয়ার শ্রম শিবিরে নির্বাসিত করা হয়। রাশিয়ার অনেক জাতিগোষ্ঠীকে তাদের বসতবাড়ি থেকে উৎখাত করে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ইতিহাস যেমন সত্যি তেমনি বিশ্বব্যাপী শীর্ষ কমিউনিষ্ট এই নেতার অনুসারীর সংখ্যও কম নয়।

ঢাকার মঞ্চে প্রথমবারের মতন ‌‌‌’স্তালিন’ মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে তাই এই নাটকটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও অনেক বেশি ছিলো।

আড়াইঘন্টার প্রপাগান্ডামূলক স্যাটায়ারধর্মী এই নাটকে যোসেফ স্তালিনকে একজন খলনায়ক, মাতাল হিসেবে দেখানো হয়েছে। যে শুধু অস্থিরতায় ভোগেন কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না। এমনকি নিজেকেও না। শুদ্ধি অভিযানের নামে একের পর একে খুন করেন নিজের ঘনিষ্ঠ সহচরদের।  কমিউনিজমকে উপহাস করা ছাড়াও নাটকটিতে মার্কস-লেলিনের তত্ত্ব নিয়ে করা হয়েছে রসিকতা। নাটকটিতে দেখানো হয়েছে স্তালিনের পলিটব্যুরো সদস্যরা ১২-১৪ বছর বয়সের মেয়েদের ধর্ষণ করে উল্লাস প্রকাশ করছেন। তারা কেউ কাউকে বিশ্বাস করেননা। কমিউনিজ্যম প্রতিষ্ঠার নামে নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করেন। লেনিনকে নানা রকমের অপবাদ দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি লেলিনবাদকে তুলনা করা হয়েছে যৌনতার সাথে। মার্কসকে ঈশ্বর তু্ল্য ভেবে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা হয়েছে। এমনকি কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালকে ব্যাঙ্গ করে তাতে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে নাটকটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে ওঠেন বাম মর্তাদশী বেশ কয়েকজন দর্শক। নাটকটিতে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে তাঁরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভ থেকে আজ বুধবার স্তালিন নাটকটির শেষদিনের প্রর্দশনী প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নাটকটির প্রর্দশনী প্রতিহত করতে আজ বিকেল ৫টায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে বিক্ষোভ প্রর্দশনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

স্তালিন নাটকের প্রর্দশনীস্থল জাতীয় নাট্যশালার লবীজুড়ে লাল আলোর রোশনাই। হাতুড়ি-কাস্তের ফেস্টুন। দর্শকদের মাথায় স্তালিনের স্যুভেনির ক্যাপ , নাটকের বুকলেটে স্তালিন ও তাঁর পলিটব্যুরো সদস্যদের ব্যাঙাত্নক উপস্থাপন এর সবই যে স্তালিন আর কমিউনিজমকে নিয়ে উপহাস করা ছাড়া আর কিছু নয় সেটা নাটকের শো শেষেই দিবালোকের মতো পরিস্কার হয়ে গেছে।

 

 

 

.

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত