| 1 মার্চ 2024
Categories
সময়ের ডায়েরি

ছেড়ে যাওয়া দেশ, বাড়িঘর এবং দেশভাগের গল্প

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

ইশতিয়াক আলম

 

রচনার সূচনা বা বলা ভালো এই লেখাটি লিখতে উসকে দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল হাই তাঁর ‘কোলকাতা রানাঘাট’ শিরোনামে একটি ফেসবুক পোস্টিং দিয়ে। যেখানে তিনি একটি গ্রুপ ছবি দেখিয়ে রানাঘাট থানার ওসিকে বলছেন, এই যে আমার বাবা ১৯৪৪ সালে তিনি এই থানায় ওসি ছিলেন।
সরাসরি এমন নয়, তবে দেশভাগ নিয়ে আমার কিছু স্মৃতি আছে। তবে দেশভাগের সময় আমার যা বয়স তাতে আমার স্মৃতি থাকা কোনো মতেই সম্ভব নয়। ওই সময়ে আমার যে স্মৃতি তা বাবা-মার কাছ থেকে বারবার শুনে শুনে মনে স্থায়ী হওয়া স্মৃতি।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের দু-একদিন আগে বা পরের ঘটনা। আব্বার তখন পোস্টিং কলকাতার কাছে নৈহাটিতে, স্টেশন মাস্টার ছিলেন, ঠিক স্টেশন মাস্টার নয়, এএসএম বা অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন মাস্টার। তবে উপরে আর কেউ ছিল না তাই স্টেশন মাস্টার হিসেবে পরিচিত হতেন।
যেদিনের কথা সেদিন তিনি স্টেশনে গেছেন নিয়মমাফিক ডিউটিতে। মা বাসায় ছিলেন। দশটা-এগারোটার দিকে আব্বা ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে বাসায় এসে মাকে তাড়া দেন, জলদি করো পাকিস্তান যেতে হবে।
গত ক’বছর পাকিস্তান কথাটার খুব চল হয়েছে। মায়ের তা জানা আছে। কিন্তু সেটা কোথায় বা কী তা ভালোভাবে জানেন না। তাই জিজ্ঞেস করেন, পাকিস্তান, সেটা কোথায়?
: আমাদের দেশ কুষ্টিয়া, সেটাতো পাকিস্তানে পড়েছে।
যা হোক কথা বলার সময় তখন নয়। তরকারি রান্না হয়েছিল তা ঢেকে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে বাসা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। দোতলা রেল কোয়ার্টার স্টেশনের কাছেই, সিগন্যাল পোস্টের পাশে।
ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় আব্বার সঙ্গে আগ্রা-আজমির যাওয়ার সময় আব্বা ট্রেন থেকে আমাকে সেই দোতলা বাসা দেখিয়েছিলেন। আমি পরে দেখিয়েছি আমার স্ত্রী ও ছেলেদের।
আমারা যে ট্রেনে পাকিস্তানে আসব তা স্টেশনে দাঁড়ানো ছিল। প্ল্যাটফর্মে মানুষ গিজগিজ করছে। এতই মানুষ যে, পা রাখারও জায়গা নেই। ট্রেনের হ্যান্ডেলেও জায়গা নেই হাত রাখার।
স্টেশনে এসে সেই ভিড়ের মধ্যে আমার ইমিডিয়েট বড় বোনকে কোলে নিয়ে আব্বা ভিড়ের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েছেন। আমি মায়ের কোলে, প্ল্যাটফর্মে। ট্রেন হুইসিল দিয়ে ছেড়ে দেয়। মা ট্রেনে উঠতে না পেরে দাঁড়িয়ে। মা বা আব্বার মনের অবস্থা কী জানি না। মানে এ ঘটনা বলার সময় তারা বলেননি। ট্রেন ছেড়ে খুব সামান্যই এগোতে পারে। এর মধ্যে শোনা যায় চেন টানার জন্য হুইসিল। থেমে যায় ট্রেন। প্ল্যাটফর্মের কুলি বা স্টাফদের হয়তো এর মধ্যে চোখে পড়েছে, তারাই কাছে এসে মাকে উঠিয়ে দেয় ট্রেনের কামরায়। সেই ট্রেন দর্শনা হয়ে কুষ্টিয়া পৌঁছে যায়। স্টেশনের মাথায় উড়ছিল পতাকা, আব্বা মাকে সেটা দেখিয়ে বলেছিলেন, ওই দ্যাখো আমাদের পাকিস্তান !
খুশবন্ত সিং-এর উপন্যাস ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ এবং রিচার্ড অ্যাটেনবরোর সিনেমা ‘গান্ধী’তে দেশভাগের সময় উদ্বাস্তুদের দেশত্যাগের অমানুষিক কষ্ট-নির্যাতন-অনিশ্চয়তা এবং মেয়েদের অবর্ণনীয় অবমাননার বিবরণ পড়া আছে। আমাদের সেদিন নৈহাটি স্টেশনে ট্রেনে উঠতে না পারা, আমাকে কোলে নিয়ে আমার মায়ের অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার কথা চিন্তা করে ভয়ে শিউরে উঠি, যদি সেদিন ট্রেন না থামতো তবে কী হতো আমাদের?
ভাগ্যিস ছেড়ে যাওয়া ট্রেন চেন টেনে থামানো হয়েছিল। আর আমি মায়ের কোলে চড়ে চলে এসেছিলাম সাধের পাকিস্তানে।
২.
পরের স্মৃতি খুলনার। ১৯৫৩ সালের শেষ বা ১৯৫৪ সালের প্রথম দিকের, একদিন খুলনা স্টেশনে এসে চমকে উঠি। এত লোক- শত শত নয়, হাজার হাজার। স্টেশন ঘরের সামনের বারান্দা, শেডের নিচে ও বাইরে প্ল্যাটফর্মে শুধু মানুষ আর মানুষ, শুয়ে-বসে-দাঁড়িয়ে।
আমার আব্বা তখন ট্রেন কন্ট্রোলার, তার অফিস স্টেশনের একসার ঘরের এক রুমে। আমাদের রেলকোয়ার্টার স্টেশনের কাছে। পড়ি সম্ভবত ক্লাস টুতে। মাঝে মাঝে সামান্য পথ হেঁটে আব্বার কাছে আফিসে যাই। নিমকি-রসগোল্লা বা সাতক্ষীরার গুড়াসন্দেশ খেয়ে তবে বাসায় আসি। সেদিনও হয়তো এই লোভেই তার কাছে যাওয়া। কিন্তু স্টেশনে মানুষের ভিড় দেখে ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। মানুষের গা বাঁচিয়ে কোনো রকমে আব্বার রুমে যেতে পারি। তার কাছে কোনো কিছু জানতে চাইলে তিনি চমৎকার করে বুঝিয়ে বলতেন। সেদিনও তাই জানালেন।
ব্রিটিশরা চলে গেলে, উপমহাদেশ স্বাধীনতা পায় ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দুটি আলাদা দেশ নাম নিয়ে। ১৯৫৩ সালের শেষে পাসপোর্ট প্রবর্তিত হলে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে লাগবে পাসপোর্ট ও ভিসা। যে দেশের নাগরিক সেই দেশের বৈধ পরিচয়পত্র হচ্ছে- সেই দেশের পাসপোর্ট এবং ভিসা হচ্ছে যে দেশে যাবে সেই দেশের সরকারের বৈধ অনুমতিপত্র।
সাধারণ মানুষের কাছে পাসপোর্ট একটা আতঙ্কের নাম হয়ে নানা গুজব চালু হয়। পাসপোর্ট করলে সে এদেশের মানে পাকিস্তানের মানুষ হয়ে যাবে। ভারতে বেড়াতে যেতে পারবে, কিন্তু গিয়ে ফিরে আসতে হবে। তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাসপোট-টাসপোর্ট না করে একেবারে ভারতে চলে যেতে চায়। খুলনা-বরিশাল এসব জেলায় এত হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ বাস করে যে, কলকাতা যাওয়ার ট্রেন ধরার জন্য এই উপচে পড়া ভিড় জমেছে খুলনা স্টেশনে। এক ট্রেনে সর্বোচ্চ হাজার খানেক লোক যেতে পারে। অথচ যাওয়ার যাত্রী হাজার হাজার। তাই খুলনা-বরিশালের অজস্ট্র মানুষ কলকাতা যাওয়ার ট্রেন ধরার জন্য এসে জমেছে খুলনা স্টেশনে। তখনও সড়ক বা বিকল্প যাতায়াত পথ চালু হয়নি।
একজনের দেখাদেখি ঘর-বাড়ি, গোয়ালঘরের গরু-ছাগল, পুকুরের মাছ, বাড়ির আসবাবপত্র সব ফেলে বা খুব অল্প দামে কোনো রকমে কাউকে গছিয়ে দিয়ে বা যারা তাও পারেনি তারা প্রতিবেশীর কাছে তাদের দয়ার ওপর ছেড়ে দিয়ে অনিশ্চয়তার পথে নেমেছে।
ওই সময় বেশ সস্তা দামে হিন্দুদের আসবাবপত্র বিক্রি হচ্ছিল। আমার আব্বা এই সময় মেহগনি কাঠের একটা আলমারি ও একটা খাট কিনেছিল। আমার দ্বিতীয় স্মৃতি এটুকুই।
৩.
এর পরের স্মৃতি প্রবাদের সত্যতাকে প্রমাণ করে: Truith is stranger than fiction.

এবারের ঘটনার যবনিকা উন্মোচিত হয় চলিল্গশ বছর পরে। তখন আমার কর্মস্থল সুনামগঞ্জ। সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
স্বাধীন একটা পেশা শুরুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কলকাতা-দিল্লি যেতে হয় মাঝে মাঝে। ভারতে আমাদের কোনো আত্মীয় নেই, নেই চেনা-জানা কেউ। না থাকলেও কমল চন্দ্র চৌধুরী নামের একজন বিমানবাহিনীর অবসর প্রাপ্তকর্মকর্তার সঙ্গে এক দিনের পরিচয় এমনই গাঢ় ঘনিষ্ঠতা হয়েছে যা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের চেয়েও বেশি। আমাদের দুই ছেলে পড়াশোনার জন্য বিদেশে, বাসায় স্বামী-স্ত্রী এই দু’জন। তাই কলকাতা-দিল্লি বা ইউরোপ যেখানেই যাই সঙ্গী হয় স্ত্রী। কলকাতা গেলে কমলদার জন্য হোটেলে উঠতে পারি না, উঠতে হতো দমদমের নতুন পাড়ায় ২৩২ নগেন্দ্র দত্ত রোডে তাদের দোতলা বাড়িতে। আমার ডিস্ক প্রলাপ্স এবং আমার স্ত্রীর হার্ট বাইপাস অপারেশনের সময় কমল বাবু এবং তার স্ত্রী যে সেবা দিয়েছেন তা অতি নিকটজনও দেবেন কিনা সন্দেহ।
কমল বাবুদের যত আত্মীয় আছেন কলকাতা ও তার আশপাশে, অল্পক্ষণের জন্য হলেও সব জায়গায় নিয়ে গেছেন।
কমল বাবুর স্ত্রীর বাবা ঢাকার মানুষ, ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয়ের মূল মালিক। জগন্নাথ কলেজের পুরোনো গেটের ঠিক উল্টো দিকের বাড়িতে তারা থাকতেন। সে বাড়ির বাংলাদেশি মালিকের বাড়িতে তাদের আমি নিয়ে গিয়েছিলাম। একবার কমল বাবুর স্ত্রীর বড়ভাই তাদের বাড়িতে স্বর্গীয় পিতার মৃত্যু দিবসের স্মরণ সভায় আমন্ত্রণ করেছিলেন। এখানে ওনাদের বাসায় এক ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন, আপনি খুলনা চেনেন?
বললাম, হ্যাঁ। আমার খুব ছোটবেলা কেটেছে খুলনায়, সরকারি চাকরিতে আমার প্রথম পোস্টিং ছিল খুলনায়। তিনি জানালেন, তাদের বাড়ি ছিল খুলনায়। আমার ছোট বেলা কেটেছে খুলনায়। যেবার পাসপোর্ট চালু হলো সেবার আমরা চলে আসি।
আমি বললাম, ওই সময় যারা চলে আসে তারা তাদের জিনিসপত্র খুব সস্তায় বিক্রি করে আসেন। আমার আব্বাও ওই সময় একটা মেহগনি কাঠের আলমারি ও একটা পালঙ্ক কিনেছিলেন।
তিনি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সে কথা মনে আছে?
: না সব মনে থাকবে কেমন করে। আমি তখন ক্লাস টুতে পড়ি। শুধু মনে আছে ওই দুটো পুরোনো ফার্নিচার খুলনা থেকে সস্তায় কেনা হয়েছিল।

সেদিন আর বেশি কথা বলার সুযোগ হয় না। পরদিন সকালে ওনার টেলিফোন পাই, :ইশতিয়াক সাহেব আমাদের বাড়িতে একাবার আসতে পারবেন?
: কেন? জানতে চাইলে বলেন-
: আমার বাবা এখনও বেঁচে আছেন, কিন্তু শয্যাশায়ী। তাকে গত কাল আপনার সঙ্গে পরিচয় এবং ফার্নিচার ক্রয়ের কথা বলায় তিনি খুব উত্তেজিত। আপনাকে একবার দেখতে চেয়েছেন। হয়তো ফেলে আসা খুলনার কথা জানতে চাইবেন।
আমি তো মানুষের সাথে মিশতে চাই। তাদের জানতে চাই।

সম্মতি জানাতে তিনি বললেন, আমি গিয়ে আপনাকে নিয়ে আসব। আমি জানলাম, আপনার আসা লাগবে না। ঠিকানা এবং যাওয়ার হদিস দেন। আমি ঠিক পৌঁছে যাব।
সব শুনে কমলবাবু আমাকে একা ছাড়লেন না। তাদের বাড়িতে দুটো গাড়ি, একটি ছেলেদের স্কুলের, অন্যটা ডাক্তার ছেলের ব্যবহারের। কমলবাবু কথা বলে ছেলের গাড়িটা ফ্রি করে আমাকে নিয়ে বেরোলেন। আমাদের যেতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গেল। যাওয়ার পর বৃদ্ধ ভদ্রলোক বিছানা থেকে উঠে বসে প্রথম যে কথাটা বললেন, তা হচ্ছে- আপনার বাবা পালঙ্ক ও আলমারি আমার কাছ থেকেই কিনেছিলেন। যতদূর আমার মনে আছে উনি খুলনার একজন রেল অফিসার ছিলেন। উনি কেনার সময় সাইকেলে ওনার ছোট ছেলেকে সঙ্গে এনেছিলেন।
আমি তাদের বিস্মিত করে বললাম, সেই ছোট ছেলেই আমি। উনি কষ্ট করে উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি জানালাম, ১৯৭১ সালে আমরা ছিলাম পাকশীতে, মিলিটারি ও বিহারিরা আমাদের রেলওয়ে বাংলো পুড়িয়ে দিয়েছিল; কিন্তু আশ্চর্যের কথা আমাদের ঘরের একদিক ছিল ওই আলমারি ও পালঙ্কটি ও দুটো পোড়েনি। এখনও আমাদের কুমারখালী শহরের বাড়িতেই আছে।

তার স্ত্রী মারা গেছেন, বিধবা মেয়ে তার কাছে থাকে, তাকে ছেলে, ছেলের বউকে ডেকে উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে সব জানালেন।
আমি চেয়ার টেনে তার পাশ ঘেঁষে বসেছিলাম। আর তিনি যতক্ষণ আমি সে বাড়িতে ছিলাম আমার হাত জড়িয়ে ধরেছিলেন।
সেই যে পাসপোর্ট চালু হওয়ার সময় এসেছিলেন, তারপর আর যাওয়া হয়নি। তার খুব ইচ্ছা একবার দেশে গিয়ে পিতৃভূমি দেখে আসার। যাদের দখলেই থাকুক নিজেদের বাড়িটা একবার দেখে আসার খুব ইচ্ছা। কিন্তু যাওয়া হয়নি উদ্বাস্তু জীবনে থিতু হওয়ার সংগ্রামে এবং ফেলে আসা দেশের সত্য-মিথ্যা নানা ভয় ধরানো কথায়।
আমি তাঁকে আমন্ত্রণ জানালাম- একবার বাংলাদেশে ঘুরে যাওয়ার জন্য। বললাম, খুলনা আমার খুব চেনাজানা। গেলে খুলনায় আমি তার সঙ্গী হব এও জানালাম। আমার তখনকার কর্মস্থল সুনামগঞ্জ, সেখানেও যেতে আমন্ত্রণ জানালাম। এদিকার অবস্থা কেমন জানতে চাইলে বললাম, ভালো কোনো অসুবিধা নেই।
কমলবাবু দু’বার ঘুরে গেছেন বাংলাদেশ। আমাদের বাসায়ও থেকেছেন। তিনি জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা। সব শুনে তিনি খুব উৎসাহী হলেন। বললেন, যাবেন, নিশ্চই যাবেন। চলাফেরায় কিছু কষ্ট হলেও যাবেন।
বড় ছেলে বলল, সেও যাবে। বাবাকে সে দেখেশুনে রাখবে।
চলে আসার আগে হাত ধরে বললেন, পিতৃভূমি বাড়িঘর সব ছেড়েছুড়ে চলে আসতে বুকভাঙা কষ্ট হয়েছিল। দোষ দিয়েছিলাম ওদেশের মানুষদের। এখন দেখছি সব দেশের সাধারণ মানুষই ভালো, দোষ আমাদের অবিমৃষ্যকারী নেতাদের। দেশের মানুষের মন তারা বুঝতে পারেনি বা বুঝতে চায়নি।
আমার স্কুলের ছাত্র থাকার সময় ‘কালো ভ্রমর’ পড়ে মুগ্ধ পাঠক হিসেবে চিঠি লিখেছিলাম। তার উত্তরে লেখক ডা. নীহাররঞ্জন গুপ্ত পোস্টকার্ডে লিখেছিলেন, ‘রাজনৈতিক ছুরিকাঘাতে দেশ বিভক্ত হলেও সাত কোটি বাঙ্গালীর মন যে বিভক্ত হয়নি তার প্রমাণ পাই যখন তোমরা ভালোবাসা জানাও, শ্রদ্ধা জানাও।’
এই চিঠির কথা জানালাম বিদায়ের সময়ে, তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, লেখকরা জানে সাধারণ মানুষের মনের কথা, তাই তারা লিখতে পারেন।

তিনি আমার আমন্ত্রণ রক্ষা করতে পারেননি। ছেড়ে যাওয়া দেশ, বাড়িঘর এবং সেই আলমারি-পালঙ্ক আর দেখতে পারেননি।

 

 

 

কৃতজ্ঞতা: সমকাল

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত