গুচ্ছ কবিতা

বিজেতা

টের পাই—বন্ধুটি বদলে গেছে। সে এখন চৌকস তাসুড়ে! জুয়ার টেবিলে সে যখন ঘোষনা করে বসলো, পৃথিবী দখল করে নেবে, অবিশ্বাস করতে পারিনি। সে পারবে।
তার হাতে কি করে কি করে যেন উঠে আসে বনেদী তাসেরা; রাতভর জিততে থাকে সে। জিতে নেয় স্কুলবাড়ি, হাতমোজা, স্যান্ডউইচ ও উটের মাংস—যার একটাও বাবা তাকে কিনে দিতে পারেনি। আমি জানি—রাতের শেষভাগে মদ নারী সুপারমার্কেট আর আনন্দসঙ্গীতসহ বহুকিছু জিতে নেবে সে।
তার চোখ সম্রাজ্যবাদী—জিতে নেয় একটার পর একটা শহর, যুদ্ধ ও সেনাবাহিনী! আমি তার হেরে যাওয়ার অপেক্ষা নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকি।

ভাগ্যলিপি

সব দুঃখের শব্দরূপ নেই—হুইলচেয়ার যাকে যাকে বয়ে নিয়ে যায়, তারা তবু ভাগ্যবান—ফ্রকের সাথে সেলাই হয়ে গেছে যতটা শৈশব—ভাগ্যবান তারাও।

আরো বেশি সৌভাগ্যবান, যারা মৃতের কন্ঠস্বর শুনতে পায়।

হারানো পালকির সাক্ষাৎ পেলে পুরাতন সন্ন্যাস ভেঙে যায়। নিজের ছায়ার সাথে একমত হতে পারে না সকলে—যারা পারে, তারা ভাগ্যবান, তাদের সংসারে হাস্নাহেনা ফোঁটে।

আরো বেশি ভাগ্যবান—নাম ধরে ডাক দিলে যারা নিঃসংকোচে সাড়া দিতে পারে।

তুখোর সে তাসুরের নাচ

নাচতে এসেছি—বৃক্ষের কন্যাটি এসে চুল খুলে দিয়ে
                                                                   বলবে—
বাদ্যের ভীড়ে সানাই সানাই কান্নাও খুব চলবে…

এই নাটকে কয়েকটি ভাঁড়—নায়ক মোটে একটা!
টগবগে এক ঘোড়া থাকবে, খোঁড়া থাকবে এক পা…

গীতি থাকবে, ভীতি থাকবে; নেপথ্যে এক লাশ—
              ইস্কাপনের বিবির পিছে একান্নটি তাস…

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত