ধীরে চলো ও নদী

আমার যে কজন সয়ে নেয়া বন্ধু আছে তারা জানে কোন উপঢৌকনে আমি চাঁদিবুক মোটাঠুঁটি হবো নীলশঙ্খ ভুলে। তাই তারা ক্রমশ, আমার চোখে ডুবে থাকা ভিঞ্চির ডায়াগ্রাম; পৃথিবীর এনার্জি সেইভ করে রুম নিভিয়ে কাঁদা; লোকেশনে গরমিল; কোনওদিন না পাওয়া ঠাম্মির নাক, মুখ আর নাম পাওয়া ঠাঁট; ঝড় না ওঠা সন্ধ্যের মোহ মন্থর মোমে আমাকেই দ্বিতীয় আলোর মতন ছেপে ছেপে বাঁচিয়ে রাখলো বুঝি?
তারা তাই জানে, পাঠক সমাবেশ ঘুরে সাগুফতা শারমীন না পাওয়ার ভ্রু কুঞ্চনে আমিতো ঔদার্য্যে দেয়া আপ্যায়ন, চিড়া দধি গুড় কলার দেশী সেটআপ রিজেক্ট করেছি।
আমি দুটো হুমায়ুন রচনা না পড়ে, উৎসব ভেবে রেখে, পাট করা কাপড়ের মতন রেখে রেখে কত দুপুরে ভাবতে বসে কত দূর চলে গ্যাছি! যদি সব পড়ে ফেলি, তবে কোন ঝামর দুপুর এলে চরিত্র সব আমারও জেনে কার লিখায় আমি ট্যুর নেবো!
সে ভয়ে আমাকে কপাট খুলে দিগভ্রান্ত আমোদ, স্নান, চপ্পল, ঢের পথ; ভক্তি শেষে পাওয়া সিরিয়ালবাসী ওম ওম পিস নয়, “ধীরে চলো ও নদী, সঙ্গে নিয়ে চলো” টাইপ ইনটেনসিভ থেরাপি দিতে পারেন যিনি, তিনি সাগুফতা। পড়তে পড়তে বাড়ি, আত্মীয় লতা কয়খানি, বাড়িদের নাড়ি, স্ট্রিট ঘেষে বান্ধবী হয়ে দাঁড়ানো হাউজদের সারি, ফায়ার প্লেসে ঐ পুড়ে গেলো কারো বুড়ো কাহিনী, পেলবতা আর কাশ্মীর, হাঁটতে হাঁটতে গ্রেইট ব্রিটেনের স্কুল থেকে আবার দেশ ফেরা ক্লাস, সমস্বরে সন্তপ্ত রবি…। আমার না তখন খুব জননী-জঠর ব্যথা হয় হৃদে, ইসিজিতে না আসা ছবি বুকে ফ্ল্যাশ দিতে থাকে!
মিহি সুমিষ্ঠ চালের পোলাও, আলু ফাঁকে ফাঁকে। গেস্ট এলে সার্ভ করা রাইস ডিশ না, সে ডিশে গ্রিন পিস, বেরেস্তা আর মায়েদের ফরমাল ভয় থাকে, স্বাদ, নুন সব হলোতো? অ্যাবানডন্ড কোন ব্যথা ফের টের পেয়ে, দুটো পদ যদি যায় যাক না চুলোয় পুড়ে। দু একটা দিন রুটিন করে খারাপ না রান্নার ঠিকে মায়েদের দিলোটা কে? সেই ভেবে কুঁকড়ো চুল কবে গ্যাছে হারিয়ে, গেস্ট এলে হায় আমিও আজকাল অ্যাসেম্বলিতে তটস্থ দাঁড়িয়ে!
সাগুফতা শারমীন তানিয়া তো ঘরোয়া রাইস, আতপ চাল- সেন্টেড, ঘরে তোলা ঘিয়ে গন্ধে, অরুচি অসুখে অবলীলায় আচ্ছাদন। রাজ বাড়ির আড়, আড়ি আর অহম করে পাতা অভিমানে আমারতো পুরো দুখানা দিগ্বিজয় সফর চাই। ছেলেবেলা কথা বলে, সেই ঘুম ঘুম দোলে বলা কথায় সৌধ, স্বদেশ, মহীয়সী ফাগুন, আলতাফ মাহমুদ; কোন শো তে স্টেজে পাওয়া সম্পর্কের জিওমিট্রি পড়তে পড়তে নাড়িতে তাঁর অসুখ লেগেছে  কিংবা শিখার মতন দপ করে ওঠা তাঁর প্রতিবাদ…। তাঁর খোঁজে কত ফ্রাইডে’র সাহিত্য পাতা আমি যত্নে দেখেছি, জানিতো তারা তাঁর কদর বুঝে।
তো ভূমিকাতে বন্ধুদের দাক্ষিণ্য বলছিলাম। কান্ট্রি হাইয়েস্ট পাওয়া কেউ চারাগাছ হাতে অর্ধেক শহর ঘুরে এসে বলে “আপু তোমার জন্য”, (ফুট নোটে সুপ্রিয়া)। আমিযে মনে মনে বন হয়ে বাঁচি। কেউ মেলা খুঁজে ‘পাখি সব’ দিয়ে ভবের রাজ্যে আবার বসতে বলে। কিছু ঝিলিক, বন ফায়ার নাইট ছাড়াও আসে। আমি গগন না হই, তবু আমার ডিপিকশনে তোমায় ছেপে দেবো। সে আমার তেমন উপলব্ধি। 
মাসুদ খান পড়লে যেমন অচেতনে আমি রয়েল ছবির ফ্রেমের ক্যারেক্টারদের মতন, সঠিক কুঞ্চন, দু পা হেলে রাখা সু, উঠে থাকা সূবর্ণ স্কার্টের নির্ভুল মেজারমেন্ট কিংবা সুদর্শন হ্যাটে পালকের পজিশন হওয়া ফিমেইল রাজ বটেরা দ্যাখি, লিটারেচার কতোটা এলিট হয়, থিংকিং স্টাইল আর ডেলিভারির অ্যাপ্রোচের পজেশনে থাকতে থাকতে আমারও নিজেকে হাইলি সফিস্টিকেটেড মনে হয়।
অনুরুপভাবে আসেন সুব্রত অগাস্টিন। তাঁর কাব্যে, গদ্যে, ব্যাকরণ আর পাঠের চলন, জুয়েলারির পার্ল আর ব্র্যাস ক্যাটেগরিতে আড়ং যেই সিঙ্গল নুপুরগুলো করে, তাদের মতন ফ্যাশনেবল প্রেজেন্টেশন আর অ্যান্টিক সংস্কৃত শব্দের অ্যানশিয়েন্ট দুর্গে দুর্গোৎসবের আয়োজন। ‘বিহ্বলতা’ শব্দ শোনো, জন্ম তোমার ভালো। 
তারপর শাহাদুজ্জামান, পড়তে পড়তে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে এমন অভূতপূর্ব সন্ধিসম্মিলনতো আমিও ভেবেছি, কত রাত একটা ছবির আত্মজীবনে তিনপুরুষের বংশ বলে গ্যাছি, তবু আহা জন্মায়নি এমন গল্পের কেলামিটি!
যদ্যপি আমার আরো কত গুরু আছেন, তাঁদের বাক্য তৈরির কারখানার খুঁজে কালো গুন্দ্রীর মতন অনিশ্চিত হারিয়ে যাচ্ছি রোজ। তবু তাঁরা ভিষক্ লাগেন আমার। কিছু শুভানুধ্যায়ী ইন্ধন দিয়ে বলেছিলেন আমার নিয়মিত বুক রিভিউ করা উচিত। কুঁড়ে হয়ে তবু আমি পড়তেই থাকি, লিখতে গেলেই লজিং মাস্টার সিটিং এ নাকটানা ছাত্র, সরকারী দপ্তর। 
গেলো বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে, উচ্চমার্গীয় ‘সাধক-শিষ্য’ বাসী কবি, গবেষক ড. মোহাম্মাদ সাদিকের ‘ শফাত শাহের লাঠি’ পড়ে হরপ্পার শিল্পকলা আবিষ্কারের পরবর্তী ভাবনাগুলোর স্কেচ, টু ডু লিস্টের টপ চার্টে নিয়ে বসে আছি। তন্মধ্যে ভাবনার ভিশন দূর্বল হয়ে গ্যাছে, তাই আবার সেই লাঠির তাৎপর্য্য বোঝা প্রয়োজন। তারপরই আমি ‘পাখিসব’ রিভিউ করবো। সাগুফতা শারমীন তানিয়া’র বাংলা ২য় পত্র এক্সাম পেপার (যেহেতু তারা লস্ট প্রপার্টি, কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেনি) বাদে আর সব লিখা না পড়ার আগে যেন আমার আর ডেঙ্গু না হয় যুধিষ্ঠির। 
এবার বলি, প্রেজেন্ট পেশন কী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যথেষ্ট এক্সাম দেয়া হয়েছে এই জীবনে। মর্নিং শো তে তালকানা ঢুকে, চার ঘন্টা পর ভুল অ্যাঙ্গেল লিখে বিরাট ক্রাইসিস নিয়ে বের হয়ে। এবার আমিও কোন দেশীয় তারাদের মেলায় গ্লিটারিং পরী হয়ে, এক্সপ্রেশনে ঠিক তাদের মতন নায়িকা নায়িকা পোজে, ক্যামেরাতে টাইম ওয়েস্ট না করে, হলরুমে সটান হেঁটে যেতে চাই। 
রেড কার্পেটে কি দাঁড়ানো বারণ, মুখ আরক্ত কালো গুন্দ্রী বলে? আমিও কি নির্মানাধীন ছবিতে সাইন করে বসে নেই জন্ম থেকে? কারও আয়নায় ভুল করে ধরা পড়ে গেলে, “আপনি কি কোন ছবি করেছেন, নামটা বলুন”, বললে, না হেসে অস্মাদ্ বলে দেবো, হ্যাঁ ছবির কাজ সিক্সটি পার্সেন্ট ডান, সিনেমা, “ ডানা, দ্যা উয়িং” আর আমি তাওসিরাত। ইক্সিজ মি। 
প্রেস না জানুক, আমিতো জানি রিয়েল লাইফে ‘হিরোইন কে’? 
বিশেষ কৃতজ্ঞতা: শিল্পী শিরিন জাওয়াদ।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত