| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

ইরাবতী উৎসব সংখ্যা সিরিজ কবিতা: দ্রাঘিমালন্ঠন । সাজ্জাদ সাঈফ

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-০১
 
এইভাবে কোন‌ও কোন‌ও রাতে
দ্রাঘিমালন্ঠনে আলোকিত হয় সম্পর্কের ঝার!
 
সুদূর বনানী জ্বেলে এক পরাহত জোছনার মুখ
উজ্জ্বলতর, এইভাবে গোপন দরোজা খুলে
রাত্রি বেড়িয়ে পড়ে, ক্ষীণ স্বরে গায় অনন্ত ব্যাঞ্জনা!
 
আর, স্মৃতি হতে পালকঝরা পাখির ফোঁপানো মুখ
অবিকল রক্তবর্ণ লাগে-
 
যেনো তুমি অপাপবিদ্ধ কেউ, অচেনা সবুজবীথি
কুড়াতে এসেছো গাঁয়ে!
 
খল মেঘে ছেয়ে আছে ঘর, চেনা অক্ষর!
 
 
 
 
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-০২
ছায়া ভরে আছে মিষ্টি বাতাসে-
ও’তে ভর করি নিরঙ্কুশ, করোটি জাগিয়ে রাখি নীল নিদ্রার ধারে, কঙ্করে!
 
যে কোনো প্রতিশ্রুতি তারকাখচিত জামা, ঝলমলে আর খুব সতর্কতাকে চায়!
 
হেঁটে আসে অবগাহনের কাল, অস্তিত্বের টিমটিমে আলো নিয়ে যতখানি হাঁটা যায়; ঘুমের ভেতর জল ও দ্বিধার নদী, উথাল পাথাল
 
সমস্তই প্রেতপরিহাস
জ্যোতিরাডারের নীচে সবটাই উড়ুক্কু মাছের খেলা
পাতা ওল্টানোর শব্দমাত্র বই থেকে মধু ও ময়ূরের চোখ
গভীর অরণ্যে জ্বলজ্বল করে।
 
 
 
 
 
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-০৩
 
এই যে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিস, পাখিদের গতজন্ম, মেঘ শিকারী ঠোঁটের পাখিরা তোমাকে চেনে?
 
আর তুমিই বা কেমন হাভাতের মতো চাও
শরতগুল্মের ছোঁয়া, পারাবত ঘূর্ণি, যেদিকে চোখ যায়
পাতাবাহারের ধারে ঘর, ঠুমরি বাজছে কারো
অশান্ত মগজে, স্নেহ চাও তুমি? নৈরিৎ কাঞ্চন?
 
তোমাকে হীরণ বর্তুলে কেউ ফেলে গেছে নাকি প্রেম?
চারিদিকে ঠাট্টার‌ সমাবর্তন, কোনদিকে যাবে তুমি?
 
 
 
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-০৪
তোমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে ঘুরতে যাচ্ছে বিষাদ, সারারাত ক্লাইভের হাসি, যেন ব্লেড গিয়ে পোচ মারে বুকের ভিতর, এমন বিষাদ নিয়ে খুনী পৃথিবীতে কতগুলি দিন হাসিখুশি থাকলেই-বা কিভাবে, সেই প্রশ্ন জীবনানন্দের, সারারাত মহাপৃথিবীর ডাক, গাছেরা হারিয়েছে জ্ঞান?
 
পিছনে নাগর নদী আর তার ভাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে স্কুলঘর পরিত্যাক্ত, সামনেই শিশুতোষ মেঘ, যেন সবকিছু খেলনা এখানে, সব ব্যথা ছুঁতে চায় মন!
 
 
 
 
 
 
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-০৫
সবগুলি হাহাকার সামনেই রেখে আমি গাছ, পাতাদের অঘোষিত সংস্থা, যেন কিছুই হয়নি আমার, নির্বাক, দাঁড়িয়ে পড়েছি কবে, মহাকাশে ধূসর বলাকা ডাকে; দাঁড়িয়ে রয়েছি তনু, মেঘমধ্যে; দিনরাত করাল থাবাতে, সামাজিকতার!
 
উড়ে আসে ঘ্রাণ কতসব পথ-মানুষের
চেয়ে দেখি লাল ব্যাজ পরে নামে গর্বিত আকাশ কুসুম
যেন কিছুই ছিল না আমার, পাখিদের বৈঠকঘর, খোড়ল জাগানো স্মৃতিরা ব্যতীত!
 
সমস্ত ফুল স্নায়বিক লাল, মজুরের হাসিরা যেমন।
 
সবগুলি শঠতার কাছে বিঘ্নিত হৃদয় পেতে, দাঁড়িয়ে রয়েছি ঘাটে;
দহে ডুবুডুবু!
 
ঘাসের সাথীরা আমার, জোছনার গদ্যকার, ফণিমনসার কবি, আমার ভিতর থিতু, নিষ্ক্রিয় নয়ই, অতুল দখিনা জানে!
 
বেঁচে আছি, বেঁচে থাকা এই গ্রহে বলো
সংবিধানের কত ধারা মোতাবেক!
 
 
 
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-০৬
 
আমরা স্বপ্নের ঝুমঝুমি হতে ছিটকে গিয়েছি, কে যে কবে!
 
শূন্য বাজনা নিয়ে হৃদয় ভরতি পাথরের উপদ্বীপ, চুপ করে আছে সজনে গাছের ছায়ায়; দূর ভেঙে আসে মানুষের কান্নার শব্দ, মানুষেরই ঘুমের ভিতর।
 
এইভাবে গল্পে এসে পড়ে
মেঘ ও মাথাল, শোক ও পাতালের ধ্বনি;
কাছেই এক মুমূর্ষু মায়ের চোখে হাত দিয়ে ছেলে মুছে দিচ্ছে, মায়াঢেউ উপচানো জল!
 
এইভাবে চোখে এসে পড়ে মায়া, দ্বিধা ও সংশয়-চাহনী;
আমরা কেউ কেউ হরিণের ছাল ছাড়ানোর দৃশ্যে, প্রমোদতরীতে ভেসে যাচ্ছি কল্পনায়, সকলেই শিশুতোষ!
 
সকলেই নিজ নিজ বুকে ঢুকে গিয়ে
উঁচু নিচু পাত্থুরে পথে
ঠোকর খাওয়া পায়ের দিকে চেয়ে আছি!

One thought on “ইরাবতী উৎসব সংখ্যা সিরিজ কবিতা: দ্রাঘিমালন্ঠন । সাজ্জাদ সাঈফ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত