দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্জিনে জিতলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি


উত্তরপ্রদেশের আমেথির পাশাপাশি কেরালার ওয়াইনাড থেকে নির্বাচনে লড়েন রাহুল গান্ধি । ওয়াইনাড কেন্দ্র থেকে শুধু কেরালা নয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্জিনে জিতলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি । আজ রাহুল গান্ধি কেরালার ওয়াইনাড থেকে ৮ লাখের বেশি ভোট পেয়ে রেকর্ড ভেঙে দিলেন ।


দলের ভরাডুবি । তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে-উঠছে-উঠতে শুরু করেছে । কিন্তু, তাও তিনি রেকর্ড গড়লেন । শুধু কেরালা নয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্জিনে জিতলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি । আজ লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল কেরালার ওয়াইনাড থেকে আট লাখেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন কংগ্রেস সভাপতি । এর আগে ২০১৪ সালে মহারাষ্ট্রের বীড থেকে ৬ লাখ ৯২ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন BJP প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গোপীনাথ মুণ্ডের মেয়ে প্রীতম মুণ্ডে । সাম্প্রতিক সময় এটাই ছিল সব থেকে বড় ব্যবধানে জয় । গত লোকসভায় জয়ী হওয়ার পর মন্ত্রী হয়েছিলেন গোপীনাথ মুণ্ডে । কিন্তু, পথ দুর্ঘটনায় গোপীনাথের মৃত্যুর পর বীড থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর মেয়ে প্রীতম । পেয়েছিলেন সহানুভূতির ভোটও । আজ রাহুল গান্ধি কেরালার ওয়াইনাড থেকে 8 লাখের বেশি ভোট পেয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন । উত্তরপ্রদেশের আমেথির পাশাপাশি কেরালার ওয়াইনাড থেকে নির্বাচনে লড়েন রাহুল গান্ধি । নিজের হাতের তালুর মতো চেনা আমেথির পাশাপাশি ওয়াইনাড থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণার পরই রাহুল তথা কংগ্রেসের দিকে বাণ ছুঁড়েছিল BJP । মোদি-শাহদের দাবি ছিল, আমেথিতে হার নিশ্চিত বুঝেই কেরালা থেকে প্রার্থী হয়েছেন রাহুল । আজকের ভোটের পর অনেকটাই সে কথাই প্রমাণ করে দিল । আমেথিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির সঙ্গে জোর টক্কর চলে রাহুলের । কিন্তু, কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত আমেথিতে ধাক্কা খেলেন রাহুল । আমেথি মুখ ফেরালেও গেরুয়া ঝড়ের সামনে ‘বাফার জ়োন’ হয়ে দাঁড়ালেন সেই রাহুলই । তবে, রাহুল প্রথম নন । মা সোনিয়া গান্ধি এবং ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধিও দক্ষিণের আসন থেকে লড়ে নজির সৃষ্টি করেছিলেন । ১৯৭৮ কর্নাটকের চিকমাগালুর উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ইন্দিরার রাজনৈতিক জীবনে নতুন মোড় আসে । ১৯৮০-তে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলির পাশাপাশি অন্ধ্রের মেডক থেকে জয়ী হয়েছিলেন ইন্দিরা । ১৯৯৯-তে আমেথির পাশাপাশি কর্নাটকের বল্লারি থেকে লড়েছিলেন সনিয়া । মা-ঠাকুমার পথে গিয়ে উত্তরের পাশাপাশি দক্ষিণে দলের ভিত মজবুত করার লড়াই শুরু করেছিলেন রাহুল । কেরালায় রাহুল প্রার্থী হওয়ার পর তা ভালো চোখে নেয়নি বামেরা । প্রকাশ্যেই রাহুলের এই পদক্ষেপকে সমালোচনা করেছিল বামেদের শীর্ষ নেতৃত্ব । তাদের অভিযোগ ছিল, মেরুকরণের রাজনীতি শুরু করেছেন রাহুল । কারণ, কেন্দ্রে BJP হারানো যদি একমাত্র লক্ষ্য হত তাহলে কেরালায় প্রার্থী হতেন না রাহুল । প্রকাশ কারাতের মতো নেতারা দাবি করছিলেন, রাহুল প্রার্থী হওয়ায় ভোট ভাগাভাগি হবে বাম এবং কংগ্রেসের মধ্যে । এর ফলে সুবিধা পাবে BJP । কিন্তু, আজকের ঐতিহাসিক ফল বুঝিয়ে দিল উত্তরপ্রদেশে দাঁত ফোটাতে না পারলেও দক্ষিণের সমর্থন রয়েছে রাহুলের সঙ্গে ।আরও একটি ইঙ্গিত স্পষ্ট হল রাহুলের এই সাফল্যে । পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা আগেই মুখ ফিরিয়েছিল । বাম নেতৃত্বের কিছুটা আশা ছিল কেরালার প্রতি । রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে যিনি লড়াই দেবেন বলে মনে করা হয়েছিল সেই পি পি সুনীর রীতিমতো হতাশ করলেন দলকে । CPI(M) সমর্থিত সুনীর দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, ভোট ব্যবধানে রাহুলের ধারেকাছে থাকতে পারলেন না ।

 

 

.

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত