| 30 মে 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

পাঁচটি সনেট

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ০৯ সেপ্টেম্বর কবি ও গদ্যকার কাজী নাসির মামুনের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

এক

প্রত্যেক শুরুর আগে ভয় নিয়ে তোমাকে জানাই:
মহামিলনের কালে তুমি আমি কেউ কারো নই।
ধরো, আমি প্রতিনিধি। জনতার পুঞ্জীভূত খই
আগুনে তাপিত রেখে নিজে নিজে তামার কড়াই।
ক্ষমতার খড়্গসুধা গিলে ফেলি। একা হয়ে যাই।
তবুও তোমার নামে সংবিধান- সুলিখিত বই
হঠাৎ পঠিত হলে রাজপথে সমবেত হই।
তারার সংসদে ঘোলা ঘোলা চাঁদ, তুমিও বৃথাই।

আকাশ ঘুমিয়ে থাকা নীল-রঙা আমাদের দেশ
আমরাই খন্ড মেঘ, ভাসমান বৈপ্লবিক জল
তারার আদর্শহীন গ্রামে হানা দিই। নামি ঢল।
আলোর কথিত নাম ভেসে যায়। তোমাকে অশেষ
স্বাধীনতা মানি। তুমি দেশ, রক্তে কেনা মখমল।
মানুষ বৃষ্টির মতো। প্রয়োজনে বাঁধভাঙা জল।

 

 

দুই

বাঁধ ভেঙে হঠাৎ গড়িয়ে দেখি হাসির দেয়াল
তুলে দাঁড়িয়েছো। মৌন পরিহাস প্রিয় বালিকার
মতো খিলখিল শব্দ তুলে আসে। কত মহুয়ার
মাতাল গন্ধের দিকে জীবন ছড়ালো মোহজাল।
আমরা মাছের মতো। জলদেশে তরল কপাল
ছুঁয়ে দেখি, বেরিয়ে আসার পথগুলো যার যার
ব্যক্তিগত সুবিধায় আঁটা। তুমি খোলা ব্রেসিয়ার
সামনে রেখেছো বলে মিছিলের দারুণ আকাল!

তবুও রক্তের দিকে সবিনয়ে তোমাকে ছাড়াই
মর্ষকামী জনতার সমাবেশে লীন হয়ে যাবো।
বঞ্চিত সবুজ এনে পতাকায়, তোমাকে দেখাবো।
প্রেমের ভূগোল পেতে আর কত নাশকতা চাই?
হৃদয়ের লব্ধ মাটি তোমার সংসদে কবে পাবো?
ভোটের বাগানে ফল পোঁকা হয়ে আমি কেনো খাবো?

 

তিন

ফল-পাকা বৃক্ষের নিষিক্ত মূলে আমি ডুবে যাই।
মাটির অনন্ত বুকে ঊর্ধ্বমুখী গাছের শহর।
সূর্যের সভ্যতা আলোময়; তবু পাখিদের ঘর
পাতার বস্তিতে থরথর কাঁপে। প্রীতি ভোজ নাই।
মাটির সহ্যের দিকে কাত হয়ে আমিও তাকাই;
করাতের সবখানে সচিবের নিজের স্বাক্ষর
ললিত পদের দিকে তোমাকেও দিয়েছে খবর।
মরা বনে কাটা গাছ- চেয়ে দেখি, তুমি শুধু নাই।

চেয়ারে নিতম্ব রেখে সবুজ হত্যার পাদটীকা
যত লেখো, হরিৎ রক্তের নামে ফিতা ছিঁড়ে যাবে।
ফাইলের বন্দী মুখ ইতিহাস কুঁড়েকুঁড়ে খাবে।
স্মৃতির মুঠোয় তুলে ভেবে নেবো, তুমি অনামিকা।
সময় খারাপ হলে প্রতিভাও যখন বিকৃত
সত্য আলনায় ঝোলে, জীবনের প্রেমটুকু মৃত।

 

 

চার

প্রেমের আলোয় নিভে গেছি আমি; এখন বিষণ্ণ।
রোদের খঞ্জনা দেখি দুপুরের পেটে বসে রয়।
মন্ত্রীর প্রসন্ন ছাঁদে দূর থেকে চোখাচুখি হয়
আমাদের। তোমার কলঙ্ক নাই। শুধু এক বন্য
আবীলতা কাঁথা হয়ে আমাকে জড়ায়; যে-অরণ্য
খেয়ে খেয়ে প্রতিদিন বেড়ে ওঠে তোমাদের ক্ষয়
দেয়াল টপকে আসা পৃথিবীর সব নিরাময়
রাষ্ট্রও পারে না দিতে। মানুষেরা যেন এক পণ্য।

তবুও বিদিত সূর্যে তুমি এক অবিদিত নাম।
বুকের গহীনে চেনা প্রজ্জ্বলিত আগুনের ছুরি
কলিজায় বসে আছো। খুনে খুনে হীন লুকোচুরি
বিপন্ন রাষ্ট্রের নাড়িভুড়ি ঘেঁটে আমি দেখালাম।
গুম হওয়া সকালের সবটুকু খুঁজে আনা যায়
বাঁকা ভুলে সোজা হাঁটো, এভাবেই তোমাকে মানায়।

 

পাঁচ

সর্পিল সত্যের চেয়ে ভুল করে মিথ্যার রুমাল
লাঞ্ছিত মৃত্যুর দিকে জীবনের মতো ফেলে যাও।
আমি তুলে নেবো। যদি অমঙ্গল রাত্রি ঢেলে দাও-
যেভাবে এনেছো ক্ষুধা- অন্তহীন গুদামের চাল
খুলে দিলে মিটবে না। তুমিও কি নীতির গোপাল?
ভাঙা রাস্তা শোয়া বলে ভাঁড় সেজে বাউরি তাড়াও!
দুর্গম সচিবালয় দায়ী হলে কোলে তুলে নাও
অক্ষম বিদ্রুপ; আহা! কুমির পেয়েছে কাটা খাল।

প্রিয়তমা, দলকানা কর্মীদের নিজের ভূগোল
তোমার স্বদেশ হলে জলে পোঁতা ক্ষমতার বিষ
নদীর শরীরে হাত মারে; দূষণের ফিস ফিস
দূর থেকে শুনি; যেন অনাগত বেদনার রোল।
অভিসারে প্রিয় মুখ- উন্নয়নে কত আর ডাকি!
প্রতিশ্রুতি হলো না পূরণ, ও গো, সবটুকুবাকি।

 

 

 

 

2 thoughts on “পাঁচটি সনেট

  1. প্রত্যেকটি সনেটই অমৃত। পড়ে শান্তি পেয়েছি। এমন অবাক সকাল কমই পেয়েছি জীবনে। ভালো থাকবেন কবি। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।
    ???

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত