| 18 জুলাই 2024
Categories
ইতিহাস

হরপ্পা এবং মায়া সভ্যতাও ধ্বংস হয়েছিল জলের অভাবে

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

।।সুকান্ত পাল।।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, হরপ্পা ও মায়া সভ্যতা ধ্বংসের কারণ অবশ্যই অনাবৃষ্টি। এই দু’টি সভ্যতার সময়কাল, ভৌগোলিক স্থান এবং উন্নতির পরিকাঠামো ভিন্ন ধরনের।
প্রথমে আসা যাক, ৪৫০০ বছর আগেকার হরপ্পা সভ্যতায়। নগর সভ্যতা ও মৃৎশিল্পের এক চরম শীর্ষে ওঠা এই ভারতীয় সভ্যতা ধ্বংসের মুখে পড়ে। গবেষকদের মতে, ১০০০০ বছর আগে ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল এখনকার চেয়ে অনেক বেশি। সেই গবেষকদের দলে ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত ও রোমানিয়ার বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন, ৫০০০ বছর পর বৃষ্টিপাত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে। ঠিক যেমন একটা সময় পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হত অসমের ‘চেরাপুঞ্জি’তে। এখন সেখান থেকে সরে গিয়েছে মেঘালয়ের মৌসিনরামে। হরপ্পা অঞ্চলে যে সমস্ত নদী ছিল– ঘর্ঘর, সরস্বতী, হাকরা প্রভৃতি নদী এই ঘোর অনাবৃষ্টিতে নাব্যতা হারায় ও শুকিয়ে যেতে থাকে। চলতে থাকে কম বৃষ্টিপাত। সভ্যতায় উন্নত হয়েও অধিবাসীরা কোনও বাঁধ কিংবা অন্য ভাবে জল ধরে রাখার কোনও রকম পদ্ধতি জানতেন না।
বৃষ্টিপাত কম হতে থাকায় প্রকৃতির ভারসাম্য ভেঙে পড়ল। নদীর জল শুকিয়ে যেতে লাগল। একদিকে কম বৃষ্টি আর অন্যদিকে হিমবাহ অঞ্চলের সব নদীকে আক্রান্ত করল। জলের প্রবাহ না থাকায় ঘর্ঘরা মরুভূমির সঙ্গে মিলিয়ে গেল। কৃষিক্ষত্রে নষ্ট হয়ে গেল। মায়া সভ্যতার মত এখানকার মানুষজন অভিবাসন করতে পারলেন না। কৃষিপণ্য উৎপাদন না হওয়াতে দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে সভ্যতা ধ্বংস হল।
এবার মায়া সভ্যতার (১৮০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ) কথা। পাশ্চাত্যের বিদগ্ধ লোকজনেরা মায়া সভ্যতাকে হরপ্পার আগে নিয়ে যেতে প্রচুর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বের বেশি ওরা এগোতে পারেননি। হরপ্পা সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ বছর আগের। আর উৎকর্য এসেছিল ২৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এবং পতন শুরু হয় ১৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। মায়া সভ্যতায় ৩০০ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বাড়লেও, তার পরেই কমতে আরম্ভ করে। আর ৯০০ খ্রিস্টাব্দে এই কমতে থাকা বৃষ্টি খরার আকার ধারণ করে।
মনে রাখা বিশেষ প্রয়োজন, এই সভ্যতার লোকজনেরা অবিশ্বাস্য রকম ভাল অঙ্কনশিল্পী ছিলেন– সেই সঙ্গে কৃষিকাজ, রাষ্ট্র পরিচালনা, যুদ্ধবিগ্রহে অসম্ভব রকম দক্ষ ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাঁধ ও জল ধরে রাখার কোনও পদ্ধতি হরপ্পা সভ্যতার মত জানা ছিল না। অঞ্চলের অধিবাসীরা বিভিন্ন স্থানে অভিবাসন করেও সভ্যতার ধ্বংস ঠেকাতে পারলেন না।

তাই সময় হয়েছে ভাবার আপনার শহরকে বাঁচানোর দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণ আপনার হাতে।

লেখক: (প্রাক্তন ছাত্র) প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস সাহিত্য ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। বিশ্বভারতী।

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত