রবার্ট ফ্রস্টের অনুবাদ কবিতা

বাতাস ও জানালায় রাখা ফুল


প্রেমিক-প্রেমিকাগণ,
তোমাদের ভালবাসা ভুলে যাও,
প্রেমের তালিকায় নথিভুক্ত কর যে,
মেয়েটি একটি জানলায় সাজানো ফুল,
ছেলেটি একটি শীতের হাওয়া।

যখন জানলায় লেগে থাকা বরফ
মধ্যাহ্নের রৌদ্রে গোলে যায়
যখন খাঁচার মধ্যে থাকা পাখিটি
একই সুরে গান গাইতে থাকে,
ছেলেটি জানলার কাঁচ দিয়ে
তাকে দেখতেই থাকে, কিন্তু কোনো
সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারে না ।
পাখির খাঁচাটিকে পাশ কাটিয়র চলে যায়,
আবার রাতে ফিরে আসে ।

সে প্রকৃতপক্ষে শীতের একটুকরো বাতাস
বরফ আর তুষার নিয়েই ব্যস্ত
মৃত আগাছা, একলা পাখি ইত্যাদি,
ভালোবাসা খুবই কম জানত ।

কিন্তু সে জানলার শার্সির পাশে
দীর্ঘনিঃশ্বাস জমা রেখে যেত,
জানলার পর্দাকে কাঁপিয়ে যেত,
সাত রাত ধরে সেই হাওয়ার টুকরোটি
সব কিছু নিঃশব্দে দেখে যেত ।

হয়তঃ বাতাসটি ফুলটিকে সাথে নিয়ে
উড়ে যেতে চেয়েছিল,
আগুনের রঙে রাঙানো জানালা আর
শীতে গরম রাখা ঘরটি থেকে ।

কিন্তু ফুলটি একপাশেই সরে রইল,
কোনো কথা বলতে চাইল না ।
সকালে দেখা গেল শীতের হাওয়া
একশত মাইল দূরে উড়ে গেছে ।

 

 

 

Wind and Window Flower 

by Robert Frost

LOVERS, forget your love,
And list to the love of these,
She a window flower,
And he a winter breeze.

When the frosty window veil
Was melted down at noon,
And the cagèd yellow bird
Hung over her in tune,

He marked her through the pane,
He could not help but mark,
And only passed her by,
To come again at dark.

He was a winter wind,
Concerned with ice and snow,
Dead weeds and unmated birds,
And little of love could know.

But he sighed upon the sill,
He gave the sash a shake,
As witness all within
Who lay that night awake.

Perchance he half prevailed
To win her for the flight
From the firelit looking-glass
And warm stove-window light.

But the flower leaned aside
And thought of naught to say,
And morning found the breeze
A hundred miles away. 

 

 

 

কবি পরিচিতি :

একাকীত্ব, বেদনাবোধ, সাংসারিক ও পারিবারিক জীবনের হতাশা যার মাঝে রোপন করেছিল কবিত্বের বীজ, আজীবন প্রকৃতির বিচিত্র নিসর্গে নিজ জীবনের অর্থ ফুটিয়ে তুলেছেন যে কবি, আরো স্পষ্ট করে যদি বলি, ইংরেজী সাহিত্যের সেরা ১০জন কবির তালিকা হলে যার নাম আধিপত্যের সাথে সামনের সাড়িতে থাকবে, তিনি কবি রবার্ট ফ্রস্ট ।

নিউ ইংল্যাণ্ডের ছোট্ট একটি গ্রামে বেড়ে উঠা এ কবি, প্রকৃতির মাঝেই নিজ আবেগ, বেদনাবোধ এবং অতৃপ্তির ছবি একেছেন কবিতার রঙতুলি দিয়ে । লিখেছেন প্যাচপ্যাচে তুষার, জোনাকি, হেমলকের ডাল থেকে খসে পরা বরফ নিয়ে অপূর্ব সব কবিতা । চারবার পুলিৎজার পুরষ্কারপ্রাপ্ত এ কবি, কোন উদ্দীপনায় নিজেকে গড়ে তুলেন কবি হিসেবে, পাঠক হিসেবে তা জানতে ইচ্ছে হয় অনেকেরই । তার এই কবিত্বের পিছনে কি লুকায়িত রয়েছে, কোনো অপ্রাপ্তি নাকি গভীর হতাশাবোধ ।

রবার্ট ফ্রস্টের জন্ম হয়েছিলো সানফ্রানসিসকোয় । ১৮৮৫ সালে ক্ষয়রোগে মৃত্যুবরণ করেন তার বাবা উইলিয়াম ফ্রস্ট । এরপর কিছুদিন তার বাবার সমাধিস্থল তথা লরেন্সে তার দাদা দাদীর বাড়িতে অবস্থান করে, তার মা তাদের নিয়ে আসেন নিউ হ্যাম্পশায়ারে ।

নিউ হ্যাম্পশায়ারে আসার পর ফ্রস্ট আবর্তিত হতে থাকেন ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে । বাবা মায়ের কোলে বেড়ে উঠা আদরের ছোট্ট ছেলেটি কখনো হয়েছেন দিনমজুর, কখনো জুতার দোকানের কর্মচারী কিংবা কখনো কারখানার শ্রমিক । আবার কখনো ঠেলেছেন পশমের ববিন বোঝাই গাড়ি । তবুও থেমে থাকেনি কবির সাহিত্য সাধনা । জীবনসংগ্রাম থেকে প্রাপ্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা চিত্রায়িত করেছেন তার কবিতার অসামান্য লাইনগুলোতে । জীবনের প্রথম দিককার কবিতাগুলোয় ভেসে উঠেছে নিউ হ্যাম্পাশায়ারের পথ, ঘাট, প্রকৃতি । তার কবিতায় ফুটে উঠেছে শরতের পাতা ঝরা রঙ ঝলমলে দিন, গ্রীষ্মের আলোকিত লম্বা দুপুর । আর বসন্তের সন্ধিক্ষণে পরিযায়ী পাখিদের ফিরে আসার গল্প । কবির জীবন ও সাহিত্য, নিঃসন্দেহে আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের দর্শন হিসেবে কাজে লাগতে পারে । জীবনযুদ্ধে জয়ী মহান এ কবির পরলোকগমন হয় ১৯৬৩ সালের ২০ জানুয়ারি ।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত