জপমালা ঘোষ রায়ের কবিতাগুচ্ছ

আজ ১৫ জুন কবি জপমালা ঘোষ রায়ের জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার কবিকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


দ্বিতীয় নির্মাণ – ১৪

আমাকে ক্ষরিত হতে হবে।

একচিমটে যতটুকু শীত, আমার শরীরকে প্রদাহহীন সুস্থে থাকতে দাও। কাঁটাগাছে হাঁড়িবেঁধে দিলেও স্তন চোঁয়ায়, প্রোলাক্টিন।

আমাকে স্তনিত হতে হবে।

সূর্য অনেকটা উত্তরায়ণে এবং প্রলম্ব বারান্দা থেকে রোদ্দুর সরে গেলে অবসন্ন ঘুঘুর খড়কুটো ঠোঁট  বিপন্নতা রেখে যায়। উপেক্ষার নিড্ ল গুলো সয়ে নিচ্ছি, নষ্ট নখ ও না-মাজা দাঁত সয়ে নিচ্ছি দুষ্টের।

আমাকে সহন রপ্ত করতে হবে দহনের আগে পর্যন্ত। অতঃপর আমাকে খাক নামে ডেকো।

মাটির চেয়ে কোনো উদবর্তন নেই জেনে, দেয়ালের অ্যাপ্রনে যত শ্লেষ্মা আর রক্তের ছিটে মুছে পরমহংসের ছবির মতো ঠোঁট ফাঁক করে, মৃদুহাস্য ক্ষমায় যৌন ও কাঞ্চন সকল শূন্য করে দাঁতের ফাঁক দিয়ে গলে যাবে রাত্রিনিষিক্ত সৌরক্ষরণ… ঋতুস্রাব।

আমি যৌনে ও জননেই থাকবো, বারবার মেয়েশিশুর জন্ম দেবো, সেইসব ফ্রক ইজের পুরনো বায়োলজি ক্লাস, ক্রোমোজোম x, y, হলুদ কুঞ্চিত সবুজ গোল… সবুজ কুঞ্চিত হলুদ গোল মটরদানার পরীক্ষিত সত্য বিগড়ে দিয়ে কণ্যাভ্রূণ, বড় আরামের যন্ত্রণা, বড় সৎ জন্ম…

আমাকে জন্ম দিতেই হবে

আমাকে জন্ম নিতেই হবে

তৃষ্ণার ক্যালরি, বিতৃষ্ণার টক্সিনস

      এমন কি যে নবাগত তাকেও চলে যেতে হবে। তবুও চলে যাওয়াকে কেন্দ্রকরে যেসকল নক্ষত্রপতনের চর্চা শুরু হল তাতে কিছুতেই অপূর্ণের ফাঁকফোকরগুলো ঢাকা গেলনা, অথচ ইহাও পূর্ণ উহাও পূর্ণ এবং পূর্ণাৎপূর্ণমদচ্যতে। রান্নাঘরে রাতের কিছু বাসী মাংস পড়েই থাকলো, জানলাগুলো বন্ধ করলেন সতর্কে এবং উইন্ডোজও খোলা রাখলেন না, তারপর বিছানা খামচে ঘেমে নেয়ে নীচে নেমে গেলো তৃষ্ণার ক্যালরি ও বিতৃষ্ণার টক্সিনস…. কবি ছটফট করে জল চাইলেন যে মুহূর্তে সেই মুহূর্তেই ছাতি ফেটে গেল, বেলুন ফেটে গেলে যেমন সর্ষে, সর্ষপ অন্ধকার ফেটে গেলে যেমন আলোকব্রহ্ম…..
        আস্তিনের ভিতর লুকিয়ে রাখা এবং থাকা শব্দ, মুগ্ধ, বোধ এবং ব্যাকরণ, নিজেরই ধ্রুবকে নিজেই আকুপাংচার করে নাদ থেকে বিস্তারে এই যে টায়ার পাংচার,  তার কিছুটা যদি আগেও চর্চিত  হত হয়ত বেঁচে বর্তে যেত কিছুটা ঘরকন্না।
        টেবিল চাপড়ানো উচ্ছিন্ন ছলাং মেরে কেড়ে নেওয়া মাইক্রোফোন ইত্যাদি এবং একাকী  অন্ধকারে তুরীয় রাজপথ ব্লট করেছে যেসব হাইপার, তুড়িয়াঁয় লজিক্যালি অস্বীকৃত সেইসব ‘তাহাদের’ কুমিরিয়ানাকে থুৎকার দিয়ে নিজেকে শূন্য করে আপোষহীন  চ্যাঁচাচ্ছে লোকটা,  কবি ও পাগল।  জীবনের যতকিছু রণভঙ্গ ধ্বজভঙ্গ, সভঙ্গ ও অভঙ্গ শ্লেষ আশ্লেষ অলংকার ও চন্দ্রিকা স্ট্র‍্যাপোস্ফিয়ারে গিয়ে ফেটে যাচ্ছিল, নিদারুণ শূন্যকালের সেইসব হিপ অফ গারবেজ পোড়ানোর অন্তিম ধোঁয়াসমূহের অ্যানাটমি সমস্ত zone ও বিজন ছাড়িয়ে এবং ছড়িয়ে গেল, ডানাভাঙা প্রজাপতির মত থুবড়ে থাকলো একটা অসহায় সেল ফোন,  যেটা বার বার বাজছে—- ভুল….বারবার বলছে— ভুল…..ভুল মানুষেরা ভুলভাল বলছে ঠিকঠিক কথা।

        নাড়ীর তো কোন দোষ ছিল না,  নক্ষত্রেরও ছিল কি? বিষ ও বৈভব মৃতের কত পাদ দোষ ধার্য করেছিল, টুটতা হুয়া তারাদের কাছে কী কী চেয়ে নেওয়া হয়েছিল সে কি কেউ জানে?  পতিত নক্ষত্রের মতো এক কিশোরী পুনর্ণবা কখনোই তাকে না দেখেও কেঁদে কেঁদে ঘুঙরু হয়ে ব্রেইল আলফাবেটস এ নাগিন বাঁশি রেখে দিচ্ছে— পায়েলিয়া কি জৌনপুরি যৌনপুরি ঝনকার….. ইয়ে শুনা মাহোল….. ইয়ে বিরানিয়া….
        বেঁচে থাকতে একপাত খেতেও যারা দেয় নি সেই সব “তাহাদের” গদগদ কুমিরামিও বরদাস্ত করে নিচ্ছে তাঁর দ্বিতীয়  নিউক্লিয়াস, প্রোটনকণারা ছুটছে প্রোটিনের দিকে…. পারলৌকিক  জন্মের দিকে…. পানশালার মত ও মতান্তর, নখর ও নখরামিগুলো ছলছল করছে রাজকীয়নীল হুইস্কির বোতলে। আজকাল চোখেও কম দেখছিলেন  কবি, পূর্ণকে শূন্য না দেখলেও আংশিককে মাপতে পারছিল না তাঁর  চোখ, প্যয়াসি আউর আখরি আঁখিয়া….. আঁখিয়োঁ কো রহনে দো  আঁখিয়োঁ কে আসপাশ…..কিন্তু কেন জানিনা আকাশীরং টি-শার্টটাই শুধু ফেঁসে গেল গ্যালাক্সিতে…… এখনো তাঁর হাত ভাঁজ করে সহাস্য নিরীক্ষণের বিভঙ্গ আর  একটা কভারপিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে ওঠে বারবার, যার পিছনে হার্বার্ট ও তার ব্লাস্টথরোথরো সিলিন্ডার….. l

চিৎসাঁতার-১

সারা রাত প্রায় জেগেই থাকি তবু রাত্রিকে যামিনী ভাবলেই প্যয়াসা জাম আউর মধুযামিনীর অনুষঙ্গ লেগে থাকা শরীর জেগে ওঠে। পাশে রাখা বোতল থেকে ঢকঢক করে জল খাই, এবং এভাবেই একটার পর একটা মধ্যযাম খুন হয় আর লোপাটলীলা চলে।  অপরাধী  কিছু তো ফেলেই যায় প্রমাণ, খোসার নীচে চাপা দেওয়া কিছুটা পিচ্ছিল,  চোখের পাতায় কিছুটা ঘুমরেণু  আর বোঁটার ঘামবিন্দু…..

চুঁয়ে চুঁয়ে নেমে আসছে ভোর…মধুঋতুবাত…  মধুক্ষরণ সিন্ধু…. আমি পরমা প্রকৃতি এখন ।

আলো ফুটলেই ফুটে ওঠে স্তন।

নাদ থেকে বিস্তারে যাচ্ছে কুহুরাগ…. আনবাড়ি সাজন ঢুঁড়ছে পিউ কাঁহা…. সামাজিক বুলবুলিস্তান আমার এই পাখিয়ালি প্রাক্কাল। আমি ৪/৪ ফুট ঝুড়িবারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রকান্ড  পাখনা মেলার মতো করে মুঠো করা হাত শূন্যে টানটান করে আবার ঝুঁকে গিয়ে টো টাচ করে বুঝি আমি পুরোটা আমাকেই অনায়াসে ছুঁয়ে ফেলতে পারছি। পাখনা ঝেরে আলো ছিটাই তৃষ্ণার ক্যালরি, আলোয় ধুয়ে ফেলি বিতৃষ্ণার সমস্ত টক্সিনস।

আমার সকল….  আমার সকাল…..

কষ্টিপাথরের মূর্তি বেয়ে ঘাম নেমে আসে, আরতিতে রতি এবং আর্তি মেশে। শিষ্ট পুরুষের সকল নষ্টকে ক্ষমা করি, করুণা করি।

তারপর দেখি  দিগন্ত জুড়েই প্রকান্ড নগ্ন আমি কোনো পোষাকেই ঢাকা যাবে না আমাকে…..

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত