রানা প্লাজার স্বেচ্ছাসেবী হিমুর আত্মহত্যা

Reading Time: < 1 minuteহিমু স্বেচ্ছায় বিদায় নিলো কাল। রানাপ্লাজার বার্ষিকীতেই। ওকে আমি দোষ দিই না। কার দোষ সেই তর্কও করতে চাই। কিন্তু একটা কথা বলতে পারি, হিমুর জন্য এই দুনিয়াটা অনেক কঠিন ঠাঁই হয়ে উঠছিল। হিমু সত্যিকারের বেঁচে ছিল রানাপ্লাজার সেই কয়দিন। রানাপ্লাজার ভগ্নস্তুপ থেকে জ্যান্ত মানুষের হাতপা কেটে বের করে আনার জন্য এই প্লাকার্ডটা বাড়িয়ে হ্যাকসো ব্লেডের জন্য আবেদন জানানো এই ছেলেটিই হিমু, আরও অনেকের সাথে সে সেখানে দিনরাত উদ্ধার কাজ চালিয়েছিল। হিমুকে নিয়ে বেশি কিছু বলা কঠিন। অপরাধবোধ আর গ্লানি হয়। এই রকম ছেলেমেয়েদের দেশের নায়ক হবার কথা। কিন্তু তারা ছিটকে চলে যায়। আমার নিজের বিরুদ্ধে নিজের এবং আরও অনেকের বিরুদ্ধে রাগ, ক্ষোভ এবং পরাজয়ের অনুভূতি আছে হিমুর মত মানুষদের নিয়ে। আমাদের সমাজটা কত অনুপযুক্ত হিমুর মত বিশাল হৃদয়ের মানুষের জন্য, যাদের মস্তিস্কে একটাও প্যাচ নাই, কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধ থেকে আজতক ক্রান্তিকালের নায়ক; আর বাকি সব গতবাঁধা দিনে কেউ না, একদম কেউ না। কারও কিছু না। হয়তো তাদের নিজেদের দোষেই তারা একলা। হয়তো বাড়িয়ে বললাম। হয়তো ভুলও বললাম। আমাদের অযোগ্যতার সীমাপরিসীমা নাই। আগুন তাই টেনে নেয় আমাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল আত্মাগুলোকে।          

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>