| 18 জুলাই 2024
Categories
ইতিহাস

হাচিকোর অপেক্ষা

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট

প্রাণীদের মধ্যে কুকুর সহজেই মানুষের পোষ মানে এবং অল্পদিনের মধ্যেই অনুগত হয়ে উঠে। কুকুরের বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্যের অসংখ্য উদাহরণ আছে। তবে তার মধ্যে এমন একটি উদাহরণের কথা আজ তুলে ধরবো, যা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে।

১৯২৪ সালে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক একটি ‘আকিতা’ কুকুর পালবার জন্যে নেন এবং কুকুরটির নাম রাখেন ‘হাচিকো’। আকিতা কুকুরগুলো খুব সহজেই পোষ মানে। হাচিকোও ব্যতিক্রম ছিলো না। খুব সহজেই সে তার মনিবের কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়। প্রতিদিন কুকুরটি তার মনিবের বাড়ি ফেরার সময় হলে ট্রেন স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করতো, আর বাড়ি ফিরতো তার মনিবকে নিয়ে।

এভাবেই চলতে থাকলো। কিন্তু ১৯২৫ সালের মে মাসের একদিন যথারীতি একই সময়ে স্টেশনে গিয়ে হাচিকো দেখতে পায় তার মনিব ফিরেনি। ফেরার কথাও না অবশ্য তার মনিবের। কারণ, ক্লাসে লেকচার দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন যে তিনি!

মনিব আর ফিরবেন না, অবুঝ প্রাণী হাচিকো সেটা বুঝতে পারেনি। তাইতো তার মনিবের মৃত্যুর পরেও প্রতিদিন সে একই সময়ে স্টেশনে যেতো আর অপেক্ষা করতো- তার মনিব হয়তো ট্রেনে করে আসবে, আর তাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরবে। এভাবে মনিবের মৃত্যুর পরেও প্রায় দশ বছর হাচিকো প্রতিদিন একই সময়ে স্টেশনে এসে তার মনিবের জন্যে অপেক্ষা করেছিলো, যা সবাইকে অবাক করে দেয়।

১৯৩২ সালে একজন সাংবাদিক হাচিকোকে নিয়ে সংবাদপত্রে নিউজ ছাপার পর সবাই ঘটনাটি জানতে পারেন। অনেকে স্টেশনে এসে হাচিকোকে দেখে যান, আবার অনেকে তার জন্যে খাবার নিয়ে আসেন। হাচিকো জাপানে ধীরে ধীরে সবার কাছে বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের প্রতীক হয়ে উঠে। তাকে নিয়ে তৈরি হয় ভাস্কর্য, চলচ্চিত্র; লেখা হয় বই। এভাবে হাচিকোর ঘটনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

 

.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত