| 18 এপ্রিল 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

সুজিত মান্না’র কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর কবি,সম্পাদক সুজিত মান্না’র জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

এখন তবে ভেবে দেখার পালা [br]

শয়তানদের চেপে ধরবো[br]
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সজোরে বুকে লাথি মারার[br]
সাহস সঞ্চয় করবো –[br]

কিন্তু তার পরেও মারবো না , তাদের একটি করে[br]
খাঁচা উপহার দেবো –[br]

জীব জন্তুদের সবচেয়ে বড়ো শাস্তি দেওয়া হয়[br]
এই পৃথিবীর অভিশাপ[br]
তাদের পায়ে বাঁধা হলে[br]

বেঈমান সমস্ত মুখোশের নীচে সেতু ভেঙে আছে[br]
সমস্ত সমতলের আনন্দে কেঁপে উঠছে[br]
তাদের মৃতপ্রায় ছাল[br]

তাদের জীবনে নদী কি নামবে না কোনোদিন[br]
এত প্রবাহ ধরে রেখেছি , এত জোরালো হচ্ছে স্বর[br]

আর কীভাবে সৎ থাকলে একটা উদ্ভিদ আমার সম্পত্তি হবে[br]

 

[br]

[br]

[br]

 

ঢুকে পড়ছে স্বভাবে[br]

কালরাতে হাজার যৌথ প্রস্থচ্ছেদ ঘটিয়েছি আমার[br]
নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছি[br]
―আমাকেও কি একদিন হিমঘর বেছে নিতে হতে পারে[br]

বিজয় এসে বলে গেছে[br]
―জীবনের আশ্চর্য মাত্রা দিয়ে কীভাবে[br]
     কুয়াশার স্টেশন পেরিয়ে[br]
                                 সমতা বজায় করে চলতে হয়[br]

আমি তো এভাবে ঘাসপাতা বেছে বেছে ঠোক্কর খেতে চাইনি[br]
ঘুমোবার আগেও দেখে নিয়েছি[br]
মাড়িয়ে দেওয়া দৌড়ে কতটা বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো[br]

এভাবে রোজই কতবার শরীরের লোডশেডিং হয়[br]
পেছনে ছুটতে গিয়ে মনে হয়[br]
আমিও কালিগহ্বরে ঢুকে পড়ছি স্বভাবে এবং বৃষ্টি চুষে[br]

 

[br]

[br]

[br]

ভাঙতে পারিনি পরিসর[br]

ভাঙতে না পারলে এভাবেই মোচড়ে দাঁত আটকায় সবাই[br]

পরিসর কম , রোজ আটকে পড়ি ধোঁয়া সরানোয়[br]

কীভাবে যে বাঁচা যায় প্রতি মুহূর্তে , খুঁজতে খুঁজতেই[br]
একচোখের পরিবার থেকে সমস্যা আরো[br]
দুচোখের হয়ে ওঠে[br]

আমি কি এতোটাও অনিশ্চিত[br]

সাজিয়ে দিয়েছি দুয়ারফুলের বাগান[br]
ঘিরে দিয়েছি নিয়মরেখার চোখ[br]
একসাথে বেড়ে ওঠার ধর্ম কি[br]
বজায় থাকবে এবার[br]

[br]
[br]
[br]

এইসব ছায়াধ্বনি[br]

১.[br]

স্মৃতি তো এক এঁকে রাখা পাহাড়, ঝুলিয়ে রেখেছি দেওয়ালে[br]

ঝিনুকের মতো অভিমান তোমার। তাদের গুছিয়ে নিলে নিজেকে[br]
মাংসাশী মনে হতে পারে[br]

এমনই সব অভিমান ভাঙতে ভাঙতে হেঁটে পৌঁছবো[br]
এক মুখ থুবড়ে থাকা একটি সাঁকোর পায়ের সামনে[br]

তোমার প্রশ্ন হবেঃ সাঁকোর কি তবে শেষ-শুরু আছে?[br]

ধুলো ওড়াতে ওড়াতে তোমার প্রশ্নটিকে ভেঙে ফেলবো[br]

ভুল খুঁজতে গিয়ে দেখবো, আমরা একই চাঁদের অংশমাত্র[br]
নিজেদের ক্ষত শুকিয়ে নিচ্ছি অন্যের তাপে…[br]

[br]

[br]

২.[br]

নির্জনতার ভেতর ঘন হয়ে নামছে[br]
একটি মস্তিস্ক প্রসূত অন্যায়[br]

অন্যায় দেখতে ঠিক সন্ত্রাসবাদের মত[br]
তাকে ইন্ধন দাও,[br]
মুখের ওপর এঁকে দেবে ছাই –[br]

এমনই অন্যায় রঙের সন্ধেবেলায়[br]
তোমার সামনে গিয়ে দাঁড়াবো[br]

যদি ঘৃণা করতে পারো[br]
মুখের ওপর ঢেলে দিও এক নৌকো জল[br]

আমি এই ষোলো আনা জলের ভেতর ডুবতে ডুবতে[br]
গভীর কোন চোখের আকার খুঁজতে গিয়ে দেখবো[br]
এই পৃথিবীতে ভার ছাড়া কিছুই রাখতে পারিনি।[br]

[br]

৩.[br]

সাবানের বুদবুদের ভেতর চোখ ঢুকিয়ে রেখেছি[br]

একটি আয়তক্ষেত্র এঁকে রেখে গেছে কেউ[br]
আমি সেই আয়তক্ষেত্র ধরে[br]
পৃথিবীর কুঁড়িতে পৌঁছে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি[br]

নতজানু হয়ে থাকা ঈর্ষার ওপর দিয়ে এই চতুর্ভুজটিকে[br]
অতিক্রম করতে হবে আমায়[br]

যেখানে পৌঁছতে পারলে মনে হবে[br]
তোমার ঘুমিয়ে থাকা ইচ্ছেদের সামনে খাটিয়ে দিয়েছি তাঁবু[br]

তাঁবু তো এক সামান্য চোখের বুদবুদ, সমুদ্ররঙের সামনে[br]
যেন আলো ধরেছি[br]

[br]

[br]

৪.[br]

এসো তবে মাটিতে পা রেখে বসি, দেশের বিক্রি হতে চলা ঘোড়াগুলির[br]
পায়ের শব্দ শুনি[br]
তাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন নিয়ে ভাবতে ভাবতে[br]
ঢুকে যাই নিজেদের সূচীপত্রে[br]

রাগ তো এক শত্রুপক্ষের দেওয়াল, এসে দাঁড়িয়েছে পিঠের সামনে[br]

আমি তার নির্দেশনামা পড়ি,[br]
পড়ে ফেলি তার দূর দূর ঈষৎ ভোর[br]

শুধু পড়তে পারি না তার অস্ত্রফুলের সমীকরণগুচ্ছ[br]

এসো তবে দেশ নিয়ে দু-একটা অসুখ রচনা করি[br]
তবে সবিনয়ে বলি[br]
এসব অসুখ[br]
আমি নিজের মাথার দামে সূচীপত্রে লুকিয়ে রাখবো।[br]

[br]

[br]

৫.[br]

ঘুমের ভেতর গুলিয়ে যাচ্ছে রাত[br]
উঠোনের ওপর[br]
মাথা থেকে নামিয়ে রেখেছি পায়রাগুচ্ছ[br]

ঘুমের ভেতর স্বপ্নেরা ঠিক সাদা পায়রার মতই আচরণ করে[br]

তাদের ধোঁয়া ধোঁয়া বরফকুচির মত দেহের উপর হাত রাখি[br]
যেন মনে হয় পা অবধি কোনো মাটির অস্তিত্ব নেই[br]

উড়ে যাওয়ার প্রাথমিক কোনো সূত্রের ভেতর[br]
উপশম খুঁজতে খুঁজতে পৃথিবীর আর্তি ক্ষীণ করে নিচ্ছি[br]
ক্রমশ…[br]

[br]

[br]

৬.[br]

তোমাকে দেখার জন্য কোনো বিলাপ নয়[br]
তোমাকে দেখার জন্য কোথাও আগুন[br]
জ্বালিয়ে রাখা নয়[br]

তোমাকে দেখার জন্য একটি গোধূলিকে ভেঙে[br]
বিশ্লেষণ করতে করতে হেঁটে যাবো[br]

তোমাকে দেখার জন্য চাঁদের যে হাঁ-মুখ গিলে নিয়েছি[br]
তার নাম রাখবোঃ ফুলজন্ম[br]

তোমাকে দেখার জন্য ইট ভেঙে তার থেকে খুঁজে নেবো মাটি[br]

শরীরের গন্ধ যদি মাটি সংরক্ষণ করে রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে[br]
পৃথিবীর সব শিল্পীকে আমি তুড়ি মেরে আসতে পারি[br]

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত