| 13 এপ্রিল 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

ইরাবতী ছোটগল্প: সাহসিনী । অন্বেষা দত্ত

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট
সৃষ্টির সঙ্গে কীভাবে যেন আলাপ হয়েছিল, আজকাল ঠিক মনেও পড়ে না অনন্যর। মেয়েটাকে যত দেখে, ততই সে অবাক হয়। কতই বা এখন বয়স হবে তার, বারো-তেরো! চোখ দুটো কী অসম্ভব উজ্জ্বল। আর যখন নাচে, তখন চারপাশের দুনিয়াটা এক নিমেষে ভুলে যায়। এত সহজ দৃপ্ত ভঙ্গি, তাক লেগে যায়।
সৃষ্টির একটা পা নেই। এই যে নেই, এটা বলার মধ্যে বড় দৈন্য অনুভব করে অনন্য। ছোট থেকে রাস্তাঘাটে এমন কত মানুষই তো দেখেছে। বাড়িতে বা স্কুলে তখন ‘ডিফারেন্টলি এবেলড’ বলার শিক্ষা দেওয়া হতো না। খোঁড়া, ল্যাংড়া, নুলো—এই শব্দগুলোই কানে বাজে। কিন্তু সৃষ্টিকে তার সেই শোনা শব্দের পরিধিতে ফেলতে পারে না সে। অনন্য জানে, পা নেই… এইটুকু বললেই মেয়েটা একটা আলাদা ক্যাটিগরিতে ঢুকে যায়। সেখানে করুণা দেখানোটা অপরাধ। বছর পঁচিশের যুবক অনন্য এখন এগুলো বোঝে।
সৃষ্টিকে প্রথম দেখায় এতসব হিসেবনিকেশ মাথায় ছিল না তার। স্টেজে নাচতে দেখেছিল ওকে… অনেকটা দূর থেকে। কিন্তু আশপাশটা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। নজর থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পথটুকুতে শুধুই ছিল মেয়েটার অনন্যতা। বুঝতেই পারেনি পায়ে কোনও সমস্যা আছে। অনেকটা দূর থেকে দেখেছিল বলে কি? হয়তো… হয়তো নয়। বাইরে ক্লাবের রক্তদান শিবিরের শেষবেলার কাজ সেরে অডিটরিয়ামে ঢুকেছিল অনন্য… নাচ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর। ঘোষণা কিছু তাই শোনা হয়নি। নামটাও না। নাচ শেষে তুমুল হাততালিতে তার চটক ভেঙেছিল। পাশ থেকে রতনদা বলছিল, ‘মেয়েটার দম আছে রে! এই পা নিয়ে…।’ অবাক চোখে রতনদার দিকে তাকিয়েছিল সে। সাজগোজ করা সৃষ্টি তখন তাদের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। অনন্য এগিয়ে গিয়েছিল ওর দিকে। মেয়েটার মাথায় হাত রেখে বলেছিল ‘দারুণ নেচেছো।’ ‘থ্যাঙ্কিউ’ বলে আলগা হেসে ক্রাচে ভর দিয়ে দৃষ্টিপথের বাইরে চলে গিয়েছিল সৃষ্টি।
দিনশেষের আড্ডায় রতনদাই তুলল প্রসঙ্গটা—‘সৃষ্টি খুব গরিব ঘরের মেয়ে। বাবার চায়ের দোকান। পড়াশোনায় ভালো ছিল ছোট থেকেই। আর নাচে তার থেকেও বেশি।’ একটু থামল রতনদা। চায়ের ভাঁড়ে একটা চুমুকের জন্য। অনন্যর এই বিরতিটুকুও যেন ভালো লাগছিল না… ‘কিন্তু পা?’ খানিক উদাসই হয়ে গেল রতনদা। আর একবার গলা ভিজিয়ে রতনদা বলল, ‘শুনেছি বছর দুয়েক আগে দুর্ঘটনায় মেয়েটার পা বাদ চলে যায়। হেঁটেই স্কুলে যেত। সেদিন কী যে হল! রাস্তা পেরনোর সময় বেপরোয়া বাসটা প্রায় পিষেই দিচ্ছিল! ভাগ্যক্রমে একজন ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিল বলে প্রাণটা বাঁচে। কিন্তু ডান পা-টা হাঁটুর নীচ থেকে টেনে নিয়েছিল বাসের চাকা।’ শিউরে ওঠে অনন্য। রতনদা বলে চলে… ‘অনেকক্ষণ নাকি পড়েছিল। ওভাবেই। আর লোকজন তো জানিস। কোথায় মেয়েটাকে হাসপাতাল নিয়ে যাবে… তা না, সব বিক্ষোভ দেখাতে আর বাস ড্রাইভারকে মারতে ব্যস্ত। ভাঙচুর-টাংচুর করে ওকে যখন হাসপাতাল নিয়ে গেল, তখন দশ বছরের মেয়েটার প্রাণ বাঁচানোই দায়।’
—‘ওকে দেখে বোঝা যায় না ওর ওপর দিয়ে এত ঝড় বয়ে গেছে!’
—‘হ্যাঁ মেয়েটা বরাবর লড়াকু। টানা সাড়ে তিন মাস হাসপাতালে। এতটুকু কাঁদতে দেখেনি ওকে কেউ। বেডে চুপচাপ শুয়ে থাকত! আমি সব শুনেছিলাম ক্লাবে এসে।’
অনন্যর যেন ধাঁধা লেগে গেল… ‘এতটুকু মেয়ে… ডিপ্রেশন কাটিয়ে আবার নাচার সাহস পেল কীভাবে?’
—‘ওকে খুব সাবধানে রাখতে বলেছিলেন ডাক্তাররা। ভয় ছিল একটাই, আবার যাতে ইনফেকশন না হয়। টাকা পয়সা তো বেশি নেই! ওর মা-ই ছিল সব। তারপর একদিন উনিই সৃষ্টিকে নিয়ে এলেন ক্লাবে।’
—‘কেন? সাহায্যের জন্য?’
—‘খানিকটা তেমনই। সৃষ্টির মা বলেছিল, আমার মেয়েটা আবার নাচতে চায়। আপনারা কেউ যদি কোনওভাবে সাহায্য করেন…।’
চা-টা জুড়িয়ে গিয়েছিল। বাকিটা এক চুমুকে শেষ করে ভাঁড় ফেলে দিল রতনদা।—‘ক্লাবে প্রথমে সবাই একটু ইতস্তত করছিল। কাঠের পা নিয়ে সুধা চন্দ্রনের গল্প সবাই পড়েছে। কিন্তু সামনাসামনি সৃষ্টিকে দেখে কথা সরছিল না কারও। সৃষ্টিই শেষে বলেছিল, আমি আবার নাচব। যে করে হোক। পাড়ার ক্লাব ফেরায়নি মেয়েটাকে। সৃষ্টিকে নিয়ে কিছুদিন ডাক্তার আর নাচের টিচারের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে আমাদেরই ছেলেপুলেরা। সব দেখেশুনে ডাক্তাররা বলেছিলেন, প্রোস্থেটিক লেগ ছাড়া নাচের রাস্তা বন্ধ। আর অত উন্নতমানের পা আনিয়ে দেওয়ার মতো বাজেট আমাদের ক্লাবের ছিল না। বিষয়টা সেখানেই চাপা পড়ে গিয়েছিল।’
অনন্য বলে, ‘তারপর ও নাচল কীভাবে?’
রতনদা বললেন, ‘সময় লেগেছে। প্রায় এক বছর বাড়িতে বন্দি থাকার পর আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিল সৃষ্টি। ক্রাচ নিয়ে মেয়েটা বেরিয়ে যেত। ঘরে বসে চোখের জল মুছত মা। এর মধ্যে কোনওভাবে ওদের সঙ্গে ফের দেখা হয়েছিল নাচের সেই শিক্ষকের সঙ্গে। উনিই নাকি বলেছিলেন, কৃত্রিম পা ছাড়াও ব্যালান্স তৈরি করে নাচতে পারো। তবে শিখতে অনেকটা সময় লাগবে। মেয়েটার অদম্য জেদ। ক্লাবে এসে বলল, আমি শিখব। টিচারের ফি দিয়ে দেবেন? ক্লাব দিয়েছিল… মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে। আর অমানুষিক চেষ্টা করেছে রে। মাস ছয়েক পর সত্যি একদিন রপ্ত করে ফেলল ব্যালান্স। এক পায়ে নেচে চমকে দিল। মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে এদিক ওদিক অনুষ্ঠানে নাচতেও যাচ্ছিল। সৃষ্টির ম্যাজিক এবার তুইও দেখলি।’
সেদিনের পর থেকে মেয়েটার ওপর অদ্ভুত টান তৈরি হয়েছিল অনন্যর। এটা-ওটা ছুতোনাতায় সে চলে যেত তাদের বাড়ি। কখনও সৃষ্টিকে পড়াত। কখনও একটু লুডো খেলা। কখনও স্রেফ গপ্প। সৃষ্টি অনেক বড় মানুষ হোক, মনে মনে চাইত সে। মেয়েটার জেদ যেন তাকেও পেয়ে বসেছিল। নিজের যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সে সাধ্যমতো চেষ্টা করত ওকে নাচের সুযোগ করে দেওয়ার। একটুআধটু রোজগারের পাশাপাশি নিজের ভালোলাগাটা পূরণ করতে পেরে খুশি ছিল সৃষ্টিও।
এইভাবে চলতে চলতে সৃষ্টির খবর কীভাবে যেন পৌঁছে গিয়েছিল এক সাংবাদিকের কাছে। তিনি এসেছিলেন দেখা করতে। সৃষ্টির সঙ্গে কথা বলে তিনিও চমকে যান। কষ্টের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে এতটুকু গলা কাঁপেনি মেয়েটার। নাচ ওর ধ্যান-জ্ঞান। নাচ নিয়ে যতবার প্রশ্ন, ততবার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ওর মুখ। কিছুদিন পর কাগজে বেরলো সাহসিনী সৃষ্টির কথা। পরিবার দারুণ খুশি। মেয়ে কত বড় হয়েছে, ভেবে তাদের আনন্দের সীমা নেই। খুশি হয়েছিল অনন্যও। সৃষ্টিকে খেপিয়ে বলেছিল, ‘যা: এবার তো তুই সেলিব্রিটি! অনন্য দাদাকে ভুলেই যাবি।’ কটকট করে মেয়েটা বলে উঠেছিল, ‘কক্ষনো না। কীসব হাবিজাবি বলে যাও দাদা। আমাকে তো তুমিই বসালে ওদের সামনে। আমি যেতেই চাই না। দুর, সারাক্ষণ জেরা করে যাচ্ছে!’
কাগজে সৃষ্টির কথা বেরোনর পর টেলিভিশন চ্যানেলের তরফে অনেকে ওর বাড়ি খুঁজতে এসেছিল। অনন্যর কাছে ফোনও এসেছিল বার কয়েক, ‘দাদা একপেয়ে মেয়ের নাচ জমে যাবে। একটু রাজি করান না প্লিজ।’ অনন্য পাত্তা দেয়নি। সৃষ্টিকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কিরে এবার টিভিতে মুখ দেখাবি নাকি?’ খিলখিল করে হেসেছিল মেয়েটা। অনন্য বোঝেনি, সৃষ্টি হেসে উড়িয়ে দিলেও ওর বাড়ির লোকের কাছে টিভিতে মেয়ের নাচ দেখানোর ব্যাপারটা কত বড়। অনন্য কিছু জানার আগেই তলে তলে ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছিল। চ্যানেলের লোকজন কথা বলে সব সেট করে নিয়েছিল সৃষ্টির মায়ের সঙ্গে।
সেই সময়টা কিছুদিন নিজের পড়াশোনা কাজকর্মে ব্যস্ত ছিল অনন্য। সৃষ্টিদের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পায়নি। মাসখানেক পরে তাকে ক্লাবেরই একজন ফোন করে বলল, ‘শিগগির টিভি খোল, সৃষ্টির নাচ দেখাচ্ছে।’ টিভি খুলে থমকে যায় অনন্য। ডান্স শো-তে মেয়েটাকে এমন জবরজং সাজিয়েছে যে চেনাই যাচ্ছে না। এক কোণে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে ও। হঠাৎ সেলিব্রিটি অভিনেতার জলদগম্ভীর স্বর, ‘আজ আমাদের মধ্যে আছে এক অন্য তারা। সৃষ্টি সাঁতরা, তার কথা শুনে নিন তার মুখেই। এসো সৃষ্টি, এগিয়ে এসো আমাদের কাছে।’ এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে আসে সৃষ্টি। ক্রাচটা সঙ্গে নেই তখন। মাইক্রোফোনটা তার হাতে ধরিয়ে দেন শো-এর উপস্থাপক।
কথা বলা পুতুলের মতো মেয়েটা বলে যায়, ‘আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে আমার বন্ধু অদিতি। ও আমারই নাচের স্কুলে নাচ শেখে। আমিও নাচতে ভালোবাসি। আশা করি আমার নাচ আপনাদের ভালো লাগবে।’ সঙ্গে সঙ্গে হাততালি। তার পরের শটে ক্লোজ আপ। ছলছল চোখে সৃষ্টি বলে, ‘আমার পা-টা বাসের চাকা টেনে নিয়ে গেছিল। অনেকদিন হাসপাতালে ছিলাম। নাচ ছাড়তে হবে ভাবলে খুব কষ্ট হতো।’ ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ইমোশনাল গান। দর্শকদের মধ্যে অনেকে চোখ মুছছেন। এরপরে সেলিব্রিটি অভিনেতা বললেন, ‘তোমার লড়াই আমাদের অনুপ্রেরণা। তুমি দেখিয়ে দাও ইচ্ছাশক্তির জোর কতটা।’
হাততালির মধ্যে শুরু হয়ে যায় সৃষ্টির নাচ। কিন্তু অনন্যর ওকে অচেনা লাগছিল। ওর নাচ, মুখের ভঙ্গি সব কিছু কেমন নিষ্প্রাণ। কেউ যেন জোর করে মেয়েটাকে পুতুলনাচের শোয়ে নামিয়েছে। ওপর থেকে সুতোয় ওর হাত পা টেনে ধরছে কেউ। ওর নাচে দর্শকরা যদিও মুগ্ধ। অন্তত টিভি স্ক্রিনে তাই বোঝা যাচ্ছিল। সূক্ষ্ম তফাৎটা বুঝেছিল শুধু অনন্য। তার মনে হচ্ছিল, কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। নাচ শেষ হতেই সে ফোন করল সৃষ্টির মায়ের মোবাইলে। কেউ তুলল না ফোন। দেরি না করে ওদের বাড়ির দিকে রওনা দিল সে।
বাড়ির সামনে তখন মেলা লোকজন। অনন্য হাঁক পাড়ে, ‘সৃষ্টিইইই…।’ সকলে তার দিকে তাকায় চিৎকার শুনে, কিন্তু কেউ বলতে পারে না সৃষ্টি কোথায়। এবার লোকজন ঠেলে ভেতর দিকে এগোয় সে। সৃষ্টির মা দাওয়ায় বসে। চোখ কেঁদে কেঁদে কালো। অনন্য জানতে চায়, ‘কী হয়েছে মাসিমা?’ মুখ তুলে সৃষ্টির মা শুধু বলেন, ‘মেয়েটাকে খুঁজে পাচ্ছি না বাবা।’ ‘সে কি, পুলিশে খবর দিয়েছেন?’ সৃষ্টির মা কেঁদে কেঁদে কী যে বলে যান, ঠাওর হয় না অনন্যর। সে বেরিয়ে এসে পাড়ার এদিক ওদিক খুঁজতে শুরু করে। কলপাড়, রাস্তার মোড়, ফুচকা খাওয়ার জায়গা— কোথাও নেই মেয়েটা। থানায় যাবার মনস্থ করে বাড়ির দিকে এগয় অনন্য।
বাড়ির কাছে এসে চমকে ওঠে। তাদের গেটের কাছে চুপচাপ বসে আছে সৃষ্টি। আলুথালু চেহারা। চোখে জল। যে মেয়ে পা কাটা যাওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করেছে হেলায়, তার চোখে জল! অনন্য এগিয়ে কোলে তুলে নেয় সৃষ্টিকে। তাকে দেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে মেয়েটা। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অনন্য তার মায়ের কাছে বসায় সৃষ্টিকে। মা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। খানিক পরে ধাতস্থ হয় মেয়েটা। অনন্য এবার জিজ্ঞেস করে, ‘কি রে আমার সাহসিনী এত চোখের জল কেন?’ সৃষ্টি বলে, ‘দাদা তুমি কি আমার ওপর রাগ করেছো?’
‘ও মা না তো। কেন রাগ করব?’
‘আমি যে টিভিতে নাচতে গেলাম।’
‘তোর ইচ্ছে হয়েছে, গেছিস। আমি কেন রাগব!’
‘না দাদা, আমার ইচ্ছে নয়। মা জোর করল। বলল টিভিতে গেলে অনেক টাকা পাবি, আর নামও হবে।’
‘তাই তুইও নাচতে নাচতে চলে গেলি?’
সৃষ্টি চুপ। অনন্য বোঝে, কথাটা বলা ঠিক হয়নি। এবার সে বলে,
‘কেন কী হয়েছে ওখানে?’
‘ওরা খুব অন্যরকম দাদা। যা যা ভেবেছিলাম, তার কিছুই হয়নি।। তাতেও দুঃখ পেতাম না। কিন্তু ওদের দেখে যেন কেমন ভয় করছিল। বলে দিয়েছিল, ওদের শিখিয়ে দেওয়া গল্প বলতে হবে। তারপর আমায় বলল, অদিতি তোমায় নিয়ে এসেছে, এটা বলবে স্টেজে। আরে ওই অদিতিকে তো আমি চিনিই না। তারপর ওরা বলে দিল যেটুকু বলতে বলব, সেটুকুই বলবে। স্টেজে অনেক বড় বড় লোক থাকবে। বেশি কথা বলা বারণ। জানো দাদা, আমি তা-ও বলেছিলাম মাস্টারমশাইয়ের কথা। তোমার কথা। আমার হাসপাতালের দিনগুলোর কথা। ওরা মাইক কেড়ে নিয়ে খুব বকুনি দিল। তখনই কান্না পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাউকে কিছু বলিনি।’
মেয়েটার ধরা গলা শুনতে কষ্ট হচ্ছিল অনন্যর। সে বলল,
‘বেশ করেছিস। তুই তো আমার সাহসিনী।’
‘দাদা এইসব হলে আমার আর নাচ করতে ভালো লাগে না।’
‘চুপ! এমন কথা কোনওদিন মুখেও আনবি না। শোন পৃথিবীটা এইরকমই। এখনও বড় হোসনি, বুঝবি না সব। তুই শুধু যেটা ভালোবাসিস, সেটা করে যা।’
মিডিয়ার এক বন্ধু মারফত পরে খোঁজ নিয়েছিল অনন্য। চ্যানেলে সৃষ্টির নাচের দিন ওই সিজনে শো-টিআরপি ছিল সবচেয়ে বেশি। মুচকি হেসে অনন্য শুধু বলেছিল, ‘শাবাস!’
(গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবের সঙ্গে কোনও চরিত্র, ঘটনা, স্থানের যোগাযোগ থাকলে তা নেহাতই কাকতালীয়।)
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত