জয়ের সরণীতে ফিরে এল পাকিস্তান

প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান। হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারাল ট্রেন্টব্রিজে। যে ইংল্যান্ডের কাছে বিশ্বকাপের আগে একদিনের সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। সেই সরফরাজের দলই বিশ্বকাপের মঞ্চে মোক্ষম প্রতিশোধ নিল। শুধু তাই নয় ইংল্যান্ডকে ১৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ের সরণীতে ফিরে এল পাকিস্তান। টানা ১১ ম্যাচে হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

জিততে বিশ্বরেকর্ড করতে হত ইংল্যান্ডকে। অনেক কাছে গিয়েও সেটি রেকর্ড আর গড়া হয়নি ইংলিশদের। পাকিস্তানের দেয়া ৩৪৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ৯ উইকেটে ৩৩৪ রানে থেমে গেছে এবারের বিশ্বকাপ স্বাগতিকদের ইনিংস। প্রথম ম্যাচে ১০৫ রানে অলআউট হওয়া পাকিস্তানিরা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল।

তাতে অক্ষত থেকে গেল আয়ারল্যান্ডের রেকর্ড। ২০১১ আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আইরিশদের ছোঁয়া ৩২৯ রানই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে রানতাড়ার সর্বোচ্চ ইনিংস।

পাকিস্তানের যা সংগ্রহ তাতে অন্য কোন দল হলে হয়তো চিন্তাতেই কাবু হয়ে যেত। যতই ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হোক, ৩৪৯ করা তো আর মুখের কথা নয়। তবে দলটা ইংল্যান্ড, যারা শেষ চার বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটের সংজ্ঞাটাই বলে দিয়েছে! বিশ্বকাপে নামার আগে এই ইংল্যান্ডকেই ৩৪০ আর ৩৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েও মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানিদের।

ট্রেন্ট ব্রিজে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ১০৫ রানে অল আউট হলেও এদিন কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমানত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করতে থাকেন দুই পাক ওপেনার। ওপেনিং জুটিতে ফকর জামান ও ইমাম উল হক ৮২ রান তোলে। ফকর ৩৬ এবং ইমাম ৪৪ রান করে আউট হন। এরপর বাবর আজম এবং মহম্মদ হাফিজ পাকিস্তানের রানকে টেনে তোলেন। বাবর ৬৩ এবং হাফিজ ৮৪ রান করে আউট হন। পাক অধিনায়ক সরফরজ আহমেদ ৫৫ রান করেন। কোনও ব্যাটসম্যান শতরান না করলেও শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৮ রান তোলে। ইংল্যান্ডের হয়ে মঈন আলি ও ক্রিস ওকস ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট নেন মার্ক উড।

৩৪৯ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। ৮ রানে সাজঘরে ফিরে যান জেসন রয়। ৩২ রানে ফিরে যান বেয়ারস্টো।অধিনায়ক মর্গ্যানও ফেরেন মাত্র ৯ রানে। বেন স্টোকস করেন মাত্র ১৩ রান। একা কুম্ভ হয়ে লড়াই চালিয়ে যান জো রুট। সঙ্গে জোস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে ১৩০ রানের পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেয়। ১০৭ রান করে আউট হন জো রুট। ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রথম শতরানটি করলেন রুট। জোস বাটলারও শতরান করেন। ৭৬ বলে ১০৩ রান করে আউট হন তিনি। এরপর ক্রিস ওকস শেষ চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। ২১ রানে আউট হন তিনি। এরপর ওয়াহাব রিয়াজ ও মহম্মদ আমিরের দুরন্ত বোলিং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে জয় এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৩৪ রান তোলে ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের হয়ে ৩টি উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ। ২টি করে উইকেট নেন শাহদাব খান ও মোহম্মদ আমির।

.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত