বীরত্ব আর ব্যর্থতার মহাকাব্য

।।কৌশিক জোয়ারদার।।

ইউফ্রেটিস নদীর তীরে উরুকের রাজা গিলগামেশ তার নায়ক। ব্রোঞ্জের শেকলে বাঁধা বাক্সের ভিতরে থরে থরে সাজানো মাটির টালির গায়ে কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা। মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর মৃত্যুভয়ের কাহিনি ‘গিলগামেশ’কেই পৃথিবীর প্রথম মহাকাব্য বলে মনে করা হয়।

আজ যে অঞ্চলটিকে ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্বের প্রবর্তকেরা দেখেন সঙ্কটের অন্যতম উৎস হিসেবে, টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদী-বেষ্টিত সেই ক্ষেত্রটিই কিন্তু মানবসভ্যতার আঁতুড়ঘর। আধুনিক ইরাক, কুয়েত এবং সিরিয়া-সহ আরও কিছু দেশের অংশবিশেষ নিয়ে এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম মেসোপটেমিয়া। সুমেরীয়, আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয়, আসিরীয়— একের পর এক সভ্যতা আর সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন দেখেছে মেসোপটেমিয়া, এত আর কেউ দেখেনি! এখানে মানুষের সঙ্গে বাস করতেন দেবতারা। আকাশের দেবতা আনু, ধরিত্রী মা আরুরু, বাতাসের দেবতা এনলিল, যৌনতা এবং যুদ্ধের দেবী ইশতার, সূর্য দেবতা শামাশ, এবং আরও বহু দেবতা ছিলেন মানুষের দৈনন্দিন সঙ্গী। তাঁদের আবাস এত দূরে ছিল না যে ডাকলে সাড়া পাওয়া যাবে না। প্রেমে, প্রতিহিংসায়, যুদ্ধে এঁরা ছিলেন মানুষের সহায়, বন্ধু, প্রতিদ্বন্দ্বীও। সময় এবং স্থান বদলে গেলেও, এঁরা ছিলেন। প্রাচীন আথেনীয় সভ্যতায় বা সিন্ধুর অববাহিকায়, হয়তো অন্য নামে, এঁরাই ছিলেন।

কিন্তু যে দিন থেকে মানুষ বুঝতে শিখল ঝড় আর ঝড়ের দেবতা আলাদা, বৃষ্টির দেবতা আসলে আড়ালে থেকে বন্যার অভিশাপ নামিয়ে আনেন, দেবতারা মানুষকে ছেড়ে চলে গেলেন। দেবতারা প্রাচীন মানুষের অনুমানমাত্র ছিলেন না, মানুষ প্রাকৃতিক শক্তির মধ্যেই দেবতাদের প্রত্যক্ষ করত। যত দিন না সর্বশক্তিমান সর্বজ্ঞ ঈশ্বর একমাত্র সত্য হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন, মানুষের নিজেরই দেবতা হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত ছিল। কীর্তিতে মহত্ত্বে মৃত্যুহীন দেবতাকেও ছাপিয়ে যেতে চাইত মরণশীল মানুষ। আর এ ভাবেই জন্ম নিল মিথ। মিথ-এর সঙ্গে সরাসরি ‘রিলিজিয়ন’-এর কোনও সম্পর্ক নেই। যাপনের বিরুদ্ধতাকে বোঝার এবং যোঝার গল্প মিথ। এই গল্প কখনও সাফল্যের, কখনও ব্যর্থতার, কিন্তু মিথ্যা নয়। মিথ তার তথ্যমূল্যের কারণে সত্য নয়। মিথ সত্য, কারণ তা মানুষকে তার অভিজ্ঞতার অর্থ দিয়েছে, ধ্বংসের ছাই থেকে উঠে দাঁড়াবার প্রেরণা জুগিয়েছে বারবার। প্রমিথিউস বা ফিনিক্স পাখির গল্প কি মানুষের নিজেরই গল্প নয়? মানুষের আকাঙ্খা সাফল্য আর ব্যর্থতার এমনই এক গল্পের নায়ক গিলগামেশ।

২৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ ইউফ্রেটিস নদীর তীরে উরুক নগর-রাষ্ট্রে গিলগামেশ নামে সত্যিই এক রাজা ছিলেন। তিনি সম্ভবত পঞ্চম সুমেরীয় নৃপতি, যিনি তাঁর প্রতিপত্তিবলে পরে দেবতা হিসেবেই পূজিত হতে থাকেন। তাঁর নামে প্রচলিত নানান বীরগাথা আনুমানিক ২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে লেখা শুরু হয়। লিখিত এই কাহিনিগুলিই সঙ্কলিত হয়ে জন্ম নিল পৃথিবীর প্রথম মহাকাব্য ‘গিলগামেশ’।

গিলগামেশের কাহিনির চেয়ে এই মহাকাব্যের উদ্ধারের ঘটনা কম চিত্তাকর্ষক নয়। ‘গিলগামেশ’ মহাকাব্য লেখা হয়েছিল মাটির ট্যাবলেট বা টালিতে ‘কিউনিফর্ম’ লিপিতে। কীলক বা গজাল-আকৃতির লিপি সংবলিত এই বর্ণমালা ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ আবিষ্কৃত হয়েছিল নিম্ন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে। সে সময়ে এই অঞ্চলে দুটি ভাষা প্রচলিত ছিল— সুমেরীয় এবং আক্কাদীয়। সুমেরীয় ভাষা আত্মীয়হীন, কিন্তু আক্কাদীয় হিব্রু কিংবা আরবির মতোই সেমিটিক ভাষা। যাই হোক, ওই সুদূর অতীতেই মেসোপটেমিয়ার নাগরিক জীবন এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে সামাজিক এবং প্রশাসনিক নীতি-নির্দেশগুলি কেবল স্মৃতিতে আর ধরে রাখা যাচ্ছিল না। প্রশাসনিক প্রয়োজনেই মূলত কিউনিফর্ম লিপির উদ্ভব। জন্মকালের জড়তা কাটিয়ে কিউনিফর্ম কালে কালে এতটাই উন্নত হয়ে উঠল যে তার সাহায্যে একটা আস্ত মহাকাব্য পর্যন্ত লিখে ফেলা সম্ভব হল। আর মেসোপটেমিয়ার মানুষ পোড়ামাটির টালিতে লিখে রেখে তাদের ভাবনা আর গল্পগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করে রাখার প্রযুক্তিও আবিষ্কার করে ফেলল! ব্রিটিশ মিউজিয়মের একটি ঘরে মেসোপটেমিয়া অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত এমন ১,৩০,০০০ টালি রক্ষিত আছে। জর্জ স্মিথ নামে এক আসিরীয়বিদ নেশাগ্রস্তের মতো ব্রিটিশ মিউজিয়মের ওই ঘরটিতে টালিগুলির সঙ্গে সময় কাটাতেন, তখনও পর্যন্ত অজ্ঞাত ওই লিপির পাঠোদ্ধারের চেষ্টায়। ১৮৭২ সাল নাগাদ পড়েও ফেললেন একটি টালির বক্তব্য! এ যে বাইবেল বর্ণিত মহাপ্লাবনের বর্ণনা! এবং তা লেখা হয়েছে অন্তত ৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে! শোনা যায় পাঠোদ্ধারের মুহূর্তকাল পরে বিস্ময়ে এবং আনন্দের আতিশয্যে স্মিথ বিবস্ত্র হতে শুরু করেন! এ এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তই বটে, ডারউইনের ‘অন দ্য অরিজিন অব স্পিশিস’ প্রকাশের তেরো

বছর পর ‘ফ্লাড-ট্যাবলেট’–এর পাঠোদ্ধার যেন রিলিজিয়নের উপর দ্বিতীয় আঘাত!

বিস্ময়ের আরও কিছু বাকি ছিল। এই মহাপ্লাবনের কাহিনির অপর ভাষ্য পাওয়া গেল, যা লেখা হয়েছিল উল্লিখিত টালিটির অন্তত হাজার বছর আগে! পরবর্তী কালে এই কাহিনি ‘গিলগামেশ’ মহাকাব্যের একাদশ পরিচ্ছেদ হিসেবে সংযোজিত হয়। মহাকাব্যটি অবশ্য তারও হাজার বছর আগে লেখা শুরু হয়েছিল, আমরা আগেই দেখেছি। ‘গিলগামেশ’ মহাকাব্যের আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয় ইত্যাদি একাধিক ভাষ্য পাওয়া গেছে। ১২টি ট্যাবলেট সংবলিত পূর্ণাঙ্গ মহাকাব্যের শ্রেষ্ঠ সংস্করণটি উদ্ধার করা গেছে আসিরীয় সম্রাট আসুরবনিপাল (৬৬৮-৬২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)-এর নিনেভ নগরীর (বর্তমানে ইরাকের মসুল শহর) রাজকীয় গ্রন্থাগার থেকে। আসুরবনিপাল ইতিহাসে অত্যাচারী এবং বিদ্যোৎসাহী দুই হিসেবেই বর্ণিত। তিনি নিজেই দাবি করেছিলেন যে দেবতা নেরগাল-এর বরে তিনি শক্তিমান এবং নবু-র অনুগ্রহে জ্ঞানী। কথিত আছে, আসুরবনিপাল কেবল শত্রুদের বিদ্রোহ দমনেই তাঁর কুখ্যাত অত্যাচারনীতি প্রয়োগ করতেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে কিউনিফর্ম ট্যাবলেটের সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ। তিনি সেই বিরল ব্যক্তিদের এক জন, যিনি সুমেরীয় এবং আক্কাদীয়, দুটি ভাষাই লিখতে এবং পড়তে পারতেন। গর্ব করে বলতেন, তাঁর যাবতীয় মুদ্রিত নথি তিনি সংগ্রহ করে ফেলেছেন। সংগৃহীত টালির অনুলিপির কাজও তিনি করিয়েছেন।

৬১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ ব্যাবিলনীয়দের সঙ্গে এক সংঘাতে নিনেভের পতন হয় এবং রাজপ্রাসাদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিউনিফর্ম ট্যাবলেটের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ঘটনা আসুরবনিপালের সংগ্রহের সামান্যই ক্ষতি করতে পেরেছিল। তাঁর প্রায় সম্পূর্ণ সংগ্রহটিই ব্রিটিশ মিউজিয়মে রক্ষিত আছে। মানুষের প্রথম সাহিত্যকীর্তি গিলগামেশ মহাকাব্য যে শেষ পর্যন্ত আধুনিক হাতে এসে পৌঁছেছে, তার জন্যে আসুরবনিপালের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

সাহিত্যের ইতিহাসে ‘গিলগামেশ’-এর তাৎপর্য বড় কম নয়। মৌখিক সাহিত্যসৃষ্টি এক ধরনের যৌথ সৃজন। ‘গিলগামেশ’ মহাকাব্য সমাজের পরিবর্তে ব্যক্তির লেখক হয়ে ওঠার প্রাচীনতম নিদর্শন। তা ছাড়া মৌখিক সাহিত্যে প্রক্ষেপণ বা পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। একটি দেশ বা জাতির ভাবনা ও সংস্কৃতির প্রায় অবিকৃত অবস্থায় অনুবাদের মাধ্যমে অন্য দেশের অন্য সময়ের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করল ‘গিলগামেশ’। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক ডেভিড ডামরশ তাই মনে করেন, মানুষের আদিতম এই মহাকাব্যের লিপিবদ্ধ হওয়ার মধ্যে দিয়েই সাংস্কৃতিক ভুবনায়নেরও সূত্রপাত।

কাব্যের শুরুতেই পাঠককে সচেতন করে দেওয়া হচ্ছে, ব্রোঞ্জের শিকলে বাঁধা বাক্সের ভিতরে থরে থরে সাজানো টালির উপরে লিখিত আছে এক মহাকাব্য। হে পাঠক, পাঠ করো: গিলগামেশ উরুক নগর-রাষ্ট্রের শাসক। মরণশীল দেবী নিনসানের পুত্র, পরাক্রমী যোদ্ধা এবং আশ্চর্যকীর্তি এই রাজার একটাই দোষ— রাজ্যের প্রতিটি নববধূকে প্রথম রাতে রাজার ভোগ্য হতে হয়। প্রজারা দেবরাজ আনু-র কাছে অভিযোগ জানিয়ে পরামর্শ পেল দেবী আরুরু-র সাহায্য নেওয়ার। আরুরু পৃথিবীর মাটি-কাদা দিয়েই গিলগামেশেরই সমশক্তি-সম্পন্ন আর এক পুরুষ গড়ে দিলেন, তার নাম এনকিডু। বনের রাজা এনকিডুকে বশ করতে নাগরিক রাজা গিলগামেশ সুন্দরী গণিকা শামহাত-কে প্রেরণ করলেন। ছয় দিন সাত রাত নগরনটীর সঙ্গে যৌন মিলনে ক্লান্ত বিবশ এনকিডু সঙ্গিনীর হাত ধরে চললেন গিলগামেশের মুখোমুখি হতে। কিন্তু নববধূদের প্রতি রাজার অন্যায় ব্যবহারের প্রতিবাদ করে এনকিডু পরে রাজার সঙ্গেই

যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। প্রবল কিন্তু অমীমাংসিত এক যুদ্ধের পর গিলগামেশ আর এনকিডু দুজনে হয়ে উঠলেন পরম বন্ধু।

বন্ধু লাভ করেই গিলগামেশের বাসনা হল সুদূর লেবানন পর্বতের দেবদারু বনে গিয়ে বনরক্ষক হুম্বাবাকে পরাজিত করে উরুকের স্বার্থে বনজ সম্পদ দেশে নিয়ে আসার। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে, দুই বন্ধু সেই কাজ সম্পন্ন করে নগরে ফিরেও এলেন। এ দিকে দেবী ইশতার গিলগামেশের বীরত্ব ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। গিলগামেশ রাজি না হওয়ায় ইশতার স্বর্গের অগ্নিময় ষাঁড় ছেড়ে দিলেন উরুক নগরীতে। গিলগামেশ এনকিডুর সাহায্যে ধ্বংসলীলায় উন্মত্ত সেই ষাঁড়কে হত্যা করলেন। জয়ের আনন্দ স্থায়ী হল না, হঠাৎ এনকিডুর মৃত্যু হল। মৃত্যুর পূর্বাভাস এনকিডু পেয়েছিলেন, কিন্তু কেন ঈশ্বর তাকে এই শাস্তি দিচ্ছেন তার উত্তর মিলল না। বীরের মৃত্যু লাভ না করার দুঃখ নিয়ে এনকিডু গিলগামেশকে একা করে দিয়ে চলে গেলেন!

এনকিডুর পরিণতি গিলগামেশকে যারপরনাই বিমর্ষ ও মৃত্যুভয়ে ভীত করে তুলল। জীবনের অর্থ ও অমরতার খোঁজে তিনি বেরিয়ে পড়লেন শুরুপ্পক-এর কিংবদন্তি রাজা উটা-নাপিশ্‌তির খোঁজে। এই সেই উটা-নাপিশ্‌তি যাঁকে দেবতারা নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘‘গৃহসম্পদ ত্যাগ করে একটি বৃহৎ দৃঢ় তরণী নির্মাণে মন দাও। সেই কাজ সম্পন্ন হলে তার ভেতরে সমস্ত প্রাণের বীজ রক্ষিত করো। শীঘ্রই তোমাদের ভূমিতে নেমে আসবে এক মহাপ্লাবন।” উটা-নাপিশ্‌তি এক অভূতপূর্ব বন্যার গ্রাস থেকে নিজেকে এবং জীবনকে রক্ষা করে দেব এনলিলের বরে সস্ত্রীক অমরতা এবং দেবত্ব লাভ করলেন। দুর্গম গিরি আর ভয়ঙ্কর মৃত্যুসাগর পার হয়ে গিলগামেশ গন্তব্যে পৌঁছলেন বটে, কিন্তু কঠিন পরীক্ষা নিয়েও উটা-নাপিশ্‌তি মৃত্যুহীন জীবনের রহস্য ভাঙলেন না। এমনকি, গিলগামেশ পুনর্যৌবন লাভ করার আশ্চর্য গাছ হাতে পেয়েও নিয়তির ষড়যন্ত্রে তা হারিয়ে ফেললেন! মানুষের জীবন নয়, কীর্তিই অমর— এই উপলব্ধি নিয়ে গিলগামেশ উরুক নগরীতে প্রত্যার্তন করলেন।

‘গিলগামেশ’ বন্ধুত্বের গল্প, মানুষের উচ্চাকাঙ্খা, বীরত্ব, আপন সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার এবং তার ব্যর্থতারও গল্প। ১৯১৬ সালে এই মহাকাব্যের পাঠ কবি রাইনার মারিয়া রিলকে-কে এমনই মুগ্ধ করে যে তিনি পরিচিত সবাইকেই এর গল্প শোনাতেন। তাঁর মতে ‘গিলগামেশ’ মানুষের মৃত্যুভীতির মহাকাব্য। কিন্তু শুধুই কি তাই? গিলগামেশ যেন আলবেয়র কামু কথিত সেই ‘অ্যাবসার্ড’— জগতের কাছে মানুষের জিজ্ঞাসা এবং উত্তরে জগতের নৈঃশব্দ্যের সংযোগ। মানুষ নিজের জীবনের অর্থ খোঁজে পৃথিবীর বুকে। কিন্তু জগৎ তো আসলে অর্থহীন, মানুষই জগৎকে অর্থপূর্ণ ক’রে তোলে। তার নিজের জীবনের অর্থও তাই নিজেকেই সৃজন ক’রে নিতে হবে। ‘মিথ অফ সিসিফাস’-এর এমন ব্যাখ্যাই করেছেন কামু। গিলগামেশের কাহিনিও আমরা সেই ভাবেই পড়তে পারি।

 

ছবি: ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত