সাহিত্যকে শিল্পী ও শ্রমিকের সমান্তর মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন রউফ চৌধুরী

 

এই দ্রোহী কথাশিল্পীর ত্রিনয়নে ধরা পড়েছে অনেক অনাবাদী সাহিত্যের জমিন-বলতে গেলে সাহিত্যের সকল শাখায় সমানে কলম চালিয়েছেন। কোনো প্রকার কল্প-কৌটিল্য, অবান্তর কিম্বা অবাস্তব বিষয়ের উপর মেদী সাহিত্য তিনি রচনা করেননি। দূর প্রবাসে বসেও স্বভূমির মানুষ তার রাজনীতি,অর্থনীতি,অভাব, যন্ত্রণাক্লেশ জীবন, অন্যায়-অনাচার-অস্বচ্ছতা এবং সকল বৈষম্যের বায়বীয় সমস্যার উৎস থেকে টেনে বের করেছেন শব্দশিল্পের অবারিত সুশাসনে। কোনোপ্রকার আপোষ না ব্যক্তিজীবনে, না কলমজীবন করেছেন। সমকালে অনেকটাই আড়ালে থেকে কালচেতনার গভীর দায়িত্ববোধের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে গেছেন এই অমর কথাশিল্পী যাঁকে নিয়ে জনপ্রিয় সময়কে বলতে গেলে আলোচনা করতে দেখা যায় না।

 

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী আব্দুর রউফ চৌধুরী (১৯২৯-১৯৯৬) আধুনিকোত্তর বাংলা সাহিত্যের দ্রোহী কথাসাহিত্যিক। তিনি সনিষ্ঠায় ও মনস্বিতায় অতুলনীয়- তাঁর সাহিত্য চর্চা ও পাঠের মধ্য দিয়ে একজন বাঙালি ক্রমাগত চেতনা ও মননে জাগরিত হয়ে উঠতে পারে।  বস্তুত তিনি ছিলেন বাংলা-সাহিত্য জগতে দ্রোহী কথাসাহিত্যের নির্মিতি ও মর্মাংশে এক শুদ্ধ আধুনিকোত্তরক। যুগাত্মক জটিল চেতনাপ্রবাহী আঙ্গিকে তিনি ছিলেন চূঁড়াবিহারী এবং বিয়ষ-বস্তু-ঘটনাও অতিশয় কালচৈতন্যবাহী ও বিস্ময়সূচক। অথচ অনন্য সাধারণ, স্বতন্ত্র সৃজনশীলতায় ঋদ্ধ এই দ্রোহী কথাশিল্পী কেনো যেনো বাংলাদেশের সাহিত্য আলোচনায় অতিঅল্প উচ্চারিত, ক্ষীণ তোলপাড়তোলা, আর তাঁর অবিনাশী সাহিত্য সম্ভারও কম পঠিত। সম্ভবত এই সময়কালের চতুর্দিকব্যাপী যে অবক্ষয় এই তার প্রমাণ। তাই তাঁর সৃজনশীলতা, শিল্পশৈলী, ও কালচেতনার প্রতি ঐকান্তিকতা ও অভিনিবেশ গড়ে তোলার জন্য এবং ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেবো তোমারই দ্রোহী শব্দাবলি’র অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে ২০১৮ সালে দেওয়ান আতিকুর রহমানের প্রচ্ছদে ছয়শত আটচল্লিশ পৃষ্ঠার বৃহৎ কলেবরে ‘আব্দুর রউফ চৌধুরী/রচনাসমগ্র’ প্রথম খন্ড প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।  এতে পাঠকমাত্রই উজ্জীবিত ও আরো অনুসন্ধিৎসু হয়ে উঠবেন এমনটাই প্রত্যাশ করেন প্রকাশক, শুধু তাই নয় সত্যিকার অর্থে পাঠকও পাঠ করবার মতো পাবে এক ওজস্বল গ্রন্থ।

 

গ্রন্থে আব্দুর রউফ চৌধুরীর ৪৬৪ পাতা অর্থাৎ ২৯ ফর্মার অখন্ড বৃহৎ উপন্যাস ‘নতুন দিগন্ত এবং ‘৭১-এর কবিতা ও কবিতাগুচ্ছও স্থান পেয়েছে।

 

মাটির তিলক-রেখাকে আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম প্রাপ্তি বলে গণ্য

করব এবং মাটির খুব কাছাকাছি থাকার বাসনায় তৃতীয়বারের মতো বাসা বাঁধব এখানেই।

…। [নাসিমের স্বগতোক্তি, উপন্যাস : নতুন দিগন্ত]

 

তিনটি খন্ডে বিভক্ত নতুন দিগন্ত উপন্যাসে অনেক চরিত্রের মধ্যে নায়ক চরিত্র নাসিম তার মূল লক্ষ্য খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাকে কেন্দ্র করে  যে আখ্যান মঞ্জরিত হয়ে উঠেছে, সেখানে জুলফি আলি ভুট্টোও একটি প্রধান চরিত্র। আপাত প্রতিনায়ক নাসিমই  এখানে নায়ক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ কাহিনীর মধ্যে একটি জাতির জাগরণের পরোক্ষ ইতিহাস মুদ্রিত হয়েছে আবার তারই সঙ্গে আছে ব্যক্তির অন্তর্গত অজস্র টানাপোড়েন। ভুট্টোর ব্যাভিচার পরিষ্কার রূপায়িত যেমন, তেমনি দ্বিতীয় খন্ডের অনেকখানি ব্যয়িত হয়েছে ভুট্টোর দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদার সঙ্গে নাসিমের সম্পর্কের বর্তমান ও অতীত চারণায়। ভুট্টো ও নাসিম, দুজনরেই রাজনৈতিক জীবনকে-যে ব্যক্তিজীবন অনেকখানি প্রভাবিত করেছে, তা দেখিয়েছেন লেখক। প্রধান দুটো চরিত্র নাসিমও ও ভুট্টো-এছাড়াও আরো অনেক চরিত্র :  আন্নী, বেনফরত, নূর মোহম্মদ, আব্দুল্লা খুরো, ফারুক, পারভেজ, যতীন চক্রবর্ত্তী, মতিন, অন্তার, জমাদারনি,লাল-ফিতেওয়ালিনী, মায়া, নাসিমা, আফরোজা, মখসুদ, নাহিদা, সালেহা, সুরাইয়া, মিস মরিয়ম, নজর মোহাম্মদ খান, আকরাম, খোদেজা, নবাবজাদা, খুরশেদ আহমেদ পাতৌদি, হেদায়েতুল্লা, মালতী, সাজেদা বেগম, গাফফার, খলকু খান, জামসেদ, আসলাম, রোকসানা, আজমান আলি, হায়দার জংগ, সুরতজান, নীলুফা, সারওয়ার, খসরু খান, নিয়ামতুল্লা, আইয়ুব খান, খোদাদাদ খান, ভিকারুননেসা, বিলকিস আহমদ, নাদিম শাহ প্রমুখ। প্রধান-অপ্রধান এই চরিত্রগুলো জীবনতরঙ্গে উৎক্ষিপ্ত যেন। এই চরিত্রগুলো আবার সমাজের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে। চরিত্র নির্মাণে লেখকের প্রধান একটি হাতিয়ার সংলাপ। করাচির মুখ্য পটভূমিতে যে উপন্যাস, স্বাভাবিকভাবেই তার সংলাপের ভাষা হতে পারে উর্দু। কিন্তু বাংলা ভাষায় রচিত উপন্যাসে তো এ ভাষা অবিকল ব্যবহার করা সম্ভব নয়। উপন্যাসে বাঙালি নাসিমের প্রবেশের পরে প্রথমেই প্রসঙ্গটা এসেছে :

লাহোরের অদূরে ওয়াগারের সীমান্তরক্ষী পাকিস্তানী এক সেপাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল নাসিমের।

সেপাই নাসিমকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুছি কোন হু?’ জবাবে নাসিম বলল, ‘মে পাকিস্তানি হ্যায়।’ এই নাসিম ক্রমে উর্দুভাষা অনেকখানি আয়ত্ত করে। লেখক সংলাপের প্রয়োজনে উর্দু প্রয়োগ করেছেন।  প্রথম দুটি খ-ই নানা জটিলতা ও নাটকীয়তায় ভরপুর। পুরো উপন্যাসের মূল সুর দেশ ও জাতির সাধারণ সমাজকে ঘিরে, বিশেষ করে যুবশক্তিকে বিভ্রান্ত ও বিপদাপন্ন পথ থেকে উদ্ধার  করতে হবেÑতাদের রক্ষা করতে হবে আর তাদের রক্ষা করতে হলে অসুন্দর, অসত্যের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বস্তুত উপন্যাসের নায়ক নাসিমের সমগ্র চিন্তা ও প্রতিজ্ঞার সারাৎসার প্রতিভাত হয়েছে নানা অনুচ্ছেদে। উপমা-উৎপ্রেক্ষার প্রয়োগ যেমন লেখকের দেশজতা-ইতিহাসচেতনাকে উদ্ভাসিত করে, তেমনি বর্ণনার মধ্যে এরকম কথা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে লেখকের উদ্দেশ্য উজ্জ্বল হয়ে উঠে।

‘নতুন দিগন্ত সমগ্র’-এর ভূমিকায় আবদুল মান্নান সৈয়দ বলেন : ২০০৩ সালে যখন ‘পাঠক সমাবেশে’র বিজু সাহেব আমাকে ‘পরদেশে পরবাসী’ (পাঠক সমাবেশ সংষ্করণ, ২০০৩) বই-এর প্রেসকপি হাতের দিলেন, তখন আমার মনে এই প্রশ্নই প্রথম জেগে উঠেছিল। বৃহত্তর সিলেটের দার্শনিক-সাহিত্যিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ বা কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীর সঙ্গে পরিচয় ছিল ভালভাবেই; কবি দিলওয়ার তো এখনো কবিতা লিখে চলেছেন, কিংবা গত বছরে (২০০৪) প্রয়াত কবি  আফজাল চৌধুরী তো ছিল আমাদের সমসাময়িক বন্ধুই; বাংলা সাহিত্যে রম্যরচনার প্রবর্তয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী তো সর্বশিক্ষিতজন পরিচিত; সিলেটের তরুণ-প্রবীণ মৃত-জীবিত আরো অনেক লেখক-কবি-সমালোচক-গবেষক তো আছেনই; স্বয়ং রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুর উল্লেখ করেছিলেন হাসন রাজা-র কথা। বাস্তবতা-আধ্যাত্মিকতার একটি পরুষে-পেলবে মিশেল ধারার সিলেটের লেখকদের সাহিত্যচর্চায় প্রবহমান। কিন্তু এতসব লেখকদের মধ্যে আব্দুর রউফ চৌধুরীর নাম পর্যন্ত অশ্রুত ছিল আমার। আব্দুর রউফ চৌধুরীর ‘পরদেশে পরবাসী’ বই-এর ভিতরে যত প্রবেশ করতে লাগলাম, তত অনুভব করলাম আমি এক অজানা অভিজ্ঞতার শরিক ও স্নাতক হয়ে চলেছি। ভিতর থেকে ধ্বনিত হলো একটি স্বতঃস্ফূর্ত ‘বাহবা’। পরিষ্কার বোঝা গেল-এঁর সঙ্গে ঠিক সিলেটের অন্যকোনো লেখকের সঙ্গেও সাযুজ্য নেই। আব্দুর  রউফ চৌধুরী এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর, এক ভিন্ন ঘরানা। আব্দুর রউফ চৌধুরীর স্রোতে-প্রতিস্রোতে আবর্তমান নতুন দিগন্ত উপন্যাসটি যত বড় তার চেয়ে মনে হয় অনেক বৃহৎ। এই ব্যাপ্তি উপন্যাসটির পৃষ্ঠা সংখ্যার চেযে বেশি। সুনিবদ্ধ কাহিনি, অগণন চরিত্র, উজ্জীবিত সংলাপ, স্বগত সংলাপ, স্মৃতি, ইতিহাস, বিশ্লেষণ, বর্ণনা-সবকিছু ছাপিয়ে যায় লেখকের জীবনবেদ।

বিশাল পৃষ্ঠাবহরে তিন খন্ডের বৃহৎ উপন্যাস ‘নতুন দিগন্ত সমগ্র’র সাথে  তিনফর্মায় ৭১-এর কবিতা ও  কবিতাগুচ্ছ ও ঠাঁই পেয়েছে।  তাঁর কবিতায় ব্যাপৃত মুক্তিযুদ্ধ। ভারতবর্ষ বিভাজনের পরবর্তী সময় প্রবাহে বাংলাদেশের সচেতন কবি-সাহিত্যিকরা  দ্বিধান্বিত হলেও তিনি ছিলেন পাকিস্তানবাদী জীবনভাবনা ও মূল্যবোধের বিপরীতে; পাকিস্তানবিরোধী ছিলেন তিনি সর্বক্ষেত্রে। তাঁর বিশাল সৃষ্টিজগতে (গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা ও অন্যান্য সাহিত্যাঙ্গনে) দেখা যায়, পাকিস্তানের প্রতি বিক্ষোভের অভিব্যক্তি। ষোলআনা তাঁর জীবন ও  ভাবনাজুড়ে ছিল বাঙালি মূল্যবোধ। তাঁর  কবিতায় সবচেয়ে বড় বিষয়, তিনি দেশকে, দেশের আত্মাকে ভালোবেসেছিলেন। এসব কবিতায় আছে বারুদের গন্ধ, ঘামের গন্ধ, রক্তের গন্ধ আর মুক্তির গন্ধ।

 

বাংলায় জানু পেতে বসেছে পাক-শয়তান এবার

অস্ত্রাঘাতে ধ্বংস করে দিতে চায় নিখিল-অখিল বঙ্গ

স্বচ্ছ যৌবনধারী বাঙালি কী শূন্য হাতে নিশ্চুপে

আঙুল চুষবে, সেই ক্ষয়স্বপ্নে থাক তোরা বিভোর

 

[-থাক তোরা বিভোর]

 

কাব্য ভাবনা ও শিল্পনির্মাণে পরিণত রউফচেতনা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিহরিত ও স্পন্দিত হয়ে ওঠে :

নূতন মানচিত্রের মাটির উপর উপর চিত হয়ে

সে শুয়ে আছে, গ্রীষ্ম দুপুরের উন্মুক্ত

শ্যামপ্রান্তরে-কেউ নেই তার পাশে, শুধু

বিদেশি শকুনের তীক্ষ্ন দৃষ্টি তার উপর…।

 

[‘মানচিত্র’]

 

দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ এভাবেই প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর চেতনারই পল্লবিত শব্দরূপ, রক্তাক্ত শব্দবহ্নিমালা। ইতিহাসের যে-অনিবার্য গতিপ্রবাহ ঐক্যবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের সফলতার ইঙ্গিত বহন করে, দ্র্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী তাঁর কবিতায় সেই মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সমান্তরাল গৌরবময় ভূমিকা নির্মাণ করেছেন।

 

পাকিস্তানি শকুন দেখে

আমি ছটফট করি হে মুক্তিযুদ্ধ

আমার গলা শুকিয়ে চিতার কাঠ…

 

‘শকুন’]

 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশাত্ববোধ, গণআন্দোলন, অসাম্প্রদায়িতকতা ও ধর্মনিরপেক্ষ জীবনদৃষ্টি তাঁর কবিতাকে করেছে বিশিষ্ট।

সাতষট্টি বছরের আয়ুষ্কালে দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী কখনোই সাহিত্য-কর্ম বা লেখালেখিতে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি, ফলে তাঁর সৃজিত সাহিত্যজীবন কলমপেশা লেখকের মতো ধারাবাহিক ছিল না। তাঁর প্রায় সকল রচনায় মনের আনন্দকে বা ক্ষোভকে প্রকাশ করার ফসল। সামাজিক সংষ্কার, অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, প্রবাসী জীবনযাপন এবং বৈচিত্রময় কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে দ্রোহী কথাসাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশে তাড়িত করে।

এই শিল্পীর প্রথম প্রকাশিত (পত্রিকা ও সাময়িকীতে) একসাথে রচনা প্রবন্ধ ও কবিতা। তিনি ক্রমে আধুনিকোত্তর বা সমকালীন বাংলা সাহিত্যের দ্রোহী কথাসাহিত্যিক হিসেবে স্বধর্মে স্থিত হন। বাংলা সাহিত্যের নানা শাখায় তিনি জ্যোতিষ্কের মতো বিচরণ করেন। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ, গবেষণা, সম্পাদনা-বাংলা সাহিত্যের যে শাখাতেই হাত দিয়েছেন, ফলেছে সেখানে স্বর্নফসল। তাঁর সাহিত্যজীবনে ত্রিশের চেয়ে বেশি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। পা-ুলিপি-পত্র-পত্রিকা-সাময়িকীতে এখনো ছড়িয়ে আছে তাঁর অগ্রন্থিত অনেক রচনা। শত প্রতিকূলতা, আর্থিক বিপর্যয়, চাকরিগত অনিশ্চয়তা এবং বৈরী পরিবেশ-প্রতিবেশ অতিক্রম করে আধুনিকোত্তর বাংলা সাহিত্যের বিকাশের ধারায় তিনি এক জ্যোতির্ময় প্রতিষ্ঠান।

সকল অসত্য, অন্যায়, অবিচার দূর করতে চেয়েছে বলেই রউফ চৌধুরী আজ দ্রোহী এবং তাঁর এ দ্রোহ অনন্যমাত্রায় পৌঁছে যাবে  প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

রউফ চৌধুরীর সাহিত্যভাবনা, চেতনাপ্রবাহ ও জীবনদর্শন আর চিত্রকল্প-উপমা-রূপক-প্রতীক নির্মাণের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা-ক্ষোভ-অবিশ্বাস-অস্থিরতায় বন্দি জীবনের স্রোত প্রকাশিত। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মকা-ের ফলাফল হয়ে ওঠেনি, তা রূপান্তরিত হয়েছে বাঙালীর জাতীয় জীবন ও মানসপটভূমির সমগ্রতায়। এটি পরিণত হয়েছে জাগৃতি, নির্মাণ এবং সৃজনকল্পনার রক্তিম ও সুদূরপ্রসারী সূচনাভূমিতে-এই তত্ত্ব যুগপৎভাবে একজন রউফকে শিল্পী ও শ্রমিকের সমান্তর মর্যাদায় অভিষিক্ত করে। এই গুণি ও মহৎ মানুষের সৃজনকর্ম সম্পর্কে যতো কম অপঠিত থাকবে ততোই অমঙ্গল সাহিত্যের জন্য।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত