জলের লিটার ৪৫০ টাকা

শুভাঞ্জন বসু

– এক বোতল জল দেবেন।
– (দোকানদার জলের বোতল দিয়ে) ৪৫০ টাকা।
– আবার পঞ্চাশ টাকা বাড়লো?
– খেয়ে নিন। এটা আগের লটের। নতুন বোতল পাঁচশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জল খেতে অত গায়ে লাগেনি ভদ্রলোকের। যাইহোক নতুন লট তো পাঁচশ’য়। তিনি বেঁচে গেছেন, পরের জন ভুগবে। হা হা হা হা হা

আজ্ঞে না। আপনি আমি আমরা সবাই কেস খেয়েছি। আরো খাবো। আমরা বাংলায় বসে কিস্যু টের পাচ্ছিনা কিন্তু ওদিকে তামিলনাড়ুর অবস্থা জানেন?

অফিস স্কুল বন্ধ। কারণ ফ্লাশ করলে প্রচুর জল নষ্ট তা ছাড়া পানীয় জলের অভাব তো আছেই। সুতরাং না চাইতেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম। নিজের দায়িত্ব নিজে নাও বস।
শপিং মলের বাথরুম বন্ধ।
কিছু কিছু জায়গায় দিনে একবার বহুদূর হেঁটে নিতে হচ্ছে জল। তাও মাত্র এক বালতি। পরের বালতি নিতে গেলে আবার লাইন দিতে হচ্ছে। সেটাও এত সহজে না। কারণ পেছনে প্রায় দুশো জন।

এইবার আরামে ভাবুন সিনটা। গলা শুকিয়ে গেলে আরেক ঢোক জল খেয়ে নিন। আর কয়েক বছরের মধ্যে বাংলায়ও লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হবে। আর এই লাইন কিন্তু ভয়ানক। দুহাজারের নোট নয় যে শুধু পয়সাওয়ালারাই আছে। এই লাইনে ধনী গরিব সিপিয়েম তৃণমূল রিকশাওয়ালা ডিরেক্টার সবাই আছে। সবাই।

পরের বছর দিল্লি ব্যাঙ্গালোর সহ ভারতের ২১টি শহরের এই হালত হবে। তারপরেও গাছ কেটে মেট্রো বসবে, ঝিল বন্ধ করে হাসপাতাল হবে, বড় রাস্তার জন্যে জঙ্গল সাফ হবে। আর আমরা পকেট থেকে রুমাল বার করে বলবো- ‘উফ কি গরম’

স্ট্যাট ফ্যাট দেখতে হবে না। পরিষ্কার বুঝতে পারছেন তো কলকাতার অবস্থা। আজকে সাতশে জুন কিন্তু বৃষ্টি! গরম! হিউমিডিটি!

যেখানে আমেরিকায় প্রতি মানুষের জন্যে গাছের সংখ্যা ৭১৬, ব্রাজিলে ১৪৯৬, কানাডায় ৮৯৫৩, সেখানে ভারতে প্রতি মানুষের জন্যে গাছের সংখ্যা মাত্র ২৮।

সুতারং সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। এতদিন আমরা নেচারের ওপর দাদাগিরি ফলিয়ে এসেছি। এবার নেচার আমাদের নিয়ে ছেলে খেলা শুরু করেছে। তাই একটু একটু করে ভাবা শুরু করুন পরিবেশ নিয়ে।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত