মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতায় নারী মুক্তির স্বরূপ

সুজাতা, ১১ মে ১৯৯৮  

(ঐ তারিখে ভারত যে পরমাণু বোমাটি ফাটায়, তার নাম স্মাইলিং বুদ্ধ)

কোথায়, কোথায় তিনি ?
ওরা যে বলল এই মরুস্থানে তিনি হাসছেন !

আমাকে তোমরা কেন যেতে দিচ্ছ না
এত পুলিশ পাহারা, লোকজন, অস্ত্রসম্ভার !
তোমরা বুঝতে পারছ না, উপোসি আছেন তিনি
আমি এই পরমান্ন নিয়ে তাঁর কাছে যেতে চাই
কয়েক শতাব্দি ধরে খুঁজতে খুঁজতে
আজ এত দিন পরে সন্ধান পেযেছি তাঁর এই মরুদেশে

বুদ্ধপূর্ণিমার রাত
ভয়ংকর শব্দ লেগে পরমান্ন চলকে পড়ল
চারিদিকে হৈ হৈ হাততালি, জনবিস্ফোরণ
সবাই বলল, দেখো, তিনি হাসছেন

তিনি হাসছেন ! এই ভয়-শব্দ  তাঁরই হাসির |
কাকে তোরা বেদিতে বসালি
কাকে তোরা সৈন্যদল পাহারা দিচ্ছিস
এ তো আলোকসামান্য সে মানব নয় !
এত ধোঁয়া, এত শব্দ  এত সৈন্যদল দিয়ে ঘেরা যে মানুষ
তাঁর পরমান্ন আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি
ওই যারা ঊর্ধ্বশ্বাসে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে
তাঁর পরমান্ন আমি সেই সব নিরন্নকে ভাগ করে দেব |

পারমানবিক বুদ্ধ এই দেশে থাকুক উপোসি |

মল্লিকা সেনগুপ্তকে ব্যক্তিগতভাবে যারা চিনতো তারা জানে কি সরল আর আন্তরিকতায় মোড়া সৎ মানুষ ছিলেন তিনি। ভড়ং ছিলো না কোথাও।খোলা আকাশের মত উচ্ছল মানুষটির অচেনা সব কাঠিন্য না বলা সব কথারা সমগ্রের কথা হয়ে ওঠেছে তার কবিতায়।যদিও মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতা মানেই একটি বিশেষ অনুষঙ্গকে প্রতিনিধিত্ব করে বলেই সবাই তাকে বাঁধতে চান,তিনি কিন্তু সেই সীমানা ছাপিয়ে একটি সভ্যতা!প্রাচীন মাতৃতান্ত্রিকতার আদি কন্যা।

পুরুষতান্ত্রিক এই পৃথিবীতে নারীর গুরুত্ব যতই কম হোক না কেন পুরুষের ভাবনায় একটি বড় অংশ জুড়ে আছে নারী। শিল্পের যেকোন শাখায় পুরুষ শিল্পীর কাছে শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম হলো নারী। বাংলা সাহিত্যেও যুগ যুগ ধরে নারীকে উপজীব্য করে বহু রচনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা কবিতায় একসময় নারী কেবল প্রেমিকা,রূপ-যৌবন,জননীর অনুষঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে।বাংলা কবিতায় যেহেতু চিরকালই গীতিকবিতার প্রাবল্য সেহেতু বাংলা কবিরা নিজেদের কথা একটু বেশি বেশিই লিখেছেন৷মল্লিকা সেনগুপ্ত এ ক্ষেত্রে ছিলেন এক বিরল ব্যতিক্রম।এমন কবি ও কবিতার ভিড়েই নারীদের নিজস্ব জগত এবং নারীর নিজের কথা নিয়ে কবিতা লেখা শুরু করলেন মল্লিকা সেনগুপ্ত। তখন যেন বাংলা সাহিত্যের নতুন এক ধারার গোলাভরে গেল নতুন ফসলে। তবে তার এই প্রচেষ্টাকে তির্যক দৃষ্টিতে দেখতে ছাড়েননি অনেকেই। এদের মধ্যে কেঊ কেউ আছেন বিদগ্ধ বা বরেণ্য লেখকও । তাদের ধারণা হল, এই কবি মেয়েদের জন্য লেখা আদৌ লিখছেন না, বরঞ্চ সস্তায় নাম কেনার মোহে নারীবাদের নামে নতুন করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেই পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন ।মল্লিকা সেনগুপ্তের নারীবাদী লেখাগুলি মুলত: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নির্ভর।কবির যে মুদ্রাদোষ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়, সেই মুদ্রাদোষ হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে তিনি অন্যদের একজন মনে করে নিজেকে লিখেছেন; তাঁর লেখা তাই অন্যদের ‘জন্য’ লেখা হয়নি, অন্যদের ‘হয়ে’ লেখাও হয়নি, হয়ে উঠেছে অন্যদেরই লেখা৷ গোটা ভারতবর্ষ জুড়েই যে বছর আক্রান্ত মেয়েদের কথা, মেয়েদের সমস্যা পাবলিক পরিসরের অনেকটা জুড়ে থেকেছে, সেই বছরটিতে কবি মল্লিকা সেনগুপ্তর ‘কবিতা সমগ্র’ পড়তে পড়তে মনে হল যতখানি মনোনিবেশ মল্লিকা সেনগুপ্তর কবিতা দাবি করে ততখানি মনোযোগ দিয়ে পাঠক ও সমালোচক মল্লিকার কবিতা পড়েছেন কি? তাঁর অকাল প্রয়াণ তাঁকে যতখানি উদযাপনের বস্ত্ত বানিয়েছে ততখানি আমাদের ভাবনার সামগ্রী করে তোলেনি৷ কবিকে জানতে হলে তার কবিতার কাছে নয় , তার চিন্তা, তাঁর ভাবনা, তাঁর মনের চুপকথার কাছেই ফিরে যেতে হবে বার বার।

 

বালিকা ও দুষ্টু লোক

বালিকাকে যৌনহেনস্থার দায়ে স্কুলবাসের ড্রাইভার ও হেল্পার ধৃত–
সংবাদ, আগস্ট, ২০০১

স্কুলবাসের বাচ্চা মেয়ে
সবার শেষে নামে
সঙ্গীগুলো বিদায় নিলে
তার কেন গা ঘামে !

বাসের কাকু বাসের চাচা
কেমন যেন করে
হঠাত গাড়ি থামিয়ে দিয়ে
আমায় নিয়ে পড়ে

কাকু জেঠুর মতন নয়
দুষ্টু লোক ওরা
মাগো আমার বাস ছাড়িয়ে
দাও না সাদা ঘোড়া !

দুষ্টু কাকু দুষ্টু চাচা
থাকুক না তার ঘরে
বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে কেন
অসভ্যতা করে !

এই পৃথিবী সাদা কালোয়
মন্দ এবং ভাল
তবু কেন এই জীবনে
ঘনিয়ে এল কালো ?

আমার কিছু ভাল্লাগে না
স্কুলের বাসে ভয়
মাগো তোমার পায়ে পড়ি
ওই বাসে আর নয়

আমাকে আর কিছুতেই যেন
না ছুঁতে পারে ওরা
আমাকে দাও সবুজ মাঠ
পক্ষীরাজ ঘোড়া |

 আশির দশকের সূচনায় কলম ধরে মেয়েদের জীবনকে কী ভাবে তাঁর কবিতায় আনলেন মল্লিকা? ‘কবিতা সমগ্র’-তে গ্রন্থিত মল্লিকার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘চল্লিশ চাঁদের আয়ু’ (১৯৮৩ ) থেকে শেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘বৃষ্টিমিছিল বারুদমিছিল’ (২০০৯ ) পর্যন্ত মল্লিকার যে যাত্রা সেই যাত্রার সঙ্গী হলে দেখা যায় নির্যাতিতা মহিলাদের পাশাপাশি লড়াকু মহিলারাও বার বার বিষয় হয়েছেন মল্লিকার কবিতায়৷ স্কুলবাসে যৌন হেনস্থার শিকার হয় ছোট্ট একটি মেয়ে সে মেয়ে জায়গা পায় মল্লিকার কবিতায়৷ জায়গা পান আম্রপালী, তুতেনখামেনের মা, সুজাতা, উইনি ম্যান্ডেলা, ফুলন দেবী এ রকম অতীত আর সমকাল, মিথ আর বর্তমানের নানা চরিত্র। বার বার মল্লিকা নতুন ভাবে নির্মাণের চেষ্টা করেছেন সীতা আর কৃষ্ণাকে। কিন্ত্ত, বাংলা কবিতায় নির্যাতিতা আর সংগ্রামী মহিলাদের জীবনকে লেখার বিষয় অনেক মহিলা কবিই করেছেন। নির্যাতিতা দ্রৌপদীকে নতুন করে নির্মাণ করেছেন অনেকে এমনকী পুরুষ কবিরাও৷ মল্লিকা তা হলে নতুন কী করেছেন? ‘কবিতা সমগ্র’ পড়তে পড়তে মনে হল মূলত তিনটি কারণে বাংলা কবিতা মল্লিকা সেনগুপ্তকে বিস্মৃত হতে পারবে না।মল্লিকা সেনগুপ্ত আসলে একটা বিশ্বাস থেকে কবিতা লিখতেন।ঠিক কী ছিল সেই বিশ্বাস? ‘আকালের মধ্যে সারস’ নামে অনুবাদ-কবিতার বইটি বাদ দিলে মল্লিকার কাব্যগ্রন্থ ১৪টি। গ্রন্থিত-অগ্রন্থিত সব মিলিয়ে ৪৬৫টি কবিতা! সেখানে তিনি বিশ্বাস রাখছেন নারী-পুরুষের সমানাধিকারে, বিশ্বাস রাখছেন ধর্মনিরপেক্ষতায়, আস্থা রাখছেন সমকালে। সেই কারণেই ‘ইনস্যাট ১’ থেকে গুজরাত দাঙ্গা, মেধা পটেকর, খেজুরি, তেখালি ব্রিজ, প্রিয়ঙ্কা-রিজওয়ানুর ইত্যাদি শব্দ ঢুকে পড়ে তাঁর কবিতায়। নারীজীবনকে, তার যন্ত্রণা, লড়াই ও মহিমাকে, মল্লিকা সেনগুপ্তের আগে কবিতায় ধরেছিলেন পঞ্চাশ, ষাট আর সত্তর দশকের বেশ কয়েকজন মহিলা কবি৷ কিন্তু তাঁরা কেউই বিষয় ও ভাষায় মল্লিকার মতো অতখানি স্পষ্ট ছিলেন না৷ আর্থসামাজিক কারণেই তাঁরা অতখানি স্পষ্ট হতে পারেননি৷ প্রথাগত ভাবে কবিতা বলতে বাঙালি যা বোঝে সেই শুদ্ধ কবিতা রচনার দায়ও অনেক সময়েই তাঁদের প্রতিবাদের পায়ে পরিয়েছিল বেড়ি, তাঁদের রাগকে করে তুলেছিল সাংকেতিক৷ এই দায় মল্লিকা বহন করেননি৷ অবশ্য একেবারেই করেননি বললে ভুল বলা হবে৷ ‘চল্লিশ চাঁদের আয়ু’কে তো বটেই এমনকী ‘আমি সিন্ধুর মেয়ে’কেও গত শতাব্দীর পঞ্চাশ বা ষাট দশকের মহিলা কবিদের কবিতার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে৷ নতুন মল্লিকার দেখা মিলল যে বইটিতে সে বইটির নাম ‘অর্ধেক পৃথিবী’৷

 

আপনি বলুন, মার্কস

ছড়া যে বানিয়েছিল, কাঁথা বুনেছিল
দ্রাবিড় যে মেয়ে এসে গমবোনা শুরু করেছিল
আর্যপুরুষের ক্ষেতে, যে লালন করেছিল শিশু
সে যদি শ্রমিক নয়, শ্রম কাকে বলে ?

আপনি বলুন মার্কস, কে শ্রমিক, কে শ্রমিক নয়
নতুনযন্ত্রের যারা মাসমাইনের কারিগর
শুধু তারা শ্রম করে !
শিল্পযুগ যাকে বস্তি উপহার দিল
সেই শ্রমিকগৃহিণী
প্রতিদিন জল তোলে, ঘর মোছে, খাবার বানায়
হাড়ভাঙ্গা খাটুনির শেষে রাত হলে
ছেলেকে পিট্টি দিয়ে বসে বসে কাঁদে
সেও কি শ্রমিক নয় !
আপনি বলুন মার্কস, শ্রম কাকে বলে !

গৃহশ্রমে মজুরী হয়না বলে মেয়েগুলি শুধু
ঘরে বসে বিপ্লবীর ভাত রেঁধে দেবে
আর কমরেড শুধু যার হাতে কাস্তে হাতুড়ি !
আপনাকে মানায় না এই অবিচার

কখনো বিপ্লব হলে
পৃথিবীর স্বর্গরাজ্য হবে
শ্রেণীহীন রাস্ট্রহীন আলোপৃথিবীর সেই দেশে
আপনি বলুন মার্কস, মেয়েরা কি বিপ্লবের সেবাদাসী
হবে ?

 

‘অর্ধেক পৃথিবী’ গ্রন্থটির প্রথম কবিতা ‘আপনি বলুন মার্কস’৷ এই কবিতাটিতেই মল্লিকা;গৃহশ্রম নিয়ে মার্কসের অবস্থানকে কূট তর্কের মুখোমুখি করেছেন যে সব মার্কসবাদী ও নারীবাদী তাত্ত্বিক তাঁরা অনেকেই হয়তো এই কবিতাটিতে মল্লিকার অবস্থানটিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারেন, কিন্ত্ত এ নিয়ে অন্তত কোনও প্রশ্ন থাকতে পারে না যে কবিতার অঙ্গনে তত্ত্বের সঙ্গে যে বোঝাপড়া মল্লিকা এই কবিতাটিতে সেরে নিয়েছেন তা বাংলা কবিতায় সম্পূর্ণ নতুন৷ ‘আপনি বলুন মার্কস’-এর পরে বার বার তত্ত্বের সঙ্গে এই বোঝাপড়া মল্লিকার কবিতার কেন্দ্রে জায়গা পেয়েছে৷ ‘ফ্রয়েডকে খোলা চিঠি’-তে তিনি ইতিহাসকে প্রশ্ন করতে করতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন নিজস্ব বীক্ষায়। ‘ছেলেকে হিস্ট্রি পড়াতে গিয়ে’ কবিতায় জানিয়ে দেন হিস্ট্রি আসলে ‘হিজ স্টোরি’, লেখেন, ‘আসলে হিজড়ে ছিল ইতিহাসবিদ’৷ এই ধরনের কবিতাগুলিতে কবিতার ভিতরেই মল্লিকা এক তর্কের উত্থাপন করেছেন, মেয়েদের নির্যাতনের বাস্তবতাকে অশ্রুসজল অক্ষরে বর্ণনা করে হাততালি পেতে চাননি, সেই বাস্তবতাকে, হ্যাঁ, কবিতাতেই, বিশ্লেষণ করে পাঠকের মস্তিষ্ককে আক্রমণ করেছেন৷ গোটা পৃথিবী জুড়েই বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে এমন কিছু লেখক-কবি কলম হাতে নিয়েছেন যাঁরা প্রমাণ করেছেন সাহিত্য ও তত্ত্বের মধ্যবর্তী দেওয়ালটি স্থানু ও অনড় তো নয়ই, বরং ছিদ্রময়৷ বাংলা কবিতায় মল্লিকা সেনগুপ্ত এই সমস্ত কবি লেখকদেরই প্রতিনিধি৷ কবিতার কেন্দ্রে তত্ত্ব এবং তর্ককে এ ভাবে দাপটের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা বাংলা কবিতায় মল্লিকা সেনগুপ্ত ছাড়া খুব কম লোকই করেছেন৷ এই অত্যন্ত জরুরি ও প্রয়োজনীয় কাজটি করে মল্লিকা বাংলা কবিতাকে অনেকখানি আন্তর্জাতিক করে গিয়েছেন৷

 

অনাবাসির চিঠি

এখানে জীবন বড় মায়াময়
বদলে গিয়েছে সমাজ সময়
এখানে সুখের ঘর বানিয়েছি
তপ্ত দুপুরে সারা দিন এ সি
তবু মনে পড়ে ধূ ধূ বাংলায়
বন্ধুরা মিলে শিতে বরষায়
চায়ের কাপেই তুলেছি তুফান
রকে বসে বসে সিনেমার গান

মন খারাপের বিকেলবেলায়
একটি মেয়েকে মনে পড়ে যায়
দেশে ফেলে আসা সেই সুখস্মৃতি
ভোলা তো গেল না প্রথম পিরিতি
এ দেশে আরাম এ দেশে ডলার
ছেলে মেয়ে বৌ ফিরবে না আর
এখন এখানে নামছে শেকড়
জমিও কিনেছি দু-এক একর

এখানে অশেষ অঢেল খাবার
এখানে পিত্জা হ্যামবার্গার
তবুও মায়ের হাতের শুক্ তো
মনে পড়লেই ভিষণ দুখ তো !
এখানে বৌরা স্বয়ংসিদ্ধা
নিজে হাতে কাজ তরুণী বৃদ্ধা
তবু মনে পড়ে কলেজের সেই
ছিপছিপে রোগা তরুণীটিকেই
বুকে দাগা দিয়ে গিয়েছিল চলে
আজও ডাক দেয় স্মৃতির অতলে

এখানে সুখের ঘর বানিয়েছি
তবু মনে হয় কি যেন হল না
বুক খাঁ খাঁ করে, বলো না বলো না
সুখপাখিটিকে হারিয়ে ফেলেছি |

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত