| 18 এপ্রিল 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

কবিতাগুচ্ছ

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ০৬ অক্টোবর কবি, কথাসাহিত্যিক ও আবৃত্তিশিল্পী শাপলা সর্পযিতার শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


শিরোনামহীন
এক
মনে হয় তারে বলি
শরতে শরতে শিউলির মালা গেঁথে রেখো
ইচ্ছে হলে তুলে দিও পুরো কাশবন
এবার পূজোয় লালপেড়ে সাদা শাড়ি এনো
সিঁথির সিদূরের রঙ কিছু এনো
দু’গাছা কাঁচের চুড়িও সাথে নিয়ে এসো
সোনার না হয় নাই হলো,
নাকের নথ এনো সাথে
সুতোয় বাধা থাক কণ্ঠের হাসুলি।
মনে হয়, যে নাই তারে ডেকে বলি
ভালোবাসাও এনো কিছু দুহাত ভরে…

 

দুই

অবশেষে আমাদের দেখা হলো
এক বিকেলের ঘুমে
এক দুপুরের কিনারে
কিংবা কোনো মধ্যরাতের কার্নিশে
নদীর কিনারে হাটের মধ্যে বাটের মধ্যে মাঠের মধ্যে
বিকেলের সুরে বাঁশি বাজলো।
তোমার শরীরে জীবন
আমার স্বপ্নে মধু যোগ হলো
খুঁজে পেলাম আমার হারানো বাঁশিওয়ালা
খুঁজে পেলাম নেশার পানপাত্রখানি।
তুমি খেয়ালে অলস
আমি মাধুরীদুপুর
তুমি বিকেলের ম্লান
আমি সন্ধ্যার উন্মন।
উন্মুখ তোমার জন্য
উন্মুখ আমার জন্য
আমাদের ক্লান্ত মধ্যাহ্ন।
পাতার শব্দ
সরে সরে গেল
গোধূলির আলোয় পূরবীর লালে
ফুটেছে আজ এক মধুরবিধুর অস্তরাগ….
 
ডাহুক ডাকে নিঝুমপুরে
 
চাঁদের গায়ে জোৎস্নার আলো চুঁইয়ে দিলাম
পদ্যের গায়ে সত্যভাষণ জড়িয়ে দিলাম
তোমায় আরও নিবিড় করে পাইয়ে দিলাম
এখন তুমি কেমন আছ বল?
এক বিকেলের জড়িয়ে যাওয়া অঙ্গুরীয়
জলের বুকে কাঁপতে থাকা বাড়িটিও
অপেক্ষাতে নিভতে থাকা দিনের আলো
এখনতো আর জ্বালায়নাকো বড়ো।
দারুণ তোড়ে বাতাস এল তার সাথে যে ধূলিটিও
ধূলির সাথে স্বপ্নটিও শবের সাথে কাফনটিও
হারাওনিতো, কফিনটিতে জুড়ে দেবার পেরেকটিও?
এই তো পেলে বেঁচে থাকার আগুনটিরে, বল?
হৃদয় শিখায় প্রদীপ জ্বেলে ঝড়ের রাতে পথের শেষে
অনেক করে ভালোবেসে শূন্য ঘরে সুবাস ঢেলে
গায়ের রংটি আলো করে নিবিড় হয়ে একলা রাতে
কেউ তো এসে দাঁড়ায় কাছে, বল।
হাড় হা-ভাতের গদ্যগুলো মুখর সকল পদ্যগুলো
অঙ্গে জড়ায় শাড়িটিও, নাকছাবিটির বৈশাখিও
ঝড়ের গায়ে উড়িয়ে দিলাম। ভালোবাসার ক্লান্তিটিও
নিলাম করে, এখন তুমি ভালোই আছ, বল।
তবু কেন আঁধার দেখি তোমার চুলের অন্ধকারে?
ডাহুক ডাকে, ভরদুপুরে তোমার বুকের নিঝুমপুরে?
মুখের ছাঁদে মাতাল বাতাস কেমন যেন নেশায় টলে?
ভরা কলস হাতের কাছে তবু কেন সুরাখ ডাকে?
ডুব সাগরে আর, কতদূর যাবে, বল।
 
 
 
তোমার জন্য
তুমি ভালোবেসে চলে গেলে
বহুদূর পথরেখা পড়ে থাকে
চুমু খেলে ঠোঁটের গভীরে আঁকা হয় নদী
আকাশে উড়ে যায় সোনালি ডানার চিল
তুমি ভালোবেসে চলে গেলে হারানো কঠিন
দূর দূর সুরে-শিহরণ
ছন্দখানি তুলে ঢেউ
তিন চার পাঁচ-গুনে গুনে অধরা ফাগুন।
আমি এক ছায়া
কায়া নাই তার জানা
ঘুমের পরে তাই স্বপ্ন বিভঙ
খুলে খুলে পড়ে তার পায়ের নূপুর
তোমার পায়ের কাছে পড়ে রয় তবু
সঞ্চিত আমার যত মৃত মাধুরীর কণা…
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত