ফটোগ্রাফের মুখ


ঋষিণ দস্তিদারের বাবা প্রেমেন্দু দস্তিদার।

সাদাকালো ছোট ছবিটি করতলে, বাদামত্বকের দানাওঠা জমিনের রঙ জ্বলে গেছে। পোকায় কাটা পেছনের বাড়িঘর অস্পষ্ট হতে হতে প্রায় সাদা, মহাকালের মত। ঠিক মাঝখানে, ছেষট্টি বছর সময় মুচকি হাসিতেই আছে অমলিন; ঝলমলে শ্যামল দীপ্তির মুখখানি। পরিপাটি বাম সিঁথি, ছেঁড়া শার্ট-হাফ প্যান্ট, ধুলোয় সাদা পা, বই বুকে গভীর চোখের খুশী এখনও তাকিয়ে পৃথিবীর পথে।
ঘুমহীন দীর্ঘ রাতের দরজায় আমি অলস ছিটকিনি খুলে এসেছি বাইরে; শুনতে পাই অস্ফুট সুরধ্বনি , যেন পায়ে পায়ে অমল দিনগুলোতে ফিরছে গান। এখানে অপেক্ষার শীত হাড়ে বিঁধে যাচ্ছে, যন্ত্রণা গিলে খেতে খেতে অগুনতি খেয়ালের স্কুল পিছু ফেলে চলে এসেছি  বহুদূর! ছিন্নভিন্ন জ্ঞান জীবনে শুধু অমিত ভাসানের ঢেউতাল বেঁধে দিল। স্রোতের তোড়ে কী কী মিল-অমিল, বয়সের ঝুলিতে তন্নতন্ন খুঁজি- নদীতীরে সমুদ্রে পাহাড়ে নিতান্ত গৃহকোণে, আমাদের কোনও যুগল ছবি নেই। ধার করা হাসিটা মেলাবে, বাবা? তোমার ধুলোর পথ ধরেই হেঁটে আসছি, একটু দাঁড়াও।
.

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত