মুভি রিভিউ: দ্য পার্সেল

অভিনেতা:

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত,শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়,অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়

পরিচালক: ইন্দ্রাশিস আচার্য্য

ছবির ধরন:Bengali, Thriller

সময়সীমা:2 Hrs 3 Min


ভাস্বতী ঘোষ

দর্শককে ভাবাবেন ইন্দ্রাশিস

পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্য্যর ছবি নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। ‘পার্সেল’ ছবির আগে ইন্দ্রাশিস পরিচালনা করেছেন ‘বিলু রাক্ষস’ আর ‘পিউপা’। টলিউডের পরিচালক আর সমালোচক মহলে, এ সব ছবির জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তাই প্রশ্নটা হল, আগের দুই ছবির তুলনায় ‘পার্সেল’ কতটা এগিয়ে?

এগিয়ে নেই। বরং কিছুটা পিছিয়ে। চিত্রনাট্যের বুনোট, চিত্রগ্রহণ বা সম্পাদনা, এ সব নিরিখে। তা হলে ‘পার্সেল’ দেখবেন কেন?

কারণ গল্পটা প্রাসঙ্গিক। আজকাল এক ছাদের তলায় থাকা বর-বউয়ের মধ্যে যে লুকোচুরি চলে, তার দিকে আয়না তাক করেছেন ইন্দ্রাশিস। এই লুকোচুরিগুলো আমি বা আপনি অনুভব করতে পারি, কিন্তু তা নিয়ে ঝেড়ে কাশি না। কেন? কারণ বিবেক শব্দটা আমাদের অভিধান থেকে ক্রমশ উবে যাচ্ছে। ঠিক যেমনভাবে একজন চিকিৎসকের যে সম্মান প্রাপ্য, তা-ও উবে যাচ্ছে। রোগী না বাঁচলে এখন চিকিৎসককে কয়েক ঘা দিতে পিছপা হন না সমাজের একাংশ। কিন্তু সে কতটা দোষী, তা খতিয়ে দেখবে কে?

একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত জীবন আর পেশাগত জীবনের এমন দুই ক্রাইসিসের প্রেক্ষাপটে গল্প সাজিয়েছেন ইন্দ্রাশিস।

ছবিতে ঋতুপর্ণা যে চরিত্র করেছেন, সে একজন ডাক্তার। তার বর শাশ্বতও ডাক্তার। হঠাৎ একদিন ঋতুপর্ণার কাছে পার্সেল আসতে শুরু করে। কে পাঠাচ্ছে পার্সেল, খুঁজতে হয়রান হয়ে যায় সে। এরপর কী হবে? তা জানতে হলে ছবির ক্লাইম্যাক্সে চোখ রাখতে হবে। ঋতুপর্ণাকে নো মেকআপ লুকে ছবিতে দেখতে বেশ লেগেছে। চরিত্রটিকেও রক্ত মাংসের করে তুলেছেন তিনি। তবে এমন একটা দৃশ্য, যে দৃশ্যের ঋতুপর্ণাকে আজীবন মনে রাখব, সেরকম চোখে পড়ল না। শাশ্বত যথাযথ। শ্রীলা মজুমদারের মতো অভিনেত্রী অবশ্য এ ছবিতে কিছু করার সুযোগ পেলেন না।

কিন্তু একটি দৃশ্যে শ্রীলার চোখ দিয়ে যে জল গড়িয়ে পড়ে, সেটা ভাবায়। চিত্রনাট্য জুড়ে আয়না তাক করে এতরকম প্রশ্ন ছুঁড়েছেন ইন্দ্রাশিস, যে কেউ অনেকটা ভাববেন। কেউ সামান্য ভাববেন। কিন্তু ভাবতে বাধ্য হবেন। কে না জানে, ‘সিনেমা’র সার্থকতা সেখানেই।

ইন্দ্রাশিস এমন একটা বাংলা ছবি বানাতে পারতেন, যেটা মেগাসিরিয়ালের এপিসোড। আসুন, বসুন, শাশুড়ি-বৌমার ঝগড়া উপভোগ করুন, ভুলে যান। সে ফমুর্লায় ছবিকে ফেললে সিনেমাহলে দর্শক টানতে হয়তো সুবিধে হত। কিন্তু ইন্দ্রাশিস লম্বা সময়ের কথা ভেবেছেন। আর সে কারণেই দর্শককে ভাবাতে চেয়েছেন। এই প্রচেষ্টার জন্য তাঁর সাধুবাদ প্রাপ্য বৈকি!

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত