সাহসী নারী নূর এনায়েত খান

নারীরা আজ কোন ক্ষেত্রে পিছিয়ে একটু বলুন তো? হয়তো অনেকে ভাবছেন অনেক কাজ আছে যা শুধু পুরুষের পক্ষে সম্ভব কোন নারী এইসব কাজ করতে পারবেনা। কিন্তু আপনি একটু চিন্তা করে দেখুন নারীরা আজ সবক্ষেত্রে পুরুষের সমান কাজ করে যাচ্ছে। যাই হোক আজ পাঠকদের এমন এক নারীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দুনিয়া কাঁপানো গোয়েন্দা ছিল। বলছি নূর এনায়েত খানের কথা।

তাঁর জন্ম হয়ে ছিল একজন সম্ভ্রান্ত ভারতীয় মুসলিম পিতা ও আমেরিকান মাতার ঘরে । বাবা হযরত এনায়েত খান ছিলেন সুফিবাদের শিক্ষক, মা পিরানী আমেনা বেগম আমেরিকান পণ্ডিত পিয়ার বার্নার্ডের আপন বোন। নূর বেড়ে ওঠেন ফ্রান্সে, সোরবর্নে শিশু মনোবিজ্ঞান এবং প্যারিস কনজারভেটরিতে সঙ্গীত শেখেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পরিবার সহ চলে আসেন লন্ডনে, কিছুদিন পর অবশ্য আবার ফিরে যান ফ্রান্সেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ার ছিল কবিতা আর শিশুতোষ গল্প লেখার মধ্যে আবদ্ধ। এবার চলুন তার কর্ম জীবনের সম্পর্কে একটু জেনে আসি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের নারী এসপিও নাজদের নিয়ে আলাদা একটি তালিকা তৈরি করা হলে সেই তালিকার বেশ উপরের দিকে থাকবে নূর এনায়েত খানের নাম। স্পেশাল অপারেশন এক্সিকিউটিভে দুর্দান্ত কাজ দেখিয়ে জিতে নিয়েছেন নায়িকার পদ।

নূরের শুরুটা যেমন ছিল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে নূর এবং তার ভাই বেলায়েত মিত্রশক্তিকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। ফ্রান্স ছিল মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত। দেশ থেকে নাৎসিদের বিতাড়িত করায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারলে ইংলিশ এবং ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হবে- এমনটাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তাই তিনি যোগ দেন উইমেন’স অক্সিলিয়ারি এয়ার ফোর্সে। সেখানে ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় নূরকে। খুব দ্রুত কাজে দক্ষতা দেখিয়ে তিনি স্পেশাল অপারেশন এক্সিকিউটিভের ফ (ফ্রান্স) শাখায় গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ পান।

যেভাবে তিনি গুপ্তবার্তা প্রচার করতেন: নূর ছিলেন কোমল আর খুব নম্র ভদ্র একটি মেয়ে। তাই নূরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল স্পাই হিসেবে নূর খুব একটা ভালো হবেন না। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। নাৎসি অধ্যুষিত প্যারিসে যখন সব ওয়্যারলেস অপারেটররা একের পর এক গ্রেপ্তার হতে থাকে, তখন নূরই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি জার্মানদের সাথে মিশে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে লন্ডনের সাথে যোগাযোগ বজায় রেখে গুপ্তবার্তা প্রচার করতে থাকেন।

বিভিন্ন পার্টিতে, সমাবেশে নূর এতটাই সাবলীল ছিলেন যে, জার্মানরা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি এক গুপ্তচরকে সাথে নিয়ে ঘুরছে তারা। একজন নারী কত সাহসী হতে পারে তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ নূর এনায়েত খান। নূরের সাহসিকতা আজ বিশ্বের নারীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকলো।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত