ধীমান চক্রবর্তী’র কবিতা

০৪ অক্টোবর ছিলো  কবি ধীমান চক্রবর্তী’র জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার কবিকে জানায় শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।


শুরু

সাপ আর সমুদ্র

একই সাথে খোলস পালটায়।

মা-র পেটের ভিতর দোলনা। মাঝে মাঝে

মনে হয়, দুলতে দুলতে সে সারাজীবন

একই গান গাইছে। ঘিলু, লম্বা বালিয়ারি

ও দধিমঙ্গল।পরস্পরকে চোখে চোখে রাখে।

হাঁটু মুড়ে বসে মেয়েটি।

শেষ কোথায় আজও জানি না।

কেবল টিভির লাইনে মাথা রেখে চাঁদ

ও মৃত বিড়াল, যুদ্ধজয়ের গান গাইছে।

শিশি ভাঙার শব্দে, খুচরো ফেলার শব্দে,-

কে যেন বাড়ির দিকে আসা

উড়োজাহাজটি হাইজ্যাক করলো।

আমায় ছুঁয়ে দিলেই ছাই।

খুনসুটির লম্বা বাতিঘর। আজ

আয়নায় মুখ দেখছে অন্ধকার।

ফল

গাড়ির হর্নের ভিতর লিচুগুলি। পথ দেখায়।

পুরানো কুয়ো গানের দু-গালে হাত রেখে।

শুনছে এরোপ্লেনের চিঠি আর হাত নাড়া।

গভীর রাতে চা-বাগান সাফ করে

বারান্দার মোজাইক। সাফ করে

চিন্তা-ভাবনা এবং ভুলগুলি।

বেরনোর পথ জানা না থাকলে,

কোনও বইয়ের ভিতর ঢোকা উচিত নয়।

একথা মনে হলেই কেউ কেউ জুতো পরতে

ভুলে যায়। পারফিউম, এক্কাগাড়ি,

ভাঙা বোতল নিয়ে যায় ছোটবেলায়,

রথের মেলায়। ছোটার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখি।

প্রস্তুত রাখি পেনড্রাইভ, মাউস ও

অলীক দুনিয়া থেকে উড়ে যাওয়া।

ধীমানের মৃত্যু আমাকে আগ্রহী করে তোলে।

সম্ভাবনা

জলে ধাক্কা দিয়ে মাছ দরজা খুলতে বলে।

বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরলে, 

মেয়েদের ডাকনাম হয়ে যায় বৃষ্টি।

পা ধোওয়ার সময় শুধুমাত্র কেউ কেউ

মাটির দিকে তাকায়। হলুদ মদ।

ফিসফিস করে কাচের গ্লাসকে ডাকছে।

মৃত ঠাকুমা বিকেলবেলা

ধুয়ে-মুছে যা তাকে সাজিয়ে রেখেছিল।

রান্নাঘর পেরলো হাওয়া।

কেউ নামলো। মুখখানি।

পেরলো জম্পুই হিলের টানা বারান্দা।

কপালে গুলির অন্ধকার গর্ত।

তাকে ঘিরে নাচছে আগুন। বুদ্ধর

মারুতি ভ্যান। জিভের উপর আঙুল।

রানওয়ে। উলুধ্বনি। ছোট্ট ছুঁচ –

বিঁধলে ভূমিকম্প হতে পারে।

গানেরও আগে যে সুর ছিল ছিল পৃথিবীতে।

হতে পারে।

তার সাথে আমার বিবাহ।

বিকাশ

গলার শব্দ বুজে এলে ,
মৌসুমিবায়ু বাঁশির কাছে যায়।
মেঘলা ফারকোট।
এ ওর গায়ে হেসে গড়িয়ে পড়ে ,
বৃষ্টি না হওয়া একটা সপ্তাহ।
ভিটামিনলাগা সালোয়ার।
ছাতে গড়িয়ে আসা ছোট শিশি ,
মুখোশ খুলে রাখে রোববারে।
ঠিকঠাক এসো–
বলে নিজের মুখ খুঁজে বেড়ায়।
খুল যা সিম সিম দুনিয়া।
দরজার লিখতে চাওয়া প্রতিভা ,
ছুটির দরখাস্ত।–
রোদের সোহাগ জানতে পেরে ,
ঘুমপাড়ানি মাসি পিসির আংটি গাওয়া
আঙুল হয়।
অসম্পূর্ণ
আলো বাড়া কমা নামাবলি। তুচ্ছ কড়িকাঠ।
সদ্য বিবাহিত জীবাশ্ম।
চারজন রোদ্দুরের ভাই।
ঘর পালানো সুলক্ষণা ছবি তোলে টুকরোগুলোর।
ভাঁজ হওয়া হাতে মেহেরবানির মুনিয়া।
জলরঙ লাজুক।
উচ্ছন্নে যাওয়া ফ্লাসগান
উপত্যকার লাবণ্য খোলে। রং খোলে।
এলোকেশী রাতের ছায়া।
হল্লা হয়।
বোল ও বোলচাল হয়।
কুঠিতে কৃষ্ণকলি ভেসে গেলে।

 

দেশ আমার-১

পাখি লাগা দশজন পা। ডানা মেলা
পাহাড় ।– ছলকে ওঠে গ্রাম ও মেলায়।
নির্বাসিত ঠোঁট ও আরোগ্য।
ভাঁজ করা আয়না।
চিলেকোঠায় বউ কথা কও ডাকছে।
ডাকছে এক অন্ধকার শিশু
ভারতবর্ষের চিলেকোঠায়।
সমস্ত টাকা যুদ্ধ করছে একে অপরের বিরুদ্ধে।
অর্ধেক মারা যাওয়া উষ্ণতা।
চাঁদের ছায়া ছুঁয়ে ছুঁয়ে
ব্রতচারী হল।
প্রতিবিম্বে এলোমেলো চুল উড়ছে।
সময়ের উপর দুলে দুলে ওঠা
কাঁটা চামচের কথা।
অন্ধকারে মুখ দেখছে কালো স্লেট।

দেশ আমার ২

ঝিকিমিকির ৪৯ বায়ু চুমু খায়
চন্দ্রগ্রহণে। জমজ আলো।
মাকড়সাকে জাল বুনতে সহায়তা করে।
শিরা-উপশিরা কাটলেই উড়তে শেখা।
কান্নায় লাগা ওই
অ্যালফাবেট। ট্রেন ছেড়ে দিলে কয়েক ইঞ্চি।
ফাল্গুন হয়।
বাড়ি ফেরে গ্রামাফোনের কোকিল।
যে কোনও চিনহই হয়তো ঠুমরী হয়।
খোলা দরজায় বিষহরি।
ঠাকুর্দা-ঘড়ির কাটা হাত ভারতবর্ষে
পায়রা ওড়ায়।
জন্মান্ধ আয়নায় শ্রীমতী হয়।
সায়া খোলা জলে , মুখ ধুয়ে নেয়
টিমটিমে আলো।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত