মানুষ তৈরির কারখানা

 

৩০১৯ সাল
নিউ ইর্য়ক, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতা করছি অনেকদিন হলো। নিউইর্য়ক টাইমসের ফোলোশীপ প্রোগ্রামের আওতায় সাউথ এশিয়া থেকে তিনজন সাংবাদিক নিউইর্য়ক টাইমসের যুক্তরাষ্ট্র অফিসে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হয়েছি আমি। যে সময়টার কথা বলছি সে সময়ে রোবট বানানো অনেকটা পানিভাত। বাংলাদেশের অনেক তরুন-কিশোররাও আজকাল রোবট বানাচ্ছে। বেশ উন্নত প্রযুক্তির রোবট সেগুলো। সেদিন এক কলিগের সাথে কথায় কথায় জানতে পারলাম লস এঞ্জেলসে নাকি মানুষ বানানোর কারখানাও আছে। কারখানায় তৈরি কৃত্রিম মানুষের কাজ কারবারও নাকি আসল মানুষের মতই। স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতাটাই নেই শুধু। ওটা থাকলে যে ব্যবসায় ঘোরতর লোকসান হবে। এই কথা বলে আমরা দুজনেই বেশ অট্ট হাসি দিয়ে উঠলাম। সেদিনের মতো আসর ভাঙ্গলো। রোবট বানানোর কারখানার কথা শুনেছি অনেক, কাজের সুবাদে দেশ বিদেশের অনেক রোবট কারখানায় ঘুরেছিও, তাই বলে কারখানায় জলজ্যান্ত মানুষ বানানোর কথা কখনো শুনিনি। কলিগটি আমাকে বোকা পেয়ে মজা করলো কিনা সেটাই ভাবছিলাম।

এরপর অনেকগুলো দিন কেটে গেছে। স্মৃতি থেকে প্রায় হারিয়ে গিয়েছিলো গেছে কৃত্রিম মানুষ বানানোর কারখানার কথা। অফিসে এসে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে স্বভাবতই মেইল চেক করছিলাম।
একটা মেইলে চোখ আটকে গেল একটা আমন্ত্রণপত্রে !
রবেন অ্যান্ড জোসেফ হিউম্যান মেড ফ্যাক্টরী থেকে। বিশ্বের ৫৭টি দেশ থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সাংবাদিককে ওদের কারখানা ঘুরে দেখতে নিমন্ত্রণ জানিয়েছে কোম্পানীটি। সেই পাঁচজনের মধ্যে একজন ভাগ্যবান আমি। রোবট নিয়ে আমার বিস্তর আগ্রহ, পড়াশোনা। রোবট আর কারখানায় বানানো কৃত্রিম মানুষের তফাৎ বোঝানোর জন্যই এই আমন্ত্রণের হেতু।

মেইলটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলিগের সাথে সেদিনের সেই আলাপচারিতার স্মৃতি আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকলো। আমি আর দেরি করলাম না। দ্রুত ফর্মটি পূরণ করে ফিরতি মেইল পাঠিয়ে দিলাম।

লস এঞ্জেলস এয়ারপোর্ট থেকে সড়ক পথে ঘন্টা দুয়েকের জার্নি। তারপর কাংখিত রবেন অ্যান্ড জোসেফ হিউম্যান মেড ফ্যাক্টরী। গাড়ি ছুটছে সাঁ সাঁ গতিতে। সকালের ফ্লাইট ধরাতে চোখে কিছুটা ঝিমুনি এসে গিয়েছিলো। গাড়ির গতি কমাতে ঝিমুনি ভাঙ্গলো। মহাসড়ক ছেড়ে গাড়ি কারখানার গলি পথে ঢুকেছে। পথের শুরুতেই কাঠের ওপর লাল কালির একটা অ্যারো চিহ্ন দেয়া লেখা ‘রবেন অ্যান্ড জোসেফ হিউম্যান মেড ফ্যাক্টরী’। পৌঁছে গেলাম রবেন আর জোসেফের মানুষ তৈরির কারখানায়। দুরের চিমনী থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে আর দশটা কারখানা থেকে এই মানুষ তৈরির কারখানার পার্থক্য নিরুপন করা কঠিন।
কারখানার পোর্চে আমাদের গাড়িটি পৌঁছুতেই রবেন অ্যান্ড জোসেফ হিউম্যান মেড ফ্যাক্টরীর প্রধান নির্বাহী আলবার্ট রবেন ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা লিলি ব্রাউন আমাদের উষ্ণ আতিথেয়তা জানালেন। অভিবাদন পর্ব শেষে আমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হলাম এবং কুশলাদি বিনিময় করলাম। পরিচয় পর্ব শেষে লিলি ব্রাউন আমাদের একটি ছোট সেমিনার কক্ষে নিয়ে গেলেন। এখানে লিলি ব্রাউন আমাদের রবেন অ্যান্ড জোসেফ হিউম্যান মেড ফ্যাক্টরীর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করবেন এবং প্রশ্নের উত্তর দিবেন।

ব্রিফের শুরুতেই লিলি ব্রাউন নিজের পরিচয় দিলেন। জানালেন তিনি একজন কলম্বিয়ান নাগরিক। হালকা গড়নের কমনীয় চেহারার লিলি ব্রাউনের মুখ থেকে সৌন্দর্য্য যেনো ঠিকরে পড়ছিলো। কমলা কালারের ব্লেজারে ঢাকা পিঠের ওপর দিয়ে আকাঁবাকাঁ স্বনীল সাপের মতো নিচে নেমে গেছে ঘন কালো চুল। ঠোঁটগুলো রঞ্জিত হয়ে আছে ডিপ রেড লিপস্টিকে। লিলির ব্রিফিং জুড়ে কেবল সাফল্যের গল্প। কত বিলিয়ন ডলার টার্নওভার হয়েছে। কত বিলিয়ন ডলার অনলাইন অর্ডার আছে এগুলো এইসব। ভেতরের কোন খবর নেই। শেষে খানিকটা রসিকতা। ‘আমাদের কোম্পানির নাম হিউম্যান মেড ফ্যাক্টরী হলেও আমরা শুধু মেল-ই বানাই। হা হা হা! 

ফ্যাক্টরী ভিজিটের আগে লিলি দুটি শর্ত জুড়ে দিলেন। এক হচ্ছে দুই ঘন্টার ভেতরে ফ্যাক্টরী ভিজিট শেষ করতে হবে। দুই আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে আর কোন প্রশ্ন করা যাবে না। আমরা সানন্দে লিলির শর্ত মেনে নিলাম। অবশ্য এছাড়া আর কোন উপায়ও ছিলো না।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র কৃত্রিম মানুষ উৎপাদনের কারখানায় মানুষ উৎপাদন চলছে। লিলির ব্রিফিং শুনে কারখানায় মানুষ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটা বেশ জটিল বলে মনে হলো। এখানে সব হয় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। আমাজনের গভীর জঙ্গল থেকে চাষীরা রাবার সংগ্রহ করে। সংগৃহীত রাবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করে বানানো হয় তরল প্লাস্টিক। তরল প্লাস্টিক বিশেষ উড়োজাহাজে করে নিয়ে আসা হয় রবেন অ্যান্ড জোসেফ হিউম্যান মেড ফ্যাক্টরীতে। প্রথমে প্লাস্টিকের গলিত চাই থেকে মানুষের শরীর, হাত, পা, নাক, জিহবা, দাঁত লিঙ্গ ইত্যাদি তৈরি করা হয়, তারপর আধুনিক প্রযুক্তির মার্বেল পাথরের চোখ বসানো হয় কোটরে। সবশেষ সেট করা হয় মগজ। মগজ তৈরি ও বসানোর কাজটি করেন আলবার্ট রবেন। দীর্ঘ ৫০ বছর গবেষণার পর আলবার্টের পিতামহ রবার্ট মবেন মানবদেহের মস্তিকের সমতুল্য একটি প্রোগ্রাম আবিস্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আধুনিক বিজ্ঞানের এটি একটি অনন্য আবিষ্কার বলা চলে।
রবেন যখন আমাকে কারখানাটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন তখন আমি দেখছিলাম সংগৃহীত গলিত প্লাস্টিকের চাই একটি ঘরে জমা করে রাখছিলো শ্রমিকরা। সেখানে থেকে লম্বা বেল্টের সার্হায্যে মানবদেহের আকৃতির লোহার ডাইজ এ উত্তপ্ত প্লাটিকগুলো স্বয়ংক্রিয় ভাবে ঢুকে যাচ্ছিল।

মানব দেহের আকৃতি পাওয়ার পর সেখানে মুখ, চোখ ও ঠোঁটের আকৃতি কাটা হচ্ছিল। পরে সেগুলোকে অত্যাধুনিক বড় রেফ্রিজারেটরে শীতলকরা হচ্ছিল। এরপর রবেন আমাকে আরেকটি বড় কক্ষে নিয়ে গেলেন। সেখানে শ্রমিকরা আলাদা আলাদা ভাবে মানুষের হাত, পা, নাক, চোখ, দাঁত, লিঙ্গ এগুলো তৈরি করছিল। পরে তৈরিকৃত অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো মূল যে অবয়ব তার সাথে জোড়া লাগানো হচ্ছিল।
এরপর রবেন আমাকে একটি কাঁচঘেরা দরজার সামনে নিয়ে গেলেন।
জুতা খুলে ভেতরে আসুন
আমি জুতা খুলে ভেতরে ঢুকলাম। কারখানার অন্য ঘরগুলোর তুলনায় এই ঘরটি বেশ ঠান্ডা ও পরিস্কার। ঘরের চারদিকে বেশ কয়েকটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার আছে। প্রোগ্রামাররা মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন।
রবেন আমাকে বললেন এখানেই মস্তিক তৈরি করার কাজটি হয়। এখানে যাদের দেখছেন তাঁরা সবাই প্রোগ্রামার। ওদের সবার কাজ তদারকি করে আমি ফাইনাল আউটপুট দেই।
ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বডি ও ব্রেন তৈরি করে দেয়া হয়। পুরুষ ইঞ্জিনিয়ার আর ডাক্তার ব্রেনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সিক্স প্যাক বডির চাহিদাও কম না। এই কথাটি বলে হো হো হো করে হেসে উঠলেন রবেন। প্রোগ্রামিং রুমের নীরবতার ছেদ ঘটলো খানিকক্ষণ।

কথা বলার ফাঁকে বিস্কুট আর কফি আসলো। কফি খেতে খেতে রবেনের সঙ্গে গল্প করছিলাম। রবেনকে একটি প্রশ্ন করার জন্য অনেকক্ষণ ধরে উসখুশ করছিলাম আমি; যদিও আনুষ্ঠানিক প্রশ্ন করার সুযোগ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। রবেন ব্যাপারটি বুঝতে পেরে আমাকে বললেন।
আপনি বোধহয় কিছু জানতে চান।
আমি বললাম আপনি ঠিক ধরেছেন। একটা প্রশ্ন ছিলো। মানুষ তৈরির কারখানাটি দেখার পর একটি প্রশ্ন আমার মনে বেশ ঘুরপাক খাচ্ছে।
রবেন বললেন করে ফেলুন প্রশ্নটি তবে আর দেরি কেন? রবেন এর অভয় পেয়ে আমিও আর দেরি করলাম না।
এখানে দেখলাম মানুষ তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও ব্যয় সাপেক্ষ অথচ, এর চেয়ে অনেক সহজে নারী-পুরুষ স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে পারে। তাহলে এই কৃত্রিম মানুষগুলো কিনছে কারা?
আমি জানতাম আপনি এই প্রশ্নটিই করবেন। তবে শুনুন… দাদার মুখ থেকে শুনেছি, একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীতে বিশেষ করে এশিয়া ও ভারতীয় উপমহাদেশে আশংকাজনকভাবে নারী নির্যাতন বেড়ে গেল। অবস্থা এত ভয়াবহ হলো যে বাবা মা’রা কন্যা শিশু জন্ম দিতে আতঙ্ক বোধ করা শুরু করলেন। সেই আতংক একসময় ভয়ে রূপ নিলো। ভারতীয় উপমহাদেশসহ গোটা এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে কন্যা শিশু জন্ম দেয়া বন্ধ হয়ে গেল। বাবা মায়েরা আলট্রাসনোগ্রাফিতে কন্যা শিশুর ভ্রুণ দেখলেই আতঙ্কে সেটা নষ্ট করে ফেলতেন। এর প্রভাবটা পড়লো আরও বেশকিছু বছর পর। এশিয়া তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে মানুষের সংকট দেখা দিলো। কাজের জন্য মানুষ চাই। প্রচুর মানুষ! 
সন্তান জন্ম দিতে মেয়ে মানুষ চাই। কিন্তু হায় মানুষ কই। মেয়ে মানুষ কই? জনবহুল হিসেবে পরিচিত অঞ্চলগুলো একসময় বিরানভূমিতে পরিণত হলো।
আমার পিতামহ রর্বাট মবেন সেসময় সবেমাত্র মানবদেহ এবং মস্তিক নিয়ে গবেষণার প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। কারখানায় তৈরি কৃত্রিম মানুষের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবেন বলে ভাবছিলেন। অন্যদিকে সে সময় বিশ্বব্যাপী কারখানায় বানানো কৃত্রিম মানুষের চাহিদা কেমন আছে সেটি তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না। যেহেতু ততদিনে সবাই রোবটে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তবে রোবটের থেকে দাদার উদ্ভাবিত কৃত্রিম মানুষের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। সেটা হচ্ছে রোবটের আবেগ অনুভূতি নেই। কিন্তু দাদার তৈরি করা কৃত্রিম মানুষ নিদিষ্ট প্রোগ্রামের ভেতরে সেট করা আবেগ অনুভূতি শো করতে পারে। কাঁদতে পারে, হাসতে পারে। অপরের দুঃখে দুখী হতে পারে। সান্তনা দিতে পারে। এটাই মূলত রোবট এবং কৃত্রিম মানুষের মূল পার্থক্য।

আমার পিতামহ যখন কারখানার বানানো কৃত্রিম মানুষের বাণিজ্যিক বাজারজাতকরণ নিয়ে চিন্তিত ঠিক তখনই দাদার ব্যবসায়িক পার্টনার জোসেফ আঙ্কেল এশিয়া থেকে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে বেশ কিছু পুরুষ মানুষ তৈরির অর্ডার নিয়ে আসতে শুরু করলেন।

অর্ডার পাওয়ার পর কৃত্রিম মানুষের বাণিজ্যিক উৎপাদন নিয়ে দাদার মনে আর কোন শস্কা থাকলো না। তিনি পুরোদমে কর্মাশিয়াল প্রোডাকশনে গেলেন। এশিয়া ও আফ্রিকার ক্লায়েন্টরা তখন এবং এখনও সেখানে নারী শিশু জন্ম দিতে ভয় পায়। তাই দাদার আমল থেকে শুরু করে এখন অবধি পুরোদমে কৃত্রিম পুরুষ মানুষ বানানোর কাজ চলছে। এশিয়ার দেখাদেখি আফ্রিকা থেকেও অর্ডার আসা শুরু করলো।
এইতো সেই দিনের কথা,একবার এক ক্লায়েন্টের অর্ডার মাফিক লিলি ব্রাউনের আদলে একটি কৃত্রিম নারী মানবী তৈরি করে এশিয়াতে পাঠালাম। পরে শুনলাম সেই মানবী নাকি সেখানে ছয় মাসও টিকতে পারেনি। কৃত্রিম নারীটিকেও নাকি তাঁরা রেহাই দেয়নি। ছিঁড়ে খুঁড়ে শেষ করে দিয়েছে। এরপর থেকে আমাদের কারখানাতে আর কৃত্রিম নারী তৈরি করি না।

নিজের তৈরি কৃত্রিম নারী মানবীর শেষ পরিণতির কথা বলতে গিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরটিতেও রবেনের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমলো। পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাম মুছলেন তিনি। পানি খেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হলেন। আমার কারখানায় অবস্থান করার নির্ধারিত সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছিলো। রবেন উত্তর দেয়ার খোশ মেজাজে আছেন দেখে আমিও সাহস করে দ্বিতীয় প্রশ্নটি করলাম।
কন্যা শিশুর নিরাপত্তাহীনতা থেকে সৃষ্ট সংকটই কী কৃত্রিম মানুষের চাহিদার বাড়ার মূল কারন বলে আপনি মনে করেন?
কিছুক্ষণ নিরব থেকে রবেন বলতে শুরু করলেন, ঠিক সেটা না। এর পেছনে অন্য একটা কারনও কাজ করেছে। একবিংশ শতাব্দীর মাঝের সময়টা ছিলো চর্তুথ শিল্প বিপ্লবের একদম শুরুর সময়। বাবা মায়েরা তাঁদের ক্যারিয়ার নিয়ে এত বেশি সচেতন হয়ে পড়লেন যে সন্তান জন্মদান ও লালন পালন তাঁদের কাছে বাড়তি বোঝা মনে হতে লাগলো তাই খরচা বেশি হলেও সন্তান লালন পালনের ঝামেলা ও দায় দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা কারখানায় উৎপাদিত রেডিমেড মানুষের প্রতি বেশি আগ্রহী হলেন।
রবেনের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে লিলি ঢুকলেন ঘরে। স্মিত হাসি দিয়ে জানালেন আমার ফ্যাক্টরী ভিজিটের নির্ধারিত সময় শেষ। বাইরে গাড়ি অপেক্ষা করছে। সারা গায়ে ঘামের অস্তিত্ব নিয়ে টলতে টলতে বাইরে বেরিয়ে এলাম গাড়িতে বসে চোখ বন্ধ করে দুহাতে মাথা চেপে ধরে মনকে বললাম এ কেবলি স্বপ্ন! সাঁই সাঁই করে গাড়ি ছুটছে লাগলো মানুষ তৈরির কারখানা পেছনে ফেলে।

 

প্রচ্ছদ : নাওয়াজ মারজান

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত