মানচিত্রের মানুষ চন্দনকৃষ্ণ পাল

Reading Time: 2 minutes১ মে কবি ছড়াকার চন্দনকৃষ্ণ পালের জন্মতিথি তে ইরাবতী পরিবার জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।   চন্দনকৃষ্ণ পাল এর তিনটি কবিতা

মানচিত্রের মানুষ-১

(১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাকে মনে রেখে) মানুষের স্রোত বয় বাবু বাজারে বাদামতলী- সদর ঘাটে থালা-বাটি, ভেজা কাঁথা বিষন্ন মুখের লক্ষ নারী পুরুষ যুবা অস্ফুট কান্নায়, হাহাকারে ভরে যায় জগন্নাথ কলেজ, বাওয়ানী একাডেমী শহরের আরো কত বিশাল ভবন। মানুষেরা হাহাকারে মিশে যায় এম্বুলেন্সের ভয়াবহ চিৎকার,কান্না কলকল ছলছল সেই সুন্দর শব্দের রূপান্তর ঘটে ভয়ংকর ভাবে রাস্তায়, ঘরে সর্বত্র। আবার বৃষ্টি নামে, আধভেজা শরীরকে পূর্ণ ভেজায়, করে নিষ্ঠুর খেলা ঐ হিংসুক আকাশ ফুটপাতে আর নয়, আয় কোনো বারান্দায় বসি বলে প্রৌঢ় মাতা তার ষোড়শী মেয়েকে বারান্দায় জ্যান্ত লোভ ষোড়শীর গতরে রাখে চোখ ভয়ে কাঁপে ষোড়শীর প্রাণ। এতো পানি নগরীর প্রতিটি রাস্তায় তবু খাবার পানির হাহাকার, ওয়াসার ট্রাক ঘিরে দীর্ঘ লাইন, মিরপুরে, শ্যামলীতে একফোঁটা খাবার পানিও নেই, তাই সংগ্রামে নেমে যায় হতাশ কিশোর। মতিঝিলের শাপলা হাসে তার সবুগুলো পাপড়ি মেলে, আজ সে স্বার্থক এই রুক্ষ্ম শহরে, পাশ দিয়ে ধেয়ে চলে ডিঙ্গির বহর হাসে শাপলা, বিমর্ষ দাড়িয়ে থাকে বিশাল বিশাল সব ভবনের চূড়ো। পানি গোপীবাগে, গেন্ডারিয়ায়, বাসাবো-মাদারটেকে ডিএনডি বাধখানি এই বুঝি যায় ওড়ে যায়, বিশাল রানওয়েতে পানি ঢেউ খেলে, নেচে নেচে যায়। তিলোত্তমা রাজধানী যদি আজ জলের পোষাকে সাজে তোমরাই বলো তবে আমার মা-বাবা-ভাই-বোন কোটি কোটি গ্রামের মানুষ কোথায় গিয়েছে ভেসে, বলো তারা গিয়েছে কোথায়?

মানচিত্রের মানুষ-২

সব কিছু মাত্র ছেড়ে গেছে, সবচেয়ে বেশী মাত্রা ছেড়েছে মানুষ কান টানলেই মাথা আসার মতো ব্যাপার স্যাপার তাই আনুষাঙ্গিক সব কিছু মানুষের পিছনেই  পোঁ ধওে আছে। রাস্তার মোড়ে, ট্রাফিকের সিগন্যাল কেউ মানে না লাল বাতিকে সবাই থোড়াই কেয়ার করে ট্রাফিকের হাত ওঠে নামে স্বভাবতই জনগন, রিক্সা এবং ঘাতক নামধারী ট্রাকের মিছিল দুমড়ে মুচড়ে সব এগিয়েই যায়। জনতার ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতার গদিতে বসেই বুড়ো আঙ্গুল দেখাই জনতার প্রতি, তাদের বুকের কান্না চোখ দিয়ে ঝরে পড়ে নিজেদের পায়ের কাছেই। বক্ততায়, বিবৃতিতে ফাটিয়ে ফেলি আলো বাতাস এর চেয়ে বড় কোন জন সেবা নেই ক্ষমতায় যাওয়াটাই বড় জনসেবা জনগন বুঝেনা এসব। তাই মাঝে মাঝে মানুষেরা আন্দোলনে নামে পুলিশের ভালোবাসায় রক্তাক্ত হয় আমার প্রিয়বাংলাদেশ।

জীবন যাপন-১

চাই অজস্র বৃষ্টির স্নিগ্ধ পেলবতা পাই কঠিন বাক্যের কঠোর বিন্যাস এই ভাবে থেমে থেমে দুঃখে কষ্টে কাটে আমার সময় আমার জীবন।কাঞ্চনজঙ্গার রূপ দেখবো বলে, কতোবার ছুটে গেছি তেতুলিয়ায় আমি যখনই রাখি চোখ আকাশের নীল সীমানায় কোত্থেকে থেকে ভেসে আসে কুয়াশার রাশি কিংবা কালো মতো দত্যিকার মেঘ। মহানন্দায় গড়ায় জলস্রোত জীবনের মতো, সময়ের মতো আমার জীবন থেমে থাকে অজানা দূর্বোধ্য প্রকোষ্টের অনন্ত গহীনে এ আঁধারে কেউ আজ রাখেনাতো চোখ নিজেদেরে নিয়ে ব্যস্ত সব প্রতিবেশী, এমনই হয় জানি, হয়তোবা মানিও, তবুও বুকের ভেতরে আজ জমে থাকে কি এক অজানা আধার।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>