মাধব রাইর গুপ্তধন (পর্ব-৪)

গত সপ্তাহের পরে…

 

পুনম রাজ্যের রোমহর্ষক খবর যোগাড় করে আনে রোজ ।ওর মনে হয় ওরা মেয়েরা মানে বউয়েরা ভারি বঞ্চিত ।

বরেরা কেমন কাজের জন্যে সক্কাল সক্কাল সেজে গুজে বউয়ের হাতের ভালো মন্দ রান্না খেয়ে চকচকে আলোর

মধ্যে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে টাটা করে দিয়ে ।

আহা রাস্তা ! কত রকম লোক । কত রকম জামাকাপড় সাজগোজ , কত কত গলার রকমারি আওয়াজ , কথা

বলার ভঙ্গী ।

এ সবই শুধু কেজো পুরুষ মানুষদের জন্যে ?

কি অন্যায় , কি অন্যায় !

ঘোর ষড়যন্ত্র !

তার প্রানসখী , প্রানের পারো , অনেক বোঝায় পুনমকে ।

“ওরে , কেউ আরাম করতে বেরোয় না । কি যুদ্ধ করে পয়সা রোজগার করে বাড়ির লোক , তবে তো আমরা

আল্লাদের সংগে ঘর গোছাই , সখের রান্নার রেসিপি ট্রাই করি ।

এই ধুলো রোদ ভীড়ের মধ্যে গুঁতোগুঁতি থেকে কত কষ্ট করে ওরা আড়ালে রাখে আমাদের । “

কে শোনে কার কথা । পুনম সর্দারনি পঞ্জাবন হররোজ গাল ফোলায় ।

“ধুর ধুর , আমরা কি খাঁচায় পুষে রাখা চিড়িয়া ? দানাপানি খেয়ে সেফ কুঠরিতে বসে থাকি ? উফফ । পারো , কি

করে এমন মিঠী মিঠী বাত করিস ?

না না , আমি ঝাঁসির রানির মত লড়তে চাই , পুনেওয়ালি মস্তানির মত ঘোড়া ছুটিয়ে চলে যেতে চাই —-“

আরও অনেক চাইইই বলা ডায়ালগদের পারমিতা তাড়াতাড়ি ঘিয়ের গন্ধ ভরপুর লাড্ডু , ঝুরি ভাজা আর আহহ গন্ধের

দার্জিলিং চায়ের সুন্দর কাপ এনে বন্ধ করে ।

তারপর আদ্ধেক দুপুর গড়িয়ে হ্যা হ্যা করে দুই বন্ধু ।

পারমিতা আর পুনম ।

পুনম সেদিন ইংরেজি খবরের কাগজখানা পাকিয়ে নিয়ে ডান হাতে উঁচু করে নাড়াতে নাড়াতে পারমিতাদের ঘরে

এসে ঢুকলো ।

“ কি রে , অলিম্পিকের মশাল নিয়ে দৌড়াবি ? প্র্যাকটিস করছিস ? “

রান্নাঘর থেকে উঁকি মেরে ওকে দেখেই পারমিতার মন্তব্য ।

“ দেখ ভোলি , দেখ । পিঞ্জরে সে উড়নে কি রাস্তা । “

“ শিক কাটবি ? কি কিনছিস , হ্যাক স ‘ ?”

“ উফ ! পারো ! “

টানতে টানতে পারমিতাকে বসার ঘরে নিয়ে এসেছিল পুনম । ধাক্কা দিয়ে সোফায় বসিয়ে দিয়ে বলল , “ দেখ দেখ

ভাই । তোর ত অনেক অকল আছে খোপ্ড়িতে । দেখ না ।
লন্ডনে চোর পাকড়াতে ইন্টারপোল নাজেহাল বলছে । বলছে ওয়েস্ট বেঙ্গল থেকে চোরি গেছে , সব কান্ট্রির

ডিটেকটিভ পিছে পিছে গিয়েও পায়নি । “
গায়ে জড়ানো কলমকারির নরম দুপাট্টায় মুখের ঘাম মুছতে মুছতে পারমিতা বলে , “ তা আমরা কি করব চোরের

পিছনে ঘোড়া ছোটাবো মাস্তানি ইস্টাইল ? দাঁড়া বিশাল ভাইয়াকে বলি এক খান ঘোড়া কিনতে । বড়সড় ঘোড়া

লাগবে রে । বপুখানা যা বানিয়েছ ।

আমি পিছন থেকে চোঙা নিয়ে কমেন্ট্রি দেব , হ্যাঁ ?

হেই চললেন পুনমজি । ঘোড়া ছুটছে তেজ । ওড়না উড়ছে পত পত করে হাওয়ায় ।

ব্যাটা চোর পালাবি কোথায় — “

ছল ছল চোখে উঠে পুনম চলে যাচ্ছে দেখে অবাক হয়েছিল পারমিতা ।

তাড়াতাড়ি ওকে আদর করে টেনে এনে বসিয়েছিল ঘরে ।

সেই থেকেই জলপিপি প্রাইভেট লিমিটেড , একটি অনুসন্ধান সংস্থা ।

ওদের অনুসন্ধান চলছে ।

 

পরের সপ্তাহে…

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত