অভিনেত্রী

উউহ্…মেয়ের ছেনালি দেখে আর বাঁচি না ! বাপের তো খাওয়ানোর মুরোদ নেই এক পয়সাও । লোকের বাড়ি গতর খেটে খেটে হাড়মাস কালি হয়ে গেল আমার , আর উনি এখনো স্বপ্ন দেখে ঘুমের মধ্যে দেয়ালা কচ্ছেন — সিনেমার লাইকা হবার স্বপ্ন ! ঢং ! রাগে গজরাতে গজরাতে এবার চেঁচিয়ে ওঠে লক্ষ্মী
” এই কমলি , উঠবি তুই ? ঘোষেদের বাড়ির কাজটা কি তোর ভাতার এসে করে দিয়ে যাবে আজ ? “
       মায়ের চিৎকারে ধড়মড় করে উঠে বসে কমলি । ধুর…সব গেল । ঘড়ির দিকে তাকালো সে । মোটে সোয়া ছ’টা…মা না…ধুৎ…। সত্যিই তো সে স্বপ্ন দেখছিল , সিনেমার নায়িকা হওয়ার স্বপ্নই তো । রোজ দেখে , ঘুমোলেই — বিরাট বাড়ি , গাড়ি ,  শ্যুটিং , অটোগ্রাফ , আরো কত কি …। ওই যে , ওই শুভশ্রী , পায়েল , রচনাদের মতো…আপনমনেই হেসে ওঠে কমলি ।
কিন্তু নাহ্ …আর বসে থাকলে মা এবারে….।
      বাইরে থেকে কেউ যেন ডাক দিলো মা’কে । গলাটা চেনে কমলি । হাটখোলার নিতাই । এক নম্বরের শয়তান লোক । দুনম্বরী কাজ করেই পেট চালায় শালা । চোখের চাহনিটাও বড্ড বিশ্রী । কমলি বোঝে না কেন মাঝে মাঝেই নিতাই তাদের বাড়িতে আসে । ওর সাথে মায়ের কি দরকার কে জানে ! শয়তানটা এলেই মায়ের রকম সকমও কেমন যেন বদলে যায় । কেমন ঢলানি মাগীর মতো লাগে এই সময়ে মা’কে , অসহ্য ! নিতাইকে এড়ানোর জন্যই এবার তাড়াতাড়ি কাজে বেরিয়ে পড়ে কমলি ।
      আজকাল আর স্বপ্ন দেখার সময় নেই কমলির । আজ সত্যিই সে নায়িকা হয়েছে । মাসের প্রথমে বাড়ি গিয়ে হাসি মুখে , গুনে গুনে মায়ের হাতে টাকা তুলে দিয়ে আসে , বুকের আগুন চেপে রেখে ।আর প্রতিরাতে রঙ মেখে তাকে নামতে হয় রঙ্গমঞ্চে । অভিনয় তাকে করতেই হয় প্রতিমুহূর্তে…ইচ্ছা না থাকলেও । করতেই হয়…।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত