একজনের র‌্যাপার হয়ে ওঠা নিয়ে ছবি ‘গালি বয়‘।

Reading Time: 2 minutesচলচ্চিত্র: গালি বয় পরিচালক: জোয়া আখতার কলাকুশলী: রণবীর সিং, আলিয়া ভাট, কালকি কোয়েচলিন দেশ: ভারত সাল: ২০১৯ রেটিং: ৩/৫ ঝলমলে মুম্বাই শহরের আরেক দিকে আছে অন্ধকার। এই শহরে যেখানে একদিকে আছে সমাজের উঁচু শ্রেণী অন্য দিকে আছে বস্তি। মুম্বাইয়ের ঝলমলে জীবনের মতো বস্তি এলাকাতেও আছে জীবন। সে জীবনেরই বস্তির একজন মুসলিম পরিবারের ছেলের র‌্যাপার হয়ে ওঠা নিয়ে ছবি ‘গালি বয়‘। ‘গালি বয়‘ সিনেমা দেখে মুম্বাই শহরের বস্তির এলাকার একটি পরিবারের চিত্র উঠে আসে। মুম্বায়ের ধারভি বস্তির সরু গলি থেকে উঠে আসা এক র‌্যাপারের গল্প নিয়ে ছবির গল্প। গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম মুরাদ। যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। মুরাদকে আমরা দেখতে পাই সমাজের প্রতিকূল পরিবেশে র‌্যাপার হয়ে ওঠার লড়াইয়ে। ছোট করে বললে, এমন করে বলতে পারি। একদিন ঘটনাক্রমে মুরাদের সঙ্গে দেখা হয় সত্যিকারের এক র‌্যাপারের। সেই র‌্যাপার মুরাদকে ধারণা দেয় র‌্যাপের। মুরাদকে সে বলে, র‌্যাপ হলো এক ধরণের কবিতা, যেখানে ছন্দ থাকতে হয়। মুরাদের ভেতরে কবিতা আছে কিন্তু ছন্দ নাই। শুরু হয় মুরাদের ছন্দা শেখার লড়াই। গল্পে যেমন মুরাদের লড়াই দেখানো হয় তেমনি উঠে আসে মুরাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনও। সিনেমায় মুরাদের প্রেমিকা সাফিনা। সাফিনা চঞ্চল। কিন্তু মুরাদকে এতটাই ভালোবাসে যে, মুরাদের সঙ্গে কোনো মেয়েকে দেখলেই তাকে সাবধান করে দেয় সাফিনা। মুম্বাই শহরের ঝলমলে দিকগুলোর বিপরীতে বস্তির গল্প দেখিয়ে ভিন্ন এক মুম্বাইকে দেখিয়েছেন পরিচালক জোয়া আখতার। তবে গল্প বলার ঢঙে একটু একঘেয়েমি এসে যায়। কারণ সিনেমাটি অনেকটা ধীর গতিতে এগিয়েছে। তবে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন মুরাদের র‌্যাপার হয়ে ওঠার বাস্তব পরিস্থিতি চিত্রায়ন করে। মুরাদের পরিবারের ভগ্ন চিত্র দেখা যায়। যেখানে ছোট্ট থাকার জায়গা ও বস্তির পরিবেশে নারকীয় যন্ত্রণা। তার সঙ্গে আছে মুরাদের মায়ের প্রতি বাবার অবেহেলা। এই সব প্রতিকুল পরিবেশ মুরাদকে একজন সত্যিকারের র‌্যাপার হতে সাহায্য করে। গানগুলোও বলিউডের বাণিজ্যিক ঘরানার না করে বাস্তব র‌্যাপারদের মতো করেছেন। যা থেকে সত্যিকারের র‌্যাপ এর স্বাদ পাওয়া যায়। সিনেমাটির চিত্রায়ন ছিল অসাধারণ, যা সিনেমাকে অন্য মাত্রা যোগ করে। আর রণবীরের অভিনয় ছিল মনে রাখার মতো। রণবীর ও আলিয়ার রসায়নও খারাপ ছিল না। এ ছাড়া মার্কিন দেশ থেকে উড়ে আসা এক সংগীতের ছাত্রী স্কাই (কালকি কোয়েচলিন) এর ভূমিকা ছবিতে খানিক বাড়তি মেদ এনে দিয়েছে। এই মেদ বর্জিত হলে ছবির দৈর্ঘ্য হয়তো কমত, কিন্তু কলকির মতো অভিনেত্রীর স্বল্প উপস্থিতি ছবিটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।          

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>