দুর্ভাগা লেখক জীবনানন্দ দাশ

পৃথিবীর আর কোনও লেখক জীবনানন্দ দাশের মতো দুর্ভাগা নন।

জীবিতকালে প্রকাশিত একটি কবিতায় প্রায় ডজনখানেক ভুলের উল্লেখ করে সম্পাদক চঞ্চলকুমার চট্টপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন কবি যেন ভুলগুলো পরবর্তী সংখ্যায় শুধরে দেওয়া হয়, নিদেনপক্ষে চিঠিটা ছাপানো হয়।

বলাই বাহুল্য কোনোটাই হয়নি।

জীবনানন্দ চর্চার ক্ষেত্রে আফসার আমেদ একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তি।প্রায় একক প্রচেষ্টায় জীবনানন্দের সিংহভাগ গল্প উপন্যাস পান্ডুলিপি থেকে কপি করেছেন।আমি নিজে দীর্ঘদিন ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বসে কাজ করেছি।প্রথমত প্রচন্ড ঠান্ডায় বসে থাকাটাই খুব কষ্টকর।তারপর আলো জ্বালিয়ে মেশিনে টানা কাজ করা দুষ্কর ।রিল গরম হয়ে গেলে অক্ষর আবছা হয়ে আসে।আলো নিভিয়ে আবার শুরু করতে হয়।

এইরকম পরিস্থিতিতে পান্ডুলিপি উদ্ধার করাটা অনেক বেশী কঠিন।ভূমেন গুহ বা আমি বেশীরভাগ কাজ বাড়িতে বসে করেছি।

তবু তথ্য-যুক্তি-সত্যর খাতিরে বলতেই হয় দেবেশ রায়ের সম্পাদনায় আফসার আমেদের কাজেও অনেক ভুল থেকে গেছে।

এই মুহূর্তে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে শুধু একটি উদাহরণ দিই।

‘তিমিরময়’ গল্পটি।
তাও কয়েকটি পৃষ্ঠা।

১.পান্ডুলিপিকে অনুসরণ করে পংক্তি বিভাজন হয়নি।
২..’উচিত ছিল(…)’ অথচ স্পষ্ট আছে ‘উচিত ছিল ওর কাকার মত’।
৩..’নকশায়(…)’ কিন্তু পান্ডুলিপিতে ‘নকশায় bookshelf ‘
৪. ‘যে(…) মেয়েটি’ হবে ‘যে আফগান মেয়েটি’।
৫..ড্যাশ(—) জেমস জয়েস পড়া জীবনানন্দের কাছে খুব জরুরি বিষয় কিন্তু সম্পাদক যেখানে খুশি —-(ড্যাশ)উড়িয়ে দিয়েছেন বা বদলে, (কমা) করছেন।মনে রাখতে হবে ড্যাশ টেক্সটের অঙ্গ।বাতিল করা যায় না।

এখানে শুধু দু’একটি উল্লেখ করলাম।এই গল্পটিতেই এমন অজস্র ভুল রয়ে গেছে।

সমগ্র পান্ডুলিপিতে তো অগুন্তি।

কখনও শব্দ বদলে গেছে,কখনও শব্দ বাদ গেছে,কখনও লাইন বাদ পড়েছে,কখনও বিন্যাস।

কবিতাতেও এমন হয়েছে।কপি করার সময় মাঝখানের ৬০ লাইন বাদ চলে গেছে।

সত্যিই পৃথিবীর আর কোনও লেখক জীবনানন্দ দাশের মতো দুর্ভাগা নন।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত