হাতি আর শিয়ালের গল্প

Reading Time: 2 minutes

সে অনেক দিন আগের কথা । চারদিকে তখন কী সুন্দর সবুজ বন, ঝোপঝার । আর দিগন্তে ঝুঁকে পড়া নীল আকাশের ছোঁয়া । এরকম দিনগুলোতে মানুষেরা থাকত লোকালয়ে আর পশুরা জঙ্গলে। মানুষ তখন একটু একটু করে সভ্য হচ্ছে । কী করে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা যায়, শিখছে সেই সব কায়দা কানুন । ও-দিকে বনে বনে তখন পশুদের রাজত্ব । হাজার রকমের প্রানী ,অসংখ্য পাখ -পাখালি । বেশ শান্তিতে কাটছিল বনের পাখী আর প্রানীদের দিন গুলো । কিন্তু একদিন হলো কি তাড়া খেয়ে মস্ত একটা হাতি এই বনে ঢুকে পড়ল । হাতিটার সে কি বিশাল শরীর । পাগলু বটপাকুড় গাছের মতো মোটা । শুঁড় এতটাই লম্বা যে আকাশের গায়ে বুঝি ঠেকবে । তার অহংকার । মেজাজটাও দারুন তিরিক্ষ। তো- যেই-না হাতিটার ঐ বনে ঢোকা, অমনি শুরু হয়ে গেল তোলপাড়। নতুন অতিথি এসেছে ,সবাই স্বাগত জানাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু ঐ দুষ্টু  হাতিটার সে- কী তুলকালাম কান্ড। খুব জোরে গলা ফাটিয়ে দিল একটা হুঙ্কার । থর থর করে কেঁপে উঠল সমস্ত বন ।গাছে গাছে পরম নিশ্চিন্তে বসেছিল পাখি , তারা ভয়ে ডানা ঝাপটাতে শুরু করল । মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল যে ইঁদুর গুবরে পোকার দল । তারা বুঝতে চাইল কি এমন ঘটল যে এমন করে কেঁপে উঠল মেদিনী? হাতিটা এমন ভাব করতে শুরু করল, যে সেই বুুুঝি বনের রাজা । গুরু গম্ভীর ভারিক্কি চালের কেশর দোলানো অমিত শক্তিধর সিংহ । সেও হাতিরটার কাছে আসতে ভয় পায় । হালুম বাঘ মামা, সেও হাতিটার ধারে কাছে ঘেসতে চায় না। বনের সবাই ভয়ে তটস্থ, শঙ্কিত । কখন জানি কী হয় । একবার তো কী জানি হয়েছে । নিরহ একটা হরিনকে শুড়ে জড়িয়ে ছুড়ে ফেল দিল দূরে। আরেক বার ছোট্ট একটা পিঁপড়ে পায়ের তলায় পিষে মেরে ফেলল । সেই থেকে বনের কোন প্রানী হাতিটার ছায়া ও মাড়াত না। দিনে দিনে হাতিটা হয়ে উঠল আরো অহংকারী । এই নিয়ে বনের কারো মনে শান্তি নেই। কিন্তু এভাবে কি দিন যায় ? এক সন্ধ্যায় বনের সব প্রানী এসে জড়ো হল সিংহের গুহায়। এর একটা বিহিত চাই, সবার মুখে এক কথা। বাঘ ,ভালুক ,সিংহ ,বানর ,হরিন, বনবিড়াল ,শিয়াল সবাই শলা-পরামর্শ করতে বসল। শেষে সবাই মিলে শিয়ালের উপরেই ভার দিল। দিন আসে দিন যায়। একদিন শিয়াল ভয়ে ভয়ে হাজির হলো হাতির আস্তানায় লেজ গুটিয়ে একটা নমস্কার দিল। বলল আপনিই তো বনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রানী। আপনি আমাদের রাজা । ওই দেখুন নদীর ওপারে সবাই উদগ্রীব হয়ে বসে আছে । আপনাকে রাজা হিসেবে বরন করে নিতে চায় সবাই। হাতি তো শিয়ালের কথা শুনে মহা খুশি। আচ্ছা চল। নদীর পারে এসে শিয়াল বলল, এই আমি নদী সাঁতরে পার হচ্ছি । আপনি ও আসুন । এই বলে শিয়াল নদীতে দিল ঝাঁপ । হাতি ভাবল পুচকে শিয়াল যদি নদী পার হতে পারে, আমি পারবো না কেন ? সেও নদীতে নেমে পড়ল । কিন্তু মস্ত বড় তার শরীর তার কি ভারী। হাতিটা নদীর পানিতে পা দিল । অমনি তার ভারী শরীর একটু একটু করে তলিয়ে যেতে থাকল । তলিয়ে যেতে যেতে হাতি বলল , শিয়াল ভায়া আমাকে বাঁচাও । শিয়াল ততক্ষনে নদী পার হয়ে তীরে উঠে এসেছে । বনের সমস্ত প্রানী তার পেছনে এসে দাঁড়ালো। শিয়াল হাতিকে বলল, তোমাকে বাঁচাবো আমরা? এতদিন তোমার অত্যাচারে আমরা কেউ বনে শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। তোমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যেই তো নদীতে নিয়ে এসেছি। বনের যত প্রানী ছিল, সবাই শিয়ালের কথার প্রতিধ্বনি করে সমস্বরে বলে উঠল। ঠিক আছে শিয়াল ভায়া আর দেখবো না হাতির ছায়া আমরা এখন মুক্ত স্বাধীন নাচছি সবাই তা-ধিন তা-ধিন।

(হিতোপদেশ অবলম্বনে)

             

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>