রং বদলের ম্যাচে শেষ হাসি অজিদের

Reading Time: 2 minutes 

টন্টনে বুধবার দারুণ এক লড়াইয়ে এভাবে রং বদলের ম্যাচে শেষ হাসি অজিদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪১ রানের জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৩০৮ রানের লক্ষ্যের জবাবে লেজের ব্যাটসম্যানদের লড়াই সত্ত্বেও কাছে গিয়ে ২৬৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

দলের রান যখন ২, ওপেনার ফখর জামানকে (০) হারায় পাকিস্তান। এরপর বাবর আজমকে সঙ্গী করে ৫৪ রানের জুটিতে ধাক্কা সামাল দেন আরেক ওপেনার ইমাম-উল-হক।

১১তম ওভারে নাথান কোল্টার-নাইলের ধাক্কায় সেই জুটি ভাঙলেও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে ভালোভাবেই দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন ইমাম। দুজনের ৮০ রানের জুটিতে একটা সময় মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিচ্ছে তারা।

পরপর দুই ওভারে ইমাম (৫৩) ও হাফিজ (৪৬) ফিরতেই গর্তে পড়ে যায় পাকিস্তান। রানের খাতা খোলার আগেই শোয়েব মালিক আর ৫ রানে আসিফ আলি সাজঘরে ফিরলে বড় এক হারই চোখ রাঙাচ্ছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ীদের।

সেখান থেকে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ম্যাচটা জমিয়ে দেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ১৬০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণে পাকিস্তানকে ২০০ পার করিয়ে দেন হাসান আলি। মাত্র ১৫ বলে সমান ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩২ করেছেন এ পেসার।

হাসান যেখানে থেমেছেন সেখান থেকেই লড়াইটা শুরু করেন আরেক পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। অজি পেসারদের শর্ট বলকে রুখে দিয়ে যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করেছেন, তাতে লজ্জা পেতেই পারেন পাকিস্তানের মূলসারির ব্যাটসম্যানরা। সরফরাজকে অন্যপ্রান্তে রেখে ওয়াহাব এনে দেন ৩৯ বলে দেন গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি রান।

সেখান থেকে হঠাতই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মিচেল স্টার্ক। ৪৫তম ওভারে তার এক শর্ট বলে রিয়াজের ক্যাচ নিয়ে মৃদু আবেদন করেন উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি। আম্পায়ার না বললেও নির্ধারিত সময়ের এক সেকেন্ড আগে রিভিউ চেয়ে বসেন অজি অধিনায়ক ফিঞ্চ!

শেষ পর্যন্ত সেই রিভিউতেই ভাগ্য ঘুরে যায় অস্ট্রেলিয়ার। রিপ্লেতে দেখা যায় উইকেটরক্ষকের হাতে যাওয়ার আগে ওয়াহাবের ব্যাট ছুঁয়েছে বল। তাতেই সব প্রতিরোধ শেষ পাকিস্তানের। দ্রুত আমির ও সরফরাজকে রানআউট করে ম্যাচটা শেষ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া!

অজিদের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন প্যাট কামিন্স। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন স্টার্ক, কেন রিচার্ডসন।

রং বদল হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেও। প্রথমে ব্যাট করা অজিরা শুরুতে বড় রানের ইঙ্গিত দিলেও থেমেছে ৩০৭ রানে। কুপার্স অ্যাসোসিয়েশন মাঠে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

নিজের ১৫তম সেঞ্চুরিতে (১০৭) যেমন স্বস্তি ফিরিয়েছেন ওয়ার্নার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮২ করেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। আর ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির।

উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ২২ ওভারে ১৪৬ রানের জুটি গড়েন দুই ওপেনার ওয়ার্নার-ফিঞ্চ। দুজনের ব্যাটিংয়ে একটা সময় মনে হচ্ছিলো হেসে-খেলেই সাড়ে তিনশো পার করবে অজিরা।

কিন্তু প্রথমে ফিঞ্চ ও পরে ওয়ার্নারকে হারিয়ে একটা সময় রং হারিয়ে বসে অজি ব্যাটিং লাইনআপ। শেষদিকে আমিরের ছোবলে কোন রকমে ৩০০ পেরোয় অজিরা।

ম্যাচে যেভাবে দুহাতে রান বিলিয়েছেন সতীর্থরা, তার উল্টো পথে হাঁটেন আমির। ১০ ওভার বল করে দিয়েছেন মাত্র ৩০ রান, তাতে ঝুলিতে ৫ উইকেট। বাকিদের মধ্যে ওয়াহাব রিয়াজের রান গড় কেবল ছয়ের নিচে (৫.৫০)। ২টি মেডেন ওভারও করেছেন আমির।

      .    

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>