হিম (পর্ব-৬)

ভোর, আজ আজান শুরু হতে না হতেই ঘুম সরে গিয়েছে শরীরের। এমনিতে এখন আর গভীর ঘুম হয় না। সামান্য খুটখাটে চোখ খুলে যায়। জানালা খোলা থাকায় ভোরের বাতাস এসে লাগছে। বাবা সবসময়েই ভোরে উঠতে বলতেন। ছোট্ট শুভ্রের অভ্যাসটা তৈরি করতে কষ্ট হয়েছিলো। জন্মেছিলেন, তাও অনেক দিন হয়ে গেলো। তবে ভোরে ওঠার একটা চমৎকার সুফল হচ্ছে, বড়ো কোনো অসুখ বিসুখ হয়নি তার। জ্বর সর্দিও কদাচিৎ। দু তিনটে সহজ যোগের মুদ্রার কারণে শরীর এখনো যথেষ্ট ফিট। সে তুলনায় সুপ্রভা, তাঁর স্ত্রী সুবর্ণজয়ন্তী ছুঁতে না ছুঁতেই নানা রকম অসুখ তাঁকে নাজেহাল করে ফেলছে৷ এই তো কয়েকদিন আগে, সারা শহরে একসাথে পাওয়ার কাট হলো, প্রভা আবার ফ্যান ছাড়া ঘুমোতে পারে না, তিনি প্রায় সারা রাত বাতাস করলেন। আবার  তলপেটে দীর্ঘদিনের একটা পুরনো ব্যথা অনেকদিন পর পর নদীর চরের মতো মাথাচাড়া দেয়। তখন গরম জলের ব্যাগ পেটের উপর ধরে রাখতে হয়৷ শুরুর দিনগুলো মনে পড়ে, ছিপছিপে প্রভা, স্কিপিং করতে থাকা প্রভা, তৃষা হওয়ার পর খানিক মুটিয়ে যাচ্ছিলো বলে সকাল সকাল উঠে দৌড়াতে থাকা প্রভা। তখন প্রায়দিনই তিনি রেডি হয়ে অফিসের গাড়িতে উঠছেন আর দেখা যেত প্রভা ছুটতে ছুটতে বাড়ির গেটের দিকে আসছে। বয়সে মাত্র পাঁচ সাত বছরের এদিক ওদিক। তাঁর অফিস, প্রভার স্কুল, বাচ্চারা কেমন করে যে মানুষ হলো বিস্ময়কর! রত্নারও একটা ভূমিকা আছে অবশ্য৷ কিন্তু রত্না তাঁর কে আজো তিনি ভেবে বের করতে পারেন না, দ্বিধায় থাকেন। অথচ মেয়েটা বিয়েই করলো না আর। সারাজীবন ভালোবেসে গেলেও, আজো শুভ্রশংকর নিশ্চিত নন তাঁদের সম্পর্ক ঠিক কি! রত্নার দাদা আর তিনি ছিলেন বন্ধু৷ চুটিয়ে সিনেমা দেখতেন। সেভাবেই একদিন ওদের বাসায় যাওয়া আসা ছিলো। সেই সময়ই মেয়েটি তাঁর প্রেমে পড়ে৷ উদ্ধারহীন এক প্রেম। চিঠি লিখেছিলো একটা, সে চিঠিতেই সারা জীবনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলো সে। চিঠি পাওয়ার পর একদিন রত্নাকে সময় দিলেন সারা বিকেল। বোঝালেন সময় নিয়ে৷ তখনো জীবনে সুপ্রভা না আসলেও রত্নাকে সেভাবে কখনোই দেখা সম্ভব হয়নি। এই সহজ কথাটাই বোঝানোর চেষ্টা করলেন। তার উত্তরে পেলেন দুই বাক্যের এক চিঠি: ‘ আর কখনো নিজেকে নিয়ে বিব্রত করবো না। ভালোবেসে যেতে হবে, এটি আমার নিয়তি।’ সম্বোধনহীন, স্বাক্ষরহীন এক চিঠি। কচি বয়স তখন। ভেবেছিলেন, কেটে যাবে কিন্তু সারাজীবন নিজের অস্তিত্বে মহাকাশে অনন্ত জেগে থাকা স্যাটেলাইটের মতো দুটি চোখের অনুভব থেকে আর বের হওয়া হলো না। এ বয়সে এসে মনে হয়, সুপ্রভার ভালোবাসা ইহজাগতিক, সে অন্নপূর্ণা আর রত্না তাঁর সমস্ত অতীত আর বর্তমানকে ব্যাপ্ত করে দুটি চোখ দিগন্ত পর্যন্ত মেলে দিয়ে বসে আছে। রত্না কিছু চায় না। সে শুধু দেখে। ওর দাদা অসংখ্যবার অনুরোধ জানালেও সে ফেরে না। স্কুলের সাধারণ একটা চাকরিতে জীবন কাটিয়ে দিলো, থেকে গেলো দশ মিনিটের দূরত্বের এক ছোটো ঘিঞ্জি ভাড়া বাসায়। কথা রেখেছিলো অবশ্য, কখনো চলার পথে আসেনি। দেখা দেয়নি।  সে-ই যে হাসপাতালে এলো, সেদিন কারো চোখের জল আটকায়নি, কেউ জল ঝরাতে লজ্জা পায়নি৷ মাথার দুপাশে চুল সাদা হয়ে এসেছে। ‘তুমি নিজের জন্য কিছু যে করলে না এই দুঃখ আমার কখনো যাবে না রত্না’, আক্ষেপের উত্তর সুন্দর করে দিয়েছিলো, ‘হয়তো নিজের করে পাওয়াই সব নয়। খানিক দূর থেকে তোমার জীবন দেখে যাওয়াও তো একটা দেখা।’ ‘কিন্তু এভাবে একলা সারাজীবন-‘ মুখের উপর হাত চাপা দিয়েছিলো, ‘একা ছিলাম না তো, গ্রামাফোন ছিলো, পাখি ছিলো, দাদা তো আছেন-ই, এমনকি রাজু সে-ও তো অনেকদিন ছিলো, তুমিও কি ছিলে না বলো!’ হাসপাতালে তরুণ সন্ধ্যারা নেমে আসতে থাকে, এ ওর জল মুছে দেয়, কথা বেশিদূর এগোয় না। একটা বাটিতে আপেল কেটে দিলে আধ শোয়া হয়ে শুভ্র খেতে থাকে। 
কিন্তু এখন আকাশের ঘন নীল অন্ধকার কেটে লাল গোলা রং ছড়িয়ে পড়ছে। চৌদ্দ দিনের হাসপাতাল বাস জীবনের একমাত্র গুরুতর অসুখ। আজ হাঁটতে হাঁটতে লালদীঘিতে যাবেন ভাবলেন। সুপ্রভা ঘুমের মধ্যে একটু নড়ে উঠলেন৷ সরে যাওয়া পাতলা কাঁথাটা ঠিক করে দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে পড়লেন। ছেলের ঘরের আলো জ্বলছে। একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়বে৷ বহু বলেও লাভ হয়নি৷ কয়েক বছর আগেও সুধন্যের জীবন অনেক সহজ ছিলো। তিনি যতোটা বাবা তার চেয়ে বেশি বন্ধু, প্রায় সাত বছরের প্রেম কেটে যাওয়ার পরের পরিস্থিতি তিনি বোঝেন৷ হৃদয়ঘটিত বিষয়ে দেয়ার মতো সময় তাঁদের প্রজন্মের খুব বেশি মানুষের ছিলো না, যখন বালক থেকে কিশোর হয়ে উঠছেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। তরুণ যখন তখন বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলা হলো। মানুষ যাদের ভেবেছিলেন তাদের হনুমানের মতো লাফঝাঁপ দিতে দেখা গেলো। মানচিত্রের ও ভাষার স্বাধীনতার পর এতোগুলো বছর কেটে গেলো, আজো হনুমানের বংশধরদের জয়-জয়কার৷ ঘর থেকে লালদীঘি আধ ঘন্টার হাঁটাপথ। চাকরি করার সময় একাধিক দেশে গিয়েছেন তিনি কিন্তু ভোরের চট্টগ্রামের মতো সুন্দর শহর আর দেখেননি৷ আদালত ভবন যে পাহাড়ের উপর সেইখানে এক বৃত্তাকার হাঁটা পথ ছিলো কয়েক বছর আগেও, ছেলেমেয়েদের নিয়ে হাঁটতে যেতেন। এখন বৃত্তটাকে নতুন স্থাপনা ধ্বস্ত করে দিয়েছে। আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ পার হয়ে জেনারেল হাসপাতালের পাশের যে রাস্তা উপরের দিকে উঠে গেছে সে রাস্তায় যুবক বয়সের এক স্মৃতি মনে পড়লো। এক বন্ধু বলেছিলো, মর্গের লাশেরা হাঁটাহাঁটি করে সে রাস্তার মাঝ বরাবর, গভীর রাতে। খুন হয়ে যাওয়া কোনো কোনো মানুষের ভূত নাকি খুনীর নামও বলে দেয়। এমনকি পুলিশের দু একজন কর্মকর্তা নাকি ওখানে গিয়ে ভূতেদের মুখে অপরাধীর নাম সংকীর্তন শুনে এসেছে। হেসে ফেললেন একা একা হাঁটতে হাঁটতে শুভ্রশংকর৷ তিন বন্ধু মিলে এক শীতের রাতে সেখানে কাটালেন। ভূতের টিকিটিও দেখা গেলো না। তখন ঐ বন্ধু বলেছিলো, ভূতেদেরও শীত লাগে! আরেকবার শুনলেন, রাত ঠিক আড়াইটায় দেড়শো বছরের পুরনো ভূত সিলভেস্টার ডি কস্টা, কোট আর হ্যাট পরা, ওয়্যার সেমিট্রির কফিন থেকে বেরিয়ে এসে দিব্যি ভালো মানুষের মতো সামনে যাকে পায় তার কাছে ম্যাচ খোঁজে, পেলে পাইপটা ধরিয়ে দু চারটান দিয়ে সামনের মানুষটাকেই পাইপ দিয়ে আবার কফিনে গিয়ে শুয়ে পড়ে। সোনার তৈরি এই পাইপ কেউ কেউ নাকি পেয়েছে। না, সেখানকার ভূতেরও কোনো হদিশ মেলেনি। সকালের বাতাসটা বড়ো ভালো। আজ কেবল পুরনো দিনের কথা মনে পড়ছে। মিলন চৌধুরীর সাথে দেখা হতে দুজনেই হাত নাড়ালেন। আশ্চর্য মানুষ এই মিলনদা। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পথনাটক তাঁর লেখা। অথচ দেশটা তাঁকে ঠিকমত চিনলো না। চট্টগ্রামে ধ্রুপদী রেনেঁসা যুগের মানুষ বলতে যা বোঝায় তা তো খুব বেশি নেই। হ্যাঁ, সিদ্দিক আহমেদ আছেন একজন। আর এই মিলন দা। সুধন্যের কাছে আরেকজনের কথা শোনেন, ব্যক্তিগত আলাপ হয়নি এখনো। ফেরদৌস আরা আলীম। মনে হয়, তেমন একজন মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা তাঁর আছে, ছিলো সবসময়। 
-ও কাকু, কোথায় যান?
শান্তি-দা’র ছেলে বাবু ডেকে উঠলো। সুধন্যর বন্ধু৷ একটু বিস্মিত-ই হলেন, এতো তাড়াতাড়ি ওঠার ছেলে তো নয়। 
– এই এমনি একটু হাঁটছি আর কি!   শান্তি দা ভালো আছেন?
-ঐ আর কি কাকু, বয়স হয়েছে তো কোনোদিন ভালো আবার কোনোদিন খারাপ। 
-লীনা দি ভালো আছেন?
– মা আছেন, দুইবার স্ট্রোক হয়ে গেলো তো-
সামনেই টং চায়ের দোকান, হাজারি গলির মুখে। ‘এসো বাবা, একটু চা খাই’, বাবুর চিন্তায় শুকিয়ে আসা মুখের দিকে তাকিয়ে বড় মায়া হয়। ছেলেবেলায় সুধন্য আর বাবু-ই ছিলো বেস্ট ফ্রেন্ড৷ ওদের কনফেকশনারীর দোকান রমরম করে চলছিলো। অফিস ফেরার পথে প্রায়ই প্যাস্ট্রি কিনতে নামতেন, সুধন্য আর তৃষা খুব পছন্দ করতো। এক গাল হেসে বিলের অতিরিক্ত কিছু মিষ্টি, সন্দেশ দিয়ে দিতেন শান্তি দা। ‘তুমি কি সিগারেট খাও বাবু?’ আচমকা প্রশ্নে কিছু বিব্রত হয় বোধ হয় সে, কিন্তু সামলে নেয়। ‘খাই মাঝে মাঝে’, শুনে আশ্বস্ত হতে পারেন না। নিজের ছেলের মতোই সে-ও নিশ্চয় চেইনস্মোকার। একবার দুজনকে পাবলিক লাইব্রেরির পাশে মুসলিম হলের সামনের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখেছিলেন। দুজনেই একের পর টেনেই যাচ্ছিলো৷ দুটো সিগারেট নিয়ে একটা নিজে ধরিয়ে আরেকটা ধরিয়ে দিলেন বাবুকে। ‘বুঝলে, প্রায় ছত্রিশ বছর পর ধরালাম’, দ্বিতীয় টান দিতেই বেদম কাশিতে চোখে জল চলে এলো। ফেলে-ই দিলেন। বাবু পিঠে হাত বুলিয়ে দিলো। ‘না গো বাবা পোষালো না। তুমি-ই খাও। ও মনে হয় আমাকে ছেড়ে গিয়েছে৷’ খুব সংকোচে টানছিলো বাবু৷ ‘ভালো করে খা। খাবি-ই যখন ভেতরে কোনো কমপ্লেক্স রাখিস না।’ তুমি থেকে তুই-তে নেমে যান৷ বাবু হাসে৷ ছেলেটার হাসি এখনো স্কুলের মতোই রয়ে গেছে। ‘ আচ্ছা একটা কথা বল তো, আমরা বাবারা কি তোদের বন্ধু হতে পেরেছি?’ অর্ধেক সিগারেট হাতে নিয়ে সে অবাক চোখে তাকায়। ‘খুব চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু।’ বাবু একথাটুকু শুনে সিগারেট ফেলে দিয়ে শুভ্রশংকরের চওড়া হাতটা চেপে ধরে৷ 
***
পিরিয়ডের ব্যথায় কাতরাচ্ছে ইশরাত জাহান পুষ্পা। অনেক রাত৷ নীল আবছা আলো ঘরে, ডিম লাইট। ওর বর জোর করছে ওকে। বার বার হাত ঝাপটা মেরে সরিয়ে দিচ্ছে। এতোবার যে! যেন অনন্তকাল। ‘হাত নেই তোমার?’ স্ত্রীর শ্লেষে বর চড় মারলো একটা, অশ্লীল কথা বললো এক গাদা, শেষ কথাটা হলো, ‘বিয়ে তাহলে কেন করেছি?’ বাক্য অজস্র, প্রতিটি বাক্যের আগে পরের গালিগুলো বাক্যসমবায়কে ঘিনঘিনে করে তুলছে। চড় খেতে খেতে এক পর্যায়ে আর পারা গেল না৷ স্টিলের টেবিলল্যাম্প দিয়ে মেরে বসলো। ঠিক মাথায়, বামপাশে৷ এক বার দুই বার, তারপর এলোপাথাড়ি৷ বরের পুরো মুখ রক্তে ভরে গেলো। আস্তে নিস্তেজ হয়ে এলো। ফোন করায় সুধন্য এলো। একটা বড়ো সুটকেসে তাকে ভরে ফেলা হলো। দুজনে মিলে সময় নিয়ে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেললো। সুধন্যের মুখ ভাবলেশহীন৷ চোখে মণির জায়গায় যেন কাঁচ। গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে সুধন্য-ই ড্রাইভ করতে লাগলো। ব্যাকসিটে সুটকেস ফেলা। গন্তব্য কর্ণফুলী ব্রিজ৷ নদীতে সুটকেস ফেলে দিলেই ল্যাঠা চুকে যাবে৷ কিন্তু খানিক যেতে না যেতেই গাড়ি থামালো টহল পুলিশ৷ আর সুধন্য কোথা থেকে একটা পিস্তল বের করে একের পর এক পুলিশকে মেরে ফেলতে লাগলো। আর  ঠিক যখন পুলিশের কর্ডন থেকে মুক্ত হয়ে গাড়ি টান দেবে ঠিক তখন-ই সুটকেস থেকে দুটো দীর্ঘ হাত বেরিয়ে এসে টিপে ধরলো সুধন্যর গলা, পুরো গাড়ি অকস্মাৎ উল্টে গেলো। এক তীব্র ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো পুষ্পার। সকাল, অনেক বেলা হয়েছে। পাশে টেবিল ল্যাম্প ঠিকঠাক৷ কারেন্ট নেই, সারা শরীর ঘেমে গিয়েছে। বর এতোক্ষণে অফিস চলে গেছে। কুৎসিত আর অরুচিকর এক স্বপ্ন।  অবচেতনে এতো ঘৃণা জন্মেছিলো! আবারো গা গুলিয়ে উঠলো। আর রক্ত। আজ পিরিয়ডের তৃতীয় দিন৷ কাল রাতের ঝগড়া আর চড় সত্যি, তারপর হয়তো কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। ফেসবুক খুলে দেখলো, খানিক আগেই ভূমিকম্প হয়েছে একটা ছোট্ট। এদের মধ্যে ভূমিকম্প হলে কেমন যেন উল্লাস হয়! ‘সুধন্য, তোমায় দেখতে ইচ্ছে করছে, ছাদে আসবে একটু?’ টেক্সট পাঠিয়ে একটু শান্ত লাগতে থাকে। ব্যথা এখন একটু কম। ‘দশ মিনিট পর আসছি’, পিং শব্দে মেসেজটা আসতে দিন সুন্দর হতে শুরু করলো আস্তে আস্তে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত