মনোজ আচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

 

১২ মে কবি,চিত্রগ্রাহক,সম্পাদক মনোজ আচার্যের জন্মদিন। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

 

সুনয়ন

সুনয়ন কখনও চাঁদ দেখেনি, গল্প শুনেছেঅনেক
ওর কাছে আকাশ মানে হাতের তালু
যেখানে হাজার জোনাকি ধরে রাখে সে
বাতাসের কাছে গল্প শোনে কালবৈশাখীর রংরুট!

সুনয়ন আজ প্রথম বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখলো…
জলের সাথে আলাপ ছিল আগের
ওর কাছে বৃষ্টি আর জল এক নয়..
বৃষ্টি চঞ্চল,জল স্থবির
তাই বৃষ্টির নাম সে রেখেছে প্রবাহ …
সুনয়ন এবার সাগর দেখতে যাবে
এক নিঃশব্দ শূন্য উপকূলে যেখানে

ঢেউয়ের ভাঙাচুরের প্রতিটি শব্দ

সে শুনতে পায়

সুনয়নের বড় ইচ্ছে
সে শুধু  একটিবার দেখতে চায়..তাকে
যে আড়ালে গুমরে গুমরে কাঁদে
যাকে সে মা বলে ডাকে।

 

মেঘের অন্তরালে

আমি মেঘলা হয়েই আছি সারাদিন

যখন খুশী বর্ষাবো তোর গায়ে।

লুকোচুরি যতই খেলা খেলিস

এক পলকে আনবো আঙিনায়।

হাওয়ায় ভেসে খুঁজি তোকে কত

ভাবিস বুঝি আড়াল করে নিবি।

হঠাৎ যদি আঁধার সেজে আসি

তখন তুই কোথায় পালিয়ে রবি ?

হাওয়ার স্রোতে গা ভাসিয়ে এসে

আমি তোকে কুড়িয়ে নেবই দেখিস।

আকাশ কোলে পালিয়ে সেদিন যাব

যতই তুই ঘরে বসে থাকিস।

ভাবছি আবার তোকে বৃষ্টি করে নেব

রাখবো তোকে বুকের মধ্যে করে।

ঝড় ঝঞ্ঝা যতই আসে আসুক

থাকব তোকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে ।

 

 

ভূগোলের আড়ালে

পৃথিবী ঠিক গোলাকার নয় বলে

তার সুযোগ নিয়েছো বারংবার।

পরিধি ব্যাসের কোণায় কোণায়

লুকিয়ে রেখেছো আমার প্রেম।

আমি হন্যে হয়ে প্রতিটি অক্ষে-দ্রাঘিমায়

খুঁজেছি উদভ্রান্ত কাঙালীর মত।

তোমার প্রতিটি  স্পর্শের অনুভূতি

শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হয় আজও।

তুমি সুমেরু বৃত্তের চারিপাশে

তুষার বলয়ে গা ঢেকেছো হয়তো!

কথা ছিল সাহারায় দেখা করে প্রশান্তে ডুবে যাব

কথা ছিল তারা ছোঁব হোক না লক্ষ আলোকবর্ষ

কথা রাখ নি তুমি!

আমি চললাম পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ভাসতে

শুনেছি ওখানে শূণ্য অভিকর্ষ!

 

 

সৎকার

আমার বুকে বারুদের স্তুপ

চোখে তোমার জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড

ঠিকরে পড়া দৃষ্টিতে স্ফুলিঙ্গ আসে বুকে

শুরু হয় আমার নিরঙ্কুশ দহন!

আমি পুড়ছি তোমার বিস্তৃত বুকের উপর …

দাবানলের অগ্নিশিখায় আকাশে তারা  খসে

কালপুরুষ চোখ ফেরায় নিমেষে।

কালো ধোঁয়ায় আঁধার পৃথিবী!

বাতাসে হৈচৈ!

এখন আমার নিরক্ষরেখায় আগুন!

আত্মার অগ্নিপিন্ড বলে কানে কানে…..

এ দহন শেষে তুমি মিশে যাবে মানুষের স্রোতে!

তাই পুড়ছি আবার

পুড়বো বারংবার অবিনশ্বর দাহ -এ।

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত