মাতালপাখি

 

একটা পুরো নদী আমি দেখতে পেলাম না
একটা পুরো মানুষ আমি কাছে পেলাম না
চাঁদ
সমুদ্র
হাওয়া
কোনোটাই আমি পুরোপুরিভাবে দেখতে পারিনি
একটা গোটা পাহাড়ের মধ্যে আমি প্রবেশ করতে পারিনি
চাঁদের স্তনে পোড়া রুটির গতর খোলা দেখি
সমুদ্রের পানসে আগুন নিয়ে এক ঝাঁক পাখি
ভালোবাসা দেবে বলে ডানা ঝাপটা দিয়ে করছে ডাকাডাকি
কখনো একটা রাতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম না
অথচ আমার দিন ঠায় বসে থাকে তোমার অপেক্ষায়
মাছের পিঠের মতো তোমার বুকের ঢেউ
রাতের জলে ছলছল করে ওঠে
আমি শইল মাছের মতো নড়েচড়ে উঠি
আমার হাতের মুঠোয় তড়পাতে থাকে কাত হয়ে যাওয়া যৌবনের মুঠি
ধানের গন্ধ ফোঁস ফোঁস করে উঠত সাপের মতো
জমির আইলে উড়েছিলাম দুজন পাখির মতো
পুড়িয়ে দেব সমস্ত ঋণের স্মৃতি
বুকের ভেতরে খুঁজি দেশলাইকাঠি
তুমি অন্ধকার হয় যাওয়ার পরে
আমার জীবনের মুখে পড়েছে কোদাল কোদাল মাটি।
তোমার কবর থেকে ভেসে আসে গিটারের নীল সুর
আমি বিশ্বাস করি না, তুমি যেতে পেরেছ বেশি দূর।
তোমাকে পড়তে না পারা স্কুল আজ অন্ধ
মনে মনে দেখা করার সমস্ত পথ করে হয়েছে বন্ধ
তুমি আছ
জল
পাখি
ঘাস?
মনের বন্দর ছেড়ে যাওয়া চাঁদ আজ তোমার কোথায় বসবাস?
পায়ের জীবন মরা, চাঁদ অন্ধ, আকাশের মেঘ মরা
এ ভুবনে আলো নেই, তোমাকে হয়নি আমার পড়া।
তুমি প্রেম
গাছের পেয়ারা
তোমাকে ঠুকরে খেয়েছে মাতালপাখি।

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত