প্রিয়

প্রিয়

তোমার জন্মদিনে কিচ্ছু দিতে পারিনি। কিছু না। সকাল যখন তোমার ঠোঁট ছুঁয়েছিল আমি তখন বাসনকোসন নিয়ে তেলচিটে তুলছি।তোমার মুখটা কি মায়া মায়া লাগছিল তখন? আলোর ভিতরের অন্য এক মায়াবী গূঢ় রহস্যের মতো? তুমি যখন সকালের জলখাবার খাচ্ছিলে তখন আমি চাল-ডাল বের করছিলাম, হিসেব মেলাচ্ছিলাম হেঁসেলের। মধ্যবিত্তের হেঁসেল মাঝমাসের আগে থেকে অনেক যোগ-বিয়োগের অঙ্কে চলে মশাই…আর ছোট্ট ভাঁড়ার থেকে বড় এক সংসারের খিদে কী করে মিটে যায় সে ও এক রহস্য বটে । তবে তাতে আলো নেই, এক ম্যাজিক আছে।তুমি যখন দুপুরের খাবার সপ্তব্যঞ্জনে, আমি তখন ‘শুভ জন্মদিন’ টুকু বলে খালাস। তোমার থালার পাশে পাখার বাতাসটুকু, পরিতৃপ্তির ঢেঁকুরটুকু, ভাতঘুমের আলতো ম্যাসাজটুকু কিছুতেই আমি ছিলাম না। সন্ধে ঘনিয়ে এলে তুমি যখন নতুন জামাকাপড় পরে বেরোও , শপিং মলে নতুন কুর্তাটুকুতেও ছিলাম না আমি। আমি তখন বাড়ির অতিথিদের জন্য মাংস রান্নায় ব্যস্ত।সময় কোথা? তুমি যখন রাতের বিছানায় পাশের জনকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লে আমি তখন আরো শান্ত, এক তুমুল শান্ত বিছানায়।
তোমার জন্মদিনের কোথাও আমি নেই । সকালের মায়াবী আলো তোমার মুখে কেমন করে খেলা করে কেউ দেখেছে কি?কেউ জানে, আদরের পরে ঘাড়ের নীচে আলতো চাপ দিয়ে ম্যাসাজ দিলে তোমার বড্ড ভালো লাগে। তোমার নিঃশ্বাসের গন্ধ এভাবে কেউ চেনে কি? হয়তো বা, হয়তো না।
আরো পঞ্চাশটা জন্মদিনে আমি থাকবনা। আলো পড়বে তোমার মুখের উপর জানলা দিয়ে। শুধু সে আলোর রহস্য কেউ জানেনা। জানতেই পারেনা।

রাখি, কেমন?
ইতি
আমি গো আমি

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত