| 29 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
প্রবন্ধ সাহিত্য

রবীন্দ্রনাথের ধর্মমত

আনুমানিক পঠনকাল: 9 মিনিট

 

ধর্ম মানুষের একটি প্রবল সামাজিক পরিচয়। সচেতনভাবেই প্রবল বললাম। কারণ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেই ধর্ম এখন একটি দুর্বল পরিচয়। কিন্তু উনিশ শতকে ভারতবর্ষে এমনকি রেনেসাঁ-উত্তর ইউরোপেও ধর্মপরিচয় ছাড়া সমাজে কারও অস্তিত্ব প্রায় অভাবনীয় ছিল। নিজ ধর্মবিশ্বাস থেকে বিচ্যুতি ঘটলে সমাজচ্যুতিও অবধারিত ছিল। বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠশিল্পী রবীন্দ্রনাথের ধর্ম পরিচয় কী? রবীন্দ্রনাথ কোনো ধর্মবিশ্বাসের অনুসারী ছিলেন? নাকি প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাস করতেন না? ধর্ম নিয়ে তাঁর কোনো সংস্কার-ভাবনা ছিল কিনা— এসব বিবিধ প্রশ্নের উত্তর পেলে অনেক কৌতূহল ও জিজ্ঞাসার অবসান হবে। সহজ হবে রবীন্দ্রনাথকে জানা এবং উপলব্ধি করা।

রবীন্দ্রনাথের পরিবারের পদবী ঠাকুর হলেও পূর্বে তারা ছিলেন কুশারী। অর্থাৎ কুশারী ব্রাহ্মণ। তাদের আদি নিবাস ছিল পূর্ব বাংলার যশোর-খুলনা অঞ্চলে। কুশারী ব্রাহ্মণ থেকে পিরালী ব্রাহ্মণ হন। পিরালী ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত হয়ে পারিবারিক পদবী হয়— ঠাকুর।

 

পীরালি ব্রাহ্মণ কাদের বলা হতো?

পীরালি ব্রাহ্মণদের একটি ছোট্ট ইতিহাস আছে। বাগেরহাটের খান জাহান আলী ছিলেন একজন মশহুর ধর্মপ্রচারক এবং স্থানীয় শাসক। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া বাগেরহাটে যে বিখ্যাত ষাট গম্বুজ মসজিদ— এটার নির্মাতাও খান জাহান আলী বলে ধারণা করা হয়। কথিত আছে কৌশলে তিনি অনেক ব্রাহ্মণদের জাত মেরেছেন। তখন জাত মারামারির জোর জবরদস্তি ছিল। গোবিন্দ লাল নামে খান জাহান আলীর একজন হিন্দু কর্মচারী ছিলেন। যে একদিন তাঁর মনিবের বাড়িতে গরুর মাংস দিয়ে অতিথি আপ্যায়নের সময় উপস্থিত ছিল। সে খবর কুলীন ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছলে ‘ঘ্রানং অর্ধ ভোজনং’-এর অপবাদ দিয়ে কুলীন ব্রাহ্মণরা তাকে সমাজচ্যুত করেন। মাংস ভোজনে অংশ না নিলেও ঘ্রাণ শুঁকার অপরাধে এই ছিল দণ্ড। গোবিন্দ লাল অগত্যা বাধ্য হয়ে ধর্মান্তরিত হন এবং নতুন নাম গ্রহণ করেন আবু তাহের। পরবর্তী সময়ে নিষ্ঠাবান ধার্মিক ও বিশ্বস্ত হওয়ায় তাঁকে খান জাহান আলী ‘পীর অলী’ আখ্যা দেন এবং স্থানীয় প্রশাসনে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। পীর অলী খুব প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্ন হয়ে উঠেন। কালক্রমে যার অপভ্রংশ ‘পীরালি’ হয়ে ওঠে। এই গোবিন্দ লাল ওরফে আবু তাহেরের মাধ্যমে অভিশপ্ত ‘পীরালি ব্রাহ্মণ’ সম্প্রদায়ের সূচনা।

অমিতাভ চৌধুরী তাঁর ‘ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘যশোরে থাকতে ওঁদের(ঠাকুর পরিবারের) এক পূর্বপুরুষ পীর আলী খাঁ নামক এক জমিদার বাড়িতে গো মাংস রান্নার গন্ধ শোঁকার অপরাধে ‘হাফ মুসলমান’ হয়ে যান।’ এই পিরালি খাঁ জাহান আলীর সেই আবু তাহের বলেই ধারণা করা হয়। কিন্তু আকবর আলি খান তাঁর ‘দুর্ভাবনা ও ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে’ গ্রন্থে এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘পিরালি ব্রাহ্মণের দোষে দুষ্ট হয়েছিলেন যশোর জেলার চেনগোটিয়া পরগনার জমিদার গুড় বংশীয় শুকদেব। শুকদেবের কন্যাকে বিয়ে করে পিরালি দোষে দুষ্ট হন পিঠাভোগের জমিদার জগন্নাথ কুশারী।’ জগন্নাথ কুশারী বংশের সপ্তম প্রজন্মে পঞ্চানন কুশারী জ্ঞাতিকলহে দেশত্যাগ করে কলকাতায় অভিবাসী হন এবং তিনি কলকাতায় ঠাকুর বংশের প্রতিষ্ঠাতা। যা হোক, এ আলোচনায় আমরা একটু পরে আসব।

এ সময় জাত মারার ঘটনা প্রায়ই ঘটত। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় ব্রাহ্মণরাও নিষ্ঠাবান মুসলমানকে রোজা ভাঙিয়ে একটা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগও আছে। তাঁর মানে সাম্প্রদায়িক ভেদ বুদ্ধি ও দ্বন্দ্বের ইতিহাস বেশ পুরনো। এভাবে দক্ষিণ ডিহির রায়চৌধুরী পরিবার, যশোরের চেনগোটিয়ার জমিদার পরিবার, সিঙ্গিয়ার মুস্তফী পরিবার, খুলনার পিঠাভোগের ঠাকুর পরিবার ব্রাহ্মণদের দেওয়া অভিশপ্ত পিরালী বামুন হিসেবে চিহ্নিত হন। পিরালী দোষে পতিত হওয়া পিঠাভোগের জমিদার জগন্নাথ কুশারীর উত্তরপুরুষ পঞ্চানন ঠাকুর— ঠাকুর বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলে জানা যায়। পঞ্চানন ঠাকুর প্রথম যশোর অঞ্চল থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর উষালগ্নে ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় এসে ইউরোপীয় কোম্পানির নানা খুচরো কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। বেনিয়াদের জাহাজে নানা কিছু সরবরাহ করতেন। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি ফরাসি কোম্পানিতে কাজ করেন। 

গোবিন্দপুর গ্রামের জেলেরা এঁদের ঠাকুর বলে ডাকত। সেই থেকে ঠাকুর পদবীর প্রচলন। ঠাকুররা নিম্নবর্গের জেলেদের পূজা অর্চনার অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করার জন্য আমন্ত্রিত হতেন। এঁরা ফার্সি ও ইংরেজি ভাষা শিখে ইংরেজ বিভিন্ন কোম্পানীর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভাগ্য ফেরান।

পঞ্চানন কুশারীর ছেলে ছিলেন জয়রাম ঠাকুর। জয়রাম ঠাকুরের ছেলে নীলমণি ঠাকুর। নীলমণির তিন পুত্রের একজন রামমণি। দ্বারকানাথ ছিলেন রামমণির দত্তক নেয়া সন্তান। তবে ভ্রাতুষ্পুত্র। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সময় ঠাকুর পরিবারের বৈষয়িক অবস্থার চরম উন্নতি ঘটে।

জানা যায়, উনিশ শতকের চল্লিশের দশকে দ্বারকানাথ তার মূলধনি কারবারের সাফল্যের শিখরে উপনীত হন। তিনি জাহাজ ব্যবসা, ইউরোপে রপ্তানী বাণিজ্য , বীমা, ব্যাংক(ইউনিয়ন ব্যাংক), কয়লার ব্যবসা, নীলচাষ, এমনকি আজকের যুগের জনপ্রিয় রিয়েল স্টেট ব্যবসা বা শহরে গৃহায়ণ প্রকল্প এবং জমিদারি তালুকে অর্থ বিনিয়োগ করেন। তাই এ কথা বলাই যায়, ভারতবর্ষে রিয়েল স্টেট ব্যবসার অন্যতম পথিকৃৎ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। তিনি আফিমের ব্যবসা করতেন বলেও জানা যায়। ভারতে উৎপাদিত আফিম রপ্তানি করতেন চীনে। তাঁর ব্যবসার তদারকির জন্য নিয়োগ করেছিলেন কয়েকজন ইউরোপীয় ম্যানেজার। এ থেকে সেসময় তাঁর অর্থনৈতিক সামর্থ্য সহজেই বুঝা যায়। একই সঙ্গে তিনি কোম্পানির দেওয়ানগিরি করেন। কিন্তু রক্ষণশীল হিন্দুসমাজে কুলীন হিন্দু হিসেবে জাতে উঠতে পারেননি। এসব তাঁকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে পীড়িত ও ব্যথিত করে থাকবে। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডে গমনের আগে রাজা রামমোহন রায়ের সঙ্গে নতুন ধর্ম আন্দোলনের সূচনা করে যান। যার নাম ছিল ব্রাহ্ম ধর্ম। উল্লেখ্য, দ্বারকানাথ নিজস্ব জাহাজ ‘দি ইন্ডিয়া’ যোগে সে সময় বিলেত গমন করেছিলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও রাণী তাঁকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেন। বিলেতে বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য সমসাময়িকরা তাঁকে প্রিন্স নামে অভিহিত করতেন।  ৫১ বছর বয়সে তিনি বিলেতেই মৃত্যুবরণ করেন। লন্ডনের ‘কেনসল গ্রিন’ সামাধিক্ষেত্রে প্রথামাফিক দাহ নয়, রাজকীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। কারণ সে সময় দাহ করার ব্যবস্থা বিলেতে ছিল না। 

রবীন্দ্রনাথ কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?

রবীন্দ্রনাথ ব্রাহ্ম ধর্মের অনুসারী ছিলেন। ব্রাহ্ম সম্প্রদায়ভুক্ত বলেই শুধু পরিচয় দেন নি তিনি দীর্ঘসময় ব্রাহ্মধর্ম আন্দোলনের নেতৃত্বের পুরোভাগেও ছিলেন। অনেকে তাঁকে পৌত্তলিক হিন্দু বলে ভুল করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কখনোই মূর্তি পূজারী ছিলেন না। বরং মূর্তিপূজারীদের সঙ্গে ব্রাহ্মদের রেষারেষি স্পষ্ট ছিল। ব্রাহ্মরা নিরাকার ব্রহ্মে বিশ্বাস করতেন। সে অর্থে রবীন্দ্রনাথ মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাসের অনেক কাছাকাছি। ছিলেন একেশ্বরবাদী। ব্রাহ্মধর্ম উনিশ শতকের একটি বড় ধর্ম আন্দোলন। যার গোঁড়াপত্তন করেন রাজা রামমোহন রায় ১৮২৮ সালে। রামমোহন রায়ের ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। যদিও তাদের বয়সের ব্যবধান ছিল দুই দশকের বেশি। কিন্তু মননে, চিন্তা ও সংস্কার আন্দোলনে তারা মানসিকভাবে কাছাকাছি ছিলেন। ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে শিবনাথ শাস্ত্রী তাঁর ‘রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ’ গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘১৮২৮ সালের ৬ই ভাদ্র দিবসে রামমোহন রায় কলিকাতার চিৎপুর রোডে ফিরিঙ্গী কমল বসু নামক এক ভদ্রলোকের বাহিরের বৈঠকখানা ভাড়া লইয়া সেখানে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করিলেন।… ব্রাহ্মসভা স্থাপিত হইলে কলিকাতার হিন্দুসমাজ-মধ্যে আন্দোলন উঠিল। তাঁহাদের অনেকেই রামমোহন রায়ের কার্যপ্রণালী পরিদর্শনের জন্য সভাতে উপস্থিত হইতে লাগিলেন। রামমোহন রায় যে কেবল ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করিলেন তাহা নহে, সামাজিক বিষয়ে তাঁহার আচার-ব্যবহার হিন্দুসমাজের লোকের নিতান্ত অপ্রিয় হইয়া উঠিল। এইসকল বিষয় লইয়া পথেঘাটে, বাবুদের বৈঠকখানায়, রামমোহন রায়ের দলের প্রতি সর্বদা কটূক্তি বর্ষণ হইত।’

রাজা রামমোহন রায় বেদ, উপনিষদ, কোরান, বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলি পাঠ করে মানুষের অভিন্ন উদ্দেশ্য নৈতিক উন্নতি সাধনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তুলেন ব্রাহ্মধর্ম। উনিশ শতকে এই ধর্মীয় আন্দোলন ও প্রগতিশীল তরুণ গোষ্ঠীকে ঘিরে সেকালের বাংলার নবজাগরণ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম পর্যায় এবং হিন্দু ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ব্রাহ্ম ধর্ম অনুসারীরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি পূজার বিরোধী ছিলেন বলে বিগ্রহ সাজিয়ে পূজা অর্চনার আনুষ্ঠানিকতাকে শত বছরের কুসংস্কার হিসেবেই দেখতেন। ব্রাহ্মধর্ম সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রক্ষণশীল ব্রাহ্মণদের ক্ষ্যাপার কারণ সহজেই অনুমেয়।

ব্রাহ্মসমাজের যারা যোগ দিতেন তারাও সেসময় হিন্দু সমাজচ্যুত হতেন। ব্রাহ্মণদের নিষেধাজ্ঞার শিকার হতেন। ব্রাহ্মদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনেও অনাগ্রহী ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। ঠাকুর পরিবারকে তাই বেগ পেতে হতো তাদের উপযুক্ত পাত্র পাত্রী খুঁজতে। পাত্রীকে পাত্রস্থ করতে। ঠাকুরবাড়ির প্রভাব প্রতিপত্তি থাকার পরও সব হিন্দুরা এই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইত না। ব্রাহ্মমতে দীক্ষাকে তখন রীতিমতো একটি অমার্জনীয় অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হতো। এদেরও সমাজচ্যুত করা হতো। এ প্রসঙ্গে পূর্ব বাংলার সমাজ থেকে একটি উদাহরণ টানা যেতে পারে।

উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের সূচনা পর্বে ভারতবর্ষে তুঙ্গস্পর্শী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের তিন নেতা ছিলেন লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক ও বিপিনচন্দ্র পাল যাদের সংক্ষেপে বলা হয় ‘লাল-বাল-পাল’, সেই তিন বিখ্যাত দিকপাল নেতার একজন ছিলেন সিলেটের হবিগঞ্জের পইল গ্রামের বিপিন পাল। ব্রাহ্ম নেতা কেশবচন্দ্র সেনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ব্রাহ্মধর্মে যোগ দিলে পিতৃভূমি সিলেটের হিন্দু সমাজের সঙ্গে শুধু সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি, সে সময়ের ফারসি ও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত পিতা রামচন্দ্র পাল একমাত্র পুত্রকে বৈষয়িক, সামাজিক ও পারিবারিক  সকল সম্পর্কচ্ছেদ করে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন। বলা বাহুল্য, ব্যক্তিগত বিশ্বাসে হোঁচট খাওয়ার পাশাপাশি গোঁড়া হিন্দু সমাজের চাপে পড়েও এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এ উদাহরণ সে সময় ব্রাহ্ম সমাজ সম্পর্কে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনোভাব বুঝতে সহযোগিতা করবে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর পিতৃদেব মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে খুব প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর ইচ্ছানুসারে ব্রাহ্ম ধর্মের হাল ধরেন। ব্রাহ্ম ধর্মের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িত ছিলেন। ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। উপমহাদেশের বাস্তবতা ভিন্ন থাকলেও রবীন্দ্রনাথ ও ব্রাহ্মধর্ম সংশ্লিষ্টরা ধর্মকে মিলনের সেতু হিসেবে দেখতেন। অন্তত ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠার চেতনাগত পটভূমির দিকে তাকালে তাই মনে হয়। ভারতবর্ষে ধর্ম ও সম্প্রদায়ে অলঙ্ঘ্যনীয় ভেদ বিভাজন তাঁকে ব্যথিত করত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ভাষণে তারই প্রতিধ্বনি শুনি,
      ‘ভারতের বিভিন্ন ধর্ম্ম ও সস্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ ও পরস্পরের বিচ্ছেদ দেখে নিতান্ত দুঃখিত, মর্মাহত, লজ্জিত হই। ধর্ম্মে ধর্ম্মে বিরোধ হতে পারে না। কারণ ধর্ম হলো মিলনের সেতু আর অধর্ম্ম বিরোধের।’

একই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর ‘কালান্তর’ গ্রন্থের ‘হিন্দু-মুসলমান’ প্রবন্ধে বলেন, ‘যে দেশে প্রধানত ধর্মের মিলেই মানুষকে মেলায়, অন্য কোনো বাঁধনে তাকে বাঁধতে পারে না, সে দেশ হতভাগ্য। সে দেশ স্বয়ং ধর্মকে দিয়ে যে বিভেদ সৃষ্টি করে সেইটে সকলের চেয়ে সর্বনেশে বিভেদ। মানুষ বলেই মানুষের যে মূল্য সেইটেকেই সহজ প্রীতির সঙ্গে স্বীকার করাই প্রকৃত ধর্মবুদ্ধি। যে দেশে ধর্মই সেই বুদ্ধিকে পীড়িত করে রাষ্ট্রিক স্বার্থবুদ্ধি কি সে দেশকে বাঁচাতে পারে?’ (এ প্রসঙ্গে আলোচ্য গ্রন্থের ‘রবীন্দ্রনাথ ও উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা’ অংশে বিস্তারিত আছে।)

বিশ শতকের ত্রিশের দশকের গোড়ায় একবার ভারতবর্ষে আদমশুমারি হয়। তখন রবীন্দ্রনাথকে বাধ্য হয়ে বিবৃতি পর্যন্ত দিতে হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন,

“আমি হিন্দু সমাজে জন্মগ্রহণ করিয়াছি। আমি ব্রাহ্ম সম্প্রদায়ভুক্ত। আমার ধর্ম বিশ্বজনীনতা এবং সেটাই আমার ধর্ম।”

রবীন্দ্রনাথের এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় তাঁরই লেখা ‘আত্মপরিচয়’ প্রবন্ধে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের পরিচয়ের একটা ভাগ আছে, যাহা একেবারে পাকা— আমার ইচ্ছা অনুসারে যাহার কোনো নড়চড় হইবার জো নাই। তাহার আর-একটা ভাগ আছে যাহা আমার স্বোপার্জিত— আমার বিদ্যা ব্যবহার ব্যবসায় বিশ্বাস অনুসারে যাহা আমি বিশেষ করিয়া লাভ করি এবং যাহা আমি বিশেষ করিয়া লাভ করি এবং যাহার পরিবর্তন ঘটা অসম্ভব নহে। যেমন মানুষের প্রকৃতি; তাহার একটা দিক আছে যাহা মানুষের চিরন্তন, সেইটেই তাহার ভিত্তি— সেইখানে সে উদ্ভিদ ও পশুর সঙ্গে স্বতন্ত্র, কিন্তু তাহার প্রকৃতির আর-একটা দিক আছে যেখানে সে আপনাকে আপনি বিশেষভাবে গড়িয়া তুলিতে পারে—সেইখানে একজন মানুষের সঙ্গে আর-একজন মানুষের স্বাতন্ত্র্য। মানুষের প্রকৃতির মধ্যে সবই যদি চিরন্তন হয়, কিছুই যদি তাহার নিজে গড়িয়া লইবার না থাকে, আপনার মধ্যে কোথাও যদি সে আপনার ইচ্ছা খাটাইবার জায়গা না পায় তবে তো সে মাটির ঢেলা।’

রবীন্দ্রনাথ মাটির ঢেলা ছিলেন না। জড় পদার্থের মতো নিশ্চল, নিশ্চেষ্ট ছিলেন না। বুদ্ধির মুক্তি ও সংস্কারে, অন্ধকার ও অচলায়তন ভেঙ্গে ফেলতে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন শত সহস্র প্রতিকূলতার সঙ্গে। স্বতন্ত্র সত্তার প্রতি সচেতন থেকে নিজেকে প্রতিনিয়ত গড়ে তুলেছেন। ভেঙ্গেছেন। তিনি ছিলেন রুপান্তরশীল প্রতিভা। তিনি হঠকারী বিপ্লবীর মতো সমাজকে চরম আঘাত করেন নি, আবার পরিবর্তনবিমুখ হয়ে নিশ্চেষ্ট দর্শকের ন্যায় চুপ করেও থাকেন নি। বিশেষ করে নিজ দেশবাসীর মানুষের মনোজাগতিক পরিবর্তনের জন্য একাগ্র ও নিরন্তর ছিল তাঁর বহুমুখী প্রতিভাদীপ্ত সাধনা। মানুষের পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেছেন,

‘তাহার খানিকটা পাকা খানিকটা কাঁচা, তাহার এক জায়গায় ইচ্ছা খাটে না আর-এক জায়গায় ইচ্ছারই সৃজনশালা। মানুষের সমস্ত পরিচয়ই যদি পাকা হয় অথবা তাহার সমস্তই যদি কাঁচা হয় তবে দুই-ই তাহার পক্ষে বিপদ।’

রবীন্দ্রনাথের কালে ধর্ম পরিচয়ের সংকটে তখন অনেকেই ভুগছিলেন। তারা হিন্দু না ব্রাহ্ম। সে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। ফারাকটুকু শিক্ষিত মুর্খ নির্বিশেষে এখনও ধোয়াশাচ্ছন্ন। ব্যক্তির ধর্ম বা বর্ণ পরিচয় তাঁর ইচ্ছে অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে না। এটা অর্পিত(ascribed) হয়। কিন্তু অর্জিত(achieved) অংশে মানুষের পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে। সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোকপাত করেছেন রবীন্দ্রনাথ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“আমাদের দেশে বর্তমানকালে, কী বলিয়া আপনার পরিচয় দিব তাহা লইয়া অন্তত ব্রাহ্মসমাজে একটা তর্ক উঠিয়াছে। অথচ এ তর্কটা রামমোহন রায়ের মনের মধ্যে একেবারেই ছিল না দেখিতে পাই। এদিকে তিনি সমাজপ্রচলিত বিশ্বাস ও পূজার্চনা ছাড়িয়াছেন, কোরান পড়িতেছেন, বাইবেল হইতে সত্যধর্মের সারসংগ্রহ করিতেছেন, অ্যাডাম সাহেবকে দলে টানিয়া ব্রহ্মসভা স্থাপন করিয়াছেন; সমাজের নিন্দায় কান কান পাতিবার জো নাই, তাঁহাকে সকলে বিধর্মী বলিয়া গালি দিতেছে, এমনকি, যদি কোনো নিরাপদ সুযোগ মিলিত তবে তাঁহাকে মারিয়া ফেলিতে পারে এমন লোকের অভাব ছিল না— কিন্তু কী বলিয়া আপনার পরিচয় দিব সে বিষয়ে তাঁহার মনে কোনোদিন লেশমাত্র সংশয় ওঠে নাই। কারণ হাজার হাজার লোকে তাঁহাকে অহিন্দু বলিলেও তিনি হিন্দু এ সত্য যখন লোপ পাইবার নয় তখন এ সম্বন্ধে চিন্তা করিয়া সময় নষ্ট করিবার কোনো দরকার ছিল না।

বর্তমানকালে আমরা কেহ কেহ এই লইয়া চিন্তা করিতে আরম্ভ করিয়াছি। আমরা যে কী, সে লইয়া আমাদের মনে একটা সন্দেহ জন্মিয়াছে। আমরা বলিতেছি আমরা আর কিছু নই, আমরা ব্রাহ্ম। কিন্তু সেটা তো একটা নূতন পরিচয় হইল। সে পরিচয়ের শিকড় তো বেশি দূর যায় না। আমি হয়ত কেবলমাত্র গতকল্য ব্রাহ্মসমাজে দীক্ষা লইয়া প্রবেশ করিয়াছি। ইহার চেয়ে পুরাতন ও পাকা পরিচয়ের ভিত্তি আমার কিছুই নাই? অতীতকাল হইতে প্রবাহিত কোনো একটা নিত্য লক্ষ্মণ কি আমার মধ্যে একেবারেই বর্তায় নাই? এরূপ কখনো সম্ভবই হইতে পারে না। অতীতকে লোপ করিয়া দিই এমন সাধ্যই আমার নাই; সুতরাং সেই অতীতের পরিচয় আমার ইচ্ছার উপর লেশমাত্র নির্ভর করিতেছে না।

 

কথা এই, সেই আমার অতীতের পরিচয়ে আমি হয়তো গৌরব বোধ করিতে না পারি। সেটা দুঃখের বিষয়। কিন্তু এইরূপ যেসকল গৌরব পৈতৃক তাহার ভাগ-বাঁটোয়ারা সম্বন্ধে বিধাতা আমাদের সম্মতি লন না, এইসকল সৃষ্টিকার্যে কোনোরূপ ভোটের প্রথাও নাই, আমরা কেহ-বা জর্মনির সম্রাটবংশে জন্মিয়াছি আবার কাহারও-বাঁ এমন বংশে জন্ম—ইতিহাসের পাতায়  সোনালি অক্ষরে বা কালো অক্ষরে যাহার কোনো উল্লেখমাত্র নাই। ইহাকে জন্মান্তরের কর্মফল বলিয়াও কথঞ্চিৎ সান্ত্বনালাভ করিতে পারি অথবা এ সম্বন্ধে কোনো গভীর তত্ত্বালোচনা চেষ্টা না করিয়া ইহাকে সহজে স্বীকার করিয়া গেলেও বিশেষ কোনো ক্ষতি নাই। অতএব, আমি হিন্দু এ কথা বলিলে যদি নিতান্তই কোনো লজ্জার কারণ থাকে তবে সে লজ্জা আমাকে নিঃশব্দে হজম করিতে হইবে। কারণ, বিধাতার বিরুদ্ধে নালিশ করিতে হইলে সেই আপিল-আদালতের জজ পাইব কোথায়?”

দীর্ঘ হলেও রবীন্দ্রনাথের উপলব্ধি বোঝার জন্য এই উদ্ধৃতি উপস্থাপন জরুরি ছিল। বিধাতার বিরুদ্ধে নালিশ করবার জো আমাদের কারোরই নাই। একই বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাহ্মসমাজকে তাই আমি হিন্দুসমাজের ইতিহাসেরই একটি স্বাভাবিক বিকাশ বলিয়া দেখি। এই বিকাশ হিন্দুসমাজের একটি বিশ্বজনীন বিকাশ।’

অর্জিত নয়, অর্পিত ধর্ম পরিচয় অনেক সময় চাইলেও মানুষ অস্বীকার বা মুছে ফেলতে পারে না। যে আদিবাসী শিশু আফ্রিকার গভীর অরণ্যে জন্ম নিয়ে তাঁর সমাজ ও স্বজাতির ধর্ম-সংস্কৃতি পালন করে তার কাছে এশিয়ায় উৎপত্তি এবং শ্রেষ্ঠ ধর্ম দাবি করা কোনো ধর্মের বাণী জীবদ্দশায় নাও পৌঁছাতে পারে। স্মরণ করা যাতে পারে, বাংলা মুলকে ইসলামের ধর্মের দাওয়াত পৌঁছে ছিল প্রায় ছয় শ বছর পর। এ ছ শ বছরে যারা ইসলাম ধর্মের খোঁজ পেলেন না তাদের ব্যাপারে ফয়সালা নিয়ে এখন বিতর্ক করা অবান্তর। শ্রেষ্ঠত্বের দাবিও তাই স্থানিক ও আপেক্ষিক। ধর্মের চেনা সংজ্ঞায় কেবল দূরত্ব বাড়ে। সংজ্ঞা তো দেয়াল। বাঁশের চাঁটাই হোক আর কংক্রিটের দেয়াল হোক অপসারণ করলেই প্রতিবেশীর মুখ দেখা যায়। প্রতিবেশীর বাড়ি অনায়াসে যাওয়া যায়। অতিথি যার কোনো তিথি বা সময় নাই। এমন শব্দ তো মানুষের আন্তরিক আচরণের ইতিহাসের কথাই বলে। রবীন্দ্রনাথ যথার্থই বলেছেন, ‘মানুষের গভীরতম ঐক্যটি যেখানে, সেখানে কোনো সংজ্ঞা পৌঁছিতে পারে না— কারণ সেই ঐক্যটি জড়বস্তু নহে তাহা জীবনধর্মী। সুতরাং তাহার মধ্যে যেমন একটা স্থিতি আছে তেমনি একটা গতিও আছে। কেবলমাত্র স্থিতির দিকে যখন সংজ্ঞাকে খাড়া করিতে যাই তখন তাহার গতির ইতিহাস তাহার প্রতিবাদ করে—কেবলমাত্র গতির উপরে সংজ্ঞাকে স্থাপন করাই যায় না, সেখানে পা রাখিবার জায়গায় পায় না।’

নিঃসঙ্কোচে ব্রাহ্ম সম্প্রদায়ভুক্ত বলেই রবীন্দ্রনাথ নিজের পরিচয় দিতেন। ধর্মের একনিষ্ঠ অনুসারী হলেও রবীন্দ্রনাথের নিজের প্রতিভার মতোই তাঁর বিশ্বাসও ছিল রূপান্তরশীল। রামমোহন রায় এবং দ্বারকানাথ ঠাকুরের পর পিতা মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ব্রাহ্ম ধর্ম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রচলিত ধর্মের নিগড়ে তিনি বন্দি ছিলেন না। সংস্কার চেয়েছেন। সময়ের সঙ্গে নিয়ত ছিলেন বিকাশমান। মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর তা গ্রহণ করেছেন সানন্দে। রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ছিল বিশ্বজনীন। চিন্তা, চেতনা, মননে কর্মেও তিনি ছিলেন বিশ্বনাগরিক। মানবজাতির ঐক্য, সম্প্রীতির সুর ও কল্যাণ-সাধনা যেখানে নিহিত। তিনি পুবে পশ্চিমে, নানা সমাজ ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনে বিশ্বাস করতেন। এটাই প্রাচীন ভারতবর্ষের ঐতিহ্য ছিল। গীত বিতানে ‘হে মোর চিত্ত’ কবিতায়ও তাই বলেন,

“এসো হে আর্য, এসো অনার্য, হিন্দু-মুসলমান।

এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ, এসো এসো খৃস্টান।

এসো ব্রাহ্মণ, শুচি করি মন ধরো হাত সবাকার।

এসো হে পতিত, হোক অপনীত সব অপমানভার।

মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা, মঙ্গলঘট হয় নি যে ভরা

সবার-পরশে-পবিত্র-করা তীর্থনীরে

আজি ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥”

‘দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে/এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে’

পারস্পরিক সৌজন্য ও মিলনের এ যে আহ্বান— আধুনিক সমাজবিজ্ঞানীরা যে বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদী সমাজ (Pluralistic and diversidied society)-এর কথা বলেছেন, যেখানে মানুষ পরমত সহিষ্ণু, যেখানে মানুষের বিকাশ হয়, সে সমাজের কথাই রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই বলে গেছেন তাঁর উপর্যুক্ত কবিতায়। আজকের যুগে আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিভাষা এবং লক্ষ্য তাই। ভারতবর্ষের বিচিত্র প্রকৃতির মতো নানা জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেও একটা গোপন ঐক্য, সম্প্রীতি ও সুমহান ঐতিহ্য ছিল। কবির বিশ্বাস ও আহ্বান সে সৌভ্রাতৃত্ববোধের দিকেই। তাঁকে কেবল ক্ষুদ্র ধর্ম-পরিচয়ের গণ্ডিতে দেখা অনুচিত।

 

(‘রবীন্দ্রনাথের ধর্মমত’ প্রবন্ধটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিতব্য কবি ও প্রাবন্ধিক আলমগীর শাহরিয়ারের ‘রবীন্দ্রনাথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।)

 

 

 

তথ্যসূত্রঃ

১. অমিতাভ চৌধুরী, ‘ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ’; মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স, ১৪০০ বাংলা

২. শিবনাথ শাস্ত্রী, রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, তৃতীয় মুদ্রণ, ২০১৭

৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আত্মপরিচয়; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ২০১১

৪. মাহফুজুর রহমান, বিপিনচন্দ্র পাল; বাংলা একাডেমি, ১৯৯৯
৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কালান্তর
৬ . www.wikipedia.com
৭. সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাক বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা; প্রথমা প্রকাশন, দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০১৮

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত