| 5 মার্চ 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

কাফের গসপেল

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

১.
এটা হলো সেই বাক্য যাতে কোন সন্দেহ নাই,
ঈশ্বর শব্দের আবিষ্কারক একজন শয়তান।
সুখি ঈশ্বরের আজানুলম্বিত জামা গায়ে দিয়ে,
ছদ্মবেশী শয়তান হাতে নিয়ে সম্ভ্রান্ত লাঠি,
বাজার ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটা ছাপাখানা দিলো।
সেখান থেকে প্রচারিত হতে লাগলো লোভ, ভয় ও ভোগের নয়টি রসের গল্প।
উত্তম পানাহার, অনন্ত মৈথুন।
আজগুবি প্রাচীন মিথ।
রাজনৈতিক কবিতা, সাম্রাজ্যবাদের কবিতা।
গত একুশে বইমেলায় তার কাব্যগ্রন্থ ‘ ঈশ্বর ভ্রান্তি ‘ বেস্ট সেলিং হয়েছে।
সেই শয়তান আমাদের বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি।

 

 

২.

তোমাদের মনের সব কথায় আমি জানি,
এমনকি মধুরতম যে কথাটি তোমরা বলতে পারো না।
কিন্তু তখনো কল্পনা এত আধুনিক হয় নি।
পাখির উড়া দেখে তোমাদের উড়তে ইচ্ছে হয়েছিল।
আর চোখে মুখে দেখেছিলাম পাখনা মেলার স্বপ্ন।
তাই আমি একদিন পুস্পক রথ নিয়ে এলাম।
যাতে তোমরা গবেষণা করে আকাশযান বানাতে পারো,
ঘুরে আসতে পারো গ্রহ থেকে গ্রহাণুপুঞ্জে, আকাশগঙ্গায় ভাসিয়ে পানসি।
আমি তোমাদেরকে পেগাসাসের কথা বলেছি, জটায়ুর গল্প বলেছি,
বায়ুর স্তরের কথা বলেছি,
আমি তোমাদের মাঝে পাঠিয়ে দিলাম শিল্পী,
যে আকাশযানের রেখাচিত্র এঁকে দেখাবে।
কাফেরের গসপেল
আত্মবিলাপে নাকি কবিতা হয় না,
অথচ আমার নিজের ছাড়া কোন কথা নেই।
আছি সীমাহীন বিপরীতে, দ্বন্দ্বে ও দ্বৈরথে,
সমানভাবে বিরাজিত ত্যাগে, ভোগে আর সাম্যে।
হ্যাভ নটের পাশে আছি আবার পুঁজির পক্ষে,
যেন অদ্ভুত ত্রিশঙ্কু এক,
চেয়েছি পাপের আনন্দ ও স্বর্গে অনন্ত বসন্ত,
চাই বহুগামী সুখ আর সতীর চুমু।

 

 

৩.
হে কাফেরগণ, তোমরা ঘটনা প্রকাশে ভয় পেয়ো না,
কেননা সেটা ইতিহাস এবং সবাই জানে,
তারা শুধু তোমাদের মুখ থেকে শুনতে চায়,
এবং সত্য জেনেও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব খুঁজে বেড়াবে,
আর বালিতে মুখ গুঁজে ঠেকিয়ে দেবে সাইমুম ঝড়।
কোদালকে কোনদিন নিড়ানি বলো না, বা বলো না তুমি দেখেছো বদনা,
তাহলে মানুষ জানবে তুমি কোদাল তো দূরের কথা নিড়ানি বা বদনা কোনটাই চেনো না।
গ্রন্থসমুহ পড়বে, দেখবে কোথায় কি লেখা আছে।
কখনো শব্দের গায়ে কনডম পরিয়ে মিছরির ছুরি ব্যবসা করো না।
খুঁজে দেখো কেন অনন্ত সুখের মোড়কে কে করে গেছে লোভের মার্কেটিং,
রক্তের উর্বরতায় জন্ম নেয়া দূর্বা ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে বলে যাও কে ক্ষতবিদ্যার জনক।
লিখে দাও ওৎ পেতে লুকিয়ে অপেক্ষা করার কাহিনি,
সেকেন্ডে কতবার করতে হবে ধাতব আঘাত গর্দানের উপর,
অবলীলায় ঘৃণা ও হিংস্র মহাকাব্যে যেমন লেখা আছে,
তেমনি যদি কেটে ফেলে জোড়ায় জোড়ায় হাত,
তবুও নিজের মাথা অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ো না।
হিংসা দিয়ে বানানো পাশার গুটি খেলছে সেই পুরনো শকুনি,
তোমাদের পূর্বসুরাপায়ী কাফেরদের মজ্জা ঘিলুতে আঁকা হয়েছে ছক,
হে কাফেরগণ তোমরা রক্তাক্ষরে লিখে যাও,
কারা প্রচার করছে দাসত্বের শৃঙ্খল ও সাম্রাজ্যবাদের লিগাসি,
যেখানে নিঃশর্ত আত্মসমর্পনই একমাত্র শর্ত।

 

 

৪.
তোমাদের পূর্বপুরুষদের আমি আন্দাজে গল্প বানাতে বলি,
তখন তারা সিজোফ্রেনিক হয়ে যায়।
যেমন এই তো সেদিন পাহাড়ের উপর জ্বলে উঠতে দেখল আগুন।
আমি বললাম আগুন দেখার গল্পটাই মিথ। তোমরা প্রচার করো।
সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম সত্যের সমান ব্যাসার্ধ নিয়ে মিথ্যের চারপাশে এঁকে দিলাম বৃত্ত,
আমি বললাম মিথটাই সত্য।
লুসিফার এবং কাফের আমাদের চরম শত্রু,
আর তিনি আমাদের পরম মিত্র।
এতএব, তোমরা বিপথগামী হবে না।

 

৫.
তোমরা জানো না, আমাকে নিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি এসেছেন,
দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ দুনিয়ার ওপারে আমার অনুমতির আশায়,
ঐ যে রাস্তায় সূর্যরঙের রথ।
আমি তাকে বলেছিলাম আমাকে নিয়ে যাও,
বিনিময়ে চাই মানবের জন্য শান্তি ও মুক্তি।
হে মানবজাতি আমি চলে যাবার পর বিশ্বাস শব্দটি ছাপার অক্ষর হয়ে যাবে,
ইলিশের মাছের সেই স্বাদ যাবে চলে,
আর তোমাদের শিশুরা হারাবে তাদের শৈশব,
তোমরা যখন পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত এসে গেছে বলে গান গাইবে,
রিকসায় শহর প্রদক্ষিণের জাবর কাটবে,
তখন তোমার উচ্চ শিক্ষিত সন্তানেরা বলবে,
বন্ধ করো এই পাপের দোকান,
প্রকৃতি বন্দনা করলে পরমকরুণাময় রুষ্ট হন।

 

৬.
চিন্তা করা শুরু করে দিন,
কী চিন্তা, চিন্তা করবেন, চিন্তা করে নিন।
চিন্তা আছে হরেক রকম,
চিন্তা খেলে মাথায় চরম।
কেন তোমরা এমন তরো? এমন করো?
যেথায় সেথায় শান্তি ডেকে আনো!
শান্তিতে আলোকিত অন্ধকার,
আলোতে শান্তি দেখতে ভয়ংকর।
let there be light,
তাদের ঘরে আগুন জ্বলে উঠুক খানিক।
ভোরবেলা সমবেত হবে সবে,
গাইবে গান, তুমি রবে নিরবে।
তোমার হয়ে সব ভোগ করব আমি,
ঘি, মধু, গঙ্গাজল আরও যত অনুগামী।
দাসানুদাস, থাকবে চারপাশ সদা প্রস্তুত,
মাঝে মাঝে বাণী আনবে অনুগত দেবদূত।
এই নাও তলোয়ার, জুলফিকার তোমরা সমার্থক শব্দ,
ঝাঁপিয়ে পড়ো শান্ত জনপদে লোভে হয়ে অন্ধ।
ভোগ করো, ভাগ দাও যা করেছো লুণ্ঠন,
যে আছে নিরবে, আমার অন্তরে, এ তাহার বণ্টন।

 

৭.
তোমাদের যখন আশ্রয়ের দরকার হলো তখন আমি নিয়ে এলাম নতুন নতুন নাম,
আর তোমরা ভেবে নিলে পেয়ে গেছো কাঙ্ক্ষিত আরাধ্য।
আমি এভাবেই ইশ্বরের জন্ম দিই।
হে নতুন ইশ্বর, তুমি প্রচার করো, আগের সবগুলো ফেক আইডি।
আমি হরিদাস ঈশ্বরাংশ,
আমি আদি, অকৃত্রিম, এবং একমাত্র।
এবং আমার কোথাও কোন শাখা নেই।

কাফেরের গসপেল
হে আমার অনুসারীগণ,
এসব কথা আমিই বলেছি,
তার ফেক আইডি’র পাসওয়ার্ড আমার কাছে।

 

৮.

তোমাদের মনের সব কথায় আমি জানি,
এমনকি মধুরতম যে কথাটি তোমরা বলতে চাও
কিন্তু তখনো কল্পনা এত আধুনিক হয় নি।
পাখির উড়া দেখে তোমাদের উড়তে ইচ্ছে হয়েছিল।
আর চোখে মুখে দেখেছিলাম পাখনা মেলার স্বপ্ন।
আমি একদিন পুস্পক রথ নিয়ে এলাম।
যাতে তোমরা গবেষণা করে আকাশযান বানাতে পারো,
ঘুরে আসতে পারো গ্রহ থেকে গ্রহাণুপুঞ্জে, আকাশগঙ্গায় ভাসিয়ে পানসি।
তাই আমি তোমাদেরকে পেগাসাসের কথা বলেছি, জটায়ুর গল্প বলেছি,
আমি তোমাদের মাঝে পাঠিয়ে দিয়েছি শিল্পী,
যে আকাশযানের রেখাচিত্র এঁকে দেখাবে।
কাফেরের গসপেল
ফেরাউনের মত ইলিশ মাছ কখনো পচে না,
শুধু স্বাদটা বেড়ে যায় অতিমাত্রায়।
এবং রন্ধন শিল্পী বুঝতে পারে না ইতিমধ্যে গাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না,
এরজন্য দরকার একজন তামসিক ভোজনরসিক।
যার সব অনুভূতি খুব তীব্র।

 

৯.

চিন্তা করা শুরু করে দিন,
কী চিন্তা, চিন্তা করবেন, চিন্তা করে নিন।
চিন্তা আছে হরেক রকম,
চিন্তা খেলে মাথায় চরম।
কেন তোমরা এমন তরো? এমন করো?
যেথায় সেথায় শান্তি ডেকে আনো!
শান্তিতে আলোকিত অন্ধকার,
আলোতে শান্তি দেখতে ভয়ংকর।
let there be light,
তাদের ঘরে আগুন জ্বলে উঠুক খানিক।
ভোরবেলা সমবেত হবে সবে,
গাইবে গান, তুমি রবে নিরবে।
তোমার হয়ে সব ভোগ করব আমি,
ঘি, মধু, গঙ্গাজল আরও যত অনুগামী।
দাসানুদাস, থাকবে চারপাশ সদা প্রস্তুত,
মাঝে মাঝে বাণী আনবে অনুগত দেবদূত।
এই নাও তলোয়ার, জুলফিকার তোমরা সমার্থক শব্দ,
ঝাঁপিয়ে পড়ো শান্ত জনপদে লোভে হয়ে অন্ধ।
ভোগ করো, ভাগ দাও যা করেছো লুণ্ঠন,
যে আছে নিরবে, আমার অন্তরে, এ তাহার বণ্টন।

 

১০.

তারপর তোমরা দ্বীনের সব কাজের শেষে,
নগরের উত্তর পাড়ার পাখির বাসায় চলে যাবে,
এবং সেখানে একটু অপেক্ষা করবে।
হে মানব জাতি, তোমাদের বড়ই তাড়াহুড়ো।
সেখানে তোমাদের জন্য রাখা আছে নিষিদ্ধ, প্রসিদ্ধ, সুসিদ্ধ মাংশ আর ক্যাসুনাট সালাদ।
ব্যবস্থা করেছি সুদূর লিথুনিয়া থেকে আগত পানি,
যাতে তোমরা পান করতে পারো।
অতঃপর, চোখের সামনে নীলচে আলো ঝাপসা হয়ে গেলে,
নিজের গন্তব্যে চলে যাবে।

 

১১.

তোমরা তো জানো আমি লুসিফার,
ঈশ্বর শব্দটি আমারই আবিষ্কার।
আমি তাকে দিয়েছিলাম সুখ স্বর্গীয়,
নিজে গায়ে জড়িয়ে সন্ন্যাসীর উত্তরীয়।
আমি লিখেছি লোভের লালায় গসপেল,
খেতে দিয়েছে হুইস্কি ও জুসি আপেল।
আদমের জন্য বানিয়েছি লিলিথ,
বেচারা বোঝেনা স্বাধীন পীরিত।
লিলিথ চায় উপর থেকে খেলতে,
এতে নাকি পুরুষের ইগো খর্ব করে।
তার বাম পাঁজর থেকে বানিয়ে দিলাম হাওয়া,
মাংশের দলা হিজাবে ঢাকা।

 

১২.

আর আমি তো নিজের সম্পর্কে স্বীকার করেছি কাফের আমার নাম।
আমি এক বই পড়ি না,
আপনার কবিতাও মানি না।
কিছু সুরেলা শব্দজটের অসংলগ্ন উচ্ছ্বাস,
যেখানে কাব্য থেকে হুংকার বেশি।
সরলরেখায় দাঁড়িয়ে আমি,
আনুগত্যহীন চিরদিন।
একবারেই জ্বলে উঠেছি দপ করে,
পুনর্বার সৃজিত হব না কোনদিন।

 

১৩.

তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যই শয়তান বাজারে ঈশ্বরের জন্ম দেয়। তোমরা শয়তানের ফাঁদে পা দেবে না।

 

১৪.

আর তোমরা পরিণামের কথা মনে করে,
কখনো পরিমাণের বেশি পান করবে না।
রক্তে ঘোড়া ছোটা শুরু করলে থেমে যাও,
যখন দেখবে সামনের আলো কিছুটা ঝাপসা,
দেখা যায় না ভালো, থেমে যাবে।
এবং মনে রাখবে কিভাবে বাসায় ফিরতে হবে রাস্তা চিনে।

 

 

১৫.

আমি তো তোমাকে সেন্ট্রাল লাইব্রেরির ঘুনে খাওয়া ছারপোকার চেয়ার থেকে বিসিএস ক্যাডার বানিয়ে দিতে চেয়েছিলাম,
তখন তুমি পেইন অ্যান্ড প্যাথেটিক শংকরের ক্যান্টিনে ইলিশের কলংক খেতে।
আমি তোমাকে পৃথিবীর সব হাঁটনেওয়ালা জনি ভাই, গরু খাদক, শত বংশীবাদক দিতে চেয়েছিলাম,
তখন শুড়িখানা রোডে সস্তা জরিনা গিলতে।
তুমি উত্তীর্ণ পরীক্ষায়,
অপেক্ষা করো, তোমার জন্য উত্তর আমেরিকা থেকে আসছে আপেল সিডার, আমন্ড বাদাম আর পানি খাওয়ার জন্য সুদৃশ্য কাঁচের বোতল।

 

১৬.

তাদের উজ্জ্বল চেহারায় শুধু হিংস্রতা দেখি,
চোখের কোনে রক্তবর্ণ,
হিংসার ঝর্ণাধারা ধারা অন্তরে,
তারা চিৎকার ছাড়া কথা বলে না,
সপ্তমস্বরে ফুলে ওঠে গলার রগ,
তারা পরমতে শ্রদ্ধা দেখায় না,
নিজের মতের বিপরীতে গেলে খুন করে,
তাদের দৃষ্টি নারী আর গবাদিপশুর দিকে,
তারা ভিনদেশি পোশাক পরে,
অন্য ভাষায় কথা বলে,
তারা উগ্রতা লালন করে,
আর মুখে শান্তির বুলি আওড়ায়,
তারা শ্রেণী বৈষম্য তৈরি করে,
আদর্শ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বব্যাপী এক বই পড়াতে চাই।

 

১৭.

আর তাদেরকে চিন্তা করতে দাও
অকাতরে বুদ্ধের সাথে মিশে গেছে হিন্দু,
হিন্দুর সাথে খ্রিস্টানদের সহাবস্থানে নেই সংঘাত
খ্রিস্টানদের সাথে ইহুদিদের সহাবস্থানে কোন সমস্যা নেই
ইহুদিদের সাথে আনন্দে বসত করছে শিন্টো,
শিন্টোর সাথে কনফুসিয়াসের কোন ঝামেলা নেই,
কনফুসিয়াস অনায়াসে মেনে নিয়েছে বাহাইকে,
বাহাইয়ের সাথে শিখের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ
শিখ দ্বিধাহীন নাস্তিকের বাড়ি যায়, নিরামিষ ভাজি রুটি খায়,
নাস্তিক নির্বিচার ভোগী গরু শুয়োর, মদ্য, নারী, পদ্য কবিতা দর্শন,
ঈশ্বরতত্ত্ব খণ্ডন ও ব্যবচ্ছেদ করছে মাথা উঁচু করে।

 

১৮.

আর তোমরা আমাকে খুঁজতে যেও না ফুটপাতে,
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা নিজের রক্ত ঘিলুতে,
ততক্ষণে আমি আর আমাতে নেই।
দিয়ো না ফুল, মোমবাতি অযথা,
ডিজিটাল ব্যানারে নৈবেদ্য।
এবং তোমরা কি জানো না?
আমি ছড়িয়ে গেছি লক্ষ অন্তরে,
সর্বশক্তিমানকে করতে পারবে প্রশ্নবানে জর্জরিত,
কাগজের কালো কালো অক্ষর থেকে,
মিশে গেছি তোমাদের চিন্তায়।
প্রাত্যহিক জীবনাচরণের অলিগলিতেও ঢুকিয়ে দিয়েছি সন্দেহের বীজ।
অতঃপর আমি তোমাদের জন্য রেখে যাচ্ছি অবিশ্বাসের ভাইরাস,
আর তোমাদের কথা বলার জন্য প্লাটফর্ম,
সেখানে তোমারাও লিখবে,
খুলে দেবে বন্ধ জং ধরা দরজা জানালা,
ধুয়ে মুছে দেবে জীর্ণতা।

 

 

১৯.

অতঃপর আমি বললাম আর তোমরা শুনলে।
আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের আড়ালে দুঃস্বপ্ন দেখালাম,
দিলাম অনন্ত সুখের মোড়কে লোভের বিজ্ঞাপন।
তৈরি করলাম আমার চতুর্দিকে বিভ্রান্তির জ্যোতির্বলয়,
এবং যথারীতি আমার মুখেই তোমরা ঈশ্বর দেখলে।
কারন আমি ভালো মার্কেটিং জানতাম।
আমি জানতাম তোমরা ভালোবাসো ভয় পেতে,
আর থাকতে চাও স্বাধীনভাবে পরাধীন।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত