Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

ভিটামিন-ডি’র ঘাটতিতে করোনায় মৃত্যু বেশি: গবেষণা

Reading Time: 2 minutes

রোদ গায়ে না-মাখলে, বিপদ কিন্তু আপনার জন্যও অপেক্ষা করে আছে। আপনাকে অকারণে ভয় দেখানোর জন্য, বলা কথা এটা নয়। গবেষণার ইঙ্গিত বাস্তবিকই এই ভয়ানক বার্তা দিচ্ছে। ত্বক বাঁচাতে যাঁরা সূর্যের আলো সচেতন ভাবে এড়িয়ে চলেন, করোনা তাঁদের একবার ছুঁলে, পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

মৃত্যু অনিবার্য– এতটা জোর দিয়ে বলার সময় আসেনি। তবে, এটুকু বলা যায়, করোনা সহজে কাবু করবে আপনাকে। আর একটু ভেঙে বললে, করোনাভাইরাসে মৃত্যুহারের সঙ্গে ভিটামিন-ডি‘র যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন গবেষকেরা। ১০টি দেশ থেকে করোনা রোগীদের বিশদ তথ্য সংগ্রহ করে, তা বিশ্লেষণের পর এই সিদ্ধান্তে তাঁরা পৌঁছেছেন।

ভিটামিন-ডি ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সূর্যালোকে, সোজা কথায়, রোদ থেকে আমাদের ত্বকে ভিটামিন-ডি সংশ্লেষিত হয়। কিন্তু, মুশকিল হল, ত্বক বাঁচাতে অনেকেই গায়ে রোদ লাগাতে চান না। ফলে, শরীরে স্বাভাবিক মাত্রায় যে ভিটামিন-ডি থাকা জরুরি, তা থাকছে না। আর এই ঘাটতিই করোনায় মৃত্যু ডেকে আনছে বলে গবেষকরা দাবি করেছেন।

তাঁদের যুক্তি, ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে ইতালি ও স্পেনের লোকজনের শরীরে ভিটামিন ডি-র মাত্রা খুবই কম। যে কারণে করোনায় এই দু’টি দেশে এত বেশি হারে মৃত্যু হচ্ছে। গবেষকদের কথা অনুযায়ী, কড়া রোদ এড়িয়ে চলায়, এই দেশগুলিতে ত্বকের পিগমেন্টটেশন কমেছে। ফলে, ভিটামিন ডি-র সংশ্লেষ আশানুরূপ হচ্ছে না। শরীরে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকলে, ইমিউনিটি বাড়ে।

এই গবেষণায় জড়িতদের অন্যতম ব্রিটেনের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক লি স্মিথ বলেন, গড় ভিটামিন ডি’র মাত্রার সঙ্গে কোভিড-১৯ কেসের একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমরা খুঁজে পেয়েছি। বিশেষত, করোনায় মৃত্যুহারের সঙ্গে। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, উত্তর ইউরোপের দেশগুলিতে লোকজনের শরীরে ভিটামিন ডি-র গড়মাত্রা ইতালি ও স্পেনের থেকে বেশি। কারণ, সেখানকার লোকজন রোদে বেরোতে দ্বিধা করেন না। আবার কড লিভার ওয়েল, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলির প্রসঙ্গও আসে। যেখানে কোভিড আক্রান্তের হার কম।

গবেষকদের ব্যাখ্যা প্রবীণদের শরীরে ভিটামিন-ডি’র মাত্রা স্বাভাবিক ভাবেই অনেক কম। ফলে, করোনা তাঁদেরই জব্দ করেছে বেশি।

আগের একটি সমীক্ষার উল্লেখ করে বলেন, হাসপাতাল, কেয়ার হোমের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশই ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে মারাত্মক ভুগছেন।

স্মিথের কথায়, এখনও জোর দিয়ে বলার সময় আসেনি, ভিটামিন ডির ঘাটতিই করোনার মৃত্যুহার বাড়ার কারণ। সিদ্ধান্ত পৌঁছনোর আগে আর বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

         

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>