| 19 জুন 2024
Categories
খবরিয়া ভিডিও

দুই বছর আগে মারণাস্ত্র করোনার ইঙ্গিত দিয়েছিল কোরিয়ান সিরিজ ‘মাই সিক্রেট টেরিয়াস’

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার কিছুদিনের মধ্যেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ২০১১ সালের ছবি ‘কন্টাজিয়ন’। ওই ছবিতে এমন একটি সংক্রামক ভাইরাসের উল্লেখ ছিল যা সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ছবির গল্পের সঙ্গে বাস্তবের এই অদ্ভুত মিল দেখে চমকে উঠেছিলেন। কিন্তু তার চেয়েও বেশি গায়ে কাঁটা দেবে কোরিয়ান সিরিজ ‘মাই সিক্রেট টেরিয়াস’-এ এই ভাইরাসের উল্লেখ দেখে।

এই কোরিয়ান-ড্রামা-র প্রথম সিজনের দশম এপিসোডের গল্প এই ভাইরাসকে কেন্দ্র করেই লেখা হয়েছে।



কী আছে কোরিয়ান সিরিজ ‘মাই সিক্রেট টেরিয়াস’-এ?

২০১৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিরিজটি। তখন ছিল কল্পবিজ্ঞানের গল্প। কিন্তু গল্পের বিন্যাস ছিল গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। যদিও করোনা ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার সঙ্গে ২০১১ সালের ছবি ‘কন্টাজিয়ান’-এরও অদ্ভুত মিল রয়েছে। ‘মাই সিক্রেট টেরিয়াস’-এর সঙ্গে যেন মিলটা আরও বাস্তবিক। অনেক বেশি কাকতালীয়। অন্তত তেমনটাই বলছে নেটিজেনরা। সিরিজের গল্প এক সিক্রেট এজেন্টকে নিয়ে। কোনও এক অপারেশনে অকৃতকার্য হয়ে সে নিজেকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়। কিন্তু পরিস্তিতি তাঁকে বাধ্য করে আরও একটি রহস্যের অনুসন্ধানে। আচমকাই মারা যায় এজেন্টের প্রতিবেশি। তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়েই করোনার সঙ্গে পরিচিত হয় সে। সিরিজের প্রথম ১০টি এপিসোডের সঙ্গে কাকতালীয় মিল রয়েছে বর্তমান পরিস্থিতির। তবে নেটিজেনরা গোটা সিরিজ থেকে একটি সিকোয়োন্স শনাক্ত করেছেন যেখানে করোনা ভাইরাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সেই ৫৩ মিনিট সময়ের মধ্যে দেখা গিয়েছে এক চিকিৎসক বলছেন, “আমাদের আরও গবেষণা প্রয়োজন। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এটা মিউট্যান্ট করোনা ভাইরাস।” তখন অন্য একটি চরিত্রকে বলতে শোনা গিয়েছে, “করোনা? মার্স?” উত্তরে চিকিৎসক বলেন, “মার্স, সার্স ও সাধারণ জ্বর যে পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, সেই পরিবারেই রয়েছে এই ভাইরাস। সরাসরি আমাদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় হামলা করে। ২০১৫ সালে মার্স ভাইরাসের প্রভাবে ২০ শতাংশের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।” তখনই অন্য চরিত্রটি বলে, “কিন্তু আমি যদি খুব ভুল না করি, তবে এই ভাইরাসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তাই না?” এরপরই চিকিৎসক বলেন, “আমি তো বললাম এটি একটি মিউট্যান্ট ভাইরাস। তাই এর শক্তি বাড়ানো যায়। কোনও বিজ্ঞানী এর শক্তি মাত্রাতিরিক্ত বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে মৃত্যুহার বেড়ে গিয়েছে ৯০ শতাংশ।” কোরিয়ান সিরিজ ‘মাই সিক্রেট টেরিয়াস’-এর এই ফুটেজ এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার বিষয়।

কিন্তু এই ভিডিও কতটা সত্য তা যাচাই করা হয়েছে কি না প্রশ্ন উঠছে। রিপাবলিক ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শো-তে করোনা ভাইরাসের উল্লেখ রয়েছে। এবং সেটা কতটা ভয়ঙ্কর সেটাও বলা হয়েছে ঠিকই।

কিন্তু কোভিড ১৯ প্রসঙ্গে কিছু বলা হয়নি। কোভিড ১৯ করোনার একটি একেবারে নতুন ভাইরাস। এও বলা হয়নি যে ২০২০ সালেই এই ভাইরাস আক্রমণ করবে। তাই এটা বলা যায় না যে এই কোরিয়ান ওয়েব সিরিজ আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল।

এমন খবরও ছড়িয়েছে যে এই ভাইরাস নাকি মানুষেরই তৈরি জৈব অস্ত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন খবর অনবরত ঘুরেই চলেছে। কিন্তু সত্যি এই কোভিড ১৯ এর উৎপত্তি কোথায় তা এখনও জানা যায়নি।

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত