মুজিবের গলার আওয়াজ

শোক থেকে নেমে শস্যের কাছে যাই
ইরি ধানে সমূলে বাঁচি অধীর পাঁজর-

যে কোনও জলোচ্ছ্বাস প্রাণঘাতী নয়;
গেটে এসে মারণাস্ত্রের নল, কান পেতে শোনে
তিলাওয়াত কার! শোনে বেয়নেট!

বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে চাপাতি-কিরিচ
উঁচিয়ে ধরেছে যে, কে সে?

তড়িঘড়ি নামি ফসলের জলে;
হারানো ঘুমের তলে, মেঘডুবুরি মনের অসুখ
খুলে দেয় ক্ষতের সেলাই- সেখানে গল্পের মতো টানটান হয়ে শুয়ে আছে ইতিহাস। ফিরে পাই ফসলে ডোবানো পথের খসড়া। ফিরে পাই, পিতার চাহনী-চিবুক-তর্জনীভাষ্যকে, নাকি ভ্রম, নাকি দিকে দিকে ওড়ে মরীচিকা আর ধাঁধার শরীরি?
স্বপ্ন হতে চেয়ে যে মানবিক ক্রু, আড়াল হল শতাব্দি-ক্রন্দনে;

এরপর ডাকে ধানমন্ডির ঘর
হাত নেড়ে ডাকে বাঙালির বুকে
নিড়ানি-তাড়না দেয়া শেখ মুজিবের মুখ!

আমিও তাঁহার অভ্যুদয়ের কৃষক প্রতিভূ-
আমরা সকলে কাটা পড়া ঘুড়ি, আমরা ক’জনে
কার্ফ্যুর দিকে শুনি মুজিবের গলার আওয়াজ, আজো!
অঞ্জলি নাকি ভ্রম? ড্রিল মেশিনে লটকে রাখি দেয়ালিকাময়
তাঁকে!

যে কোনও জলোচ্ছ্বাস, চিলের পাখায় করে উড়ে উড়ে
ভেসে আমাদের ত্বকের গভীরে এসে, তুলে নিক দেয়াল নামক বিভেদের আয়োজন!

তারপর বাংলাদেশ! তারপর, মুজিবের লাশে
আছাড়ি পিছাড়ি মানচিত্রের হাঁটা!

শোক থেকে নেমে আসে পনেরো আগস্ট ফিরে;
নেমে আসে যুদ্ধকালীন বেতারগীতির সুর!

এইভাবে অঙ্গার হলো বুক, ছাড়খার হলো নীতি ও নিদান
যতো- অথচ, এই পথে পড়ে জোড়া কামিনীর ঝার
দুপুরবেলার ছায়া পেয়ে বসে হ্যাংলা দোয়েল;

আর, আমি কোনো শোকের মিটিংয়ে যাবো বলে একটু থামি; হেসে খেলে জুতার কাদায় সাফ করে নিই সাম্প্রদায়িক কাঁটা!

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত