| 5 মার্চ 2024
Categories
সাক্ষাৎকার

লিডিয়া ডেভিস-এর সাক্ষাৎকার

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট
আমেরিকান লেখিকা লিডিয়া ডেভিস (জন্ম-১৯৪৭) তার সুসংহত গদ্যভঙ্গির ‘অনুগল্প’ বা ‘মাহূর্তিক গল্প’ (ফ্ল্যাশ ফিকশন) দ্বারা আলোচিত। যা মাত্র একটি বা দুটি বাক্যেই স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সম্পন্ন! তিনি এসব লেখাকে ‘বিশাল শূন্যতার মধ্যে অনন্য আকাশচুম্বী বোধ’ হিসেবে বলতে পছন্দ করেন। তার স্বনির্মিত এই বিশেষ সাহিত্য আঙ্গিকের জন্য তাঁকে কেউ কেউ ‘গুরু’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে ফরাসি লেখক মিশেল লাপোঁয়াতে বলতে চান, ডেভিসই ‘মাহূর্তিক গল্প’ বা ‘অনুগল্প’ সাহিত্য ঘরানার একমাত্র আবিষ্কারক নন; আমরা বড়জোর তাঁকে সমকালীনদের মধ্যে ‘অন্যতম প্রধান চর্চাকারী’ বলতে পারি। তাই ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে নরওয়েজিয়ান-আমেরিকান লিটারেরি ফেস্টিভালে তার অনুরাগী অনুবাদক জোহান ফ্রন্থ-নাইগ্রেন এবং আন্দ্রিয়া আগুইলারের নেয়া মূল দীর্ঘ সাক্ষাৎকার থেকে ‘অনুগল্প সম্পৃক্ত’ প্রশ্নের দিকেই আমাদের আগ্রহ ধাবিত হয়েছে।
গল্পসংকলনগুলোতে আপনার লেখাগুলোকে আপনি ‘গল্প’ হিসেবেই উল্লেখ করেন, কখনোই ‘ছোট গল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন না, এটা কেন?
-এটা আমার কাছে মনে হয়, ‘ছোট গল্প’ বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট প্রথাগত কাঠামোর বিষয়, যা হেমিংওয়ে, ক্যাথেরিন ম্যান্সফিল্ড বা শেখভ-এর মতো লোকজন লিখেছেন। যা কিনা দীর্ঘ, আরও উন্নত, দৃশ্যবর্ণনা এবং কথোপকথনসমৃদ্ধ একটা কিছু। আপনি আমার কোনো কোনো গল্পকে হয়তো সেরকম প্রকৃত ‘ছোট গল্প’ বলতে পারেন। কিন্তু আমার বেশিরভাগ গল্পকেই, যেগুলো হয়তো আকারের দিক থেকেও খুবই ছোট, সেগুলোকেও আমি ‘ছোট গল্প’ বলি না। এরমধ্যে কিছু কিছু গল্প আছে এত ছোট যে, আপনি সেগুলোকে ‘কবিতা’ বলতে পারেন, যদিও এরকম গল্প খুব বেশি নেই।
তো আপনি আপনার কিছু গল্পকে ‘কবিতা’ বলতে চান?
-হ্যাঁ, এটা খুব বেশি নির্ভর করে নেপথ্যের অনুভূতির ওপর। সেগুলোর কোনো কোনোটিতে আমি খুবই সাদামাটা এবং গদ্যময় থাকতে চেয়েছি। অথচ সেগুলোতেও আপনি তাদের নিজস্ব সুর-সংগীত-ছন্দ খুঁজে পাবেন, যদিও সেগুলো কোনো গান নয়। এবং আরও কিছু লেখা আছে আমি যেগুলোকে হয়তো গান হিসেবেই ভাবি। আর যেগুলো কবিতা, এমনকি যদি সেগুলো দেখতে কবিতার মতো না-ও হয়, সেগুলো কবিতাই থাকে। …. লেখালেখির যত মাধ্যম বা কাঠামো আছে, সব কিছু থেকে, কবিতাকেই প্রাধান্য দেই এবং দিচ্ছি। আমি আবার এটাও বলছি না যে, কবিতা ছাড়া অন্য সব অনন্য গল্প-উপন্যাসের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু আমি যা বলতে চাচ্ছি, অন্য সব কিছু থেকে কবিতাই আমাকে বেশি পুলকিত করে।
আপনার কী মনে হয় যে, শিক্ষকতা, অনুবাদ, শিশুসঙ্গ এবং ঘরের কাজ–এগুলোর পাশাপাশি করতে পারেন বলেই আপনি ‘অনুগল্প’ লেখার বিষয়টি বেছে নিয়েছেন?
-এটা আমার পক্ষে বলা কঠিন। যখন আমি ছোট গল্প লিখতে শুরু করি, এটা এমন এক সময়ে, যখন আমার হাতে অনেক সময় ছিল। তখন আমার কোনো টাকা-পয়সা ছিল না, কিন্তু আমি টাকা-পয়সার জন্য তেমন কোনো চেষ্টাও করতাম না। আমি একটি বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের কাজ করতাম–অন্য একজনের বাড়ি। সুতরাং আমার একটা ঘর ছিল, এবং খুবই সামান্য পরিমাণ ভাতা, এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফুরন্ত সময়। তখন কোনো বাচ্চা-কাচ্চাও ছিল না। তখন আমি চাইলে আস্ত একটি উপন্যাসও লিখে ফেলতে পারতাম, কিন্তু তার পরিবর্তে আমি লিখলাম খুবই ছোট ছোট গল্প। এবং শুধু তা-ই নয়, যখন আমি প্রুস্ত অনুবাদ করছিলাম, তখনই সবচেয়ে ছোট গল্পগুলো লিখেছিলাম। আমি প্রায় সারাদিন ব্যয় করে, সকাল দশটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত, প্রুস্ত-এর সেইসব দীর্ঘ এবং জটিল বাক্যগুলো অনুবাদ করতাম। অত বেশি লেখার জন্য আমার অত বেশি সময় ছিল না। ওই বাক্যগুলো পুনর্গঠনের বিষয়টি আমার অনেক পছন্দের, কিন্তু আমি ভাবলাম যতটুকু সম্ভব আমার এটা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন এবং তখনই আমি একেবারে ছোট ছোট লেখার দিকে ঝুঁকলাম। যেমন স্রফে একটা শিরোনাম বা এক-দুই লাইনের কোনো লেখা।
আপনি তো খুব বেশি সংলাপ বা বিবরণ ব্যবহার করেন না।
-হুম। কিন্তু আমি বিবরণ পছন্দ করি। …যদি কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য, বা এ ধরনের কোনো কিছু আমাকে আলোড়িত করে, আমি তা লিখতে চাই, কিন্তু আমি ওই ধরনের প্রয়োজনীয় উপকরণের গতানুগতিক বর্ণনা পছন্দ করি না। যেমন, যদি আপনি সংলাপসহ একটি দৃশ্য বর্ণনা করতে শুরু করেন, তখন আপনাকে অবশ্যই বর্ণনার দিকে যেতে হবে, এবং অবশ্য অবশ্যই আপনাকে সেটা করতে হবে।
আপনি কী সচেতনভাবে একেক ধরনের গল্পের পরিকল্পনা করেন, নাকি প্রত্যেকটিই স্বতঃস্ফূর্ত?
-সব সময়ই আমি গল্প পরিকল্পনায় খুবই আনাড়ি। দুয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে প্রায় সব ক্ষেত্রেই একটি ধারণা বা বাক্য থেকেই আমার গল্প শুরু হয়, পরে আমি সেটাকে যথাযথভাবে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি।
.
ভূমিকা ও অনুবাদ : মাহফুজ জুয়েল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত