ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল গুজরাট ও কাশ্মীর

আবারও ভূমিকম্প। এ বার গুজরাত ও কাশ্মীরে। রবিবার সন্ধ্যায় একইসঙ্গে কেঁপে উঠল এই দুই রাজ্য।

রাত ৮.১৩-এ রাজকোট ও কচ্ছ-সহ গুজরাতের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল শহরের উত্তর-উত্তরপশ্চিমে ১২২ কিমি দূরে। কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে অহমদাবাদ,সৌরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষজন। কম্পনের পর পরিস্থিতি জানতে রাজকোট, কচ্ছ ও পাটানের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরদের ফোন করে খবর নেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি।

গুজরাতের পাশাপাশি এ দিন কম্পন অনুভূত হয় জম্মু ও কাশ্মীরেও। রবিবার রাত ৮.৩৫-এ মৃদু কম্পন হয় ভূস্বর্গের বিভিন্ন এলাকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৩। জাতীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল কাটরা থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে।

এ দিকে, গত দেড় মাসে দিল্লিতে বারবার কম মাত্রার ভূমিকম্প হয়েই চলেছে। বুধবার রাত ১০টা ৪২ মিনিটে। যদিও তা ছিল মৃদু। রিখটার স্কেলে ৩.২ মাত্রার কম্পন। ভূমিকম্পের উত্‍‌পত্তিস্থল ছিল নয়ডা থেকে ১৯ কিমি দক্ষিণপূর্বে। গভীরতা ৩.৮ কিলোমিটার। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির রেকর্ড বলছে, ছ’টি ভূমিকম্পের মধ্যে গত ২৯ মে-র কম্পনের মাত্রাই সবথেকে শক্তিশালী ছিল। যদিও রিখটারে তা মাঝারি মাত্রার কম্পন। তীব্রতা ছিল ৪.৫। গত ৫৩ দিনের মধ্যে ১২ এপ্রিলই হয় প্রথম কম্পন। যার তীব্রতা ধরা পড়ে ৩.৫। পরদিন ১৩ এপ্রিলের কম্পন তীব্রতা ছিল ২.৭। ১০ ও ১৫ মে যথাক্রমে ৩.৪ ও ২.২ মাত্রার দু’টি ভূমিকম্প হয়।

জিওলজিস্টদের মতে বারবার ছোটখাট কম্পন আগামী দিনে বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় কম্পনের কবলে দিল্লি ও তার আশপাশের অঞ্চল পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজির প্রধান ড. কালাচাঁদ সেন জানিয়েছেন, রাজধানী ও তার আশপাশে ভূস্তরের নীচে যে সিসমিক অ্যাক্টিভিটি ক্রমাগত চলছে তা এই ছোটখাট কম্পনে বোঝা যাচ্ছে। এই কারণেই দিল্লিতে অদূর ভবিষ্যতে বড় কম্পনের আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত