| 28 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

তৈমুর খানের কবিতাগুচ্ছ

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ২৮ জানুয়ারী কবি তৈমুর খানের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


কল্লোল

কল্লোল এসেছে
ওর সেই নিপুণ মাছরাঙা
আর প্রাচুর্যের বিম্বগুলি
চৈতন্যের শিহরনে কাঁপা

আমি ওর স্পর্শ পাই
স্পর্শে উজ্জীবিত আয়ু
যুদ্ধের তাঁবু হয়ে যায়

আমিও শব্দের সৈনিক

নিয়ন্ত্রণরেখার পাশে দাঁড়াই
ফিরে আসে কল্লোলের অতন্দ্র অভিঘাত

 

সত্য

সত্য আছে
কোথাও সত্য আছে

আমাদের রাত্রিবাস শেষ হলে
আরক্তিম সকালে সূর্যের হাসি কুড়িয়ে পাই

চলো, এগিয়ে যাই আগামীর পথে
একদিন সত্যের সাথে দেখা হবে

আমরা সব ঘুড়ি গুটিয়ে নেবো সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার আগে

 

বিরহপুর

সমস্ত জীবন ধরে আমারই প্রেমের কাহিনি
এতদিন যা বলেছি অথবা বলিনি
কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন , কিছুটা ঝলমল
আলো আঁধারিতে মাখামাখি
কিছুটা শিশির বিন্দু, কিছুটা অশ্রু টলমল

সন্ধ্যার চাঁদ থেকে ভোরের চাঁদ
মাঝখানে নিস্তব্ধতা, হয়তো জাগরণ রাখা
হয়তো নতুন স্বপ্নকথা

স্বপ্নকথায় ঘুমিয়ে পড়া রাত

হেমন্তের শীত , বসন্তের ধুলো
চিঠি লিখে গেছে বারোমাস
সেসব বাংলার ৠতুগুলো —
কল্পনার পাখি চলে গেছে উড়ে
সন্ধ্যা নেমেছে মহাশূন্য ঘিরে

সে আসেনি, তার শুধু ঘ্রাণের নূপুর
উথাল পাথাল করে গেছে
আমার আবহমান বিরহপুর…

 

গড়ে যাচ্ছি

ধর্মতত্ত্ব ঈশ্বরতত্ত্ব আরও বিপন্ন তত্ত্বের ভেতর
গড়ে যাচ্ছি
কোথাও আকাশ নেই
বাতাস নেই
অবিশ্বাসের বিষ নীল হয়ে আছে

প্রজনন হারিয়ে যাচ্ছে তীব্র সঙ্গমের কাছে

 

 

রাস্তা
রাস্তা যেমনই হোক লক্ষ্য শুধু হাঁটা
একটি পৃথিবী থেকে অন্য এক পৃথিবীর দিকে
আমাদের ভাষার ভিতরে অন্য এক ভাষা আছে
আমাদের বাঁচার ভিতরে অন্য এক বাঁচা

রাস্তা খুঁজে খুঁজে বনভোজনের মাঠে
একটি শুধু মৃত প্রেম বয়ে নিয়ে গেছি
আমরাই নক্ষত্রের সাইকেলে

 

 

এই দেশের নাগরিক
যেভাবে দোলাচ্ছ জীবন, দোলাও
দুলে দুলে পেরিয়ে যাই একুশ শতক

খাঁচার ভেতর খাঁচা
তার ভেতর এই বাঁচা—
জল দাও রোজ স্বাধীনতার পেয়ালায়

কে যায় ? সংবিধান !
ধর্মনিরপেক্ষ জমি
জমিতে জমিতে ফসল সংশয়

ও ভোটবাক্স, দোলাও জীবন
আমরা গণতন্ত্র খুঁটে খাই ।

 

 

নির্বাসনের হুইসল
প্রেমের রাস্তা খুঁজতে খুঁজতে সন্ধে হয়ে এল
এই অন্ধকারে সব নির্জন গ্রাম্য স্টেশনে
আলো জ্বলে গেছে

কোনটা প্রেমের ট্রেন ? কোন দিকে যাবে ?

কেউই বলতে পারে না –

কোনও কোনও জানালায় কিশোরী রাই
কোনও কোনও জানালায় নিমাই সন্ন্যাসী

স্টেশনেই হয়তো আমার রাত কেটে যাবে
কেউ জিজ্ঞাসা করবে না কুশল
কেউ ভিক্ষা দেবে নাকো প্রেমে অন্ধ ভিখিরিকে
শুধু নির্বাসনের হুইসল বাজবে
ট্রেন চলে যাবে ছেড়ে
দূরে, বহুদূরে…

 

 

রাখাল

আমার অযোগ্যতা প্রমাণ হইল ।
সমস্ত গাঢ়লগুলি বৃক্ষছায়ায় আনিয়া
বিশ্রাম হেতু টুপি খুলিলাম ।
মরুভূমি ধুধু করিতেছে
সমস্ত হৃদয় শুষ্ক হইয়া গিয়াছে ।
বহুদিন বৃষ্টি হয় নাই
কোনও যুবতী ঝরনা কল্ কল্ শব্দে
হাসিয়া উঠে নাই ।
ক্লান্ত প্রাণ লইয়া সারাজীবন
রাখালি করিতেছি ।
এই বিদগ্ধ মাঠে গাঢ়ল চরাইতেছি ।
আমি মানুষ হইলাম না ।
আমি যোগ্য হইলাম না ।
আমি গাঢ়লদের মতো চিৎকার করিয়া
গাঢ়লদের ডাকিতেছি ।
লোকালয় সমাজ সভ্যতা আমাকে
কেহ গ্রহণ করিল না ।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত