ইরাবতী উৎসব সংখ্যা গল্প: বাজায় বাঁশি । শিশির পাল

Reading Time: 6 minutes

ওয়াকিং স্ট্রিট দিয়ে হাঁটছে শীর্ষ। অনেক দেশই ঘুরেছে সে কিন্তু কোথাও এরকম স্ট্রিট তার নজরে পড়েনি আজ অব্দি। এমন একটা সরণি যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতার চরম সীমারেখা অবলীলায় স্পর্শ করা যায়। সব কিছুই উন্মুক্ত। উদার। নিজের নিজের মতো আনন্দ, বিষাদ, কান্না যে কোনও অভিব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করতে পারে, যে কেউ। অন্যের মতামত এবং সীমারেখাও সেখানে সুরক্ষিত। গান মিউজিক ড্রইং কবিতা যে কোনও সৃষ্টিশীলতার খোলা ভূমি এই ওয়াকিং স্ট্রিট। সবাই নিজের নিজের মতো। স্বতন্ত্র। কোনও উচ্ছৃঙ্খলতাও চোখে পড়ে না। পাটায়ায় এই অভিজ্ঞতাটুকু শীর্ষ মনে রাখবে অনেকদিন। শহরটা এক্কেবারে হলিউডের আদলে বানানো।

ইউরোপ এবং আমেরিকার অনেক প্রদেশে সে গিয়েছে, কিন্তু ঘরের কাছের ছোট্ট একটা কিংডম, এই ব্যংককে শীর্ষ আসেনি এতদিন। পাটায়ায় একটা ফাংশন করতে আজ ভোরেই এসেছে ওর পুরো টিম। বিকেলে আলকাজার শো দেখল টিমকে নিয়ে। ট্রান্সজেণ্ডারদের এমন কুশলী এবং মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান দুরন্ত উপভোগও করল।

আগামী কাল ব্যাংককের সিয়াম রাচাদা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান করবে শীর্ষ। এই দেশে প্রথমবারের জন্য তার ফাংশন। এখানকার ফ্যান ফললোয়ার্সদের সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই তার। তবে এখন তো আর কোনও জড়তাও নেই ওর। বিরাট তার আত্মবিশ্বাস।

ছোট্ট একটা পাড়ার গলি থেকে রাজপথ বেয়ে, সারা বিশ্বকে মাতিয়ে দেওয়ার জন্যই কি ঈশ্বর শীর্ষকে পাঠিয়েছেন! এরমকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। প্রবল ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর একাগ্রতা থাকলে একটা নগন্য মানুষ সূর্যর মতো জ্বলতে পারে, বিশ্বকে আলো দিতে পারে, এমনই এক বিরল উদাহরণ, শীর্ষ। তার জীবনে সবচেয়ে বেশি ছায়া ফেলেছেন পন্ডিত রবিশঙ্কর। একবারই মাত্র তাঁর স্নেহের স্পর্শ সে পেয়েছিল। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে। অনেক সাধনা করে সে পন্ডিতজির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তখন শীর্ষ সবে ডানা মেলছে তার স্বপ্ন নিয়ে। সেদিন অনেক বড় ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন পন্ডিত রবিশঙ্কর। যা পরবর্তীকালে বাস্তবে ফুটে উঠেছে। দিনকাল আলাদা ছিল। খ্যাতির দুনিয়ায় একটু স্থান পেতে কত যে পরিশ্রম, কত রাতজাগা, কত অনুশীলন, সুযোগের জন্য কত অপমান ছিল, এসব ভাবলে চোয়াল এখনও শক্ত হয়ে আসে। একটা কথায় অটল বিশ্বাস ছিল তার। শ্রীকৃষ্ণ তো বাঁশি দিয়েই মোহিত করেছে ভুবন। সৃষ্টি করেছেন প্রেমের মহাকাব্য, সুতরাং এই বাঁশি দিয়েই সে বিশ্ব জয় করবে। এই রাস্তায় সে হাঁটতে শুরু করে বিরাট এক স্বপ্ন নিয়ে। আজ সে অনিবার্যই সফল। তার ইউটিউবে পাঁচ কোটি ফলোয়ার্স। ফেসবুকে ফ্যানেদের বানানো অসংখ্য পেজ। দেশে বিদেশে। অর্থ, খ্যাতি, সফলতা তার হাতের তালুতে খেলা করে। একজন বাঁশি বাজিয়ের এরকম ব্যাপ্তি, দুনিয়াজোড়া গরিমা আর কজনেরই বা আছে!

দুপুরে গোল্ডেন বুদ্ধ টেম্পল দেখে এল সবাই। একটা ছোট দেশ, রাজা যার সর্বময় কর্তা সেখানে টন টন সোনা দিয়ে আস্ত এক বুদ্ধ মন্দির। চুরি ডাকাতির ভয় নেই। তেমন কড়া কোনও পাহারাও চোখে পড়ল না। ইন্ডিয়াতে কি এসব ভাবা যায়!

শীতের বিকেল আস্তে আস্তে ফুরিয়ে আসছে। ছটায় অনুষ্ঠান।

# সূবর্ণভূমি এয়ারপোর্টে একটা জিনিষ মন কেড়ে নেয় শীর্ষর।সমুদ্র মন্থনের একটা সুবিশাল স্মারক রয়েছে এখানে। হিন্দু মাইথলজির বিস্তার যে কত নিবিড় তা বেশ বোঝা যায়। বুদ্ধ ধর্মের ব্যাপ্তি এখানে থাকলেও হিন্দু ধর্মও সমান জনপ্রিয়।

ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় তার সামনে দুজন ছেলে মেয়ে বাংলায় কথা বলছে। ওকে দেখছেও বারবার। হয়তো কিছু বলতেও চায়। কিন্তু সাহস করে উঠতে পারছে না হয়তো।অবাক হয় না শীর্ষ। এখন এই ডিজিটাল এরায় ওকে অনেক অনেক লোক চেনে। জেন ওয়াই ওকে যে চিনবে, এটাই প্রত্যাশিত! যেটা ভালো লাগল শীর্ষর, তা হল ছেলেমেয়ে দুটি বাংলায় কথা বলছে।

বিজনেস ক্লাসে বসে আছে শীর্ষ। থাই এয়ার লাইন্সের রাত্রের ফ্লাইট। টেক অফ করেছে অনেকক্ষণ। মাঝ আকাশে উড়ছে এখন। ফ্লাইটে ঘুম ঠিক আসে না ওর। শীর্ষ রোজা জানেমন মিউজিকের নোটেশন গুনগুন করছে। গা মা পা নি ধা সা, পা নি সা রে নি ধা পা…..। ওর চোখ বন্ধ। একাগ্র মন নোটেশনে। “এক্সকিউজ মি স্যার।” একজন মেয়ের গলা। চোখ বন্ধই থাকে শীর্ষর। আবার আওয়াজ আসে। “এক্সকিউজ মি স্যার।” শীর্ষ চোখ খোলে। বুঝতে চেষ্টা করে। ওকেই বলছে নিশ্চয়ই। মুখে বলে”ইয়েস।” দ্যাখে, ইমিগ্রেশনের লাইনে ওর সামনে দাঁড়ানো মেয়েটি ওর কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। কিছু বলার জন্য উদগ্রীব। মেয়েটি যথেষ্ট বিনয়ের সঙ্গে বলে, “স্যার। অ্যাকচুয়ালি, আই কান্ট চুজ মাইসেলফ বাট টকিং উইদ ইউ। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, মে আই টক টু ইউ, ফর জাস্ট টু মিনিউটস।” শীর্ষ ভালো করে দ্যাখে মেয়েটিকে। রিপোর্টার নয় তো! বলেই ফেলে। “অ্যাবসলিউটলি। বাট, ওয়ান থিং। অ্যাম  নট ইন আ মুড ফর অ্যানি ইন্টারভিউ। সো….।” “নো নো স্যার। অ্যাম নট আ রিপোর্টার। মাইসেলফ নয়নিকা। ফ্রম কলকাতা। ডুইং মাই এমবিএ ফ্রম স্টামফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্যাংকক। দ্যাটস ইট। আই হ্যাভ আ গ্রেট কিউরিওসিটি অ্যাবাউট ইউ।” মেয়েটি একটু ভয়ে ভয়ে বলে। প্রশ্ন করার অধিকারটুকু সে চায় এই মুহূর্তে। “ওকে। নো প্রবলেম। ইউ ক্যান টেল মি।” নয়নিকা দাঁড়িয়েই আছে। নয়নিকার মনের অস্থিরতা, অদম্য দোলাচল নিমেষে শান্ত হয়ে যায় শীর্ষর সম্মতিতে। প্রায় নির্বৃক্ষ প্রান্তরে ছায়া দেওয়ার জন্য যেন একাকী বটগাছ হল শীর্ষ। নয়নিকা ক্লান্ত হয়ে সেই ছায়ায় এসে বসল। নিবিড় সে ছায়ায় এক অপার প্রশান্তি । নয়নিকা বাংলায় বলে। “স্যার আসলে , পাইকপাড়ার ফার্স্ট রো-এর ওই ছোট্ট গলি থেকে আজ বিশ্বকে ঘর বানিয়েছেন আপনি। এই জার্নিটা জানতে খুব ইচ্ছে হয়। খুব কম জানি এই ব্যাপারে। গুগলে খুব বেশি ইনফরমেশন পাই না। আপনার ইউটিউবে একটাই মাত্র ইন্টারভিউ আছে। খুব গভীরে জানতে পারি না।” আজ অব্দি এই প্রশ্নের উত্তর বোধ হয় সবচেয়ে বেশিবার দিয়েছে শীর্ষ। এটা খুবই কাঙ্খিত প্রশ্ন। শীর্ষ অবাকও হয় না।এই প্রজন্ম ওকে গ্রহণ করেছে। এক অজানা মেয়ে ওর সম্পর্কে মার্কেটে উপলব্ধ সব তথ্যই জানে। এটাই ওর অহংকার। একটা বাঁধা গতে রেডিমেড উত্তর দেয় শীর্ষ।মেয়েটি ঈষৎ হাসে। হয়তো আরও বেশি কিছু শুনতে চেয়েছিল। আবার বলে, “এই যে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ান, কোথায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান?” শীর্ষ প্রশ্নটা শুনে খুশি হয়। বলে, “কী মনে হয় আপনার?” “কলকাতা ?” “অ্যাবসলিউটলি। কলকাতা ছাড়া আর প্রাণ কোথায়।” কথাটা বলেই, শীর্ষ বলে, “কোথায় থাকো তুমি? সরি আপনি? বাড়িতে কে কে থাকেন ?” “স্যার এভাবে বলবেন না। আমাকে তুমি বললেই খুশি হব।আমরা গোলপার্কে থাকি। ভাই আর আমি টুইন। বাবা ব্যবসায়ী। মা হোম মেকার। ওরা সবাই আছে এই ফ্লাইটে।স্যার, আমার আর একটা কথা আছে।” “বলো।” “আপনি এখনও ব্যাচেলর। কেন ! আপনার তো কোনও কিছুর অভাব নেই!” প্রশ্ন করেই, শীর্ষর মুখটা দেখে ভয় পেয়ে যায় নয়নিকা। রেগে গ্যাছে শীর্ষ। একটু স্তব্ধতা। তারপর সহজ হয়েই শীর্ষ বলে, “এই প্রশ্নটা আজ অব্দি হাজার বার করা হয়েছে আমাকে। আমি উত্তর দিতে পছন্দ করি না। আশাকরি আমার গোপনীয়তাকে সম্মান করবে। যদি কখনও সময় আসে, আমি নিজে থেকেই বলব।” প্রবল বিব্রত বোধ করে নয়নিকা। তার প্রশ্ন শেষ হয়ে আসে।আর কিছু মাথায় আসে না। ভুলে গেছে হয়তো। একটা ছোট পকেট ডায়েরি বের করে সে। বাড়িয়ে দেয় শীর্ষকে। শীর্ষ অটোগ্রাফ দিতে দিতে, নয়নিকা আরও একটা প্রশ্ন করে। আপনার সবচেয়ে প্রিয় সুর কী? কোন সুর আপনাকে মোহিত করে। স্বপ্ন দেখায়। এগিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এমন কোনও সুর আছে যা আপনি বার বার বাজাতে চান? শুনতে চান?” শীর্ষ একটু অপ্রস্তুত। তারপর কৌশলে বলে, “আমি ভালোবাসায় বিশ্বাসী। প্রেমই জীবনের সবচেয়ে বড় অনুভূতি।যা দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়। আমি তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে আমার প্রাণের প্রহরী মনে করি। তাঁর আদর্শই শেষ কথা আমার কাছে। আর পার্থিব জগতে, কবিগুরুর অনেক অনেক গান আর সুর আমাকে মুগ্ধ করে। কোনও একটা গান বা সুর বেছে নেওয়া কষ্টকর। তবে ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’ গানটা আমার জীবনের কথা বলে। অতি প্রিয় আমার।” টানা কথা বলে একটু বিরতি নেয় শীর্ষ। অজান্তেই বলে ফেলে, “যে বিষাদ আমার জীবন ছুঁয়ে ছিল বা যে ঘটনা আমাকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছিল, সেই দুঃসহ আবহ থেকে ভালোবাসার আদর্শ নিয়েই তো ঘুরে দাঁড়িয়েছি আজ।” অবাক হয়ে দেখছে নয়নিকা। শীর্ষ যেন খোলা বইয়ের পাতার মতো উড়িয়ে দিয়েছে নিজেকে। নয়নিকা পড়ে নিচ্ছে তার অক্ষরে অক্ষরে রাখা অতীত কাহিনী। শীর্ষও ডুবে যেতে থাকে ক্রমশ ইতিহাসের ভেতর।

রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারে পড়ার সময় রেশমি কথা দিয়েছিল, “জীবনে যদি সত্যি কিছু থেকে থাকে, তা হল তোমার এই বাঁশি। এই সুর শুনে শুনে  আমি নিজেকে মিশিয়েছি তোমার সঙ্গে। আমাকে আর আলাদা করতে পারবে না।” শীর্ষ হাসে। বলে, “বোকা মেয়ে। এই কথা তো তখন বলবে, আমি যদি অস্বীকার করি তোমাকে। তুমি ছাড়া যে আমার এইসব সুর মিথ্যে।” এমনই নিবিড় জীবন হঠাৎ ঝড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল। এক বিষণ্ন বিকেলে, ভিক্টোরিয়ার বেঞ্চে বসে রেশমি বলেছিল, “আমি শুনেছি, সৃষ্টিশীল মানুষের মন খুবই পলকা।তাদের মনের চাহিদা প্রচুর। তারা এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। তুমি যে বিতস্তার কাছে শেষ অব্দি ছুটে যাবে, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আজ অনেক ক্যালকুলেশন মিলে গেল। আমার তো সব শেষ। আর কিছু রইল না। কী নিয়ে বাঁচব আমি!” শীর্ষ তার যত যুক্তিই দেখিয়েছে, রেশমি মানতে চায়নি। আসলে, শীর্ষ কখনও বিতস্তার সঙ্গে কোনও সম্পর্কেই জড়িয়ে যায়নি। শুধুমাত্র একটা সন্দেহ থেকে নিজেকে সঠিক দাবি করে সরে গিয়েছিল রেশমি। এই ফাটল মেটাতে পারেনি শীর্ষ। একটা মিথ্যের আশ্রয় বা বাতাবরণ যে জীবন থমকে দিতে পারে, তা জীবনের এই প্রাপ্ত অভিঘাত থেকে বুঝেছিল শীর্ষ। নিজেও দাঁড়িয়েছিল গভীর খাদের কিনারে।কোনওভাবে, সময়ের স্তরে ভর করে, বাঁশির সুর সম্বল করে, ভালোবেসে, ধীরে ধীরে সাধারণ জীবনে ফিরেছে সে। ফিরে এসেই বেড়ে যায় তার একাগ্রতা। অনুরাগ। অনুশীলনের অভ্যাস। মনস্থির করে শীর্ষ। একদিন রেশমির ভুল ভাঙাবেই সে। সেদিন হয়তো দেরি হয়ে যাবে অনেকটাই। কেউ কারোর কাছে ফিরতে পারবে না। কিন্তু বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকবে শীর্ষ। তাই এই পঞ্চাশ বছর বয়সেও সে একাকী পথ চলেছে।

“থ্যাংক ইউ সো মাচ স্যার। থ্যাংকস আ লট।” নয়নিকার মুখে অবাধ্য এক ম্লানতা। সম্বিৎ ফিরে পায় শীর্ষ। দ্যাখে, নয়নিকা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে। বলে,”ইটস্ মাই প্লেজার।”

#

কলকাতা এয়ারপোর্টে এসে নামে শীর্ষ এবং তার টিমের সবাই। নয়নিকারাও। লাগেজ বেল্টের কাছে লাগেজ নেওয়ার সময় নয়নিকা আর একবার আসে শীর্ষর কাছে। ওকে অনুসরণ করে ওর ভাই এবং বাবা মা। শীর্ষ হাসে। বলে, “ভালো থেকো নয়নিকা। তোমার নাম খুব মিষ্টি। আমার মেয়ে থাকলে হয়তো এমনই কোনও মিষ্টি নাম রাখতাম। যাও।অনেক কথা বলেছি তোমাকে। মনে রেখো না সব।” অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে নয়নিকা। বলে, “আমার একটা অনুরোধ আছে। ইচ্ছেও বলতে পারেন। যদি একবার আমাদের বাড়িতে কখনও আসেন আপনি। ধন্য হব। সবচেয়ে খুশি হবে আমার মা। মা আপনার বিরাট বড় ফ্যান।” “দ্যাটস গ্রেট! যাব কখনও। নিশ্চয়ই যাব। কোথায় তোমার বাড়ির লোকজন?” বলতে বলতে নয়নিকার বাবা ভাই মা এসে দাঁড়ায়। পরিচয় করায় নয়নিকা।

বিস্ময়ে স্থবির হয়ে যায় শীর্ষ। রেশমি ! নয়নিকা রেশমির মেয়ে ! চারপাশে এক ভিন্ন সুর ভেসে আসে। অতীত এসে মুখোমুখি দাঁড়ায়। কষ্ট দেয় শীর্ষকে। কিন্তু শীর্ষ আজ অন্তত জয়ী। ও প্রমাণ করে দিয়েছে, ওই ঠিক ছিল সেদিন। রেশমি ভুল। রেশমি শুধু দ্যাখে সেই পাগল ছেলেটাকে, যে সত্যিই জীবনে কখনও মিথ্যের কাছে মাথা নোযায়নি। প্রবল জেদ আর জীবনের সর্বস্ব দিয়ে প্রমাণ করে গেল , সে শুধু রেশমিকেই ভালোবাসে। নিজের ভুলের তো আর কোনও ক্ষমা হয় না। নিজেকে অপরাধী লাগে রেশমির। সবার অলক্ষ্যে তার অশ্রু লুকিয়ে নেয় সে। নয়নিকা বলে যাচ্ছে, “স্যার জানেন, কী কো-ইনসিডেন্ট, আমার মায়েরও প্রিয় গান, কবিগুরুর ,’ভালোবাসি ভালোবাসি’।”  শীর্ষ তাকিয়ে আছে রেশমির দিকে। ওর এই দেখা যেন ঝলসে দিচ্ছে রেশমিকে। রেশমির চোখ আনত।

নয়নিকা আপনমনে গুনগুন করে গাইছে,…”..বাজায় বাঁশি, ভালোবাসি। ভালোবাসি ভালোবাসি….।”

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>