| 18 জুলাই 2024
Categories
কবিতা গল্প সাহিত্য

গল্প কবিতা গদ্য

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি কবি ও কথাসাহিত্যিক অশোক দেবের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


গল্প: পুরুষ

মশারি কাচতে কার ভালো লাগে? লাগে না। কেবল ফেনা ওঠে। ভোর রাতে মশারির থেকে একটা পুরুষ মানুষের গন্ধ পেয়েছিল সুলতা। সেটাকে সকালেই নিকেষ করতে হবে। এই ভেবে ঘুম হল না। ভোর হল। অনেক ডিটারজেন্টে চুবিয়ে দিয়েছে সেই মশারি সে। তর সইছিল না। ভালো করে ভিজে ওঠার আগেই কলতলা। সিমেন্টের একটা ছোট চাতাল। সেখানে ধপাস করে ফেলে সে। যেমন তাকে বিছানায় ফেলে দাদাবাবু। দাদাবাবুর লালাই সম্বল। ঘর মুছতে গেলেই লালা ঝরতে শুরু করে তার। সুলতা গন্ধ পায়। লালার গন্ধ। শরীর কী করলে সমুদ্র হয় সুলতা জানে। সুলতা জানে কখন বাতাস দিলে ঢেউ ওঠে শরীরে। দাদাবাবুর লালা ঝরে। পাঁচশো টাকার নোটগুলি এখন একশো টাকার থেকে ছোট। মোদী এসে ছোট করেছে। সুলতা জানে। দাদাবাবু একটা দেয়। সুলতা বসে থাকে মেঝেতে। সেখান থেকে তুলে তাকে বিছানায় ফেলে দাদাবাবু। তারপর সারা মুখ চাটে তার। লালায় লালায় ভরে যায় তার মুখ। সুলতা মিছে শীৎকার করে। দাদাবাবু নিভে যায় নিজে নিজে। সুলতা নিজেকে তোলে। বাড়ি চলে আসে। সুলতা বিধবা নয়। স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা পায়। পরিত্যাগের কারণ সুলতা ‘সেক্সি’। সে এমনকি কলাগাছের সঙ্গে শোয়। সেটা দেখেছে তার মাসি শাশুড়ি। ও পাড়ায় একটাই অর্জুন গাছ। তারও চরিত্রনাশ হল সুলতার কারণে। বালের চরিত্র। ও একদিন এমনি ভোরে চলে এলো। এখানে ভাড়া থাকে। টাকা দেয় না। এটা চাপরাশি বুড়ার বাড়ি। বুড়ার রান্না করা, দেখভাল। বিনিময়ে থাকা। কিন্তু কাল রাতে জানালাটার মাসিক হল। রক্তাক্ত জোছনা গলগল করে ঘরে আসছিল। আর সুলতা পাচ্ছিল একটা পুরুষের গন্ধ। সেটা মশারির অযুত ছিদ্র দিয়ে আসছিল। সুলতা সত্য শীৎকার করছিল আর তরুণ বকুল গাছ বাড়িয়ে দিয়েছিল তার হাত জানালা দিয়ে। কিন্তু সে তো নিজেই নারী। বকুল। সুলতা সরে এসেছে। একটা হলুদ আলোর নিচে রাত কাটানো একটা নারী হয়ে গেল সুলতা। ভোরে সে মশারির ছিদ্রপথে চারিয়ে দিল দাদাবাবুর বাড়ির থেকে আনা দামি ডিটারজেন্ট। ফেনা! ফেনা! ফেনা! ফেনার তোড়ে গর্ত হতে উঠে এলো একটা কেঁচো। বিরাট। লতপতিয়ে সে সুলতার দিকে উঠে আসতে চায়। দাদাবাবুর ফেনার তোড়ে ফিরে যায়। সুলতা কল চাপে। জল পড়ে ফেনা কমে। জল পড়ে ফেনা কমে। এগিয়ে আসে দশাসই কেঁচো। লতপত করে সে। এমন গোঁয়ার, সে আসবেই। সুলতা কাপড় তুলে জায়গা করে দেয়। একটা জানালা খুলে দেয় সে। প্রতিটি কেঁচোর জীবন আসলে এরকম জানালায় শেষ হয়। সুলতা জানে। কেঁচো জানালা দিয়ে ঢোকে। সুলতা মিছে শীৎকার করে। ফেনা কমে। মশারির থেকে পুরুষের গন্ধ সুলতার শরীরে চলে আসছে। 

 

কবিতা:

গৃহযাপন

ফ্রিজের প্রধান বেদনা তার শীত,

দরোজা খুলে সামনে দাঁড়ালেই সে তার

শীতার্ত রক্ত আলো হিসেবে এগিয়ে দেয়

সারারাত ধরে সে আমাদের সংসারে

এক প্রকার কনকনে কান্না পাচার করে

 

অবন ঠাকুরের উট 

নিদ্রার দিকে সরে যাচ্ছে পথ,

পথবিভ্রম। এখানে এসে কারা যেন

মরীচিকা জমা দিয়ে যায়। কে এসে

কেড়ে নেয় ক্যাকটাসের গান?

তাদের কাহিনী ছড়াতেই ফুটে

ওঠে মরুজোছনা, চন্দ্রবিহীন।

দীর্ঘ পথশ্রম শেষে এইখানে এসে আজ

সম্ভবা উট দেখে তার প্রেম প্রেম নয়

বালুর অভিসার।

 

অশ্বসিরিজ-২ 

এসেছি অশ্বমেলায় হ্রেষাধ্বনি বুকে নিয়ে

একলা মরুবিদেশে। অশ্বক্ষুরে জেগে ওঠে

অমায়িক যাত্রাচিহ্ন, ক্ষণে ক্ষণে, মনে মনে।

ঘোড়াদের রতিশক্তি, তাহাদের চিৎকারে

বালিয়াড়ি সরে যায়, ভুল হয় পূর্বাভাষে

ঝড় আসার সময় গান ভেসে চলে আসে।

কিনতে এসেছি গতি, অশ্বক্ষুর আর জিন,

কিনব ঘোড়ার রাত্রি, কিনে নেব তার দিন…

অশ্বলোভে বেঁচে আছি, ঘুরে দেখি অশ্বমেলা

স্থবির মরুদেশে হায় গতি গতি খেলা

 

উপসর্গ

শুনেছি জ্যোৎস্নারাতে

একটি গোপন নৌকো ঘাটে ঘাটে ঘোরে

বহুকাল এই গ্রামে থেকে আমি দেখিনি

শুধু শুধু নদীর নামে রটিয়েছি অপবাদ

আজ মনে হয় সব ঘাটই রাতে রাতে

মিশে যায় জলে

নদী আর নৌকোতে চলে অভিমান

 

টেনশন 

বিছানার এ দিকে আমি

ওইদিকে শুয়ে আছে নিদ্রা,

মাঝখানে একফালি জাগরণ।

এটুকু পেরুতে চলে যায় সারা রাত।

 

প্রাপ্তি

পায়ের পাতা পড়ে আছে –
এক পাটি এদিকে, অন্যটা একটু দূরে।
কে যেন এসেছিল, ফেলে গেছে।
তাদের গায়ে গায়ে লেগে আছে শুকনো প্রণাম, কার যেন।
একটু পথশ্রম আছে, এখনও দগদগে ঘায়ের মত।
আলো নিয়ে যাই, নুয়ে দেখি, কার ? কার হতে পারে?এমন সময় অকালজ্যোৎস্না বেজে ওঠে আকাশে।
চন্দ্ররহিত সেই জ্যোৎস্না শুধু এইখানে আসে, আসে এই বিদেহীদের পাড়ায়।আপনি, এখানে?
– পেছনে তাকিয়ে দেখি, আমার করুণাকাল, তার টি শার্টে জন্মপূর্ব সাল লেখা আছে।
আপাদমস্তক দেখি তাকে।পা আছে, পায়ের পাতা নেই, প্রণাম লেগে আছে।

সাপ

এই মনোহর সাপ
তাহাকে আপন জানি।

 

গৃহপুষ্পঘ্রাণ তাকে
টেনে আনে বারবার।
শুয়ে থাকে, ব্রীড়া করে
পুরাতন চক্ষু মেলে
পৃথিবীকে শীতকাল শেখায়

 

মহাপ্রবেশ

এখানে বসে আছি, পুরনো শ্মশান ভেঙে
কে যেন গড়েছে বাতাস। তারই পরিচয় নিয়ে
উড়ে এল দক্ষিণ দিক। আমি তার দিকে
তাকিয়ে থাকি, চোখ দুটি জানালা হয়ে যায়।
সেখানে সহস্র খরগোশ নিয়ে একদা বসে থাকত
রূপসী একজন। তার আলেয়ার নাম অতীত।
তার কাছে রয়ে গেছে আমার চকমকি
লাইটারের আলজিভ।

বসে আছি। কে যেন নিহতের নাম ধরে ডাকে,
এখানে পুরনো শ্মশানে, কে যেন বিদেহীর
ভাষায় নদী চালায়। ডুমুরের গাছ থেকে নেমে
আসে ভাষাহীন পাতা। দোহন করে নিয়ে যায়
যতটা জ্যোৎস্না পড়ে ছিল।
আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি
চোখ দুটি জানালা হয়ে যায়,
চোখের সামনে দিয়ে
হেঁটে চলে যায় প্রয়াত পিতার চটি

 

নীরবতা

তুমি এক ভিনদেশি খরগোশ।

বর্ষার স্নায়ুদোষ দেখতে এসেছ।
এনেছ জীবন্ত তুলতুল। এখানে আশু খরাপ্রদেশে, শ্রাবণপূর্ণিমায়…
চাঁদ কি? না তো, এ যে ব্রহ্মবেশ্যার ক্লিটোরিস হে
লোভ করে
তোমার গর্হিত তুলতুলে।

এদিকে কার্তুজ শেষ করে বসে আছে
মেজাজি ফণীমনসা।
ঘাসের আদলে যাদের ভিজে থাকতে
দেখছ
তারা আসলে অনন্ত জোছনার মেদ।
অনেক কাল সহ্য করেছি সখা,
এবার শিখে ফেলেছি ধনুর্বিদ্যা।

তাক করে আছি, তোমার চঞ্চলতা
ভাল লাগছে।
চুপ করে আছি …

 

গদ্য: অবনী ঘোষের প্রচার গাড়ি

যেমন জন্মান্ধ তাঁর আঁধার কাওকে দেখাতে পারে না, যেমন বৃক্ষের জননেচ্ছা ফুল হয়ে ফোটে, তেমন। তেমনই পারা এবং না পারায় দুলছে এক প্রাগৈতিহাসিক পেণ্ডুলাম। তার দোলন ও বিস্তারে চোখ রেখে তাকানোর সময় নেই। সময় নিয়ে যায় এক জাদুকর। তার খেলা দেখি আর মাঝে মাঝে তার সাথে খেলায় মেতে নিজেকে ভাবি দারুণ বাজিকর। রুমালকে বেড়াল করি। তার কাছে দাবি করি মোলায়েম পশমের উষ্ণতা। সে তৎক্ষণাৎ রুমাল হয়ে যায়। রুমালের কোনায় প্রিয়জন হিসেবে নাম লেখা থাকে অচেনা সেই জাদুকরের। তার ভাষা জানি না, ভাব জানি।
মানুষের ভাষা এক মৃত আকাশের তারার মত। তার জ্বলে থাকা দ্যাখে মৃত মানুষেরা, যারা অনেক ভাষার অপচয় করে,পরে পরলোকে নীরব হয়েছে। সেই নীরবতার সাধনা করতে মেধাস্থির করি। আর দেখি, দুঃখ লাঘব করতে ভেসে আসে অবনী ঘোষের প্রচারগাড়ি। সেখানে মধুমেহ, দন্তদোষ, বাত এবং রক্তচাপের সুরাহা আছে। শীঘ্রপতন থেকে উদ্ধারের উপায় আছে। রয়েছে স্রাবনিয়মের ক্যালেন্ডার। ভাবি, এ কোন অবনী ঘোষ? যে ছেলেটি তার প্রচারগাড়ি নিয়ে আমাদের বিনীত শহররের অলিতে গলিতে ঘোরে, সে কি চেনে তাকে? প্রশ্ন করলে সে অন্যদিকে তাকিয়ে উত্তর করে, ‘ আমার কমিশন’। কমিশন নিয়ে সে জরাক্রান্ত মানুষকে অবনী ঘোষের ওষুধ দেয়। অবনী ঘোষ আছে নাকি মরে গেছে সে জানে না। যদি মরে গিয়ে থাকে অবনী ঘোষ, সে তার কীর্তির দিকে কীভাবে দেখে?
কে দেখে ফেলে যাওয়া কীর্তির দিকে? এইসব কৃতি আমরা যে শূন্যে রেখে যাই, সেই শূন্যের আলপনা কি নয় জন্মান্ধের আঁধারের মত? যে প্রনোদনায় বৃক্ষ ফুল ফোটায়, তা কি বিচার করতে পারে সুগন্ধপিপাসু মন? পতঙ্গের মত আকর্ষণ সে তো বোধ করে না। যে জীবন ফড়িঙের তার সাথে হয়নাকো দেখা। একা একা নীরবতাকে অনুবাদ করে সে । অনূদিত সেই অন্ধকার তার সাদা খাতায় জমা হতে দেখে আলো জ্বলে ওঠে আঁধারভিতরে। সেখানে অজস্র প্রচারগাড়ি ঘুরে বেড়ায়। তাদের নাভি হতে ডাক আসে, ‘আমাদের প্রচারগাড়ির দিকে এগিয়ে আসুন’। সেদিকে এগিয়ে গেলে তারা হাতে তুলে দেয় নিরাময়ের গুঁড়ো। সে দিয়ে কিছুকাল চলে, সবটা চলে না। বারবার তাই মুগ্ধ কোনও যাতনার দিকে এগিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। আরও বেদনা আরও বেদনার দিকে। মনে হয়, যত বেদনা তত বেশি প্রচারগান। তত বেশি অবনী ঘোষ নিরাময়ের নিধি হিসেবে এগিয়ে দেবে ওষুধ। তার গোপন ঘরে, হাড়ের খলের মধ্যে জোছনা গুঁড়ো করা হয়, নদীর শেকড়, মানুষের মনের নখ দিয়ে যে ওষুধ, যে ধন্বন্তরী মলম তৈরি হয়, তার সন্ধান পেতে অনেক আলো ব্যয় করে দিতে হয়। সে আলোর সঞ্চয় শেষ হলে একদিন চক্ষুষ্মান পায় জন্মান্ধের ক্ষমতা। সেই দিয়েই তো দেখা যায় অবনী ঘোষের বর্তমান অবস্থান। আনন্দ আর অক্ষমতা হল এই দেখতে পারার কমিশন। কেননা, সক্ষম মানুষের কোনও আনন্দের অধিকার নেই।
সক্ষম মানুষেরা তবে কেন এসেছিল পৃথিবীতে? তারা নদীতে বাঁধ আর পাখির জন্য খাঁচা বানাতে এসেছিল। যেমন জন্মান্ধের তিরস্কার হয়ে আমাদের আলোকমালা ভেসে ওঠে দীপাবলির রাতে, যেমন পুষ্পের সঠিক সুরভি তৈরির কারখানাতে কাজ হয় গভীর অন্ধকারে, তেমনি সক্ষম মানুষের উদ্যোগ নিয়ে অপারগের মন উৎসব করে। হি হি করে হেসে ওঠে তারা। বাড়িতে এসে অবনী ঘোষের ছোট মাইকের দিকে এগিয়ে দেয় মন, তার থেকে ডাক ভেসে আসে। সক্ষমতাকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যায় অনেক ডাঙার মাঝি। তারা তাদের নখের নিচে সূঁচ ঢুকিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করে ঠিক কোথা হতে আসে পক্ষির জন্য খাঁচা বানাবার বুদ্ধি। নিউট্রনের ডানার সন্ধান তারা কোথা হতে পেয়েছিল তা জানতে থার্ড ডিগ্রি চালায় সে-সব মাঝি, যারা বন্ধ্যা নদী থেকে সুরসমেত উৎখাত হয়েছিল।
এইসব স্বপ্নে দেখে অক্ষম মানুষের পরিযায়ী নিদ্রা। সেখানেই গানের বাজার বসে। সেখানেই আসে যত জাদুকর। তারা অবনী ঘোষের পূর্বজ। কিংবা উত্তরপুরুষ। তাদের খল, শেকড় চেনার বিদ্যা, জোছনা জমানোর বোতল, হরবোলা শেখানোর ক্লাস সব নিয়ে অক্ষম আরও অক্ষম হয়ে চেয়ে নিজেকে হাড়িকাঠে স্থাপন করে। অপেক্ষা করে এক মায়াখড়গ এসে তাকে মুক্ত করে দেবে। অথচ সে আর হয় না। হয় না। হয় না।
হয় না বলে বারবার নিজের অন্ধকারে নিজের সঙ্গে দেখা করতে আসে অক্ষম মানুষ। অন্ধবিম্বের ভাষা বোঝেনা কেউ। তাদের দিকে লেলিয়ে দেয় কুকুর। লেলিয়ে দেয় সিনথেটিক বাদুড়। তবু তাদের তাড়াতে পারে না এ পৃথিবী হতে। তারা তবু উটের গ্রীবার দৈর্ঘের দিকে পেতে রাখে শ্রবণ। শোনে কারা যেন দক্ষিণ হতে ফিরে আসছে কীর্তন শেষে। তাদের পেছনেই থাকে প্রকৃত সারস, অবনী, যে নাকি অনেক দিন বাড়িতে ছিল না । অক্ষম মানুষের সেই নির্জলা ডাব, মস্তিষ্ক থেকেই নেমে আসে আনন্দের সিঁড়ি। সেই সিঁড়িতে দাঁড়াতে হলে নিজের পোষা সোনার ভিমরুলগুলি দিয়ে দিতে হয়। অক্ষমেরা দিয়ে দিয়ে বেয়ে চলে যায়। যারা সক্ষম, তারা ফিরে গিয়ে গবেষণার প্রস্তুতি নেয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত